| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের কারণ
বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন করতে হলে এর কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের দারিদ্যের কারণসমূহ প্রধানত ৩ ভাগে বিভক্ত:
ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত
প্রাকৃতিক ও অন্যান্য কারণ
ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত কারণসমূহ
১.৫.১. অলসতা/কর্মবিমুখতা
বাংলাদেশের মানুষ দরিদ্র কেন-এই প্রশ্নের জবাবে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি মন্তব্য করেছিলেন, `এদেশের মানুষ দরিদ্র থাকতে চায় তাই তারা দরিদ্র্'। এদেশে জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ জীবিকার্জনের জন্য পরিশ্রম না করে কর্মবিমুখ, অলস সময় কাটায়। পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জায়গা-জমি অনাবাদী রেখে গ্রাম্য চা স্টলে বসে, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা অনেক লোক তাদের দিন পাড় করে দেয়। জমি (যা অনায়াসে লাভ করেছে) বন্ধক রেখে খরচ নির্বাহ করে তারপর তা বিক্রি করে এক সময় নিঃস্বের খাতায় নাম লেখায় এমন উদাহরণ আমাদের আশেপাশে বিরল নয়।
১.৫.২. দারিদ্র্যকে `মহান ও পবিত্র' মনে করা
আধ্যাতিœকতার দাবীদার কতিপয় মুসলিম মনে করে যে, দারিদ্র্য আল্লাহর প থেকে অপরিত্যাজ্য এক নিয়ামত। ধন-সম্পদ, বিত্ত-বৈভব ইত্যাদি মানুষকে অহংকারী করে তোলে এবং ধর্ম থেকে দূরে ঠেলে দেয়। এই ধ্যান-ধারণার অনুসারী লোকেরা দারিদ্র্যকে বরণ করে নেয় এবং নিজেদের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের কোন প্রচেষ্টাই গ্রহণ করে না।
১.৫.৩. পুঁজির অভাব
অনেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে নিজেদের দারিদ্র ঘুচানোর জন্য কোন উদ্যোগ নিতে পারে না।
১.৫.৪. অশিক্ষা, অদক্ষতা
শিা ও দতার অভাব বাংলাদেশের শ্রমশক্তির এক অন্যতম সমস্যা। যথাযথ শিা ও দতা না থাকায় তারা দেশে এবং বিদেশে উচ্চ মজুরি থেকে বঞ্চিত হয় এবং দারিদ্র্যের শিকার হয়।
১.৫.৫. অনর্থক ভোগ-বিলাস, অপচয়
সম্পদের অপব্যবহার, অনর্থক ভোগ-বিলাস, প্রেম-পরকীয়া, যাত্রা, সিনেমা ইত্যাদি নিষিদ্ধ কাজে অর্থের অপচয় করে এদেশের বহুলোক দারিদ্র্যে নিপতিত হয়।
১.৫.৬. জুয়া
জুয়া বাংলাদেশের সর্বত্র এক মারাত্নক ব্যাধিরূপে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চবিত্তের প্রাসাদ থেকে ফুটপাতের গৃহহীন পর্যন্ত এ ব্যধিতে আক্রান্ত। স¤প্রতি দৈনিক জাতীয় দৈনিকের সংবাদ শিরোণাম ছিল `নিঃস্ব হয়ে ভোরে বাসায় ফিরে অন্তত: ১০ হাজার মানুষ'। জুয়ার আসরে বসে নিজের ব্যবহার্য জিনিস, ঘরের আসবাব-পত্র এমনকি ঘরের চালের টিন পর্যন্ত পানির দামে বিক্রি করে দেয়ার মত ঘটনাও ঘটে থাকে।
১.৫.৭. মামলাবাজি
গ্রামাঞ্চলে একটি কথা প্রচলিত আছে, `যদি কাউকে দরিদ্র বানাতে চাও, তাহলে তাকে একটি মামলায় জড়িয়ে দাও।' একবার কেউ মামলায় জড়িয়ে গেলে তা সহজে আর মিটমাট হয় না। কোন কোন মামলা বছরের পর বছর ধরে এমনকি বশানুক্রমেও চলতে থাকে। এভাবে মামলাবাজি করে অনেক লোক দারিদ্র্যে নিপতিত হয়।
১.৫.৮. বহুবিবাহের প্রবণতা
সমাজে কিছু লোক রয়েছে যারা কারণে-অকারণে স্ত্রী তালাক দেয়, আবার বিয়ে করে, তারপর তুচ্ছ কারণে আবার তালাক, আবার বিবাহ করে এই বহুবিবাহ প্রবণতা অনেকের জন্য দারিদ্র্য ডেকে আনে।
১.৫.৯. বিবাহ বিচ্ছেদ
তালাকপ্রাপ্তা হয়ে অনেক মহিলা অসহায়ত্ব এবং দারিদ্র্যের শিকার হয় আবার অনেকে তাদের পিতা/ভাই বা অভিভাবকের সংসারে দারিদ্র্যের বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ।
১.৫.১০. পেশা পরিবর্তন/ভুল পেশা গ্রহণ
পেশা নির্বাচনে ভুল বা পেশা পরিবর্তনের কারণেও অনেকে দারিদ্র্যের শিকার হয়। টিভিতে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠানে জনৈক বেকার লোকের মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করে অল্পসময়ে কয়েক ল টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিস্ময়কর কাহিনী শুনে শর্টকাট পথে বড়লোক হওয়ার চিন্তায় কেউ কেউ নিজের দীর্ঘদিনের পেশা ছেড়ে দিয়ে ঋণ করে বা জায়গা-জমি বন্ধক রেখে পুঁজি সংগ্রহ করে নতুন পেশা বা ব্যবসায় নেমে পড়ে । একসময় দেখা যায় পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব।
১.৫.১১. দুর্ঘটনা/দুরারোগ্য ব্যাধি
পরিবারের কোন সদস্য হঠাৎ দুর্ঘটনা বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করলে বা অন্য কোন কারণে কর্মে অম হওয়ার কারণে দারিদ্র্য বাড়তে পারে।
আপনার মন্তব্য দিন।
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
মু. হাবিবুর রহমান তারিক বলেছেন: পরের কিস্তিতে..
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
ফারা তন্বী বলেছেন: পরের গুলা?????