| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মিহির ০০৮
নিজের সম্পর্কে বলার অতিমাত্রিক আবশ্যিকতা খুজে পাচ্ছি না,তবে এটুকু বলতে পারি পৃথিবী নামক গ্রহটির রহস্য আমাকে বারংবার’ই টানছে,হয়তবা বাকী জীবনটা রহস্য অনুসন্ধানেই কাটিয়ে দিব।মানুষ নামের দ্রুপদি প্রোডাক্টের যান্ত্রীক সভ্যতায় বিরক্ত আমি। নজরুলের লেখা ভাল লাগে কিন্তু আইডিওলজিটা আংশিক। দুঃখির জন্য করাটাকে প্রধান্য দেই। পাওয়া না-পাওয়ার হিসেবে বরাবরই আমি কাঁচা।
যখন দেখি আমার স্বাধীন দেশের কৃষক তাঁর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়, যখন সিন্ডিকেটারদের হাতে আমার সোনার কৃষক নিস্প্রেসিত হয়, তখন আমার মত অবোধদের লেখালেখি আর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। আজ খবরে দেখলাম ১ কেজি আলুর দাম মাত্র ১ টাকা ৮০ পয়সা! কিন্তু ঐ কৃষকের উৎপাদন মূল্যের দিকে তাকালে অবাক হওয়া ছাড়া উপায় দেখিনা, এরা যে এখনও কিভাবে বেঁচে আছে সেটাই ভাবি। আনেকে হয়ত ভাবছেন আলুর দাম কমছে ভালইত
কম দামে আলু পামু। তাদের বলি আপনি হয়ত আজ ২০ কেজি আলু কিনবেন পানির দামে, আগামী সময়ে কিনতে হবে ২৫ টাকা দরে। তখন আবার ফলহীন আন্দোলনে নামবেন দ্রব্যমূল্য হ্রাসে। ভাবছেন কদিন আগেই তো ১ টাকা ছিল এখন কিভাবে বাড়ল ? এটাই তো সমস্যা কৃষক খাবে পেটে লাথি পুঁজিপতিরা খাবে তালের আঁটি। হিমাগারে যখন আলু মজুত রেখে বাজারে আলুর ঘাটতির দিকে চেয়ে দিন গুনবে পুঁজিপতিরা,তখন আপনারা ভাতের বদলে আলু খেয়ে ভাতের প্রতি চাপ কমাবেন। আপনার ২০ কেজিও শেষ এবার দেখুন পুঁজিপতিদের খেলা... বুঝেন ঠ্যালা।
ভাবছি কৃষক ছাড়া অন্য কোন প্রাইভেট সেক্টর বা গার্মেন্টস মালিকদেরকে যদি এইরকম লস দিয়া উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে হইতো, তাইলে এতদিনে সারাদেশ জুইড়া মাতম শুরু হইয়া যাইত!
চাষার বাচ্চাদের লস হইলে কার কি!
ভাবুনতো এই কৃষকটির কথা...
বীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণনগর গ্রামের আলু চাষী আব্দুর রশিদ জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সমিতি এবং এনজিও হতে ঋণ গ্রহণ করে এক একর জমি ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। এক একর জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের মজুরীসহ খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ২শত টাকা। জমি চুক্তি ও কৃষি উপকরণ এবং শ্রমিকের মজুরীসহ সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ২শত টাকা। এক একর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে ৮ হাজার কেজি। এক টাকা ৮০ পয়সা কেজি দরে ৮ হাজার কেজি আলু বিক্রি করেছে ১৪ হাজার ৪ শত টাকায়। জমির মালিককে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৬ হাজার ৪শত টাকা। এমন কাহিনী উপজেলার অনেক কৃষকের। জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে করুণ আর্তনাদ। উৎপাদিত ১৮ কেজি আলু বিক্রি করে এক কেজি মোটা চাল কিনতে হচ্ছে। এক কাপ চায়ের দামে বিক্রি হচ্ছে ৩ কেজি আলু।
এবার বলুনতো ওর কি করা উচিত ??
©somewhere in net ltd.