নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঊনকবির ডায়েরি

আহমেদ মিজানুর রহমান

গল্পকার,ঊনকবি

আহমেদ মিজানুর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি কেন মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এত ভাবুক

০১ লা মে, ২০২১ রাত ৮:৫৬

সত্যিকারের গে (সমকামী) আমি মাদ্রাসায় দেখেছিলাম! লেখাপড়ায় ভালো ছিলাম বটে তবে আমার একটা বদভ্যাস ছিল প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ করা। তাই নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হয়েছে, নুরানী,হাফেজি,ক্বওমী, আলিয়া তারপর কলেজ এখন ডিগ্রিতে।

তখন আমার বয়স ১০ সম্ভবত, দুই পারা হেফজো করা হয়েছিল। একদিন মাদ্রাসায় বড় হুজুর সুন্দর এক বালককে যৌননির্যাতন করেছিল,এ খবর রাষ্ট্র হয়ে গেলে আমি ভয়ে কিছুতেই এখানে পড়বোনা বলে জানিয়ে দিলাম,তারপর ভাইয়া আমাকে ক্বওমী মাদ্রাসায় এনে ভর্তি করে দিল।

ইয়াজদ্বাহম,দ্বাহম,তারপর মিজান জামাতে যখন পড়ি তখন সেই ক্বওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষককে নিজ চোখে দেখেছি তার খেদমতকারি একছেলেকে দিয়ে সেম কাজটাই করাচ্ছে। ভাগ্যিস আমি কালো আর রোগাপাতলা গড়নের কারনে আমার উপর লোভ হয়নি, না হয় নিজেও সিকার হতে হত। বাড়িতে এসে জিদ ধরলাম এখানেও পড়বোনা। ভাইয়া বলল তোর রোল বরাবর ফাস্ট, একজন বড় মাওলানা হবি দেখিস, তারপর নিজেই পালিয়ে আলিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হলাম। আজও ভাইয়া আমার উপর রাগ,তার ধারনা আমার নিজের কারনেই ২৩বছর বয়সে এখনও আমি বেকার। ফাও ডিগ্রিতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি!

চাচাতো বোনের ছেলে আমার ভাগিনা,হঠাত করে আপু ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে এনে গ্যারেজে দিয়ে দিলেন,গত বছরের ঘটনা। আমি প্রায়ই ঐ গ্যারেজটায় আড্ডা দিতাম কলেজের পাশে থাকায়। আড্ডার কারন ছিল চুরি করে দু-একটা সিগারেট টানতাম ওখানে। কিছুদিন পুর্বে সেখানে গেলাম, গিয়ে ভাগিনাকে দেখে এসে, চাচাতো ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আসল ঘটনা কি? উনি আমাকে সেম ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলো! বালক ধর্ষিতা এখানেও। আফু নাকি চাপচাপ জানিয়ে দিয়েছে ছেলেকে আর পড়াবেইনা, ওনার ধারনা জন্মেগেছে শিক্ষক মাত্রেই বুঝি এমন।

কথাগুলো মনে পড়লো এই জন্য, আজ আমার হাফেজ একবন্ধু সেম তারও নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা বলল,সে আমার ফ্রেন্ডলিস্টেই আছে,হয়তো লেখাও পড়বে। আমার ছোট কাজিন প্রায় অসুস্থ থাকে লিল্লাহ বোর্ডিং এর খানা খেয়ে,এই কথা শুনে আমার বুকটা ধড়াস করে উঠে! তারপর চাচিকে বলে মাদ্রাসা চেঞ্জ করালাম। চাচী হয়তো আমাকে খারাপ ভাবতে পারে, কিন্তু ওনাকেতো আর খোলাসা করে কিছু বলতে পারিনা। শুধু বললাম সার্টিফিকেট ছাড়া পড়ে কি লাভ?

আলিয়া থেকে দাখিল পাশ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমি যেন হাফ ছেড়ে বাচলাম। আল্লাহ মাফ করছে এখানকার হুজুরেরা গে নয়,তবে মাঝেমাঝে খবর পেতাম ছাত্রীদের সাথে প্রেমলিলার। বেশি একটা কষ্ট লাগতোনা কারন সমকামী তো আর নয় এই সান্তনায়! আমার বোন এবার এম এ পরিক্ষা দিবে,তিনি প্রায়ই বলেন-মিজান ইসলামের ইতিহাসে মাসাল্লা তোর যে নিখুঁত মুখস্থ করার শক্তি ছিল একটা কিছু নিশ্চই হতে পারতি। আমি ভাত খেতেখেতে হাসি আর বলি আপু তুই বুঝবিনা এইসব, তোকে বলে লাভ নাই।


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.