| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মিলটন
আনুমানিক ৩৫ বছর ধরে বহন করে চলছি এই রক্ত মাংসের ক্ষয়িষ্ণু দেহটাকে। পিছনে তাকিয়ে দেখি কোন পাথেয় সংগ্রহ হয়নি। তাই ভয় হয়। খুব ভালোবাসি মা আর সন্তানকে আর তার সমান্তরালেই আছে আমার দেশ, বাংলাদেশ। সালাম মা তোমাকে, সালাম বাংলাদেশ তোমাকে। ধন্য করেছ তোমরা আমাকে জন্ম দিয়ে। ঘৃণা করি তাদের, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে আর সর্বদা অন্যের কুৎসা রটনা করে।
পূর্বে প্রকাশের পর
........................
আজ একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমি বড় হয়েছি একটা ছোট জেলা শহরে। সেখানেই পড়ালেখা করেছি প্রাইমারী/উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, কলেজে। আমার সমস্ত অতীত জুড়ে আছে সেখানকার সব সৃত্মি। আজো আন্দলিত করে আমাকে সেগুলো রীতিমত। আমি মাঝে মাঝে নষ্টালজিয়াতে ভুগি। কিন্তু সেগুলো আমি মনে করতে চাই না আর। মনে পড়লে আমার পুরো পৃথিবী ওলোটপালোট হয়ে আসে। আমার খালাত বোন নিশি। ওর সাথেই বেড়ে ওঠা। ওর সাথেই সব সুখ দুঃখ ভাগাভাগি। আমরা প্রাইমারী স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত একসাথে একক্লাশে পড়েছি।
নিশি যখন একেবারে ছোট তখন ওর মা মানে আমার খালা (দুঃসম্পর্কে) মারা যান। তারপর প্রায় ১২ বছর বয়সে ওর বাবাও মারাও যান এক মারাত্বক রোড এক্সিডেন্টে। তখন থেকেই নিশি হয়ে যায় একেবারে নিঃসঙ্গ। ওকে কোলে তুলে নেয় আমার মামা মামী। মানুষ করে ওকে। কোনদিনই বুঝতে দেয়নি বাবা মায়ের অভাব। কখনও বোঝেনি কষ্ট, অভাব কাকে বলে। মামা মামী ছিলেন নিঃসন্তান। তাই আদরে কখনও ভাটা পড়েনি।
আমাদের বাসা আর মামার বাসা ছিল প্রায় পাশাপাশি। যেহেতু এক ক্লাশে পড়তাম আমি আর নিশি তাই আমাদের বাসায় ছিল নিশির ছিল অবাধ যাতায়াত। আমার বাবা মা দুজনেই নিশিকে খুব পছন্দ করতেন।
আমরা কখন যে দুজনে দুজনকে ভালবেসে ফেলেছিলাম তা আমরা নিজেও জানতাম না। সবাই জানতো যে বড় হলে এদের বিয়ে হবে। সেই মনে করেই আমরা বেড়ে উঠেছিলাম। মাঝে মাঝে নানী ওকে আমার বউ বলে ক্ষ্যাপাতো। ও তখন লজ্জায় লাল হয়ে যেত। আর কোথায় যে পালিয়ে যেত খুঁজে পাওয়া যেত না। কখনও হয়ত দেখা যাচ্ছে আম গাছের উপরের ডালে উঠে রাগ করে বসে আছে। তখন ওকে অনেক কষ্টে মান ভাঙ্গিয়ে নীচে নামিয়ে আনতে হতো। এইভাবে মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলতো সবার সাথে। আমাদের এলাকার সবার সাথে ছিল ওর নিবিড় সম্পর্ক। ছোট বড় সবাই ওকে ভাল বলে জানতো। আমি ব্যাপারগুলোতে খুব মজা পেতাম।
কিন্তু ওর এই লুকোচুরি খেলা যে একসময়ে স্থায়ী রূপ নিবে তা আমি কখনও ভাবতে পারিনি।
আমাদের সাথে সাইন্স ডিপার্টমেন্টে পড়তো অপর্ণা। সুন্দরী, অহংকারী, বড়লোকের মেয়ে। অপর্ণা খুবই চালাক ছিল, না, চালাক বললে ভুল হবে ও ছিল খুব ধুর্ত টাইপের। এমন কোন কাজ নেই যেটা অপর্ণা করতে পারতো না। সব ধরনের কাজই ও খুব নিখুঁত ভাবে করত। যেকোন অঘটন ঘটনে ও ছিল পারদর্শী। আমি সবসময়ই ফার্ষ্ট বয় ছিলাম সব ক্লাশে। কলেজে আমি কারো সাথে তেমন মিশতাম না তবে সবার সঙ্গে অন্তরঙ্গতা ছিল। কিন্তু অপর্না সব বিষয়ে আমাকে প্রায় হিংসা করতো। কেন এই হিংসা করতো তখন বুঝিনি। অনেকদিন পরে জেনেছি। অপর্ণা আমার সাথে নিশির সম্পর্ক কখনই মেনে নিতে পারতো না। পরে জেনেছিলাম অপর্ণা আমাকে পছন্দ করতো। সে আমাকে অনেক বার বলেছেও এ কথা। কিন্তু আমি কখনই তাকে পাত্তা দেইনি। ওকে জাষ্ট আমার একজন ক্লাসমেট হিসেবেই ভাবতাম। অন্য কিছু না। আমার এই ব্যাপারগুলোই অপর্ণাকে হিংস্র করে তোলে। আর অন্যদিকে নিশি একই ক্লাশে আর্টসে পড়তো।
এভাবে মোটামোটি দিনগুলো ভালই কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ নিশি প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পড়লো। শুধু পেটে ব্যাথা। আমাদের পুরো পরিবারই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আমাদের ওখানকার ডাক্তার কিছুই ধরতে পারলো না। তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নেয়া হয় পাশের জেলা শহরে। ওখানে ওর ইভেষ্টিগেশন চলতে থাকে। প্যাথলজি টেস্টের এক রিপোর্ট উল্টোপাল্টা করে দেয় আমাদের জীবন। আমরা জানতে পারি নিশি দেড় মাসের প্রেগনেন্ট। সবাই নিশিকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসে। বাড়ীতে পোপনে এটা নিয়ে বেশ গরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ ভাবেতে পারেনি যে আমরা এমন একটা কাজ করবো। অবিশ্বাসের আগুনে আমাদের দুইজনকে প্রতিটি ক্ষণ জ্বলতে হোত। সবাই আমাদের ধিক্কার দিতে লাগলো। আমার উপর নেমে এলো দুনিয়ার সব আজাব। আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়া হলো। আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দিলো আমার বাবা।
এই কথাটা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায় যে, আমার সাথে নিশির অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। যারই ফলাফল নিশি প্রেগনেন্ট। পুরো এলাকাতে ছি ছি পড়ে যায়। হাজার হলেও ওটা একটা রিমোট এরিয়া। আমি তখন বাড়ির বাহিরে থাকি, বাড়ীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। বন্ধু বান্ধব মারফত খবর পাই, নিশি প্রচন্ড অসুস্থ্য। ওর শারীরীক অসুস্থ্যতার চেয়ে মানসিক চাপ প্রচন্ড বেশী ছিল।
আমি বাসা থেকে কয়েক মাইল দুরে আমার এক বন্ধুর মেসে উঠি। আমি নিশির আর কোন খবর পাই না। যতটুকু জানতে পারি, পুরো এলাকার লোকজন আমার বাবা, মামাকে খুব অপমান করেছে তাদের সন্তানদের কৃতকর্মের জন্য। আমার জীবনটা পাথর হয়ে যায়। তখন আমি অনুভব করি যে, আমি নিশিকে কতটা ভালবাসি।
চলবে..........
রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ১
Click This Link
রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ২
Click This Link
রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ৩
Click This Link
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
মিলটন বলেছেন: আমার মাইনাচ কই চিকনমিয়া?
২|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮
শিখা মণি বলেছেন: হ্যাঁ সব পর্ব গুলোই পড়েছি। আচ্ছা মিলটন ভাই এটা কি সত্য ঘটনা আপনার ঘটনা?
ঠিক বুঝতে পারছিনা। তারপর নিশির কি হলো? ঘটনা বেশ জমিয়ে ফেলেছেন। প্রায় ক্লাইমেক্সের দিকে যাচ্ছে।
দেখি পরের পর্ব দেন। তাড়াতাড়ি।
ভালো লেখেন আপনি। বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়।
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১
মিলটন বলেছেন: @ শিখা মনি
আপনার কি মনে হয়, এটা কি আমার জীবনের ঘটনা হতে পারে?
হ্যাঁ সামনের পর্ব তাড়াতাড়িই দিবো, একটু অপেক্ষা করুন।
আপনাকে ধন্যবাদ।
৩|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২০
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: খুব জীবন্ত হচ্ছে +
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১৭
মিলটন বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২২
মেহদী বলেছেন: ভাল হয়েছে।কেমন আছেন?
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৩
মিলটন বলেছেন: জ্বী গুরু ভাল আছি। আপনার আর্শীবাদ পুষ্ট।
৫|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৮
চিকনমিয়া বলেছেন: লেকা ভালা লাগচে, কিতা করতাম![]()
পেলাচ দিচি
__________________________
গুরু মেহদী আমারে আনবলক করেন পিলিচ
মাফ কইরা দেনগো গুরু
@মেহদী গুরু
৬|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
অচেনা বাঙালি বলেছেন: আগে গুরু দক্ষিণা দেও @ চিক্না ![]()
৭|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:১৪
কমুক্যা বলেছেন: সহজ কথায় চমৎকার।
৮|
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৫
মুহিব বলেছেন: জমে গেছি বস। পরের পর্ব তাড়াতাড়ি ছাড়েন।
২৬ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
মিলটন বলেছেন: মুহিব
হ্যাঁ আজই পারলে পোষ্ট দিবো। প্লিজ জমে যাবেন না।
৯|
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
সাঈদ সৌদিআরব বলেছেন: এই রকম একটা কাজ করতে পারলেন?
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১
মিলটন বলেছেন: হে হে হে।
১০|
২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৪:১১
খান সাহেব বলেছেন: বুঝতে পারছি না ঘটনা কোনদিকে যাচ্ছে। জলদি দেন পরের পর্ব। নিশির কি হলো পরে?
পড়তে আছি....
২৬ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯
মিলটন বলেছেন: হ্যাঁ নিশির কি হলো সেটা পরের পর্বেই জানতে পারবেন।
আপনার কি মনে হয়? নিশির কি হবে?
১১|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫০
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: আমিও জমে যাচ্ছি ...
দেরীতে হলেও ...
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
মিলটন বলেছেন: পুরো জমে না গেলেই ভালো।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৫
চিকনমিয়া বলেছেন: লেকাডা ভালা লাগচে
চলুক