| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লায়ন মীর আব্দুল আলীম
লেখা লেখি করি। জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতীক পত্রপত্রিকায় আমার লেখা কলাম নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। পেয়েছি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পাদকও। তবুও সাংবাদিকতা আর লেখালেখি কোনটাই আমার পেশা নয়। আমি একজন ব্যাবসায়ী। বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে। রাজধানী ঢাকায় বসবাস করি। আমার পরিবোরে মা-বাবা, স্ত্রী আর দু’ সন্তান রয়েছে । সময় সুযোগ পেলে ছবি আঁকি, পাহাড়ে ছুটে যায়। সমুদ্রও টানে মাঝে মাঝে।
মীর আব্দুল আলীম
‘কসাই আর ডাক্তার দুটোই আজ প্রফেসন...।’ নচিকেতার গানের চিকিৎসকরা কি তাই? বিখ্যাত এ গায়ক তার গানে কেন কসাইয়ের সাথে ডাক্তারদের গুলিয়ে ফেললেন? কেন এক কাতারে তাদের দাঁড় করালেন? আমরা তো জানি, চিকিৎসক; চিকিৎসা সেবাদাস। পেশাটা রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অতি বেশি সম্মানের। চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন। কিন্তু আজকাল তারা কেন জীবন হন্তারকে পরিণত হচ্ছেন? আজকাল কেমন যেন রাজনৈতিক আচরণ করতে শুরু করেছেন ডাক্তারগণ। হরহামেশাই ধর্মঘটের কারণে রোগীদের প্রাণ যাবে কেন? যে দিন এ লেখাটি লিখছি (২৩ এপ্রিল) সেদিন জাতীয় দৈনিকের একটি সংবাদ- ‘রামেকে ৪৪ ঘণ্টায় ৩২ রোগীর মৃত্যু।’ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অঘোষিত ধর্মঘটে ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৪ ঘণ্টায় ৩২ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে ঐ সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংবাদ থেকে কী শিক্ষা নেব আমরা? চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপারায়ণতা, এগুলোর আজ বড্ড অভাব দেখা দিয়েছে। তাদেরই তো এসব গুণের বেশি পূজারী হবার কথা।
কী ঠিক, কী ভুল, কোনটি অমানবিক তা আজ আমাদের ডাক্তারদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। এটাই হচ্ছে তিক্ত বাস্তবতা। সম্প্রতি চিকিৎসকরা ধর্মঘটের নামে রোগীদের চিকিৎসাবঞ্চিত করে, কষ্ট দিয়ে অনৈতিক ও অমানবিক কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে একটি দুষ্ট নজির স্থাপন করেছেন তা বলাই বাহুল্য। আন্দোলনের নামে চিকিৎসকদের ধর্মঘট করা, চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা, চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা বা আইন কোনোটাই সমর্থন করে না। তারপরও আমরা দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল-চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসকরা বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্মঘট করছেন, ডাক্তারগণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আসা করব, প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে চিকিৎসা সেবা বন্ধের মতো অমানবিক প্রবণতা থেকে চিকিৎসকরা বেরিয়ে আসবেন।
সম্প্রতি রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালেও ডাক্তারদের কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে। ঢাকার শাহবাগস্থ বারডেম হাসপাতালের ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। এর পিছনে বিভিন্ন ধরনের কারণও পাওয়া যায়। কোনটি ঠুন্কো আবার কোনটি যুক্তিযুক্ত। কখনো রাজনৈতিক কারণ, কখনও বা রোগীদের স্বজনকর্তৃক ডাক্তারদের লাঞ্ছিত কিংবা মারধরের ঘটনায় ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করছেন। রাজনৈতিক ঘটনাগুলোকে ডাক্তারদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত। দল বা মতের সমর্থন করা দোষের নয়, তবে তাতে যদি চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবনহানির আশঙ্কা সৃষ্টি হয় কিংবা রোগীদের নিয়ে স্বজনরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন, তবে ডাক্তারদের প্রতি রোগীর আত্মীয় স্বজনরা আস্থা হারিয়ে তাদের প্রতি ভিন্ন ধারণার সৃষ্টি হবে। যা ডাক্তারদের জন্যও যেমন কল্যাণকর হবে না, তেমনি রোগীদের জন্য তো কল্যাণকর নয়ই। ডাক্তাররা ভুলের ঊর্ধ্বে নন। অন্যান্য পেশাজীবী মানুষের মতো তাদেরও ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ডাক্তারদের অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভুল যেভাবেই হোক, এর ফলে যদি কোন রোগীর প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানি হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা সেটা মানতে নারাজ হবেন। ডাক্তাররাও অপারেশনে এমন কিছু ভুল করেন যা একজন পেশাদার হিসেবে ডাক্তারদের থেকে কখনো আশা করা যায় না।
ডাক্তাররা তাদের কর্মবিরতিকে ‘আন্দোলন’ বলে দাবি করেছেন। শব্দটিকে এরূপে কলুষিত না করলেই ভালো হতো। কিছু ব্যক্তি (ডাক্তার) নিতান্ত স্বার্থের খাতিরে একজোট হয়ে একটি সমাজবিরোধী কাজ (রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়া) করলে তা ‘আন্দোলন’ হয়ে ওঠে না, তা অপরাধও বটে! এই অপরাধবোধ যে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর চিকিৎসকদের মধ্যে অনুপস্থিত, সেটাই আজ উপলব্ধি হচ্ছে। অসভ্য, বর্বর আর অশিক্ষত সমাজের নাগরিককে ঘা মেরে (পিটিয়ে) নীতিবোধ শিক্ষা দেওয়া যায়, কিন্তু যথার্থ সভ্য সমাজের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ডাক্তারদের কীভাবে নীতিবোধ শিক্ষা দেবে সমাজ? এ জন্য আইন করা দরকার। ডাক্তারদের ঘন ঘন কর্মবিরতি বন্ধ করতে সরকার একটি আইন প্রণয়ন করতে পারে। আর সহসা তা করা দরকার। জানি এই সংবাদ উৎসাহ জাগায় না। আইন করে যদি বিবেক জাগ্রত করতে হয়, আর আইনের মাধ্যমে অসদাচরণ বন্ধ করা সম্ভব হতো, তবে বাংলাদেশ এই বিশ্বের সর্বাধিক শিষ্ট, নীতিনিষ্ঠ রাষ্ট্র হতো, সন্দেহ নেই। এদেশে অসংখ্য আইন আছে, দেশের নাগরিক সমাজ ক’টা আইন মানে? দেশের ডাক্তারদের ধর্মঘটি রোগ প্রতিকারে আরও একটি আইন কোন কাজে লাগবে কিনা তা-ও জানি না। তবে আমাদের চিকিৎসকরা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, যে আইন করার উদ্যোগ না নেওয়া ছাড়া বোধ করি রাষ্ট্রেরও আর কোন উপায় নেই। অন্যথায় রোগীদের সামান্য চিকিৎসাটুকু নিশ্চিত করা যাবে না। বিনা চিকিৎসায় একের পর এক রোগী মরতেই থাকবে।
চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তা আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা হওয়া উচিত। কিন্তু তাদের অযৌক্তিক ধর্মঘট ও নিজেদের অন্যায় ঢাকতে রোগীদের চিকিৎসাবঞ্চিত করার অধিকার কি তারা রাখেন? দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, নাগরিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, সরকারি চাকরিজীবী চিকিৎসকদের অবশ্যই অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই সম্পূর্ণভাবে সরকারি আইন ও বিধিবিধান-শৃঙ্খলা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা তা মানেন বলে মনে হয় না। ধর্মঘটের নামে দায়িত্ব পালন না করা সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের শামিল। চিকিৎসকদের কাছে এ আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না। সমাজে চিকিৎসকরা একটি শিক্ষিত ও সম্মানিত পেশাজীবী মহল। এই সম্মানিত চিকিৎসকরা যদি কাজ ফেলে ধর্মঘট করেন, তবে এর ভোগান্তির দায় নেবেন কে? তাদের এ অবস্থানের কারণে হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রাণ। চিকিৎসকদের দাবি যৌক্তিক হলে আগেই মেনে নেয়া উচিত। মেনে নেওয়ার মতো না হলে অন্তত আন্দোলন-ধর্মঘট থেকে তাদের বিরত রাখা উচিত।
দাবি আদায়ের জন্য সকল সংগঠন ও পেশাজীবীরা আন্দোলন সংগ্রামকেই বেছে নেন। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করার ইতিহাস ও যুক্তি রয়েছে। কিন্তু ডাক্তাররা রাজনৈতিক আচরণ করলে চলবে না। চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নয়। চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা। চিকিৎসকদের প্রথম কাজই হচ্ছে রোগীর সেবা দেওয়া। মনে রাখতে হবে, ডাক্তারদের এক মিনিটের কর্মবিরতিতে একটি জীবনহানি ঘটতে পারে। এর আগেও রাজশাহীতে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ডাক্তাররা তাদের দাবিদাওয়ার জন্য অন্যভাবেও প্রতিবাদ করতে পারতেন। রোগীর সেবা প্রদান বন্ধ করা তাদের মোটেও উচিত হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আওতায় চিকিৎসকদের রোগী দেখা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের আধুনিকীকরণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকার বিএমডিসি’র আইন সংস্কার করে সেখানে তদন্তপূর্বক শাস্তির বিধান সংযোজনের বিষয়টি চিন্তা করছে । আর তা সহসা করাও উচিত। চিকিৎসকদের রোগীর সেবা প্রদানে বিরত থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ কথা সত্য যে, ইদানীং চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ও ডাক্তারের চেম্বার ভাঙচুরের বিষয়টি এখন নিয়মিত ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা আশা করা যায় না। সরকারকে এসব ঘটনা রোধে দায়িত্ববান হতে হবে।
দেশের নানা হাসপাতালে রোগীদের চরম অসুবিধা এবং অন্যায়ের দৃষ্টান্ত অগণিত। এ সকল সমস্যার কোনো প্রতিবাদ কোনো চিকিৎসক সংগঠনের মুখে এ যাবত শোনা যায়নি। রোগীর স্বার্থরক্ষায় হাসপাতালের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে চিকিৎসকরা গলা ফাটিয়েছেন, ধর্মঘট আর কর্মবিরতি পালন করেছেন এমন দৃষ্টান্ত কয়টি মিলবে? বোধ করি একটিও না। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারীর হাতে কর্তব্যরত ডাক্তার আক্রান্ত হলেই তা এক চরম সঙ্কট বলে প্রতিপন্ন করতে চিকিৎসকরা উঠে-পড়ে লাগেন। কাজকর্ম বন্ধ করে দেন। এর ফলে যে বার্তা পৌঁছায় তা এই যে, রোগী মরে মরুক, ডাক্তারকে বাঁচতেই হবে। রোগী নয় ডাক্তারদের স্বার্থ রক্ষা আগে। রাজশাহীর চিকিৎসক ধর্মঘট ইতোমধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন সরকারি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ক্লিনিক থাকা আইনসিদ্ধ হতে পারে না। আমরা লক্ষ করে আসছি, চিকিৎসকরা তাদের ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব দায়সারাভাবে পালন করলেও নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত কিংবা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতালে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। সারাদেশে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা এসব বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের সেবার মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল দালাল চক্রের হাতে জিম্মি বলে নানা সময়ে গণমাধ্যমে খবর আসে। রাজশাহীর ঘটনাটি এমনই। ভুল চিকিৎসার কারণে নেতার ক্লিনিকে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ স্বাচিপ নেতাকে আটক করে। যে কারণে এ আন্দোলন। আন্দোলনের নেতিবাচক দিক বিবেচনা না করেই চিকিৎসকরা আন্দোলনে নেমেছেন, যা জনভোগান্তির অন্যতম কারণ। চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুও ঘটেছে। ফলে এ মৃত্যুর দায় ধর্মঘটী চিকিৎসকরা এড়াতে পারেন না। রাজশাহীতে চিকিৎসকদের অনৈতিক ধর্মঘটের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে কঠোর পদক্ষেপই আমরা আশা করি। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর কাছে দেশ জিম্মি হতে পারে না। একই সঙ্গে আমরা চাই, চিকিৎসা সেবাকে ‘অত্যাবশ্যক’ বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকদের ধর্মঘট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।
ডাক্তারী পেশাটি মানুষের সেবা করার মতো অসাধারণ এক মহান পেশা। যে পেশার মানুষরাই পারে একজন মুমূর্ষু মানুষকে নতুন জীবন দিতে। পারে অসংখ্য অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ পেশার মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের মানবিক বোধ যেন দিন দিন কমছে। যারা সেবার মানসিকতা নিয়েই পেশাটিকে বেছে নিয়েছেন এবং এখনো নীরবে সাধারণ ও অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। যাদের কাছে চিকিৎসা পেশাটি কেবলই অর্থ বানানোর হাতিয়ার নয়। তবে, এ সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমে আসছে। ডাক্তারদের আচরণ দেখে অন্তত তাই মনে হয়। অবহেলা, অসদাচরণ ও ভুল চিকিৎসাসহ নানা কারণে দেশের চিকিৎসক সমাজের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। উচ্চ-বিত্তের পাশাপাশি যাদের সামান্য সামর্থ্য রয়েছে তারাও এখন হরদম বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে। চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আস্থাহীনতার কারণ কিন্তু চিকিৎসক সমাজই। এটা কি তারা বুঝতে পারেন না?
পরিশেষে আমাদের মহান চিকিৎসকদের বলব, আপনারা কোনো কারণেই ধর্মঘটের মতো অমানবিক আন্দোলনে যেতে পারেন না। ধর্মঘট ডাকলে এর ফলে একজন রোগী মারা গেলে দায়িত্ব নেবে কে? এ যাবত যেসব রোগী মারা গেছেন তাদের দায়িত্বই বা কার? অতীতে ডাক্তার এবং রোগীদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। কেননা ডাক্তাররা তাদের সর্বস্ব উজাড় করে রোগীর সেবা করে থাকেন। এখনও রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক অটুট থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০ বারেরও বেশি চিকিৎসক ধর্মঘট হয়েছে। এ বছরের প্রথম তিন মাসেও বেশ কিছু ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিনা চিকিৎসায় বেশ ক’জন রোগীও প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।
লেখক : সম্পাদক, নিউজ-বাংলাদেশ ডটকম
[email protected]
‘কসাই আর ডাক্তার দুটোই আজ প্রফেসন...’
©somewhere in net ltd.