নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মীর আলীমের যত লেখা.

লেখা লেখি করি। জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতীক পত্রপত্রিকায় আমার লেখা কলাম নিয়মত ছাপা হচ্ছে। পেয়েছি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পাদকও। তবুও সাংবাদিকতা আর লেখালেখি কোনটাই আমার পেশা নয়। আমি একজন ব্যাবসায়ী। বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে। রাজধানী ঢাকায় বসবাস করি। আমার পরি

লায়ন মীর আব্দুল আলীম

লেখা লেখি করি। জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতীক পত্রপত্রিকায় আমার লেখা কলাম নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। পেয়েছি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পাদকও। তবুও সাংবাদিকতা আর লেখালেখি কোনটাই আমার পেশা নয়। আমি একজন ব্যাবসায়ী। বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে। রাজধানী ঢাকায় বসবাস করি। আমার পরিবোরে মা-বাবা, স্ত্রী আর দু’ সন্তান রয়েছে । সময় সুযোগ পেলে ছবি আঁকি, পাহাড়ে ছুটে যায়। সমুদ্রও টানে মাঝে মাঝে।

লায়ন মীর আব্দুল আলীম › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুখের দেখা নাইরে, সুখের দেখা নাই... -মীর আব্দুল আলীম

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৪৬

মীর আব্দুল আলীম

কোথাও সুখের দেখা নাই। মৃত্যুহীন দিন, পঞ্জিকা থেকে বিদায় নিয়েছে বলা চলে। সুসংবাদরা উধাও। চারদিকে কেবলই দু:সংবাদ। ঘরে বাইরে, হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, রাসত্মা ঘাট, হাজতখানায়, শিড়্গপ্রতিষ্ঠান কোথাও আমরা এখন আর নিরাপদ নই। ঘরে বিপদ, ঘর থেকে বাইরে গেলেও বিপদ। বিপদ যেন পিছু ছাড়তে চায় না। আমরা নিরাপদ কেন নেই? এর স্বপড়্গে যুক্তির জন্য ঢাকার একটি দৈনিকের ক’টি শিরোনামই যথেষ্ট। “সাগরে নেমে ভার্সিটির ৬ শিড়্গার্থী নিখোঁজ, কালিয়াকৈরে ট্রাক-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৫, সিরাজগঞ্জে ট্রেনের মুখমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ৫০, রাজধানীর সিআরপি হাসপাতালের আগুন, বেলার নির্বাহী রেজওয়ানার স্বামী এ বি সিদ্দিককে অপহরন, শুক্রাবাদে বাসের ধাক্কায় শিড়্গার্থী নিহত, পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ আহত ৫২, বিভিন্নস'ানে ৮ জনের লাশ উদ্ধার, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বাগেরহাটে ১৯ কয়েদি হাসপাতালে, গুলি ও ছুরিকাঘাত করে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই,কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র।” শিরোনামগুলোর সাথে পাঠক আপনারাও পরিচিত কারন হাল সময়ে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

সাগরে নামলে নোনাজল কেড়ে নেবে প্রাণ, যানবাহনে চড়লে দুর্ঘটনা নেবে জান। এই তো হচ্ছে পরিসি'তি। ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকবে তো ওই ট্রেনে ধাক্কা দেবে চলনত্ম আরেকটি ট্রেন, জেলখানাও নিরাপদ নয়, বিষাক্ত খাবার খেয়ে যেতে হবে হাসপাতালে, হাসপাতালে চিকিত্‌সার জন্য গেলে আগুন লেগে দগ্ধ হতে হবে, নয় তো চিকিত্‌সকদের আন্দোলনে বিনে চিকিত্‌সায় মারা যাওয়া। রাসত্মায় বাস ট্রাক না হয় ছিনতাইকারী কেড়ে নেবে প্রাণ, নয় তো হতে হবে অপহরণ। শিড়্গাঙ্গনে সংঘাত সংঘর্ষে জীবন যাবে। তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? ক’দিন আগে কয়েকজন শিড়্গার্থী পরীড়্গা শেষে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যান। উদ্দেশ্য বৈশাখ উদযাপন। পয়লা বৈশাখে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিনের উত্তর সৈকতে গোসল করতে নামলে এ মর্মানিত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

ভ্রমণের স'ান সেন্টমার্টিনে এসে ভ্রমণপিয়াসীরা সমুদ্রে তো নামবেই। সেদিন এখানে কোনো প্রকার সতর্কতাও ছিল না। আসলে আমাদের বিনোদনের জায়গাগুলো নিরাপদ নয়। সি-নেটিং ব্যবস'া না থাকার কারণে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এখানে ভ্রমণে এসে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছে পর্যটকদের। গত বছর একইভাবে গোসল করতে নেমে প্রাণ দিতে হয় বুয়েটের এক ছাত্রকে। এরপরও টনক নড়েনি সংশিস্নষ্টদের। স'ানীয় সুশীল সমাজ ও পর্যটকদের পড়্গ থেকে বারবার কঙবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিনে সি-নেটিং ব্যবস'ার দাবি জানানো হলেও এতে কর্ণপাত করছে না প্রশাসন কিংবা সংশিস্নষ্টদের কেউই। সেন্টমার্টিন পর্যটকদের কাছে আর্কষণীয় একটি স্পট। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে সি-নেটিং ব্যবস'া চালু করা অত্যনত্ম জরম্নরি।

সাগরে বেড়াতে গিয়ে প্রায়ই মর্মানিত্মক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাঁতার না জানা, জোয়ার-ভাটা না বুঝে পানিতে নামা এবং ডেঞ্জার জোনে গোসলের উদ্দেশ্যে নেমে পড়ার কারণেই মৃত্যুর মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের, এমনই তথ্য উঠে আসে মৃত্যুর কারণ হিসেবে। যারা পর্যটনে যান, তারা সাগরে নামার সতর্কসঙ্কেত না বোঝার কারণেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। সাগর সৈকতে ছাত্র মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা করা যায়, রোমাঞ্চ আর অ্যাডভেঞ্চারের প্ররোচনায় শিড়্গার্থীরা সাগরে নেমেছিলেন। ভাটার সময় সৈকতে নামাটা যে বিপজ্জনক, তাও সম্ভবত তাদের কেউ বলে দেয়নি। অথবা তাদের সতর্ক করে দেওয়া হলেও তারা তা কানে তোলেননি। পুকুরে বা কোনো সাধারণ জলাশয়ে সাঁতার কাটা আর সমুদ্রে সাঁতার কাটা যে এক নয়, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ভারি হওয়ায় সেখানে সাঁতার কাটা যে বেশ কঠিন এবং ভাটার সময় এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, তা সম্ভবত তাদের কারও জানা ছিল না। ফলে ঘটে গেছে এমন একটি মর্মানিত্মক ঘটনা। এমন অকালমৃত্যু বার বারই দেখতে হচ্ছে। রোধ করা যাচ্ছে না। এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক অপহরণ হয়েছেন ১৬ এপ্রিল। দিনেদুপুরে এ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একেবারে প্রকাশ্যে। এ নিয়ে দেশজুড়ে বেশ হইচই হয়েছে। প্রশাসনেও টনক নড়ে। খোদ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে নজর দিয়েছেন। যে কারণে রিজওয়ানা তার স্বামীকে ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে অড়্গত অবস'ায় ফিরে পেয়েছেন। যদিও অপহরণের পর এদেশে অপহূতকে জীবিত ফেরে পাওয়ার ঘটনা বিরল।

স্বাধীনতার পর গত ৪৩ বছরে পরিবহন খাতের অন্যান্য সেক্টরে উন্নতি হলেও একমাত্র ব্যতিক্রম রেল যোগাযোগ খাত। দেশের পরিবহন ব্যবস'ায় অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্‌েবও রেল খাতটিকে পঙ্‌গু করে রাখা হয়েছে অব্যবস'াপনার মাধ্যমে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভুগছে দড়্গ লোকবলের অভাবে। রেলওয়ের ওপর একের পর এক কালো বিড়ালের আঁচড় ওই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হতাশাজনক অবস'ায় ঠেলে দিয়েছে। দুনিয়ার সর্বত্র নিরাপদ পরিবহন হিসেবে রেলওয়ের সুনাম থাকলেও বাংলাদেশ এড়্গেত্রে ব্যতিক্রম। গত সাত বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারেরও বেশি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মুখোমুখি ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনা ১৭টি। যাতে হতাহত হয়েছে ১ হাজার ২৩৫ জন। রেলপথ, নৌপথ, সড়কপথ কেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকবে? সড়ক-মহাসড়ক নিরাপদ করা যাবে না কেন? সংশিস্নষ্ট পর্যায় থেকে অযোগ্য লোক সরিয়ে যোগ্য লোকদের ঠাঁই দিতে হবে। আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই দুর্ঘটনা রোধ হবে।

মৃত্যুর ধরন যাই হোক, সরকারি খাতায় সেগুলো অপঘাত বা দুর্ঘটনা বলে চালানো হলেও এর সবই কর্তৃপড়্গের অবহেলাজনিত মৃত্যু। কেবল তদনত্ম করলেই চলবে না, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর দ- নিশ্চিত করা জরম্নরি হয়ে পড়েছে। এসব ড়্গেত্রে সংশিস্নষ্ট সবার জবাবদিহিতা-দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে। আর কত প্রাণ ঝরে গেলে কর্তৃপড়্গ দায় বোধ করবে? সংশিস্নষ্টদের নিদ্রা ভঙ্গ হলেই এ প্রশ্নের জবাব মিলবে। এভাবে একের পর এক দেশের মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে যাবে, আর সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন তা হতে পারে না। এ অবস'া কিছুতেই চলতে দেওয়া যায় না।

্ম লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.