| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লায়ন মীর আব্দুল আলীম
লেখা লেখি করি। জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতীক পত্রপত্রিকায় আমার লেখা কলাম নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। পেয়েছি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পাদকও। তবুও সাংবাদিকতা আর লেখালেখি কোনটাই আমার পেশা নয়। আমি একজন ব্যাবসায়ী। বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে। রাজধানী ঢাকায় বসবাস করি। আমার পরিবোরে মা-বাবা, স্ত্রী আর দু’ সন্তান রয়েছে । সময় সুযোগ পেলে ছবি আঁকি, পাহাড়ে ছুটে যায়। সমুদ্রও টানে মাঝে মাঝে।
বাউল শিল্পী অন্ধ রাসেল। গান গেয়ে সংসার চালায়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গান বাঁধে। মধুর সুরে বাস্তবধর্মী গান গায় বলেই স্থানীয়দের কাছে ওর বেশ কদর। মাঝে সাজে টেলিভিষণেও গান গাওয়ার ডাক পরে। আমিও ওর গানের ভক্ত। সেদিন গ্রামের বাড়ি যাব এ সংবাদে সে আগেই আমার বাড়িতে গিয়ে হাজির। মাঝে মধ্যেই এ কাজটা করে সে। গান গাইছে রাসেল। ভাবি অন্ধ লোকটা দেশ নিয়ে এতো ভাবে কি করে? ওতো আর পত্রপত্রিকা পড়তে পারে না, টিভিও দেখে না কখনো। তাহলে হাল সময়ে দেশে কি হচ্ছে তা জানে কি করে? রাসেল গাইছে- “এলেম এ কোন দেশে, তলায় গেল ভগ্ন তরী, কূল পেলাম না ভেসে। গুম খুনের বদলতে, দেশটা যে বেশ জোরছে চলে...।” খুব দরদ দিয়ে গাইছে। চোখের কোঠুরি মাংসে লেপটানো তা থেকে জল বেরোনোর সুযোগ না থাকলেও ওর ভেতরটা যে ঠুঁকড়ে ঠুঁকড়ে কাঁদছে তা বেশ বুঝতে পারি। এ অন্ধ বাউলও দেশের চলমান গুম অপহরণ নিয়ে বেশ বিচলিত। দেশ জুড়ে এখন একের পর এক অপহরন, গুম হচ্ছে। সর্বশেষে নারায়নগঞ্জ সিটি কপ্যোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ ৭ জন অপহরণ এবং তাদের লাশ উদ্ধারের পর দেশবাসীর মনে অজানা আতংক বিরাজ করছে। দেশে গুম অপহরন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যা কিনা খোদ সরকার দলের লোকদেরও ভাবনার কারন হয়েছে। সে দিন গুম ও অপহরণ সীমা অতিক্রম করেছে বলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্তব্য করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘সরকারের বাইরে আরেক সরকার থাকলে তো চলবে না। এখানে দুর্বলতা দেখানো যাবে না, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। ক্রমাগত এ-জাতীয় অপহরণ ও গুম আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত নয়।’ সরকার দলের গুরুত্ব পূর্ণ ঐ ব্যক্তির এমন বক্তব্যের পর দেশে গুম অপহরণের মাত্রা নিয়ে আর প্রশ্ন থাকে না।
আজ আমাদের দেশের একি অবস্থা! এটাতো অভিশাপ। আমাদের চারপাশে উড়ছে অসংখ্য হিংস্র শকুন আর আমরা নির্বাক হয়ে আপেক্ষা করছি কখন সেই শকুনগুলো ঠুকড়ে ঠুকড়ে ছিড়ে খুড়ে খাবে আমাদের হাড়, মাংস, মজ্জা, দেহ। এভাবে আতংকের মঝে কি মানুষ বেঁচে থাকতে পারে? প্রায়সই দেখি রাজপথে রক্তের গড়াগড়ি, পিচঢালা কালো পথে ভাঙ্গা কাঁচের ঝলকানী, শশান-কবরস্থানে পোড়া লাশ। কথায় কথায় অপহরণ, গুম, খুন হচ্ছে দেশ জুড়ে। এইতো চলছে দেশে। এভাবে কি দেশ চলে? এভাবে কি মানুষ বেঁচে থাকতে পারে? আর কত কাল চলবে এভাবে? আর কত মানুষ মরলে, আর কত মানুষ গুম হলে, আর কত মানব সন্তান অপহরণ হলে এদেশে শান্তি ফিরে আসবে? এদেশে ক্ষমতায় যাবার জন্য মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়, জ্বালাও পোড়াও, ভাংচুর, লুটপাট হয়। ক্ষমতায় থাকার জন্য ভোট ডাকাতি হয়, বিশ্বজিতেরা রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন হয়, সন্ত্রাসিদের হাতে পথচারি নিহত হয়; প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষ খুন হয়, গুম হয়, স্কূল, কলেজ, ইউনিভাসিটিতে বোনেরা ইজ্জত হারায়। প্রশ্ন এখানেই আমাদের দেশ প্রেমিরা আজ কোথায়? এসব হচ্ছে দেশে, ওদের ঘুম ভাঙ্গছে না কেন? নাকি জেগে ঘুমাচ্ছেন আপনারা? জানি এ জাতীয় ঘুম ভাঙ্গে না কখনো, ভাঙ্গানো যায়না। আপনারা কি দেশপ্রেমিক নন? আপনাদের মধ্যে কেন আজ এতটুকুও দেশ প্রেম জাগ্রত নয়? তাহলে প্রতিবাদ হচ্ছে না কেন? আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারাই বা আজ কোথায়? আপনারা কি বয়সের ভারে নুজ্জু। আপনারা আপনারা কি নিস্তেজ হয়ে পরেছেন? এটা জানি আপনারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, ট্রেনিংও কি কোথাও জমা দিয়ে এসেছেন? আপনারাইতো দেশ বাঁচাতে অস্ত্র দিয়ে শত্রু প্রতিহত করেছিলেন; মা-বোনদের ইজ্জত বাঁচিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ ¯^াধীন করেছিলেন। ভাবি আপনারা জীবিত না মৃত? এভাবে চলতে পারে না? প্রয়োজনে আবার আমরা সকলে হাতে অস্ত্র তুলে নেবো? দেশে আর একজনও অধহৃত হতে দেব না, খুন হতে দেব না, গুম হতে দেব না, জ্বালাও পোড়াও হতে দেব না, মানুষ পুড়তে দেব না। এটাই হউক আমাদের শপথ। প্রায়শই দেখি দেশের কোথাও না কোথাও লাখ লাখ লোক নানা ইসুতে সভা সমাবেশে যোগ দিতে আসেন, জাতীয় সঙ্গিত গাইতে আসেন, পতাকা হতে দেশ প্রেম জাগ্রত হন। এসব দেখে ভালো লাগে, এটা ভালোও। দেশাত্ববোধ আমাদের থাকতেই হবে। তবে কেন মানুষের জন্য তারা নয়! কেন তারা আজ মানুষের জন্য সমবেত হচ্ছেন না? কেন তারা প্রতিবাদী হচ্ছেন না? আপনারা তো এ দেশেরই মানুষ, আপনারাতো জানি দেশ প্রেমিক? এটাতো মোটেও দেশ প্রেমের নমুনা নয়?
আজকাল আমার মন কি চায় জানেন? অন্ধ বাউল রাসেলের মত অন্ধ হয়ে যেতে মন চায়। কেউ কি আছেন বন্ধ করে দু’টি চোখ আমায় অন্ধ কওে দেবেন? ভাবি তাতেও কি নিস্তার মিলবে? দেশে অন্ধরাওতো শান্তিতে নেই। ওরা চর্ম চোক্ষে দেখেনা; অন্তর চোক্ষুতে দেখেসব। তাইতো দেশের চলমান অবস্থা ওদের কাঁদায়। আগে ভোর হলেই আমার প্রাণভারে দেশটাকে দেখতে মন চাইতো এখন আর সেভাবে মন চায় না কেন? ভাবি এটা কি আমার দেশ? এটা কি আমার মুক্তিযোদ্ধা প্রিয় বাবার ¯^াধীন করা দেশ? এটা কি মাওলানা ভাষানীর দেশ? এটা কি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দেশ? এটা কি শহীদ জিয়ার দেশ? অভিশপ্ত দৃশ্য দেখতে দেখতে দিন দিন আমার চোখটাও যে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা একটা সুন্দর দেশ ও জাতি চাই। এটা নিশ্চই অমূলক কোন চাওয়া নয়। আমাদের সকল দলের রাজনৈতিকদের কাছে, সর্ব্বোপরি দেশের রাষ্ট্র প্রধানের কাছে আমরা এমন একটা সোনার দেশ চাইতেইতো পারি? চাওয়ার অধিকার আমাদের (দেশবাসীর), আর দেয়ার দায় আপনাদের। আমাদের নিরাপদ রাখা, ভালো রাখবার এবং সোনার দেশ গড়বার দায় রাষ্ট্রের তথা সরকারের। যারা দেশ গঠনের অঙ্গিকার করেন তারা কি একটুও ভাবেন না? কি আওয়ামীলীগ, কি বিএনপি, কি জামায়াতে ইসলাম, কি জাতীয় পাটি সবারইতো সেই এক রা.. (শব্দ), এক ¯^ভাব, এক সুরত (রূপ)। ক্ষমতায় থাকলে দেখি সবার চেহার ঐ একই হয়। এখনকার সব দায়ই সরকার দল আওয়ামীলীগের। বিএনপি ক্ষমতা থেকে সরে যাবার আগের মুহুর্তের কথা কি পাঠক মনে আছে আপনাদের? ভাবেলে এখনও গাঁ শিউড়ে ওঠে। হওয়া ভবনের দমকা হাওয়ায় কোন জাতীয় সন্ত্রায় হয়নি তখন তাই ভাবতে হয়। আমি একজন অতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের (সকল দল) বলছি, আপনারা আমাদেও দেশবাসীকে) কি দিয়েছেন? কি দিচ্ছেন? কি দিবেন? বরাবরই (যুগযুগ ধরে) লাশ! লাশ! লাশ! আর লাশ। কি হতভাগাই না আমরা। কেউই দায় ¯ি^কার করতে চায় না। সরকার দল বলে এ দায় বিএনপির। আর বিএনপি বলে এ দায় সরকার দল আওয়ামীলীগের। প্রকাশ্যে সভা সমাবেশে এমন দায় চাপানোর কষরত চলে দলীয় প্রধানদের। কোথায় যাব আমরা? দোসতে দোসতেইতো লাশে ভরে যাচ্ছে দেশ। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই বলবো। সবাই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ¯^ভাবে চলনে বলনে অভিন্ন সবাই। দায় কারও কম নয়। সুযোগ পেলে ওনারা কেউই কম যান না। তবে আমি বলবো এখনকার দায় রাষ্ট্রের। যারা ক্ষমতায় আছেন তারা রাষ্ট্রের নাগরিককে নিরাপত্তা দিবেন এটাই নিয়ম। যদি বিএনপি কিংবা অন্য কেউ ওসব করে তা ধরা এবং ঠেকানোর দায়িতও¡ রাষ্ট্রের। জনগন রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্বা চায়।
ভাবি আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কি দিয়ে যাব আমরা? একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশ?? কুয়াশায় ঢাকা দেশ। হাঁড়-গোড়ে ভরা দেশ! দেশটা যেন আজ গুম খুন, অপহরনকারীদের উল্লাশ মঞ্চ! এটা যদি বর্বরদের দেশ বলি, ভুল হবে আমার? যদি বলি দেশটা মঘের মুল্লুকের বলি! তাও কি ভুল? যদি বলি দেশের মানুষ গুলো কীট-পতঙ্গ!, অবলা জীব-জানোয়ার। টিপে টিপেতো একটি একটি করে হত্যা করা হচ্ছে। জীব জন্তু আর কিট পতঙ্গই যদি না হবে তবে সবাই কেন এমন ভাবনালেস? কারো দায়ভার নেই, কারো দু:ক্ষ প্রকাশ নেই, কারো পদত্যাগ নেই। কোরো ক্ষমা চাওয়া নেই। যেন ওসবে কেউ দায়ী নন, তাতে কারো দায়ও নেই, দায় বোধ নেই। দ: কুরিয়ায় সম্প্রতি ফেরি দুর্ঘটনায় সে দেশের কিছু লোক মারা গেছেন। ফেরি চালক কিংবা অন্যদের দোষ ছিলো তাতে। আর হতভ্যাগ্যদের উদ্ধার করতে পারেনি এ দায়ে দেশটার রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী অকপটে দায় ¯ি^কার করে পদত্যাগ করতে মোটেও বিলম্ব করেননি। কোথায় আমরা, আর কোথায় তাঁরা? এতো খুন হচ্ছে, এতা গুম হচ্ছে, থামানো ট্রেনের উপর চলন্ত ট্রেন উঠে যাচ্ছে, তাতে মানুষ মরছে। এসব দায় কাদের? তাঁদের কি দায়বোধ আছে? কেউ এজন্য দায়ীতো বটে! তাই বলে তাদের পদত্যাগ করতে বলছিনা। এ ট্রেডিশন এদেশে যে নেই। আপনারা অন্তত দু:খ প্রকাশতো করতে পারেন? উল্টো কি করছেন আপনারা? বলা হচ্ছে, খুন অপহরনের জন্য নাকি বিএনপি দায়ী। দাীয় থাকলে বিএনপির কারা করছে? এসবে কারা দায়ী? প্রশ্ন হলো তাদের ধরছেন না কেন? অস্ত্র গোলা বারুদ, পুলিশ, র্যাব সবইতো আপনাদের? অপরাধীদের ধরতে তো অসুবিধা হবার কথা নয়। এ জাতিয় অপরাধ বন্ধ করবেন না, অপরাধীদের চিহৃত করবেন না, দায়বোধ থেকে ক্ষমাও চাইবেন না, আর দোষবেন অন্যদের তা হয় না। কারা করছে, কোন দল দায়ী এটা বড় নয়। দেশবাসী কেবল গুম, খুন, অপহরণ থেকে মুক্তি চায়। দেশের মানুষ শান্তি, ¯^স্থ্যি চায়। খেটে খাওয়া মানুষ আমরা, প্লিজ আমাদের শান্তি ফিরিয়ে দিন।
-লেখক- মীর আব্দুল আলীম, কলামিস্ট ও সম্পাদক- নিউজ-বাংলাদেশ ডটকম।
©somewhere in net ltd.