| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র আওয়ামী লীগের এই চার মূলনীতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার, ধর্ম পালনের অধিকার এবং শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ’৬৬-এর ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে সাড়ে সাত কোটি মানুষের ইশতেহারে পরিণত হয় বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ’৭০-এর নির্বাচনে গণচেতনার ইশতেহারে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ।’৭০-এর ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় ১৬৪টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬২ আসনে এবং ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৮৭ আসনে জয়লাভ করে সারা পাকিস্তানে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিকজান্তা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকারকে গলা টিপে হত্যা করে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার্জনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। ’৭১-এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় চূড়ান্ত সংগ্রামের আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ২৫ মার্চ কালরাতে পাকবাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার ইতিহাস মানেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস। এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রতিটি পরিকল্পনার মূল চারণ ভূমি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন , ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১এর আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৫ সালের পর যখন সামরিক জান্তা গ্রাস করেছিল সারা বাংলাদেশ, তখন দীর্ঘ ২৪ বছর পর ১৯৮৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামরিক জান্তা হটাও বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র – শিক্ষক , কর্মচারীরা রাজপথে নেমে ছিল গনতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবার জন্যে। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের গত সাত বছরে উন্নয়ন স্রোতে সমৃদ্ধির নবতরঙ্গে জেগে ওঠা সম্ভাবনার আলোকোজ্জ্বল ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে এখন বাংলাদেশ। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ । যুদ্ধা পরাধিদের বিচার করা ছিল এই আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সাহস জুগিয়েছেন এই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করবার জন্য ।
আজ ১ জুলাই , ২০১৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী, যার স্লোগান” সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ ও মানবিক চেতনা বিকাশে উচ্চশিক্ষা “ । জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে এই স্লোগানের ন্যায় বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।
©somewhere in net ltd.