নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপনতা জেকে বসেছে ?

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫১


ব্লগ একটি লেখা প্রকাশ ও পাঠক মন্তব্য চালাচালির স্থান।একজন লেখক তাঁর লেখার উপর পাঠক প্রতিক্রিয়া/ফিডব্যক দেখতে চান, যেন তিনি পাঠক প্রতিক্রিয়ার আলোকে নীজের লেখার মান উন্নত করতে পারেন। একসময় ব্লগারদের মধ্যে ব্যপকহারে একে অপরের লেখায় প্রচুর মন্তব্য লেখা হত। ইদানিং লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে ব্লগে অনেক পুরাতন ব্লগারও যারা একে অপরের পোস্টে মন্তব্য করতেন তারাও ব্লগে লগ ইন এ থেকে বিচরণ করলেও নীজের সমসাময়িক কালের চিরচেনা ব্লগারদের লেখাতেও আর ফিরেও তাকান না, মন্তব্য করা তো দুরের কথা। তাই, বলা যায় ব্লগে এখন ব্লগারদের কৃপনতা জেকে বসেছে।এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে ব্লগে সকলের পোস্টই ( গুটি কয়েক ব্যতিত ) পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর তা স্বল্প পাঠ ও বলতে গেলে শুন্য মন্তব্যতেই পড়ে থাকবে। অবস্থাদৃস্টে মনে হচ্ছে, এই কৃপনতার মানসিকতাই ব্লগকে ক্রমান্বয়ে অস্তাচলে নিয়ে যাবে। তাই, ব্লগকে সচল রাখতে হলে খোলা মন নিয়ে সকলেরই উচিত হবে ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছাকুত ভাবে হলেও একে অপরের ব্লগ বাগানে বিচরণ করে মন্তব্য কিংবা লাইক দিয়ে উৎসাহিত করা। কারো লেখা পছন্দ না হলে লেখাটি কেন ভাল লাগেনি তা অন্তত পক্ষে এক দুই কথায় বলে যাওয়া , তা না হলে খোদা না করুন ব্লগের সাথে নীজকেও হারিয়ে যেতে হবে।

মন্তব্য ৭৫ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৭৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কারো মন ভালো নাই।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সকলেইতো বলেন মন ভাল রাখার জায়গা হল ব্লগ ।

২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৪

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: সময়োপযোগী লিখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ করছি স্বনামধন্য অনেক ব্লগার ব্লগে লগ ইন থেকেও
কোন পাঠকের লেখা পাঠের কোন চিহ্ন রাখছেন না । লেখা এড়িয়া যাওয়ার
মানসিকতা প্রকট । এর ফল হবে বিকট , সেটা মনে হওয়া থেকেই
এই ছোট্ট পোস্টের অবতারণা ।

৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৯

বাজ ৩ বলেছেন: মন্তব্যকারি ব্লগারকে ব্যান মারা হয়েছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


সেটাও একটা অন্যতম কারণ হতে পারে । ধন্যবাদ

৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৯

ফিনিক্স! বলেছেন: দিন দিন কেমন যেন মলিন হয়ে যাচ্ছে সব।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


এর দায় পুরাতন প্রতিস্ঠিত ব্লগারগন এড়াতে পারবেন না ।
নতুন লেখা পোস্ট করার মানসিকতা না থাকলেও
ইয়েস/নো /গুড/বেড জাতীয় মন্তব্য লিখেও তারা
কিন্তু ব্লগটিকে সচল রাখতে পারেন ।

৫| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯

নতুন নকিব বলেছেন:



উদারভাবে সকলের পোস্টে কমেন্ট করতে দুইজনকেই দেখেছি। সকলেরই মন্তব্যে উদার হওয়া উচিত।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ । সঠিক কথা বলেছেন ।

৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ । সঠিক কথা বলেছেন ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মনে হয় ডাবল হয়ে গেছে ।

৭| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজী ফিরে এলেই সামু জমজমাট হয়ে যাবে।
উনি নৌকা বোঝাই করে কমেন্ট, পোষ্ট আর আনন্দ নিয়ে আসিবেন।

এখন সময় হয়েছে, সবাই মিলে জোট বাঁধার। চাঁদগাজীকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাতে ব্লগ হবে প্রানবন্ত।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



চাঁদ গাজী ফিরে আসাটা ব্লগ টিমের উপর নির্ভরশীল । চাঁদ গাজীর দায়িত্বতো আপনি পালন করে যাচ্ছেন ।
ব্লগের প্রায় সকল পোস্টেই আপনাকে বিচরণ করতে দেখা যায় । এখনকার পরিস্থিতিতে সকলেই নৌকা
বোঝাই করে গঠনমুলক নির্মল পোস্ট কমেন্ট আর আনন্দ নিয়ে আসলেই ব্লগ সচল হবে বলে আশা করি ।

৮| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫

নজসু বলেছেন:



ঠান্ডায় জমে গেছি প্রিয় ভাই। :| টাইপ করতে গেলে হাতের আঙ্গুল জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। :D
ব্লগ সবসময় জমজমাট থাকুন এটাই কামনা করি।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


এটা কোন সমস্যা হলো নজসু ভাই ! এখনকার এই প্রযুক্তির দিনে ভয়েস টু রাইট তার পর হরেক রকমের এপস
তো আছেই । আপনি লেখালেখি শুরু করুন ব্লগ জমজমাট হয়ে যাবে ইনসাল্লাহ ।

৯| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার এই পর্যবেক্ষণ ব্লগ সংস্কৃতির একটি বেদনাদায়ক সত্য তুলে ধরেছে।
সত্যিই, ব্লগের প্রাণ হলো পারস্পরিক আদান-প্রদান - লেখা এবং মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি জীবন্ত সংলাপ। আপনি যথার্থভাবে বলেছেন, একসময় ব্লগাররা একে অপরের লেখায় প্রচুর মন্তব্য করতেন, যা ছিল ব্লগের স্বর্ণযুগ। কিন্তু এখন যে "কৃপণতা" জেঁকে বসেছে, সেটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
আপনার পর্যবেক্ষণ - "পুরাতন ব্লগাররা লগ ইন করেও চিরচেনা ব্লগারদের লেখায় ফিরে তাকান না" - এটি একটি গভীর সমস্যা নির্দেশ করে। এটা কি ক্লান্তি? নাকি সময়ের অভাব? নাকি আগ্রহের পরিবর্তন? যাই হোক, এর ফলাফল হলো যে নতুন এবং পুরাতন উভয় লেখকই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আপনার সমাধান - "খোলা মন নিয়ে একে অপরের ব্লগ বাগানে বিচরণ করা" - এটি চমৎকার উপমা। ব্লগ সত্যিই একটি বাগানের মতো, যেখানে প্রতিটি লেখা একটি ফুল। কিন্তু সেই ফুল দেখার জন্য, প্রশংসা করার জন্য, এমনকি সমালোচনা করার জন্যও দর্শক দরকার।
আপনার এই কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ - "লেখা পছন্দ না হলেও অন্তত এক-দুই কথায় বলে যাওয়া।" সৎ, গঠনমূলক সমালোচনাও মন্তব্যের অভাবের চেয়ে অনেক ভালো। নীরবতা সবচেয়ে নিরুৎসাহিত করে।
তবে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, এই কৃপণতার মূল কারণ কী? সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতি কি আমাদের ধৈর্য্য কেড়ে নিয়েছে? নাকি ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা? নাকি আমরা নিজেরাই পরিবর্তিত হয়ে গেছি?
আপনার সতর্কবাণী - "খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে" - এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। ব্লগ শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সম্প্রদায়। এবং সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
আপনার এই আহ্বান সময়োপযোগী এবং জরুরি। আশা করি, এই লেখাটি ব্লগারদের মধ্যে একটি আত্মসচেতনতা তৈরি করবে এবং আমরা আবার সেই জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে পাব।
ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব আমাদের সবার।
আপনার এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার মন্তব্যটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং বহুস্তরবিশিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কোনো
কারণে ব্যাখ্যা করা বোধহয় যথার্থ হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির স্ক্রল সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে আমাদের পাঠ
ও প্রতিক্রিয়ার ধৈর্য কমিয়েছে; সেখানে “লাইক” বা এক লাইনের প্রতিক্রিয়াই যেন যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এর প্রভাব ব্লগিং জগতেও এসে পড়েছে।

একই সঙ্গে ব্লগ প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নোটিফিকেশনের অভাব কিংবা পাঠকের কাছে নতুন
আকর্ষনীয় লেখা পৌঁছাতে নাপারাও মন্তব্য কমে যাওয়ার একটি বাস্তব কারণ।তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো
আমাদের নিজেদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি;
পড়ছি, কিন্তু সংলাপে অংশ নিচ্ছি না। মোবাইল হতে ব্লগে লগ ইন করাও একটি কারণ হতে পারে । মোবাইলে
বাংলা টাইপ করা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টকর ।

আপনি যথার্থই বলেছেন, ব্লগ কেবল লেখার জায়গা নয় এটি একটি সম্প্রদায়। আর সেই সম্প্রদায় টিকে থাকে
পারস্পরিক যত্ন, মনোযোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি
লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া।

খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে” এই সতর্কবাণী আসলে আমাদের সকলের জন্য।
যদি আমরা ব্লগকে উপেক্ষা করি, তাহলে ধীরে ধীরে আমরা সেই গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক
সংযোগের জায়গাটিও হারাব। আপনার আশাবাদী প্রত্যাশার সাথে একমত,এই ধরনের আলোচনা ও
আত্মসচেতনতা যদি বাড়ে, তবে আবারও একদিন জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস
করা যায়।

মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

১০| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: নজসু বলেছেন:



ঠান্ডায় জমে গেছি প্রিয় ভাই। :| টাইপ করতে গেলে হাতের আঙ্গুল জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। :D
ব্লগ সবসময় জমজমাট থাকুন এটাই কামনা করি।


নজসু ভাই@ আপনি পোস্ট দেওয়া শুরু করলে ব্লগ জমজমাট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



নজসু ভাই ব্লগের শক্তিমান গল্প লেখক ।
উনার বিষয়ে আপনার পরামর্শের সাথে
আমি একমত ।

১১| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ভাই,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনার এই ছোট্ট পোস্টটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। পোস্টটি ছোট হলেও এর আবেদন ব্লগারদের জন্য প্রাণস্পর্শী। আপনার বাক্যবাণে আমিও মনে মনে তিরবিদ্ধ হয়েছি, কারণ আমিও ব্লগে অধুনা অনিয়মিত, এবং যাও বা আসি, আপনার অভিযোগগুলোর অংশীদার হয়ে ফিরে যাই।

কিন্তু আলী ভাই, আপনি জানেন যে "কালি, কলম, মন - লেখে তিনজন"। কথাটা সম্ভবতঃ লিখেছিলেন বাংলা ভাষার একজন দিকপাল প্রবন্ধকার শ্রী প্রমথ চৌধুরী। আমার ভুলও হতে পারে। যদি ভুল হয়ে থাকে, তবে কথাটা আসলে কে প্রথমে বলেছিলেন বা লিখেছিলেন, তা যে কেউ আমাকে শুধরিয়ে দিলে বাধিত হবো। তবে এখন তো কালি আর কলম দিয়ে কেউ তেমন লিখেন না; যদিও কেউ লিখে থাকেন তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই নগণ্য। কালি, কলম এর জায়গায় এসেছে কম্পিউটার ও কী-বোর্ড। কিন্তু মনটা তো ঠিকই তার আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। তিনজনের জায়গায় যদি দু'জন থাকে, তবে শুধু সংখ্যাধিক্যের কারণে তা কোন লেখা সৃষ্টি করতে পারে না, অসম্পূর্ণ অবস্থায়ও না। একটি লেখার, সেটা মাত্র দুই একটি শব্দের হলেও, সফল জন্মের জন্য ঐ তৃ্তীয় শক্তি 'মন' এর উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। আমার মনে হয়, অনেক ব্লগারেরই এ ব্লগ থেকে সেই 'মন'টা উঠে গেছে। এর কারণগুলোও কমবেশি সবাই অনুধাবন করতে পারেন। সে কারণেই আজ ব্লগের এই মুমূর্ষ অবস্থা। তবে ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর আমার এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে আপনার মত আরও অনেক নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এ ব্লগটি আবার ফিরে পাক আগের সেই প্রাণস্পন্দন, প্রাণস্পৃহা।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান ভাই,
ওয়ালাইকুম ছালাম ।


আপনার আন্তরিক ও মনখোলা মন্তব্যটির জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। লেখাটি যদি কাউকে তিরবিদ্ধ করে
থাকে, তবে সেটি অভিযোগের তীর নয় বরং আত্মজিজ্ঞাসার একটি আয়না হিসেবেই দেখার অনুরোধ ছিল। আপনি
যে সাহসের সঙ্গে নিজেকেও সেই আলোচনার ভেতরে এনে দাঁড় করিয়েছেন, সেটিই এই লেখার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আমরা সবাই কমবেশি এই অনিয়মিত যাত্রার সহযাত্রী, কখনো লিখি, কখনো শুধু পড়ে চলে যাই। তবু আশাবাদী,
এমন স্বীকারোক্তি থেকেই আবার লেখার টান জন্ম নেয়। আপনার উপস্থিতি ও ভাবনার জন্য কৃতজ্ঞতা রইল।

আপনার বলা “কালি, কলম, মন লেখে তিনজন” এই উক্তিটি প্রকৃত পক্ষে কার তা নিশ্চিত হ ওয়ার জন্য যথেষ্ট
গবেষনা করতে হয়েছে ।
বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেট অনুসন্ধানে গত ৩১ আগষ্ট ২০১৮ সনে ফরহাদ খান লিখিত ও দৈনিক প্রথম আলোতে
প্রকাশিত “কালি, কলম, মন লেখে তিনজন” নিবন্ধটি ভেসে উঠে । নীচে দেয়া এই লিংক ফলো করে মুল্যবান
নিবন্ধটি দেখে আসতে পারেন ।
https://www.prothomalo.com/onnoalo/কালি-কলম-মন?

এছাড়াও আমার ব্যক্তিগত ডাটা ব্যংকে সঞ্চিত প্রমথ নাথ প্রবন্ধ সমগ্রের ( প্রায় ৫০৩ পৃষ্ঠার বই) পৃষ্ঠা সমুহের
উপর দিনমান ধরে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার প্রতি দৃকপাত করেছি । লাভ হল আপনার জিজ্ঞাসার কল্যানে প্রমথ নাথ
এর প্রবন্ধগুলি পুণরায় পাঠের সুযোগ পেয়েছি। নীচে তুলে দেয়া লিংক ফলো করে আপনিউ একবার নজর
বুলিয়ে আসতে পারেন ।
https://drive.google.com/file/d/1vMjgkofO7DVHFcMu_S4B_ifBtSUjzLkl/view

যাহোক, এ বিষয়ে প্রাপ্ত অনুসন্ধানলব্ধ তথ্য থেকে থেকে প্রতিয়মান হয় যে এটি কোনো বড় সাহিত্যিক বা
বিখ্যাত দার্শনিকের লিখিত বিখ্যাত কোটেশন নয়, বরং বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ/আপ্তবাক্য হিসেবে
ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং এর প্রকাশিত উৎস বা প্রথম সংকলক স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। বিভিন্ন শিক্ষাগত ও
সাংস্কৃতিক আলোচনায় এই বাক্যটি বাংলা ভাষার লেখালেখির প্রেরণা ও মানসিক দিক তুলে ধরতে প্রবাদ বা
প্রবচনের মতো ব্যবহার হয়েছে।

প্রমথ চৌধুরী এর নামে এই উক্তির কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ বা প্রমাণ পাওয়া যায় না; বরং এই বাক্য শিক্ষকদের
মুখে মুখে, বিদ্যালয়ে প্রবাদ/নীতিকথার মতো প্রচলিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিবন্ধে
লেখক উল্লেখ করেছেন তিনি এই বাক্যটি খুঁজেছেন, কিন্তু এর অভিলিখিত উৎস বা স্রষ্টা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য
মেলেনি। হয়ত আরো কোন সুযোগ্য গবেষকের তথ্যানুসন্ধানে এই বাক্যটির মুল লেখকের সন্ধান পাওয়া যেতে
পারে । অপেক্ষায় রইলাম সে দিনের জন্য ।

যাহোক “কালি, কলম, মন লেখে তিনজন” বাংলা ভাষার সেই ধাঁচের প্রবাদ/আপ্তবাক্য, যা খুব সংক্ষেপে
লেখালেখির তিনটি মৌলিক উপাদানকেই চিহ্নিত করে যথা:-

কালি: হাতে লেখার কালোর অর্থ এখানে লেখার প্রাথমিক উপকরণকেই বোঝায় ভাষা, শব্দ ও অক্ষর; বাংলা সাহিত্য
ও ভাষার ঐতিহ্যকে প্রতীকী করে তুলে ধরে।

কলম: শুধু চিন্তা নয়, সেই চিন্তাকে আকার দেওয়ার অস্ত্র হল কলম বা লেখার হাতিয়ার এর অস্তিত্বের জোরালো গুরুত্ব
নির্দেশ করে। যদিও আজকের দিনে কলমকে অনেকেই কম ব্যবহার করেন, তবে শিক্ষা ও লেখালেখিতে কলমের
সাংকেতিক স্থান আজও অটুট।যেমন প্রায়ষই বলা হয় এ বিষয়ে আমি কলম ধরব ।

মন: লেখার প্রকৃত উৎস, লেখকের অন্তর্দৃষ্টি ও চিন্তা। ভাষা ও কলম যতই শক্তিশালী হোক, যদি লেখকের মন না থাকে,
তখন লেখাকে প্রাণোচ্ছল করে তোলা শক্ত।

আপনার কথার সাথেই সুর মিলিয় বলি এই তিনটি উপাদান একত্রে তখনই লেখা রূপে অর্থবহ হয় যখন লেখকের
মন কাঙ্খিত চিন্তা ও ভাবনা উন্মোচন করে; কেবল কলমে অক্ষর গঠন করলেই লেখা সৃষ্টি হয় না, মনোযোগ, অনুভব
ও দর্শনের সংমিশ্রণে তা জীবন্ত হয়ে ওঠে।

আপনি ঠিকই বলেছেন উক্তিটি শুধু একটি ভাষাগত সাজানো বাক্য নয় এটি লেখালেখির অন্তর্নিহিত শক্তি ও
মানসিক প্রক্রিয়ার স্মারক।শিক্ষার্থী, লেখক বা পাঠক যাঁই হোন না কেন, এই প্রবাদটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়
লেখার জন্য শুধু হাতিয়ার নয়, মনন ও চিন্তাশক্তি অনিবার্য। লেখার প্রকৃত সৌন্দর্য ও ভর ব্রেকেট বদ্ধ থাকে সেই
তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্যে। আশা করি এই তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্যে সামুতে বিচরণকারী অসংখ্য বিজ্ঞ
ব্লগারদের লেখালেখিতে সামু আবার তার স্বর্ণযুগ ফিরে পাবে ।

শুভেচ্ছা রইল

১২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনি একদম সঠিক বলেছেন যে ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা।
সোশ্যাল মিডিয়ার "স্ক্রল সংস্কৃতি" নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সত্যিই, যেখানে একটি "লাইক" বা ইমোজিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়, সেখানে একটি সুচিন্তিত মন্তব্য লেখার ধৈর্য ও সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশ "দ্রুত প্রতিক্রিয়া"র সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।

মোবাইল থেকে বাংলা টাইপিং এর অসুবিধা নিয়ে আপনার কথা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেছে। এটি সত্যিই একটি বাস্তব বাধা যা অনেকে উপেক্ষা করেন। ব্লগ প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশনের অভাব এবং নতুন লেখা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতাও নিঃসন্দেহে একটি বড় কারণ।

আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো - "আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি।" এই রূপান্তরটি আসলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পড়া এবং সংলাপে অংশ নেওয়া - এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এবং আমরা দ্বিতীয়টি হারিয়ে ফেলছি।
আপনার এই উপলব্ধি - "মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া" - এটি অসাধারণ। মন্তব্য আসলে একটি মানবিক সংযোগ, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান।
এরূপ আদান প্রদান কেন সম্ভব হচ্ছে না?
কারণ, কারো লেখায় অন্য মন্তব্য-দানকারীর মন্তব্যে শুধু লেখক ছাড়া অন্য পাঠকরা প্রতিউত্তর দিতে পারেন না। আবার যেমন ধরেন আমি মন্তব্য করলাম, লেখক উত্তর দিলেন। সেই উত্তরের প্রতি উত্তর দেবার সরাসরি কোন রিপ্লাই -অপশন নাই। এক্ষেত্রে নতুন করে মন্তব্য বক্সে যেয়ে আমার প্রথম মন্তব্যে যে উত্তর লেখক দিয়েছেন তা রেফার করে প্রতি উত্তর লিখতে হচ্ছে। বা রেফার নাই বা করলাম, নতুন করে মন্তব্য বক্স তো ওপেন করতে হচ্ছে। লিখতে গিয়ে দেখলাম আমার দ্বিতীয় বার করা প্রতিমন্তব্য অনেক নতুন মন্তব্যের পিছে পড়ে যাচ্ছে । রেফারেন্স না দিলে তা অন্য পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আবার অন্য ব্লগারদের যদি আমাকে প্রতিউত্তর দিতে ইচ্ছে করে, সে ক্ষেত্রে সরাসরি কোন রিপ্লাই অপশন তারা পাচ্ছেন না।

এইরূপ 'রিপ্লাই অপশান' না থাকায় এই প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের দিক দিয়ে ইউজার -ফ্রেন্ডলি হচ্ছে না। ফলে চিন্তার আদান প্রদান এবং আলোচনা বেশীদূর আগাতে পারছে না, স্থিত হয়ে পড়ছে।
সময় বেশী লাগাতে রিপ্লাই করার ইচ্ছা থাকলেও তা স্তিমিত হয়ে পড়ছে ।
[তাছাড়া সবাই তো বাড়িতে চেয়ারে বসে, টেবিলে স্ক্রিন রেখে টাইপ করতে পারার অবস্থায় সবসময় থাকে না।]

এইসকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে thought exchange নিমেষে সহজ হয়ে যাবে।

একটি সতর্কবাণী যে "গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব" - এটি শুধু ব্লগের জন্য নয়, আমাদের সমগ্র সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য একটি হুঁশিয়ারি। যদি আমরা গভীরভাবে পড়া, চিন্তা করা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমরা আসলে আমাদের মানবিক গুণাবলীরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলব।

তবে আপনার মতো চিন্তাশীল পাঠক ও মন্তব্যকারী থাকার কারণেই আমার বিশ্বাস - ব্লগ সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। কারণ আপনি শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেননি, আপনি নিজেই সমাধানের একটি জীবন্ত উদাহরণ। আপনার এই বিস্তৃত, সুচিন্তিত মন্তব্য প্রমাণ করে যে এখনও পাঠক আছেন, যারা সময় নিয়ে পড়েন, ভাবেন এবং মনোযোগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
এই ধরনের আত্মসচেতনতা এবং সংলাপই ব্লগকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলবে।
আপনার এই মূল্যবান অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
একসাথে আমরা ব্লগের সেই হারানো প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পারব - এই বিশ্বাস রাখি।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যটি কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়,এটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ প্রবন্ধের মতো। আপনি যে ধৈর্য, গভীরতা
ও আন্তরিকতা নিয়ে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, তা বর্তমান ডিজিটাল পাঠ-সংস্কৃতিতে সত্যিই বিরল।

বিশেষ করে ‘রিপ্লাই অপশন’ এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণটি অত্যন্ত বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক। এটি এমন
এক প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, যা বাইরে থেকে তুচ্ছ মনে হলেও চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সংলাপের স্বাভাবিক
প্রবাহকে ভেতর থেকে ব্যাহত করে। মন্তব্য যখন আর সরাসরি মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না, তখন তা
শুধু দৃশ্যত নয় ইনটেলেকচুয়ালী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, গভীরতাও হারায়।

আপনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন মন্তব্যকারীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রতিউত্তর নতুন মন্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া
এটি আসলে সংলাপের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া-রই এক রূপ। এতে করে শুধু পাঠক নয়, লেখকও অনেক সময়
আলোচনার সূত্র ধরে এগোতে পারেন না। আর অন্য পাঠকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে
যা একটি জীবন্ত ব্লগ পরিবেশের পরিপন্থী।

আপনার এই পর্যবেক্ষণ যে, সময় ও শারীরিক অবস্থান (মোবাইল ব্যবহারের বাস্তবতা) মন্তব্যের আগ্রহকে স্তিমিত করে
তা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। ব্যবহার সহজ না হলে, মননের ইচ্ছাও ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে
এটাই স্বাভাবিক।

তবু এই সমস্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনি যেভাবে সুসংগঠিত, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক একটি মন্তব্য উপহার দিয়েছেন
তা প্রমাণ করে সমস্যার মাঝেও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আপনার মতো পাঠকরাই দেখিয়ে দেন যে ব্লগ এখনও কেবল
লেখা প্রকাশের জায়গা নয়, বরং চিন্তার সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

আপনি ঠিকই বলেছেন,গভীর পাঠ ও মননশীল প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের
ক্ষয় নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতারই অবক্ষয়। সেই অর্থে আপনার মন্তব্য এক ধরনের
সতর্ক সংকেতও।

এই চিন্তাশীল অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনার মতো পাঠক-সংলাপকারীদের উপস্থিতিই আশা
জাগায় যে, সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই একদিন আরও মানবিক, আরও ব্যবহারবান্ধব ও আরও প্রাণবন্ত ব্লগ
সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

তাই আসুন এ বিশ্বাসটুকু একসাথেই ধরে রাখি।

শুভেচ্ছা রইল

১৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজী সামু ব্লগের প্রান।
চাঁদগাজী সামুর শ্রেষ্ঠ ব্লগার।
কোনোদিন বাংলা ব্লগের ইতিহাস লেখা হলে, সেখানে সবার আগে একটি নাম আসিবে। সেটা- চাঁদগাজীর নাম।
উনি থাকলে রাজাকার শিবিরেরা ব্লগে ইতরামো করার সুযোগ পায় না।
উনি দুষ্ট ব্লগারদের লাইনে নিয়ে আনতে পারেন।

আশাকরি আপনি আমার সাথে একমত হবেন।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


সকল ব্লগারকে ব্লগে ফিরিয়ে আনার জন্য আপনার আকুতি প্রসংসাযোগ্য ।
চাঁদগাজী তার কঠৌরতার সাথে কোমলতা ধরে রাখতে পারেন নি ।
আমি দেখেছি একটা সময় তার পক্ষ বিপক্ষ অনেক ব্লগারগন তাকে
সুপরামর্শ দিয়েছেন ব্লগে কি রকম আচরণ করতে হবে ।
তিনি সে গুলি আমলে নিয়ে ব্লগে বিচরণ করলে তিনি সেরা হয়েই
থাকতে পারতেন অনায়াসে । যাহোক কামনা করি সকলের
মাঝে সুবিবেচনা ফিরে আসুক । সকলেই মনখুলে শালীনতার
ভিতরে সামুতে বিচরণ করুন ।

১৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

নজসু বলেছেন:



প্রিয় সুলাইমান হোসেন ভাই, আপনার মন্তব্যটা দেখে অনেক খুশি হলাম। আপনার জন্য এবং সবার প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ডঃ এম এ আলী ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

প্রিয় নজসু ভাই,
আপনার জন্যও শুভ কামনা রইল ।

১৫| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: পরামর্শসুলভ দু'টি চমৎকার মন্তব্যের জন্য ব্লগার হুমায়রা হারুন কে অনেক ধন্যবাদ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আবার এসে মুল্যবান পর্যবেক্ষন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
হ্যা ব্লগার হুমাইরা হারুন এর সুপরামর্শসুলভ মন্তব্যগুলি বেশ
চমৎকার ও গঠনমুলক । ব্লগে সকলের এমনতর প্রাণবন্ত
বিচরণ ব্লগকে তার স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

১৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৭

নূর আলম হিরণ বলেছেন: ব্লগারদের মত মডারেটররাও ঝিমিয়ে পড়েছে। ব্লগ আসলে এভাবেই চলবে। বড় ধরণের কোন পরিবর্তন আসবে না।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার বিজ্ঞতাসুলভ পর্যবেক্ষন খুবই প্রসংসামুলক ।
আপনি ঠিকই বলেছেন । ব্লগারদের মত মডারেটরগনও
ঝিমিয়ে পড়েছেন । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় নির্বাচিত
" ড্রোন ফর মশা " শীর্ষক একটি পোস্ট মাসের পর
মাস ধরে ঝুলছে ।
মনে হয় ব্লগ টিম শুধু মাত্র ঝিমিয়ে চলার মত কোন
অটোমেশন বাটনে চাপ দিয়ে ঝিমিয়ে পড়েছেন ।
তবে মনে হয় বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের জন্য
ব্লগ টিম নিয়ন্ত্রনের মধ্য দিয়ে চলছেন । পরে
অবস্থার উন্নতি হলে ব্লগ টিম ব্লগের সকল দিক
সচল করবেন ।

১৭| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

ক্রেটোস বলেছেন: @রাজীব নূর আপনার চাঁদগাজী এখন ওমর খৈয়াম হয়ে ফিরে এলেন, শুধু এখন উনি এই নিরীহ কবিটাকে গালাগাল খাওয়াবেন! সে না হয় হলো কিন্তু উনি আসবার পরও আপনার অস্থিরতা কাটছে না কেন বুঝতে পারলাম না!

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আপনার তীহ্ম পর্যবেক্ষনের জন্য ধন্যবাদ ।

১৮| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ব্লগে এখন ব্লগারদের কৃপনতা জেকে বসেছে।
.................................................................................
কারন নানাবিধ ।
তবে কোন ব্লগার একটি লেখা প্রকাশের পর কি চায় ?
তার আকাঙ্খা কি জানা প্রয়োজন !
কোন কোন লেখক অনেক পরিশ্রম করে লিখে কি দেখতে পায় ?
কোন মন্তব্য নাই, উপরন্ত তীর্ষক সমালোচনা ।
ব্লগার সমস্যার পাশাপাশি ,প্রযুক্তগত উন্নয়ন আবশ্যকতা আছে ।
সুতরাং অল্প কখায় বলতে পারি :-
১) ব্লগের সমসাময়িক বাস্তবতায় উন্নয়ন দরকার ।
২) কোন ব্লগার লিখতে এসে আহত বা অপমানিত না হয় তার আধুনিক ব্যবস্হা রাখা
৩) ব্লগার থেকে একটি টীম চলমান থাকবে , কোন নূতন ব্লগার আসলে তাকে গাইড করা ও উৎসাহ প্রদান ।
৪) কোন একটি লেখা কি পরিমান মর্যাদা পাবে তার অটোমেশন থাকা ।
৫) নির্বাচিত পোষ্ট কোন কোন বিবেচনায় হলো তার স্বচ্ছতা বয়ান করা ।
৬) মডারেশন দ্বায়িত্ব এককভাবে অনন্তকাল একজনের আওতায় থাকা কাম্য নয় ।
৭) কোন কোন ব্লগার ভালো বা খারাপ করছে তার রেটিং প্রকাশ করা, ফলে ব্লগারাই জানবে কে শাস্তি পেতে যাচ্ছে ।
৮) কোন ব্লগারই ব্যান করা যাবেনা । তবে রেটিং রেড হলে মন্তব্য করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে ।
৯) উক্ত ব্লগারকে রেটিং সবুজ করতে হলে প্রতিমাসে গড়ে ১৫টি লেখা আসতে হবে এবং
প্রাপ্ত রেটিং যোগ করে সবুজ হলে আবার স্বভাবিক নিয়মের সেফ ব্লগার বিবেচিত হবে ।
১০) মডারেশন ষ্ট্যাটাস যে প্যানেলটি আছে তাকে সফটওয়ার ডিজিটালাইজেশন করলেই অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে ।

এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা আপনারা আরও উন্নত চিন্তা জানাতে পারেন, সবটাই বা আংশিক বিবেচনায় আসবে কিনা
তাহা কর্তৃপক্ষর বিষয় ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সুন্দর বিজ্ঞতাসুভব মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার মন্তব্যটি বর্তমান ব্লগ বাস্তবতার এক নির্মোহ ও সাহসী পাঠ। এতে আবেগের চেয়ে বিশ্লেষণ প্রাধান্য পেয়েছে
যা একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ব্লগারের পরিচয় বহন করে। দফাওয়ারীভাবে আপনার উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রতি
আমার প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরছি;-

১) ব্লগের সমসাময়িক বাস্তবতায় উন্নয়নের প্রয়োজন
আপনার এই বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ একমত। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি, ব্যবহার-আচরণ ও প্রত্যাশা বদলায় কিন্তু প্ল্যাটফর্ম
যদি স্থির থাকে, তাহলে হতাশা জন্ম নেয়। ব্লগের বর্তমান সংকট অনেকাংশেই এই আপডেটহীনতার ফল।

২) লেখক যেন আহত বা অপমানিত না হন এই সুরক্ষা ব্যবস্থা
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক দিক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর ব্যক্তিগত আক্রমণ এই দুইয়ের পার্থক্য
স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না করলে ব্লগ কখনোই নিরাপদ সৃজনশীল পরিসর হয়ে উঠতে পারে না।

৩) ব্লগার টিম ও নতুন ব্লগার গাইড করার প্রস্তাব
আপনার এই প্রস্তাবটি ব্লগ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য মৌলিক। নবাগতদের জন্য গাইডলাইন, পরামর্শ ও
উৎসাহ না থাকলে তারা দ্রুতই ঝরে পড়ে। অভিজ্ঞ ব্লগারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখানে অনস্বীকার্য।

৪) লেখার মর্যাদা নির্ধারণে অটোমেশন
মানবিক পক্ষপাত এড়াতে এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে তবে এখানে মান, পাঠক প্রতিক্রিয়া ও নৈতিক মানদণ্ড
যেন সুষমভাবে বিবেচিত হয়, সেই দিকেও নজর জরুরি।

৫) নির্বাচিত পোস্টের স্বচ্ছতা
এই দাবিটি ব্লগের আস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কোন লেখা কেন নির্বাচিত হলো তা স্পষ্টভাবে জানানো হলে
অভিযোগ কমবে, আস্থা বাড়বে।

৬) মডারেশন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
একজনের উপর দীর্ঘমেয়াদি একক ক্ষমতা চাপিয়ে দিলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও অনাস্থা জন্মায়। পর্যায়ক্রমিক
বা দলভিত্তিক মডারেশন ব্যবস্থাই অধিক স্বাস্থ্যকর।

৭) ব্লগার রেটিং প্রকাশের প্রস্তাব
এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি শক্তিশালী উপায় হতে পারে। তবে রেটিং যেন শাস্তিমুখী না হয়ে সংশোধনমুখী হয়
সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৮) ব্যান নয়, মন্তব্য লক একটি মানবিক বিকল্প
এই চিন্তাটি বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এটি স্থায়ী বহিষ্কারের বদলে সংশোধনের সুযোগ দেয় যা একটি পরিণত
কমিউনিটির লক্ষণ।

৯) রেটিং উন্নয়নে নির্দিষ্ট লেখার শর্ত
এই প্রস্তাব ব্লগারকে নিয়মিত লেখায় উৎসাহিত করবে ঠিকই, তবে গুণগত মান যেন পরিমাণের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়
সেই ভারসাম্য রক্ষা জরুরি।

১০) মডারেশন প্যানেলের ডিজিটালাইজেশন
প্রযুক্তিগতভাবে এটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী প্রস্তাব। স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা তিনটিই এতে বাড়বে।

সব মিলিয়ে বলতে হয়, আপনি কেবল সমস্যা চিহ্নিত করেননি সমাধানের একটি রূপরেখাও দিয়েছেন। এসব
ভাবনা পুরোপুরি বা আংশিক যাই বাস্তবায়িত হোক না কেন, এমন চিন্তাশীল আলোচনা চলতে থাকাই ব্লগের জন্য
সবচেয়ে বড় ইতিবাচক শক্তি।

আপনার এই ব্যক্তিগত ভাবনাগুলো আসলে সমষ্টিগত কল্যাণের দিকেই ইঙ্গিত করে। এই সংলাপ চলুক কারণ
এখান থেকেই সুস্থ পরিবর্তনের সূচনা হয়।

শুভেচ্ছা রইল

১৯| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৮

সূচরিতা সেন বলেছেন: সময় উপযোগি মানসই লেখার জন্য ধন্যবাদ। এবং পাশাপাশি ১৮ নং কমেন্টের সাথে একমত।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
উপরের ১৮ নং কমেন্টের সাথে
আমিউ একমত ।

শুভেচ্ছা রইল

২০| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

ক্লোন রাফা বলেছেন: বিভিন্ন কারনে একেকজন ব্লগার ,মন্তব্য, প্রতিউত্তর করে না। যেমন একশ্রেণীর ব্লগার আছে তারা শুধু তাদের লেখার সাথে একমত তাদের জন্যই লিখে থাকে।কেউ আবার পোস্ট করেই খালাস , কোনো মন্তব্যের উত্তর করে না। অনেকে সমালোচনামূলক মন্তব্য সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এরকম অজস্র কারণে এখন আর কেউ মন্তব্য না করে এরিয়ে যায়।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

আপনি ঠিকই বলেছেন যখন দেখা যায় কিছু ব্লগার কেবল সমর্থনমূলক মন্তব্যেই আগ্রহী, ভিন্নমত বা সমালোচনাকে
ব্যক্তিগতভাবে নেন, কিংবা পোস্ট দিয়েই সম্পূর্ণ নিঃশব্দ হয়ে যান তখন মন্তব্য করার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে
যায়। সংলাপ একমুখী হলে তা আর সংলাপ থাকে না, কেবল প্রচার হয়ে দাঁড়ায়।

তবু আশা রাখি, এই বাস্তবতা স্বীকার করার মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। লেখক যদি ভিন্ন মতকে স্বাগত
জানান, মন্তব্যকে বোঝার চেষ্টা করেন এবং অন্তত উপস্থিতিটুকু জানান, তাহলেই পাঠকের আস্থার জায়গাটা আবার
ফিরে আসে। মন্তব্য মানে কেবল প্রশংসা নয়; তা চিন্তার আদান প্রদান। এই উপলব্ধি যত বাড়বে, ততই নীরবতা
ভাঙবে এই বিশ্বাস রাখি।

শুভেচ্ছা রইল

২১| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: শ্রদ্ধেয় @খায়রুল আহসান ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনার এই গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ ব্লগের বর্তমান সংকটের মূল কারণটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ - কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার।
আপনার এই উপলব্ধি - "তিনজনের জায়গায় যদি দু'জন থাকে, তবে শুধু সংখ্যাধিক্যের কারণে তা কোন লেখা সৃষ্টি করতে পারে না" - এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয়। আর আপনি যখন বলছেন "অনেক ব্লগারেরই এ ব্লগ থেকে সেই 'মন'টা উঠে গেছে" - এটাই তো আসল সমস্যা।
প্রযুক্তি আমাদের লেখাকে দ্রুততর করেছে, কিন্তু কি সেই গভীরতা, সেই আবেগ, সেই নিবেদন দিতে পেরেছে যা কালি-কলমের যুগে ছিল? হয়তো না। কারণ তখন প্রতিটি শব্দ লিখতে সময় লাগত, চিন্তা করতে হতো, মনোযোগ দিতে হতো। এখন টাইপিং এত দ্রুত যে মন ভাবার আগেই আঙুল লিখে ফেলে।
কিন্তু আপনার আশাবাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনি বলেছেন, "ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" এই বিশ্বাসই তো ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখবে। যতদিন আপনার মতো ব্লগার থাকবেন যারা 'মন' দিয়ে লেখেন, ততদিন ব্লগের প্রাণস্পন্দন থেমে যাবে না।
"মুমূর্ষ অবস্থা" - এই শব্দটি কঠিন, কিন্তু সত্য। তবে মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা।
আপনার এই লেখা শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান - ব্লগে আবার 'মন' ফিরিয়ে আনার আহ্বান। এবং আপনার শেষ বাক্য - "সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এ ব্লগটি আবার ফিরে পাক আগের সেই প্রাণস্পন্দন, প্রাণস্পৃহা" - এটি একটি প্রার্থনা, একটি স্বপ্ন।
আমিও সেই স্বপ্নে বিশ্বাস করি। এবং আপনার মতো লেখক থাকলে সেই স্বপ্ন অবশ্যই সত্যি হবে।
আপনার এই চিন্তাশীল ও হৃদয়স্পর্শী লেখার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


আশা করি খায়রুল আহসান ভাই আপনার মুল্যবান মন্তব্যটি দেখে যাবেন ।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


গতকাল ঘুম কাতর চোখে খায়রুল আহসানকে এড্রেস করা মন্তব্যটির বিষয়ে তেমন কিছু বলে যেতে পারিনি ।
তবে আজ এই মন্তব্যটি আবার পাঠ করলাম। আপনার সুচিন্তিত ও হৃদয়গ্রাহী মন্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।
আপনি যে আন্তরিকতা ও উপলব্ধি দিয়ে আহসান ভাইয়ের লেখাটিকে গ্রহণ করেছেন, সেটাই প্রমাণ করে
পাঠক ও লেখক উভয় পক্ষেই এখনও সেই ‘মন’-এর অস্তিত্ব রয়েছে, যার অভাব নিয়ে আমরা এত কথা বলছি।

আপনি খুব সুন্দরভাবে প্রযুক্তি ও মননের দ্বন্দ্বটি তুলে ধরেছেন। সত্যিই, কালি-কলমের জায়গায় কীবোর্ড এসেছে;
কিন্তু সেই পরিবর্তন নিজে কোনো সমস্যার কারণ নয়। সমস্যা তখনই, যখন গতির মোহে আমরা থেমে ভাবার
অভ্যাসটি হারিয়ে ফেলি। আপনার বলা মতো, আঙুলের দ্রুততা যদি মনের গতিকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে লেখায়
গভীরতার ঘাটতি আসবেই।

আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি হলো আশাবাদ। “মুমূর্ষ মানেই মৃত নয়” এই কথাটির মধ্যে এক
ধরনের দায়বদ্ধ আশার সুর আছে। ব্লগের বর্তমান বাস্তবতা হয়তো কঠিন, কিন্তু আপনার মতো পাঠক-লেখকের
বিশ্বাসই প্রমাণ করে যে এই পরিসর এখনও সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়নি। প্রাণস্পন্দন ক্ষীণ হতে পারে,
কিন্তু নিভে যায়নি।

আর আপনি একদম ঠিকই বলেছেন, এটি শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান। ‘মন’ দিয়ে লেখা,
‘মন’ দিয়ে পড়া এবং ‘মন’ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান। এই সম্মিলিত মননই পারে ব্লগকে আবার তার
অর্থবহ, চিন্তাশীল ও মানবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে।

আপনার এই মন্তব্য আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আশা করি, এমন সংলাপই ধীরে ধীরে ব্লগে হারিয়ে যেতে
বসা সেই মননচর্চার সংস্কৃতিকে আবার জাগিয়ে তুলবে।

শুভেচ্ছা রইল

২২| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ভাই অন্যের পোস্টে মন্তব্য করলে ডিলেট
করা যায়না,এজন্য মন্তব্য করতে ভয় পাই

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



একেই বলে ঠেকে ঠেকে শিখা ।
একজন পোস্ট দাতা তার নীজের পোস্ট ও তার পোস্টে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা রাখেন ।
যাতে করে কোন পাঠক তার পোস্টে লেখা অন্য কারো মন্তব্য মুছে দিতে না পারে ।
এখন কতা হলো পাঠক তার মন্ত্য প্রকাশিত হ ওয়ার পুর্বে যতবার খুশী মন্তব্য এডিট
করতে পারবেন । কিন্ত মন্তব্য সাবমিট বাটনে চাপ দেয়ার পুর্বে ভাল করে দেখে নিয়ে
পোস্ট করবেন , যেহেতো প্রকাশিত মন্তব্য ডিলিট করার ক্ষমতা আপনার নাই ।
বিষয়টা মনে গিথে নিতে হবে দ্বিতীয়বার যেন এরকম ভুল আর না করেন ।

যাহোক মন্তব্য ভুল হলে সঠিক মন্তব্য লিখে তার নীচে উপরে করা আপনার মন্তব্যটি ( ক্রমিক নং
উল্লেখ করে ) দয়া করে মুছে দেয়ার জন্য পোস্ট দাতাকে অনুরোধ করতে পারেন ।
তিনি স্বজন হলে আপনার ভুল মন্তব্যটি মুছে দিবেন । আর যদি মুছে না দেন
তাহলে বাছ ঐ খানেই শেষ , ঐ ব্লগারের পোস্টে দ্বিতীয় বার মন্তব্য লিখবেন কিনা
তা ভেবে দেখবেন ।

২৩| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: কারন অনেক সময় মন্তব্য ভুল হয়ে যায়

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


দয়া করে এই বিষয়ে উপরে লেখা আমার প্রতিমন্তব্যটি দেখে নিন ।
শুভেচ্ছা রইল

২৪| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩

ফাহমিদা বারী বলেছেন: একমত আপনার সঙ্গে। বিশেষ করে আমি তো সবার্থপরের মতো ব্লগ ব্যবহার করি। ইচ্ছে করে সবার লেখা পড়ব, মন্তব্য করব। কিন্তু পেরে উঠি না।
তাই আমার লেখাতে মন্তব্য কম জমলে অভিমান করাও হয়ে উঠে না :)

আমার 'একাদশে বৃহস্পতি' ইবুকের ওপরে আপনার চমৎকার একটা পাঠ প্রতিক্রিয়া দেখতে পেলাম একজন রিভিউয়ারের পোস্টে। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানবেন। গল্পগুলো পড়েছেন মনে হয়েছে। অথবা না পড়লেও ইবুকটি আপনার নজরে পড়েছে সেটাতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। শুভেচ্ছা জানবেন।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



লেখা পাঠককে আকর্ষন করাই য়থেস্ট ।
নাইবা তাতে থাকল মন্তব্য । একটি
ছোট লাইক বাটনে চাপ দিতেতো
তেমন সময় ও প্রচেষ্টা লাগেনা ।
কিনতু এই সামান্যটুকুই একজন
লেখকের জন্য বিশাল অনুপ্রেরণার
উৎস হতে পারে ।

সৈয়দ কুতুবের বুক রিভিউ পোস্টে করা
আমার প্রতিক্রিয়য়াটি ভাল লেগেছে জেনে
খুশি হলাম । ভাল মনে হলে সেটার কিয়দংশ
বইটই এর বুক রিভিউ অংশে যুক্ত করে
দিতে পারেন ।

শুভেচ্ছা রইল

২৫| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: @ডঃ এম এ আলী, ১১ নং প্রতিমন্তব্য প্রসঙ্গে-
"তবু আশাবাদী, এমন স্বীকারোক্তি থেকেই আবার লেখার টান জন্ম নেয়। আপনার উপস্থিতি ও ভাবনার জন্য কৃতজ্ঞতা রইল"- এই তো দেখুন, আবার মন্তব্য করছি; হয়তো শীঘ্রই আবার লিখবোও। সুতরাং বলা যায়, আপনার লেখাটি অন্ততঃ আমার ক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে।

@হুমায়রা হারুন, ২১ নং প্রতিমন্তব্য প্রসঙ্গে-
"কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার" - সেটাই ছিল আমার মন্তব্যের মূল কথা।

"ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" - এ কথাটি আমি বলেছি, কারণ আমি কিছুটা অনুমান করতে পারি কতটা নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ, কমিটমেন্ট এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে এ ব্লগস্রষ্টা সৈয়দা গুলশান আরা জানা এবং তার স্বামী অরিল্ড ব্লগটাকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এতদূর টেনে এনেছেন। আমার বিশ্বাস, ওনারা কিছুতেই চোখের সামনে এ ব্লগের অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না; তাই এর জন্য যা কিছু করণীয় তাই করতে পিছপা হবেন না। আর ব্লগে এখনো যে ভালো কিছু লেখা আসছে না, তা নয়। তবে সমস্যা হচ্ছে মনযোগী পাঠকের অভাব এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের খরা। তবে আপনাদের মত পাঠকেরা এখনও এ ব্লগে আসছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য করছেন, সেটাই ভরসা।

"মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা" - এর পরে আর কোন কথা নেই। এ প্রার্থনা আর স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন হোক!

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


যদিও বিশেষ কেহ ইতোমধ্যে মিছরির ছুরী ( মিষ্টতার মুখোশে ঢাকা নিষ্ঠুরতার রূপক) মতন করে
কৃপনতা কমবেনা বলে ভবিষ্মতবানী ছেড়েছেন । তবে এখন মনে হচ্ছে ব্লগে কৃপতার প্রবনতা কমে
আছছে যা আপনি ষ্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন । একটি যথোপযুক্ত মুল্যায়ন করার জন্য ধন্যবাদ ।

হুমাইরা হারুনকে এড্রেস করা আপনার মন্তব্যাংশটি তিনি এসে দেখে যাবেন বলে আশা করি ।

শুভেচ্ছা রইল

২৬| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: নজসু ভাই ফিরে এসে দোয়া এবং শুভকামনা জানানোর জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা রইলো।

এম এ আলী ভাই। ব্লগকে প্রানবন্ত করতে হলে ব্লগারদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



নজসু ভাইকে আপনার কৃতজ্ঞতার কথা জানানো হল ।
ঠিকই বলেছেন ব্লগকে প্রানবন্ত করতে হলে ব্লগারদেরকেই
এগিয়ে আসতে হবে ।

শুভেচ্ছা রইল

২৭| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬

রাকু হাসান বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম । কেমন আছেন।

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ওয়ালাই কুম ষালাম। অনেকদিন পর ব্লগে দেখলাম ।
নতুন লেখা নিয়ে আসুন, ব্লগ প্রানবন্ত হবে ।
শুভেচ্ছা রইল

২৮| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




সহ ব্লগার খায়রুল আহসান এবং হুমায়রা হারুন এর মন্তবগুলো ভালো লেগেছে ।
খায়রুল আহসান এর বলা - "কালি-কলম-মন" প্রসঙ্গে বলি, কালিকলম দিয়ে লিখতে তো সবাই পারেন কিন্তু সে লেখা হুমায়রা হারুনের কথা মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয় এর মতো সত্য। তাই মন ছাড়া লেখাগুলো বেশির ভাগটাই বায়াসড টাইপের হয় এবং তাতে স্বভাবতই পাঠকেরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিগত বছরগুলোর লেখাগুলো দেখলেই দেখবেন, অধিকাঙশই সোস্যাল মিডিয়ার গার্বেজ, হুজুগ, গুজবের উপর ভিত্তি করে লেখা। একদল তাদের বায়াসড (নিজস্ব নয় এমন) মতবাদ নিয়ে লেখেন তো বিপরীত দল তাদেরও বায়াসড মতবাদ নিয়ে সেখানে তুমুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনও দলই যুক্তি-যৌতিকতার ধার ধারেন না। এমনকি সেসবের মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যেও আক্রমন আর বিষোদ্গারই লক্ষ্য করা যায়। এসব লেখা কোনও না কোনও গোষ্ঠীর এমনকি লেখকেরও উদ্দেশ্য হাসিল করে মাত্র যা বৃহত্তর সমাজের কোনও কাজে লাগেনা। এসব লেখা ব্লগারদের চিন্তার রসদ তো যোগায়ই না বরং বিতৃষ্ণারই উদ্রেক করে। হুমায়রা হারুনের মতে এসব লেখা পড়া এবং সেইসব বিষয়ের সংলাপে অংশ নেওয়া ভালো পাঠকদের পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই আপনার কথামতো আপনা আপনিই স্ক্রল সংস্কৃতি চালু হয়।

খায়রুল আহসান বলেছেন - "একটি লেখার, সেটা মাত্র দুই একটি শব্দের হলেও, সফল জন্মের জন্য ঐ তৃ্তীয় শক্তি 'মন' এর উপস্থিতি অত্যাবশ্যক।" তিনি আরও বলেছেন - ব্লগারদের সেই মনটাই হারিয়ে গিয়েছে।
আমি বলি পাঠক ব্লগারদের মনটা হারায় নি, হারিয়েছে লেখক ব্লগারদের মন। তারা এখন সোস্যাল মিডিয়ার হুজুগীয়-গুজবীয় সস্তা বিষয়বস্তুতে আকৃষ্ট। এতে তাদের ওই সুবিধা হয় যে, কষ্ট করে চিন্তা করার কোনও দরকার হয়না। মাথা খাটাতে হয়না। সোস্যাল মিডিয়ার বক্তব্যই কিছু বাড়তি শব্দ জুড়ে জুড়ে প্রকাশ করলেই লেখাও হলো আর চিন্তা করার পরিশ্রমও করতে হলোনা!

তাই ইউনিক কিম্বা চিন্তার খোরাক যোগায় এমন বিষয় নিয়ে লেখা ব্লগে এখন খুব কমই দেখা যায় এবং আপনি স্ক্রল সংস্কৃতি দেখতে পান! সে কারনেই আপনি যখন ব্লগে বহুল উত্থাপিত বিষয়টি নিয়ে মন ও মনন সহকারে ইউনিক ভাবে লেখেন, তখন তাতে মন্তব্যের কমতি হয়না।

শুভেচ্ছান্তে।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হুমাইরা হারুন আর খায়রুল আহসানকে এড্রেস করা আপনার বিজ্ঞতাপ্রসুত পর্যবেক্ষণটি আমি জনান্তিকে
গুরুত্বের সঙ্গে পড়েছি এবং অনেক ক্ষেত্রেই আপনাদের কারো কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই।
যাহোক তাঁরা দুজনেই আশা করি এই মুল্যবান মন্তব্যটি পাঠ করে উনাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন ।

এই সুযোগে আমিও আপনার সাথে একমত হয়ে বলি সত্যিই, কালি কলমের যান্ত্রিক প্রয়োগ আর মন-মননের
সজীব অংশগ্রহণ এক জিনিস নয়। শব্দের সমাবেশ আর চিন্তার সৃজনশীল বিন্যাসের ফারাক পাঠক খুব সহজেই
ধরতে পারেন। ফলে হুজুগ, গুজব ও সামাজিক মাধ্যম নির্ভর লেখায় পাঠকের ক্লান্তি ও বিতৃষ্ণা জন্মানো
অস্বাভাবিক নয়।

তবে এখানে একটি বিষয় আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে ,পাঠক হিসেবে ‘মন’ হারিয়ে ফেলার অভিযোগটা
একপাক্ষিক হয়ে যায় কি না, তা ভেবে দেখা জরুরি। আমার মনে হয়, পাঠকের মন হারায়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রেই
লেখকের মনই লেখালেখির কেন্দ্র থেকে সরে গেছে। সহজলভ্য, চিবোনো মতামত আর কপি-পেস্ট সংস্কৃতির ভিড়ে
চিন্তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই এখন বড় হয়ে উঠেছে। এতে লেখক হয়তো তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া পান, কিন্তু
দীর্ঘমেয়াদে তা ব্লগ পরিসরের ইনটেলেকচুয়াল শক্তিকে ক্ষয় করে।

এর ফল হিসেবেই ‘স্ক্রল সংস্কৃতি’ জন্ম নিয়েছে, পাঠক আগ্রহ হারিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান, কারণ থামিয়ে রাখার মতো
মননশীল উপাদান সেখানে নেই। কিন্তু আশার কথা হলো, যখনই কেউ বহুল আলোচিত বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টিতে, মন
ও মনন সহকারে, ইউনিকভাবে উপস্থাপন করেন পাঠক তখনও সাড়া দেন, মন্তব্য করেন, সংলাপে যুক্ত হন। অর্থাৎ
পাঠকের মন এখনও জাগ্রত; তাকে ডাকতে হলে লেখাকেই গভীরতা ও সততার জায়গা থেকে আসতে হবে।

সুতরাং সমস্যাটি শুধু পাঠক বা শুধু লেখকের নয় তবে দায়টা বেশি পড়ে লেখকের ওপরই। কারণ তিনিই তো প্রথম
আহ্বানকারী। মন দিয়ে লেখা হলে, মন দিয়েই পড়ার মানুষ এখনও আছেন এই বিশ্বাসটুকু অটুট রাখা খুবই জরুরী ।

শুভেচ্ছা রইল


২৯| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৮ নং প্রতিমন্তব্যঃ @ আহমেদ জী এস আপনার মন্তব্যটি পড়ে আনন্দিত হলাম। "কালি-কলম-মন" - এই তিনটি শব্দের মধ্যে লেখার প্রকৃত সারমর্ম নিহিত। কালি-কলম দিয়ে সবাই লিখতে পারেন, কিন্তু মন ছাড়া লেখা শুধুই শব্দের সমাবেশ মাত্র।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আমিও সহমত যে, হুজুগ, গুজব এবং বায়াসড মতবাদ নিয়ে লেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে। একদল একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখেন, অন্যদল বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন - কিন্তু কোথাও যুক্তি, তথ্য বা সত্যিকারের চিন্তার প্রতিফলন থাকে না।
"স্ক্রল সংস্কৃতি" আসলে একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন লেখায় আন্তরিকতা, গভীরতা এবং মৌলিক চিন্তা থাকে না, তখন পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে আক্রমণ আর বিষোদ্গার দেখে পাঠকের বিতৃষ্ণা জন্মায়।
লেখা হওয়া উচিত হৃদয় থেকে, অভিজ্ঞতা থেকে, নিজস্ব চিন্তা থেকে। যে লেখা শুধু কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধন করে, বৃহত্তর সমাজের জন্য চিন্তার রসদ যোগায় না - সে লেখার মূল্য সীমিত।
আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আশা করি আপনার এই মুল্যবান মন্তব্যটি প্রসঙ্গে সামু ব্লগের অন্যতম সেরা ব্লগার শ্রদ্ধেয় আহমেদ জি এস খুবই
সুন্দর করে দিবেন । তবে এই মুল্যবান মন্তব্যটি এক নজর পাঠে আমি মুগ্ধ , সেখান হতেই দুটি কথা বলার প্রয়াস
নিলাম ।

আপনার এই মন্তব্যটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ লেখার মতোই মননশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষ করে “কালি-কলম-মন”
এই ত্রয়ীর ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে লেখার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিকে স্পষ্ট করেছে। সত্যিই, মন ও চিন্তার
সংযোগ ছাড়া লেখা কেবল শব্দের শোরগোলই থেকে যায়।

আপনি যে ‘স্ক্রল সংস্কৃতি’র কথা বলেছেন, তা বর্তমান সময়ের এক বাস্তব ও বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি। পাঠক যখন
বারবার হুজুগ, গুজব ও আক্রমণাত্মক ভাষার মুখোমুখি হন, তখন দূরে সরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে।
আপনার বিশ্লেষণে স্পষ্ট এটি পাঠকের উদাসীনতা নয়, বরং অসার কনটেন্টের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আপনি তুলে ধরেছেন লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে। লেখা যদি কেবল পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান রক্ষা
বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা সমাজের চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে না। হৃদয়, অভিজ্ঞতা ও
যুক্তিবোধের সমন্বয়েই লেখার আসল শক্তি জন্ম নেয়, আপনার মন্তব্য সেটিই মনে করিয়ে দিল।

এমন সংযত ও গভীর মন্তব্য/আলোচনা পরিসরকে সমৃদ্ধ করে। চিন্তার এই সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য আপনাকেও
আন্তরিক ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

৩০| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২৫ নং প্রতিমন্তব্যঃ @শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান, আপনার চিন্তাশীল এবং আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ব্লগারদের প্রতি আপনার যে আস্থা এবং শ্রদ্ধা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখার পেছনে যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কমিটমেন্ট রয়েছে, তা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস সঠিক - যাঁরা এতদিন এই প্ল্যাটফর্মকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এর অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না।
আপনি যথার্থই বলেছেন যে, কিছু ভাল লেখা আসছেই। কিন্তু মনোযোগী পাঠক এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অভাব রয়েছে। লেখা-পাঠ-মন্তব্য - এই ত্রিমুখী সংলাপই ব্লগিং সংস্কৃতির প্রাণ। কিছু পাঠকেরা যে এখনও এখানে আসছেন, পড়ছেন এবং চিন্তাশীল মন্তব্য করছেন - এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভাল লিখতে গেলে বেশ পড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করব আরও আন্তরিকতার সাথে, আরও গভীরতার সাথে লিখতে।
আপনার প্রার্থনা এবং স্বপ্ন আমারও। আশাকরি আমরা সবাই মিলে ব্লগিং সংস্কৃতিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবো।
আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আশা করি আপনার এই মুল্যবান মন্তব্যটি শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান দেখে যাবেন । মন্তব্যের কথামালায় আমিউ মোহিত।

আপনার এই সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্য ামিউ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার কথায় যে
আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সুর আছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ব্লগিং কেবল লেখার নাম নয়,আপনি যেমন সুন্দরভাবে বলেছেন, লেখা–পাঠ–মন্তব্যের ত্রিমুখী সংলাপই এর প্রাণশক্তি। এই সংলাপ যখন সচল থাকে, তখনই একটি প্ল্যাটফর্ম
সত্যিকার অর্থে জীবিত থাকে।

মনোযোগী পাঠক ও ভাবনাসম্পন্ন মন্তব্যের অভাব যে আমাদের সবারই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, সে কথা
অস্বীকার করার উপায় নেই। তবু আপনার মতো লেখক ও পাঠকদের আন্তরিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়
এই ভরসাটুকুই যথেষ্ট, আবার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

ভালো লেখার জন্য ভালো পড়ার যে কথা আপনি বলেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই সচেতন উপলব্ধিই ভবিষ্যতে
আরও গভীর ও অর্থবহ লেখার জন্ম দেবে এ বিশ্বাস রাখি। আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ইতিবাচক মনোভাব ব্লগিং
সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।

আপনার স্বপ্ন ও প্রার্থনার সঙ্গে আমিও সহমত। আশা করি সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আবারও এই প্ল্যাটফর্মকে
প্রাণবন্ত, সংলাপমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে পারব। শুভকামনা রইল আপনার লেখালেখির যাত্রায়।

৩১| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: @ডঃ এম এ আলী, ১১ নং প্রতিমন্তব্য প্রসঙ্গে-
আপনি আমার মন্তব্যের সূত্র ধরে, অনেক সময় ব্যয় করে গবেষণা করেছেন এবং “কালি, কলম, মন লেখে তিনজন” প্রবচনটির সূত্র উদ্ধার করেছেন, এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এখন আমার মনে হচ্ছে, কথাটা আমি প্রমথ চৌধুরীর কোন একটি প্রবন্ধে পড়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু তিনি সম্ভবতঃ কথাটাকে সেখানে একটি প্রবাদ প্রবচন হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন। অর্ধ শতাব্দীরও আগের কথা, তাই স্মৃতি হয়তো একটু এদিক সেদিক করে ফেলেছে।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার সৌজন্যপূর্ণ ও আন্তরিক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে স্মৃতির সূত্রটি তুলে ধরেছেন, সেটিই আসলে
এই অনুসন্ধানের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল। প্রমথ চৌধুরীর লেখায় তিনি অনেক সময়ই লোকপ্রচলিত প্রবচন, বাগধারা
বা কথ্য জ্ঞানকে উদ্ধৃতি চিহ্ন ছাড়াই স্বাভাবিক ভাষার অংশ করে তুলতেন,সে কারণে স্মৃতিতে সেটি তাঁর নিজস্ব
উক্তি না প্রবাদ হিসেবে ধরা পড়া একেবারেই স্বাভাবিক। অর্ধ শতাব্দী আগের পাঠস্মৃতি এতখানি স্পষ্টভাবে মনে
থাকা নিজেই এক ধরনের পাঠঋদ্ধতার প্রমাণ। আপনার এই স্মৃতিচারণা আলোচনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে
এ জন্য কৃতজ্ঞতা রইল।

৩২| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আসলেই ব্লগের বেহাল অবস্থা

আমিও বেশী সময় পাই না এখন। কবিতা হলে পড়তে পারি। অন্যান্যা বিষয় মানে বড় লেখা পড়ার টাইম পাই না।

আপনার সুন্দর লেখাাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। সত্যিই এখনকার ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ লেখা পড়ার সময় বের করা
কঠিন হয়ে গেছে।এটা খুবই বাস্তব কথা। তবু এত কিছুর মাঝেও কবিতার জন্য যে একটু সময় বের করে নেন, সেটাই
আমাদের মতো লেখকদের বড় প্রেরণা।

ব্লগের অবস্থা নিয়ে আপনার অনুভূতির সঙ্গে সহমত পোষণ করি। তবুও পাঠক-লেখকের এই আন্তরিক সংযোগটুকুই
আমাদের লেখালেখিকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে। সময় সুযোগ হলে ছোট বা বড় যে কোনো লেখা নিয়ে আপনার
মতামত জানাবেন, সেটাই আনন্দের।

আবারও ধন্যবাদ উৎসাহ দেওয়ার জন্য।

শুভেচ্ছা রইল

৩৩| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ ড. আলী, প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্রহ -বইটি অনলাইনে আছে জানলে আমি বইটা লাইব্রেরী থেকে নিয়ে স্ক্যান করতাম না। গুগল ড্রাইভের লিংক দেবার জন্য ধন্যবাদ।

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



গুগলেও এখন আগের মত বই পাওয়া যায়না । আমাজন সহ অন্যান্য পাবলিশিং ও বুক মার্কেটিং সংস্থাগুলি
অনলাইনে ফ্রিতে বই ডাউনলোড করা অসম্ভব করে তুলেছে ।
তবে এখন অনেক বিখ্যাত লেখকের বই পিডি্এফ ফরম্যাটে বুক আর্কাইভ, বিখ্যাত ইইনিভার্সিটি ও পাবলিক
লাইব্রেরীতে পাওয়া গেলেও সেখানে কোন না কোন একাডেমিক/রিসার্চ ইন্টিটিউটের হসন্টিটিউশনাল আইডি
ছাড়া এক্সেস পাওয়া যায় না । আপনার নিশ্চয়ই উপযুক্ত ইনস্টিটিউশনাল আই ডি আছে তাই লাইবারেরী
হতে দুর্লভ পুরানো বই ধারে নিয়ে ভারে( ঘাটের পয়শা খরচ করে ) স্ক্যনিং করে নিতে পেরেছেন ।

ভাইটি বই এর জন্য আপনাদের মত পড়ুয়া লেখক/লেখিকাগন যদি পয়শা খরচ না করে বই সংগ্রহ করেন
তবে লইব্রেরীই বা চলবে কি করে কিংবা অপনাদের মত লেখক/লেখিকাদের প্রাইভেট পারিবারিক বই এর
লাইব্রেরীই বা এমনভাবে স্থীত হয়ে বই লেখক ও প্রকাশক বিক্রতাদেরকে উপকৃত করবে । এ ক্ষেত্রে তো
আপনাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় ।

যাহোক, সহানুভুতি রইল এমনভাবে আপনার পছন্দের বই সংগ্রহের বিবরণ শুনে ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৪| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: @ হুমায়রা হারুন,




২৯ নম্বরে আপনার করা মন্তব্যে আপনি আমার মন্তব্যের জন্যে আনন্দিত হয়েছেন জেনে ভালো লাগারই কথা। সে ভালোটাই লাগলো। ধন্যবাদ।

ডঃ এম এ আলী ব্লগারদের স্ক্রল সংস্কৃতির কথা বলেছেন এই পোস্টে। সেটা নিয়েই আমি আমার মতামত জানিয়েছি, কেন ব্লগারদের মাঝে স্ক্রল সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে! আপনিও যে তাতে একমত পোষন করেছেন তা আপনার মন্তব্যের লেখার ছায়াতেই দৃশ্যমান।

মূলত ব্লগাররা এখানে আসেন দৈনন্দিন জীবনের হ্যাপা থেকে পরিত্রান পেতে খানিকটা "কোয়ালিটি রিফুয়েলিং" এর জন্যে। তারা নিশ্চয়ই চর্বিত চর্বণ (সোস্যাল / ইলেকট্রনিক / প্রিন্ট মিডিয়াতে ছড়ানো বিষয়াদি) হজম করার জন্যে এখানে আসেন না! সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বিষয়াদি নিয়ে যদি লিখতেই হয় তবে তা হওয়া উচিৎ সে বিষয়ের উপর চিন্তা উদ্রেককারী পর্য্যবেক্ষন থেকে। বিষয়টি সমাজ-রাষ্ট্রকে কতোখানি প্রভাবিত করলো কিম্বা তাতে সমাজ ও রাষ্ট্র কতোখানি ক্ষতিগ্রস্থ হলো তা নিয়ে। কিন্তু ব্লগীয় অধিকাংশ লেখাগুলোতে তা অনুপস্থিত। সেখানে থাকে কেবল সোস্যাল-ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়ার বক্তব্যের পদধ্বনি কিম্বা বিষয়টি পক্ষে গেলে তার প্রশংসা, বিপক্ষে গেলে ইচ্ছেমতো গালমন্দ করা। এতে পাঠকেরা বিতৃষ্ণায় ভোগেন, ব্লগটিকে অসহ্য মনে হয় এবং ব্লগে তার ইন্টারএ্যাকশন পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন।

অনেকটা এই কারনেই আমিও ব্লগে ঢুঁ মারতে উৎসাহ বোধ করিনে। ঢুঁ মারলেও স্ক্রল করা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা! :(

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হুমাইরা হারুনকে এড্রেস করা মন্তবাংশটি আশা করি তিনি এসে দেখে যাবেন । এই মন্তব্যের নীচে থাকা আপনার
মন্তব্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। ব্লগকে আপনি যেভাবে “কোয়ালিটি রিফুয়েলিং”-এর একটি পরিসর
হিসেবে দেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনেক পাঠকেরই অব্যক্ত অনুভূতির প্রতিধ্বনি। ব্লগের শক্তি তো আসলেই এখানে
চেনা খবরের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সেই খবর বা ঘটনার অন্তর্গত তাৎপর্য, সামাজিক অভিঘাত ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব নিয়ে
গভীর চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় ব্লগীয় লেখায় সেই বিশ্লেষণী দায়বদ্ধতা অনুপস্থিত থাকে। ফলে ব্লগ পাঠ
একঘেয়ে হয়ে ওঠে, পাঠকের সঙ্গে ভাবনার সংলাপ তৈরি হয় না। আপনার হতাশা তাই একেবারেই অমূলক নয়।

তবে একই সঙ্গে এটাও আশা করা যায় যে, এমন সুচিন্তিত মন্তব্যই হয়তো লেখকদের আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করবে
এবং ব্লগকে আবারও চিন্তা, মনন ও অর্থবহ মতবিনিময়ের একটি জীবন্ত পরিসরে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।
পাঠক ও লেখক উভয়ের সম্মিলিত সচেতন প্রয়াসেই কেবল ব্লগ তার প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।

৩৫| ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,



২৮ নম্বরে আমার মন্তব্যের জবাবে আপনি লিখেছেন - এখানে একটি বিষয় আলাদা করে বলার প্রয়োজন আছে ,পাঠক হিসেবে ‘মন’ হারিয়ে ফেলার অভিযোগটা একপাক্ষিক হয়ে যায় কি না, তা ভেবে দেখা জরুরি।
কিন্তু আমি তো বলেছি - "আমি বলি পাঠক ব্লগারদের মনটা হারায় নি, হারিয়েছে লেখক ব্লগারদের মন।"
"পাঠক ব্লগার" আর "লেখক ব্লগার" শব্দ দু'টি আবার আন্ডারলাইনও করে দিয়েছি। এখানে কাদের মন হারিয়েছে তাদের কথা বলেছি আর আপনিও আপনার জবাবে সে কথাটিই বলেছেন এমন ভাবে ---আমার মনে হয়, পাঠকের মন হারায়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রেই লেখকের মনই লেখালেখির কেন্দ্র থেকে সরে গেছে।

আপনার বিদগ্ধ জবাবে বলা----
আশার কথা হলো, যখনই কেউ বহুল আলোচিত বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টিতে, মন ও মনন সহকারে, ইউনিকভাবে উপস্থাপন করেন পাঠক তখনও সাড়া দেন, মন্তব্য করেন, সংলাপে যুক্ত হন। অর্থাৎ পাঠকের মন এখনও জাগ্রত; তাকে ডাকতে হলে লেখাকেই গভীরতা ও সততার জায়গা থেকে আসতে হবে।
এই কথার সাথে আমার মতো বাকী পাঠকবৃন্দও সহমত হবেন!

আশা করি সহি-সালামতে আছেন। ভালো থাকুন আর থাকুন লেখা-লেখিতে।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার বক্তব্যটি স্পষ্ট এবং এতে কোনো দ্ব্যর্থতার অবকাশ নেই। আপনি শুরু থেকেই পাঠক ও লেখক
এই দুই সত্তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছেন এবং যথার্থভাবেই বলেছেন যে ‘মন’ হারানোর প্রশ্নটি পাঠকের নয়,
বরং অনেক ক্ষেত্রে লেখকের দিকেই প্রযোজ্য। সে বিষয়টি আন্ডারলাইন করে দেখিয়ে দেওয়াটাও আপনার
অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করেছে।

আমার আগের উত্তরে যদি তা একপাক্ষিক মনে হয়ে থাকে, তবে সেটি আসলে আপনার বক্তব্যের বিরোধিতা নয়,
বরং একই উপলব্ধিরই অন্য ভাষ্য। পাঠকের মন যে এখনও সচেতন ও গ্রহণক্ষম এ কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল এই
আশাবাদটুকু তুলে ধরা যে সমস্যার মূল জায়গা লেখার অভিপ্রায় ও গভীরতার ঘাটতিতে। আশা করি ভুল বুঝাবুঝির
অবসান হবে ।

আপনি যেমনটি বলেছেন, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, মননশীলতা ও সততার সঙ্গে যখন কোনো বিষয় উপস্থাপিত হয়, তখন
পাঠক স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সাড়া দেন। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে এবং আপনার মতো অন্যান্য পাঠকের সঙ্গেও
নিঃসন্দেহে সহমত পোষণ করি। এই ধরনের সুস্পষ্ট ও যুক্তিনিষ্ঠ কথোপকথনই ব্লগকে আবার অর্থবহ
সংলাপের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

মুল্যবান মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ ।

শুভ কামনা রইল ।

৩৬| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৩১

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: সামুতে আগের মতো সময় দিতে পারছি না ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারনে। সামু'র ভবিষ্যৎ নিয়ে আমিও কিছুটা উদ্বিগ্ন। তবে ব্যক্তিগত ব্লগে সময় একটু বেশী দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সেই সাথে সামুতে আমার পোস্টগুলো আর্কাইভ করার চেষ্টা করছি। ধন্যবাদ।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার এই সৎ ও আন্তরিক মন্তব্যটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নানা দায়বদ্ধতার
ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে প্রিয় কাজগুলোর জন্য আগের মতো সময় বের করে নেওয়া যে কতটা কঠিন হয়ে পড়ে,
তা আমরা অনেকেই হাড়ে হাড়ে বুঝি। সেই জায়গা থেকে আপনার অনুভূতি একেবারেই স্বাভাবিক এবং
গভীরভাবে সম্মানযোগ্য।

সামুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার উদ্বেগটিও অমূলক নয়। দীর্ঘদিন ধরে যে পরিশ্রম, চিন্তা ও আবেগ দিয়ে একটি ব্লগ
গড়ে ওঠে, তার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়লে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবু আশার কথা হলো আপনি
পুরোপুরি হাল ছেড়ে দেননি। ব্যক্তিগত ব্লগে সময় দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আগের পোস্টগুলো
যত্ন করে আর্কাইভ করার উদ্যোগ নিজেই প্রমাণ করে যে ব্লগ ও লেখালেখির প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা
এখনো অটুট।

অনেক সময় নিয়মিত নতুন লেখা না এলেও একটি ব্লগ তার পুরোনো লেখার মধ্য দিয়েই পাঠকের কাছে জীবন্ত
থাকে। আপনার লেখাগুলো আর্কাইভ হয়ে থাকলে নতুন পাঠক যেমন সেগুলো আবিষ্কার করবে, তেমনি
পুরোনো পাঠকরাও ফিরে ফিরে আসবে। ব্লগ সবসময় গতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে না, অনেক সময়
তা দাঁড়িয়ে থাকে গভীরতার উপর আর সে জায়গাটায় আপনার অবদান নিঃসন্দেহে মূল্যবান।

জীবনের এই পর্যায়ে যদি লেখার গতি একটু কমেও যায়, তাতে কোনো ব্যর্থতা নেই। বরং প্রয়োজনের সময়
নিজেকে ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাই পরিণত সিদ্ধান্ত। আমরা বিশ্বাস করি, সময়ের স্রোত একটু
শান্ত হলে আপনি আবারও আগের মতো কিংবা নতুন কোনো রূপে ফিরে আসবেন,আর তখন আপনার
অভিজ্ঞতা ও ভাবনার গভীরতা লেখাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সবশেষে শুধু এটুকুই বলতে চাই আপনার লেখা, আপনার উপস্থিতি এবং আপনার আন্তরিকতা সামুর পাঠকের
কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সময় দিন নিজের মতো করে, চাপ নয়,কারণ ভালো লেখা কখনো জোর করে আসে না।

পুণরায় এসে কথা বলে যাওয়ায় আপনার জন্য রইল শুভকামনা ও কৃতজ্ঞতা।

৩৭| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৪

আরোগ্য বলেছেন: হা হা কৃপণতা বটে।

আসলে খুব পরিশ্রম করে পোস্ট করার পর যদি তেমন মন্তব্য না পাই তবে উৎসাহ কমে যায় ঠিক, এক্ষেত্রে আমি সমালোচনাও মূল্যায়ন করি। আবার আমি নিজেও যে খুব সময় দেই ব্লগে তাও নয়,তবে আমি দ্রুত প্রতিমন্তব্য করার চেষ্টা করি।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হা হা, কথাটা আংশিক সত্যিই :)
আসলে লেখালেখি বা পোস্ট করা কেবল প্রকাশ নয়, এটি একধরনের সংলাপের প্রত্যাশাও। পরিশ্রম করে কিছু
শেয়ার করার পর যদি সাড়া কম আসে, তবে উৎসাহে ভাটা পড়া খুবই মানবিক। তবে সংখ্যার চেয়ে গুণগত
প্রতিক্রিয়া আমার কাছেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ , প্রশংসা হোক বা সমালোচনা, দুটিই ভাবনার পরিসর বাড়ায়।

আর আমিও স্বীকার করি, সবসময় নিয়মিত বা দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না। তবু যতটা পারি আন্তরিকভাবে
যুক্ত থাকার চেষ্টা করি এবং প্রতিমন্তব্যে দ্রুত সাড়া দিতে চাই। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া আর অংশগ্রহণই
আসলে লেখালেখির আনন্দটাকে টিকিয়ে রাখে।
আপনার এই মন্তব্যটি দেখার আগে আপনার সাম্প্রতিক পোস্টে মন্তব্য একটি রেখে এসেছি ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.