নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খোকন সিয়াটল

খোকন সিয়াটল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মায়ামি বীচ – ছিঃ ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জার!

১২ ই জুলাই, ২০১৩ ভোর ৫:০২

কি? ভাবিয়াছেন ভুল করিয়া বীচের কোনো লজ্জাকর অংশে ঠুকিয়া পড়িয়াছি? অথবা লজ্জাকর কিছু অবলোকন করিয়াছি! আরে ভাই, আমি বেক্কল কিছিমের মানুষ হইলেও এতো বে-আক্কেল নই যে, সেই লজ্জাকর পরিস্তিতি খোমাখাতায় উপস্থাপন করিব। ঘটনাটি একটু ভাংগিয়া বলিতে হইবে।

ড্যাভিড হ্যাসলহফ (নাইট রাইডার-খ্যাত) আমার প্রিয় একজন অভিনয় শিল্পী। তবে যতটা না অভিনয়ের জন্য, তার চেয়ে বেশী নাইট রাইডারের গাড়িটির জন্য! এই সিরিজটির পরে ড্যাভিড হ্যাসলহফ যেই সিরিজেই অভিনয় করিয়াছে, তাহাই কিছুটা হইলেও দেখিবার চেষ্টা করিয়াছি। তাহার পরবত্রি সিরিজটি ছিল, সম্ভবত, ব্যে ওয়াচ! কোনো এক অজ্ঞাত কারনে, আমি জানিতাম, ব্যে ওয়াচ সিরিজটি চিত্রায়ীত হইয়াছে, মায়ামি বীচে (আসলে চিত্রায়ীত হইয়াছে ক্যালিফোরনিয়া আর হাওয়াইতে)!

যাই হোক, মায়ামি বীচে আসিয়া ড্যাভিড হ্যাসলহফের কারনে মনে ভাবাবেগ হইল। মনের নাম মহাশয়, যাহা দেখাই, তাহাই সয়! কিছুক্ষনের মধ্যেই মনের কল্পনায় ভাসিয়া দেখিতে পাইলাম, ওইতো, ড্যাভিড হ্যাসলহফ তার দুই ছেলে সংগী আর তিন মেয়ে সংগী লইয়া, মায়ামি বীচে স্লো মোশনে দৌড়াইতেছেন। বিনা পয়সায় যেহেতু দিবাসপ্ন দেখিতেছি, আরেকটু দেখিতে ক্ষতি কি? সাথে সাথেই দেখিলাম ড্যাভিড হ্যাসলহফের জায়গায় আমি, তাহার দুই সংগী আর তিন সংগীনিকে লইয়া দৌড়াইতেছি! এই পরযন্ত সপ্নখানি ঠিকই ছিল! ঝামেলা পাকাইল সপ্নের বাকি অংশ! বাকি অংশ বলিবার আগে একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন রহিয়াছে!

বালকে পরিনত হইবার পর হইতে, যুবককালের পচিশ বতসর পরযন্ত বহু কসরত আর পরিস্রম করিয়া, ভুরিতে ছয় প্যাক বানাইয়াছিলাম। কিন্তু হঠাত করিয়াই ওই বয়সে সাত সংখ্যাটির প্রতি আসক্তি অনুভব করিলাম! না করিয়াই উপায় কি বলুন! সাত সমুদ্দর, সাত আকাশ, রংধনুতে সাতটি রঙ! গানের সুরও সাতটি! গুনিজনেরাও অসংখ্য গান বাধিয়াছেন এই সাত স্যংখাটি নিয়া! আরে ভাই সয়ং সৃস্টিকরতাও (মুসলীম ধরম মতে) বেহেশ্ত আর দোজখ সৃস্টি করিয়াছেন সাতটি! তাই এই মৌলিক সংখ্যাটির প্রতি অনুরক্ত না হইয়া থাকি কিভাবে? যেই কথা সেই কাজ। সেই পচিশ বছর বয়সে সাতের প্রতি ভালবাসা বুঝাইতে উঠিয়া পরিয়া লাগিলাম! অনেক ভাবিয়া দেখিলাম, সাতের কাছাকাছি আমার একটা জিনিসই আছে, ছয় প্যাকের এব! তাই এই ছয় প্যাককে সাত প্যাক বানাইতে প্রতিদিন ভাজাপোড়া খাওয়া শুরু করিলাম। সাতাশ বছরের মাথায় ছয় প্যাক সাত প্যাকে পরিনত হইল এবং এই সাত প্যাক লইয়া মহা খুসিতেই ছিলাম এতোদিন। ঝামেলা পাকাইল এই মায়ামি বীচ!

ওই যে শপ্ন দেখিতেছিলাম, ড্যাভিড হ্যাসলহফের জায়গায় আমি দৌড়াইতেছি, শপ্নটা ওইখানে থাইমা গেলেই ভাল হইত! স্লো মোশনে দৌড়াইতে দৌড়াইতেই চোখ পড়িল আমার শরীরের মধ্যাংশের দিকে, মানে ভুরীর দিকে। দেখিলাম সাত নম্বর প্যাকটি একবার ঝুলিয়া নীচে নামিতেছে মধ্যাকরষনজনিত তরনের কারনে, আবার ইলাস্টিসি তত্তের কারনে উপরে উঠিতেছে! এইরকম সপ্ন দেখিয়া কার না লজ্জা লাগিবে, বলেন? কি, দাত কেলাইয়া হাসিতেছেন আমাকে স্লো মোশনে সাত নম্বর প্যাকটি নিয়া দৌড়াইতে দেখিয়া! এইবার আমার জায়গায় আপনাকে প্রতিস্থাপন করুন! হেঃ হেঃ হেঃ, এখন আমি দেখিতে পাইতেছি আপনার কাতলা মাছের মত ভেটকানো হাসি আস্তে আস্তে লজ্জাবতী লতার মত বুজিয়া যাইতেছে!

আশা করি বুঝিতে পারিয়াছেন, মায়ামি বীচ কেন এত লজ্জার ছিল আমার জন্য!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.