নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কালের মহাকব্যে গেয়ে ওঠো, হোক না কাকের মত গলা

অধিকাংশ মানুষ তাদের অর্ধেক জীবন ঘুমিয়ে কাটায় আর বাকি অর্ধেক হাই তুলে, আমি তাদের দলে

মহাকাব্য

লেখালেখির অভ্যাস নাই, তাও লিখি

মহাকাব্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছুক্ষন...

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৭

"তুমি কি যাবে আমার সাথে?"

"না"...এক কথায় জবাব ইরেশের

"আমি গেলাম কিন্তু"

"হাজার বার বলার দরকার দেখিনা। যেতে চাইলে যাবে।"

"ভাব ছাড় তো। চল, ওঠ। কতবার বলব আর?"



ইরেশ খেয়াল করল তৃয়ার চোখে পানি জমতে শুরু করেছে। মেয়েটা একটুতেই ভ্যা ভ্যা শুরু করে দেয়। আজব ধরনের মেয়ে একখান। মিনিমাম ৩ বছর আগে দেখা হয় ওদের। ইরেশ তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে ম্যানেজমেন্টে প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে একটা শর্ট ফিল্ম বানিয়েছিল যা আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছিল। ফিল্মটার নাম সে দিয়েছিলো "অমানিবাস"। কঠিন নাম। নাম শুনলে মনেই হবে না যে এইটা একটা শিশু চলচ্চিত্র। একটা ছোট্ট মেয়ের আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠা নিয়ে এই ফিল্মটা। অসাধারণ কনসেপ্ট। ইরেশের ফিল্মটা সারা দেশে দ্বিতীয় হল। কিছুদিন বিভিন্ন জায়গাই প্রিমিয়ার হল। একদিন প্রিমিয়ার শেষে ইরেশ বাইরে দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। এই সময় একটা মেয়ে ওর দিকে এগিয়ে এসে বলল, "একটা অটোগ্রাফ পেতে পারি কি?"

ইরেশ এমন ভাব দেখাল যেন অটোগ্রাফ দাওয়াটা তার নিত্যদিনের ব্যাপার। সে মুখে সিগারেট টা রেখেই মেয়েটাকে বলল, "কারো কাছে অটোগ্রাফ নিতে হলে কলম আর কাগজ নিজেকেই আনতে হয়। তোমার হাতে তো কোনটাই দেখছিনা"

মেয়েটা বলল, "আমার কাছে দুইটাই আছে"

ইরেশ সিগারেটটা হাত দিয়ে না ধরে বাদশাহি স্টাইলে ফুঁকতে ফুঁকতে বলল, "সেক্ষেত্রে তুমি অটোগ্রাফ পাচ্ছ"

"কি নাম তোমার?"

"কেন?"

"আমরা কেউ গরু ছাগল না। সবাই মানুষ। সেই সূত্রে সবার অন্তত নামটুকু জানার অধিকার আমাদের আছে। তাছাড়াও অটোগ্রাফ দাওয়ার সময় আমি যাকে অটোগ্রাফ দেই তার নামটা লিখে দেই ওইখানে"

"আমার নাম তৃয়া। আপনার ফিল্ম এর মেয়েটার নামে আমার নাম"

"বাহ! সুন্দর নাম তো! আমি ফিল্মে ক্যারেকটারের নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাই অর্থ নাই এমন একটা নাম ঠিক করলাম"

"কিন্তু আমার নামের তো অর্থ আছে"

"তাই নাকি? কি অর্থ শুনি?"

"নবযৌবনা"

"হুম হয়েছে। অধিকাংশ মেয়েদের এখন খুব কঠিন কঠিন নাম রাখা হয়। যার অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেউ পারে না। তুমি পেরেছ। এইজন্য তোমাকে আমি এখন কফি খাওয়াবো"

"আমি আপনার সাথে কফি কেন খাব?"

"একজন নামি-দামি ডিরেক্টরের সাথে কফি খাওয়ার চান্স নিশ্চয় তুমি মিস করতে চাইবে না"

"আপনিতো এমন বিশেষ কেউ না। একটা জাস্ট শর্ট ফিল্ম করেছেন"

"তুমিও এমন বিশেষ কেউনা। একজন দর্শকমাত্র। দুইজনেই আমরা সাধারণ মানুষ"

"আপনি কি সারাক্ষণ এমন করে সিগারেট খান?"

"খুব কম খাই"

"আমি এই দশ মিনিটের মধ্যেই ৩টা খেতে দেখলাম"

"আমি ভেবেছিলাম তোমার অবসারভেশন ক্ষমতা নিম্নমানের হবে। কিন্তু তুমি ভালই খেয়াল করেছ দেখছি"

"সেই জন্য এখন আপনি আমাকে এক কাপ কফি খাওয়াবেন"

"অফকোর্স"



এইভাবেই ওদের পরিচয়। তারপর থেকে ঘন ঘন কথা হয়, দেখা হয়। দুইজন প্রতিদিন রিক্সাতে করে ঘোরে। ইরেশের রিক্সাতে ঘোরা খুব পছন্দ। তৃয়ার সাথে তার প্রতিদিনি ঝগড়া লাগে। প্রতিদিনি ঠিক হয়ে যায়। কেউ কেউকে এখন প্রপোজ করেনি। কিন্তু তবুও তারা দুইজনি জানে একে অপরের মনের কথা। দুইজনি প্রেমিক-প্রেমিকাদের মতই আচরণ করে। এই যেমন এখন ঝগড়া লেগেছে। দুপুর ৩টা বেজে গেছে। ওরা বসে আছে ধানমণ্ডি লেকের ওইপাশটাই। তৃয়া সেই কক্ষন থেকে বাসাই যেতে চাইছে। ইরেশ উঠছে না। তার উপর একের পর একটা সিগারেট খেয়েই চলছে। এখন ইরশকে রেখে সে যেতেও পারছে না। তার উপর ইরেশ যখন বলল, "হাজার বার বলার দরকার দেখিনা। যেতে চাইলে যাবে" তখন ওর চোখে পানি চলে আসল। এই ছেলেটা এমন কেন? রাগ লাগে মাঝে মাঝে। না না, আসলে রাগ না। অভিমান হয়। ইরেশ তৃয়ার চোখে পানি দেখতে পারে না। উঠে দাঁড়াল সে। তৃয়ার হাত ধরল। ওর চোখের পানি মুছে দিল। তারপর হা করে বোকার মত তাকিয়ে থাকল তৃয়ার দিকে। তৃয়ার মুখ নামিয়ে ফেলল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.