নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ\" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

মহিউদ্দিন হায়দার

শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মহিউদ্দিন হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

নরেন্দ্র মোদী ভুল বলেননি—ইতিহাসই তার সাক্ষী।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৩৫


নরেন্দ্র মোদী ভুল বলেননি—ইতিহাসই তার সাক্ষী। সমস্যা হলো, যারা ইতিহাস পড়তে চায় না, তারা সত্য শুনলে চেঁচামেচি করে।


নরেন্দ্র মোদী ভুল বলেননি—ইতিহাসই তার সাক্ষী। সমস্যা হলো, যারা ইতিহাস পড়তে চায় না, তারা সত্য শুনলে চেঁচামেচি করে।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান নিজেই প্রথমে আক্রমণ চালায়—ভারতের ওপরও কার্যত যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। কারণ কী? বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারত কেন আশ্রয় দিল, খাবার দিল, আর মুক্তিযোদ্ধাদের কেন প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করল—এই মানবিক ও নৈতিক অবস্থানই ছিল পাকিস্তানের “অপরাধের” কারণ।

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১—ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। গঠিত হয় মিত্র বাহিনী (বাংলাদেশ–ভারত)। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে সেই মিত্রবাহিনী মাত্র ১০ দিনেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে।
১৬ ডিসেম্বর—ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কাছেই পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে। এদিনটি যেমন বাংলাদেশের বিজয় দিবস, তেমনি ভারতেরও।

আমাদের যুদ্ধ ছিল ৯ মাসের—রক্ত, ত্যাগ আর গণহত্যার বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াই। ভারতের যুদ্ধ ছিল ১০ দিনের—কিন্তু সেই ১০ দিন না এলে ৯ মাসের সংগ্রামের পরিণতি এত দ্রুত ও স্পষ্ট হতো না। এই সত্য অস্বীকার করা মানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খণ্ডিত করা।

নরেন্দ্র মোদী ভারতের বিজয় দিবসে শুভেচ্ছা জানালে যারা গায়ে জ্বালা অনুভব করেন, তারা আসলে নিজেদেরই ইতিহাসের পরাজয় ঢাকতে চান। কারণ ১৬ ডিসেম্বর তাদের আদর্শিক উত্তরাধিকারীরা পরাজিত হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কুৎসা রটানো মানে—একদিকে শহীদদের আত্মত্যাগকে খাটো করা, অন্যদিকে ইতিহাসের সঙ্গে বেয়াদবি করা।

ইতিহাস বদলানো যায় না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে এবং ভারতের কৌশলগত–মানবিক সহযোগিতায়।
এই বাস্তবতা যারা মানে না, তারা বিজয় দিবসও মানে না—কারণ সত্য তাদের পছন্দের রাজনীতির বিরুদ্ধে যায়।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বেশি বেশি লিখে ফেলেছেন । ২০২৩ সালেও মোদি টুইটারে বাংলাদেশের নাম লিখেছিলেন কিনতু ইনটেরিম সরকার আসার পর মোদি সাহেব বাংলাদেশের কথা ভুলে গেছেন ।

২| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:০৫

ঊণকৌটী বলেছেন: মোদী বিন্দুমাত্র ভূল বলেনি কারণ 2024 এর পরে আপনারাই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার সরকার এবং আপ্নার প্রিয় পাকিস্তানও স্বীকার করে যুদ্ধ টা ভারত পাকিস্তানের হয়েছিল তো একদিকে 1971 অস্বীকার করবেন আবার প্রকৃত যুদ্ধ যে করেছিল নাম শুনলে গোসা করবেন এটাতো ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু না |

৩| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:৫০

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: মোদীর ব্ক্তব্য নিয়ে আমাদের উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। ও ওর বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী টুইট করেছে। এগুলো নিয়ে মাতামাতি করার প্রয়োজন দেখি না। আমাদের উচিত নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকা। ধন্যবাদ।

৪| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৫৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
নরেন্দ্র বিন্দুমাত্র মোদী ভুল বলেননি
নতুন কিছু না। গত ৫৪ বছর ধরে এভাবেই বিবৃতি দেয়া হচ্ছে।
ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বললে আমি বিন্দুমাত্র ভুল দেখি না।
বরং 'ভারত ৭১এ মুক্তিযুদ্ধ করেছে' বলা হলে সেটা হাস্যকর হবে।
কারন শত্রুকবলিত ছিল আমাদের বাংলাদেশ, ভারত নয়।
'ভারত মুক্তিযুদ্ধ করেছে বলা হলে সেটা হবে সম্পুর্ন ভুল। তাহলে তো ভারতীয় সেনাদের মুক্তিযোদ্ধা বলতে হয়।
ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছে যুদ্ধের শেষদিকে পুর্ব ও পশ্চিম উভয় ফ্রন্টে আক্রমণ করে যুদ্ধে দখলদার পাকিস্তানিদেরকে পরাজিত করেছে। ভারতীয় সেনারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। ভারতীয় সেনারা ভারতকে মুক্ত করেনি।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু । ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর বিকালে। যুদ্ধে ভারতই প্রথম আক্রান্ত হয়েছিল। পশ্চিমফ্রন্টে। ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের এগারটি বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা ও ভয়ানকভাবে স্থল হামলা চালায়। করে এই আক্রমণের পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

যুদ্ধের মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে পুর্বানচলে ভারত স্পষ্টভাবে বিজয় প্রতিষ্ঠা করে, এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তান ঢাকায় আত্মসমর্পণের স্মারক স্বাক্ষর করে। তখনো পশ্চিম ফ্রন্টে পাকিস্তানি বাহিনী ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। ভারতের দৃষ্টিতে এটা নিশ্চিত ভাবেই ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ৭১এ শুরু হলেও মুক্তিযুদ্ধে শুরু ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ৬ দফা জারির দিন থেকে। স্বায়ত্তশাসন পৃথক অর্থনীতি রাজস্ব কর ও শুল্ক পৃথক কারেন্সি ইত্যাদি মানে অলমোষ্ট স্বাধীনতার দাবী।

৭১ এ বাংলাদেশের জনগন মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এবং যুদ্ধের শেষদিকে ভারতীয় বাহিনির সাথে একটি জয়েন্ট টাস্কফোর্স মিত্রবাহিনী গঠিন করে ঢাকার পতন ঘটিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে। এবং আত্নসমর্পন দলিলে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর কাছে আত্নসমর্পন করা হচ্ছে বলে লেখা দলিলে পাকিস্তানের আত্মসমর্পনের দলিলটা দেখেন, দেখবেন সেখানে জেনারেল অরোরার ডেজিগনেশন লেখা হয়েছে এভাবে, -

‘জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ,
ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলা দেশ ফোর্সেস ইন দ্য ইস্টার্ন থিয়েটার’,
অর্থাৎ পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ড সেদিন আত্মসমর্পন ভারতের সেনাবাহিনীর কাছেও না, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কাছেও না, তারা সেদিন আত্মসমর্পন করেছিল মিত্রবাহিনী তথা ভারত এবং বাংলাদেশের সম্মিলিত বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে, পদাধিকার বলে সেই সম্মিলিত বাহিনীর একজন শীর্ষ অধিনায়ক অরোরার কাছে। স্বাক্ষর করা দলিলে প্রমান এখনো অটুট।

আমাদের ৭১ এর যুদ্ধ ও মুক্তি সংগ্রামকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বলবো।
ভারতের সাইড থেকে ভারতীয়রা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলবে। সেটা ১০০% সঠিক।

৫| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: আমিও তাই জানতাম যে পাকিস্তুান প্রথম আত্রমণ চালায়, আসলে ভারত প্রথম পূর্ব-পাকিস্তানে আক্রমণ করে কিন্তু অঘোষিত, গোপনে এবং ইন্দিরার নির্দেশে পুর্ব পরিকল্পনা মাফিক- মানেক শ’ এর সাক্ষাতকার/বিবিসি এর রিপোর্ট

দেখুন

৬| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩৬

রাসেল বলেছেন: ভারত শুধু মানবিকতার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করেনি। নিজের স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক রাখা উচিত, তবে চোর বাটপারেরা ব্যক্তি স্বার্থ দেখবে।

৭| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৪০

আলামিন১০৪ বলেছেন: মানবিকতা না, পুরোপুরি নিজ স্বার্থ

এখন কি দেখতে পাচ্ছেন? ভারত কি কোন বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য মানবিকতা দেখাচ্ছে?

৮| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:০১

রাজীব নুর বলেছেন: ইন্দিরা গান্ধীর পর মোদি আমাদের সবচেয়ে আপন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.