নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শাহবাগের যুদ্ধ চলছে চলবে

মোশারফ হোশেন মিলন

মোশারফ হোশেন মিলন › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহবাগের সাইবার যুদ্ধ চলছে চলবে

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৩

ফিরোজ মান্না ॥ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী দিলেও ফেসবুক, টুইটারে ও ব্লগে আন্দোলন চালানোর বিষয়ে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির আন্দোলন চালানোর ক্ষেত্রে ব্লগারদের বেশি কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। শাহাবাগের স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরে ১৩০ ব্লগার দিন-রাত পালাক্রমে জামায়াতীদের স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, বন্ধু তালিকায় যারা রয়েছেন-তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে রাজাকার বিরোধী স্ট্যাটাস অনলাইনের ছড়িয়ে দেয়ার। এ্যাক্টিভিস্ট সদস্যরা শুক্রবার রাজাকার প্রতিরোধ করার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। জঙ্গী জামায়াত- শিবিরকে যেখানে দেখা যাবে সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তারা ঘোষণা করেছে রাজাকার গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে জেলখানায় নিতে। তাকে এখানে রেখে বঙ্গবন্ধুর নামের ওপর কালিমা পড়ছে। বঙ্গবুন্ধর আত্মার প্রতি অবমাননা করা হচ্ছে। রাজাকারদের আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হবে না এমন ঘোষণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। শাহবাগ আমাদের নীতিবোধ, আমাদের হারানো দেশপ্রেম জাগিয়ে দিয়েছে। এখন আর কোন অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করতে পারবে না। আমাদের একটাই দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে টাঙানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে শিবির কর্মীরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে ওই পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘পোস্টার ছেঁড়ার সময় কর্মচারীরা বাধা দিলে শিবির কর্মীরা জাফরকে ধরে নিয়ে রাস্তায় ফেলে মারপিট করে। পরে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। জাফর মুন্সী জামায়াতী সন্ত্রাসের শিকার এবং জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত শহীদ জাফরের আত্মত্যাগ কোনভাবেই শোধ করা যাবে না! বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন ১৯৭১ সালে। ২০১৩ তে সেই চেতনা ধারণ করে জাফর মুন্সী বীরের মতোই নিজেকে উৎসর্গ করে গেলেন। আমরা ব্লগাররা এই শহীদকে অবনত মস্তকে সম্মান জানাই। জাফর মুন্সী শাহবাগের গণজাগরণের চেতনার একজন সহযোদ্ধা ছিলেন। এই সহযোদ্ধার প্রতি আমাদের পরম শ্রদ্ধা। এমন বক্তব্য সারাদিন পোস্ট করেছে ব্লগাররা। জামায়াত-শিবির অনুরাগী তথাকথিত ‘বুদ্ধিজীবী’ পিয়াস করিম, আসিফ নজরুল ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সারাদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য ব্লগাররা পোস্ট দিচ্ছে।

এ্যাক্টিভিস্টদের শাহবাগের সাইবার যুদ্ধ থেমে যাবে না। আন্দোলনের সময়সীমা কমিয়ে আনলেও সাইবার যুদ্ধ চলবেই। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি না পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে তারা। বাঙালী জাতি শাহাবাগ আন্দোলনকে একটি শিল্পে রূপ দিয়েছে।

শাহবাগ আন্দোলনের শুরু গত ৫ ফেব্রুয়ারি। মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেয়। তরুণ প্রজন্মের এই ডাকে সারা জাতি জেগে ওঠে। টানা ১১ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। ওই দিন বিকেলে খুব ছোট পরিসরে এই প্রতিবাদ শুরু হলেও সন্ধ্যা নাগাদ সেখানে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ এসে যোগ দিতে থাকেন। তিন দিনের মাথায় গত আন্দোলনকারীরা লাখো মানুষের মহাসমাবেশে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন। সমাবেশ থেকে ৬টি দাবি তোলা হয়। এরমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। ’৭৫-এর পর ছেড়ে দেয়া সব অপরাধীকে ট্রাইব্যুনালে বিচার করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা, জামায়াতের অর্থে পরিচালিত সব প্রতিষ্ঠান বর্জন করা, গৃহযুদ্ধের হুমকি দেয়া জামায়াতের নেতাদের গ্রেফতার করা। শাহাবাগের আন্দোলনে দিন-রাতের কোন ব্যবধান নেই। টানা রাজপথে কাটালেও এতটুকু ক্লান্তির ছাপ নেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে। স্লোগান, কবিতা, গান আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জনতার কণ্ঠে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি চলছেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরসহ সারাদেশে মোমবাতি জ্বালানো হয়। মোমবাতির ওই শিখা কেবল শাহবাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ যে যেখানে ছিলেন, সেখান থেকে একটি করে মোমবাতি জ্বেলে শাহবাগের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের একাত্মতা প্রকাশ করেন।

প্রজন্ম চত্বরে স্লোগানে জয় বাংলাকে কমন স্লোগান রেখে ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’; ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’; ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা পাকিস্তানেই ফিরে যা’; ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’; ‘আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোন দিনও বৃথা যেতে দেব না’; ‘আর কোন দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’; ‘জামায়াতে ইসলাম মেড ইন পাকিস্তান’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ চত্বর। ‘ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাকা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’ স্লোগান। প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন স্লোগান। ছোট শিশুরাও স্লোগান তৈরি করেছে। সাত বছরের মেয়ে অদ্রিজা সম্প্রীতি জয়িতা স্লোগান লিখেছে, ক-তে কাদের মোল্লা/ফ-তে ফাঁসি/র-তে রাজাকার-কাদের মোল্লার গালে গালে মারবো চর’। এই স্লোগানও শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর থেকে প্রচার করেছে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনের আয়োজক ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন এ্যাক্টিটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলনে কিছু কিছু বিজয় এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যে লক্ষ্য নিয়ে এই আন্দোলনে নেমেছেন, সেই দাবি পূরণ হোক। তা হলে বলা যাবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হয়েছে।

Click This Link

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:১০

ফাঁকা মাঠ বলেছেন: সবার উপরে নাস্তিক সত্য তাহার উপরে নাই। নাস্তিক মরলে তখন সবাই বলা শুরু করে সে ইসলাম কে গালি দিলেও সে সবার আগে মানুষ। নাস্তিক মরলে হয়ে যায় মানুষ কিন্তু শিবির মরলেও শিবির বাচলেও শিবির। যেন শিবির যারা করে তারা মানুষ না।তাদের জবাই করার শ্লোগান দিলেও কোন সমস্যা নাই। কারন তারা তো আর মানুষ না। তারা শিবির করে। তাই এখন কবিতা চেঞ্জ করে এইটা করার দাবী জানাই "সবার উপরে নাস্তিক সত্য, তাহার উপরে নাই"

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.