| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রেজওয়ান তানিম
প্রকাশিত গ্রন্থঃ অসুখগুলো প্রাপ্তবয়স্ক, শাদা পরচুল অন্ধকার, মৌনমুখর বেলায়, শাহবাগের সাথে সংহতি
রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে বাংলা কাব্যধারায় নিজের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে কবিতামনষ্ক পাঠকের চেতনাকে উপমার নানামাত্রিক ব্যবহারে বুদ করে রেখেছেন যিনি, তিনি হলেন জীবনানন্দ দাশ। এ কথা বলা চলে নির্দ্ধিধায়, বাংলা কাব্যের আধুনিকতম কবি তিনি। আপাত দৃষ্টিতে সহজ সরল উপমার মাঝেই জীবনানন্দ সার্থক ভাবে এনেছেন জীবনের গভীর বোধ, সমাজ সচেতনতা এবং নগর জীবনের দ্বান্দিকতার নবতর ব্যাখ্যা।
জীবিত থাকা অবস্থায় জীবনানন্দ দাশ পাঠক কিংবা কবি মহল কোনখানেই তেমন বেশি সাড়া ফেলতে পারেননি। বরঞ্চ প্রচুর সমালোচনা তাকে অর্ন্তমুখী এবং লেখার মান নিয়ে তাকে সন্দিহান করে তুলেছিল। ফলশ্রুতিতে জীবদ্দশায় প্রকাশিত গ্রন্থ মোটে সাতটা। পরবর্তীতে প্রচুর কবিতা, গল্প এমনকি উপন্যাসও তিনি লিখেছেন জানা যায়। আজকে একটি বহুল আলোচিত এবং তার চেয়ে বেশি সমালোচিত একটি কবিতা 'ক্যাম্পে' নিয়ে আলোচনা করব। রবীন্দ্রপরবর্তী যুগের আধুনিকতার সূচনাপর্বে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা।
কবিতাটি ছাপা হয় পরিচয় পত্রিকায় ১৯৩২ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদনায় ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। সুধীন্দ্রনাথ মূলত জীবনানন্দের লেখার স্টাইল মোটেই পছন্দ করতেন না। ক্ষেত্রবিশেষে তাকে কবি বলেও গন্য করতেন না। বিষ্ণু দের চাপে বাধ্য হয়ে কবিতাটি ছাপেন কেননা বিষ্ণু দে কবিতাটি জীবনবাবুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে আসেন। তো কবিতাটি পাঠ করা যাক-
ক্যাম্পে
এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি;
সারারাত দখিনা বাতাসে
আকাশের চাঁদের আলোয়
এক ঘাইহরিণীর ডাকে শুনি –
কাহারে সে ডাকে!
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;
বনের ভিতরে আজ শিকারীরা আসিয়াছে,
আমিও তাদের ঘ্রাণ পাই যেন,
এইখানে বিছানায় শুয়ে শুয়ে
ঘুম আর আসে নাকো
বসন্তের রাতে।
চারি পাশে বনের বিস্ময়,
চৈত্রের বাতাস,
জোছনার শরীরের স্বাদ যেন্!
ঘাইমৃগী সারারাত ডাকে;
কোথাও অনেক বনে — যেইখানে জোছনা আর নাই
পুরুষ হরিণ সব শুনিতেছে শব্দ তার;
তাহারা পেতেছে টের
আসিতেছে তার দিকে।
আজ এই বিস্ময়ের রাতে
তাহাদের প্রেমের সময় আসিয়াছে;
তাহাদের হৃদয়ের বোন
বনের আড়াল থেকে তাহাদের ডাকিতেছে
জোছনায় –
পিপাসার সন্ত্বনায় — অঘ্রাণে — আস্বাদে!
কোথাও বাঘের পাড়া বনে আজ নাই আর যেন!
মৃগদের বুকে আজ কোনো স্পষ্ট ভয় নাই,
সন্দেহের আবছায়া নাই কিছু;
কেবন পিপাসা আছে,
রোমহর্ষ আছে।
মৃগীর মুখের রূপে হয়তো চিতারও বুকে জেগেছে বিস্ময়!
লালসা — আকাঙক্ষা — সাধ — প্রেম স্বপ্ন স্ফুট হয়ে উঠিতেছে সব দিকে
আজ এই বসন্তের রাতে;
এই খানে আমার নক্টার্ন –|
একে একে হরিণেরা আসিতেছে গভীর বনের পথ ছেড়ে,
সকল জলের শব্দ পিছে ফেলে অন্য এক আশ্বাসের খোঁজে
দাঁতের — নখের কথা ভূলে গিয়ে তাদের বোনের কাছে অই
সুন্দরী গাছের নীচে — জোছনায়!
মানুষ যেমন করে ঘ্রাণ পেয়ে আসে তার নোনা মেয়েমানুষের কাছে
হরিণেরা আসিতেছে।
– তাদের পেতেছি আমি টের
অনেক পায়ের শব্দ শোনা যায়,
ঘাইমৃগী ডাকিতেছে জোছনায়।
ঘুমাতে পারি না আর;
শুয়ে শুয়ে থেকে
বন্দুকের শব্দ শুনি;
চাঁদের আলোয় ঘাইহরিণি আবার ডাকে;
এইখানে পড়ে থেকে একা একা
আমার হৃদয়ে এক অবসাদ জমে ওঠে
বন্দুকের শব্দ শুনে শুনে
হরিণীর ডাক শুনে শুনে।
কাল মৃগী আসিবে ফিরিয়া;
সকালে — আলোয় তারে দেখা যাবে –
পাশে তার মৃত সব প্রেমিকেরা পড়ে আছে।
মানুষেরা শিখায়ে দিয়েছে তারে এই সব।
আমার খাবার ডিশে হরিণের মাংসের ঘ্রাণ আমি পাব,
মাংস খাওয়া হল তবু শেষ?
কেন শেষ হবে?
কেন এই মৃগদের কথা ভেবে ব্যথা পেতে হবে
তাদের মতন নই আমিও কি?
কোনো এক বসন্তের রাতে
জীবনের কোনো এক বিস্ময়ের রাতে
আমারেও ডাকে নি কি কেউ এসে জোছনায় — দখিনা বাতাসে
অই ঘাইহরিণীর মতো?
আমার হৃদয় — এক পুরুষহরিণ –
পৃথিবীর সব হিংসা ভুলে গিয়ে
চিতার চোখের ভয় — চমকের কথা সব পিছে ফেলে রেখে
তোমারে কি চায় নাই ধরা দিতে?
আমার বুকের প্রেম ঐ মৃত মৃগদের মতো
যখন ধূলায় রক্তে মিশে গেছে
এই হরিণীর মতো তুমি বেঁচেছিল নাকি
জীবনের বিস্ময়ের রাতে
কোনো এক বসন্তের রাতে?
তুমিও কাহার কাছে শিখেছিলে!
মৃত পশুদের মতো আমাদের মাংস লয়ে আমারও পড়ে থাকি;
বিয়োগের — বিয়োগের — মরণের মুখে এসে পড়ে সব
ঐ মৃত মৃগদের মতো –
প্রেমের সাহস সাধ স্বপ্ন বেঁচে থেকে ব্যথা পাই, ঘৃণা মৃত্যু পাই;
পাই না কি?
দোনলার শব্দ শুনি।
ঘাইমৃগী ডেকে যায়,
আমার হৃদয়ে ঘুম আসে নাকো
একা একা শুয়ে থেকে;
বন্দুকের শব্দ তবু চুপে চুপে ভুলে যেতে হয়।
ক্যম্পের বিছানায় রাত তার অন্য এক কথা বলে;
যাহাদের দোনলার মুখে আজ হরিণেরা মরে যায়
হরিণের মাংস হাড় স্বাদ তৃপ্তি নিয়ে এল যাহাদের ডিশে
তাহারাও তোমার মতন –
ক্যাম্পের বিছানায় শুয়ে থেকে শুকাতেছে তাদের ও হৃদয়
কথা ভেবে — কথা ভেবে — ভেবে।
এই ব্যথা এই প্রেম সব দিকে রয়ে গেছে –
কোথাও ফড়িঙে — কীটে, মানুষের বুকের ভিতরে,
আমাদের সবের জীবনে।
বসন্তের জোছনায় অই মৃত মৃগদের মতো
আমরা সবাই।
প্রকাশের পর থেকেই কবিতাটি সমালোচক এবং কবিসমাজের কাছে, জীবনানন্দের আরো বেশ কিছু আধুনিক এবং মেটাফোরের নতুনত্বে সমুজ্জল কবিতার মতই বেশ অস্পষ্ট এবং দূর্বোধ্য বলে গন্য হয়েছে। কবিতাটি নিয়ে রূঢ় সমালোচনার মুখে পড়েছেন কবি। ধারণা করে নেয়া যায়, সে সবই কবিতার পাঠে কবিতাটি অস্পষ্ট এবং দূর্বোধ্য ঠেকার কারণেই। কবিতাটি নিবিড় পাঠে দেখা যাবে, কবিতাটি শুরু হয়েছে যদিও বনে মৃগয়া গমনের পরে ক্যাম্প ফেলবার কথা থেকে, তথাপি ক্যাম্পে যাওয়া এবং শিকার এই কবিতার মূল বিষয় নয়।
ভীষণ অর্ন্তমুখী এবং নিজের গন্ডির ভেতরে চিরকাল বসবাস করা জীবনবাবু অধ্যাবধি গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যমতে কখনো শিকারে যাননি। এছাড়া শিকারীর শিকার প্রসঙ্গে আরেকটি কবিতায় তাঁর অসমর্থন প্রকাশ পেয়েছে (হরিণ কবিতাটিতে)। এই কবিতাটিতে একটি অসমিয়া শব্দ ঘাই ব্যবহৃত হয়েছে (টোপ অর্থে)। শব্দটি যদি আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আসাম গিয়েছেন বা অসমিয়া ভাষী কারো সাথে মিশে থাকবেন, তবে বলতে হয় তিনি কখনোই আসাম যাননি। তিনি মুনিরুদ্দি নামে একজনের সাথে কথা বলতেন প্রায়ই, যে ছিল কিনা একজন শিকারী। তার কাছে জীবনবাবু শিকার সম্বন্ধীয় অনেক কিছুই শুনতেন। ধরে নেয়া যেতে পারে এই লোকটির কাছ থেকেই তিনি অসমিয়া এ শব্দটি শুনেছেন।
-------------------------------(জীবনানন্দের ভাই অশোকানন্দের বিবৃতি হতে)
যাই হোক ক্যাম্পে কবিতার প্রতিবেশ এবং চরিত্র চিত্রনে কবি যেন সুনিপুন নাট্যকারের ভূমিকা নিয়েছেন। কবিতাটির মূল সুর আদৌ যে ক্যাম্প বা হরিণ শিকার নয় সেই বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি কবিতার মধ্যভাগে। কবিতার সুরে ক্যাম্পে অবস্থানরত কথক (ধরে নেই ভ্রমন উদ্দেশ্যে আগত, যেহেতু উল্লেখ নেই আগমনের কারণ) শুনতে পাচ্ছেন এক ঘাই হরিণীর ডাক
আকাশের চাঁদের আলোয়
এক ঘাইহরিণীর ডাকে শুনি –
কাহারে সে ডাকে!
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;
বনের ভিতরে আজ শিকারীরা আসিয়াছে,
আমিও তাদের ঘ্রাণ পাই যেন
এই ঘাই হরিণী ডাকছে। কে কাকে ডাকছে? প্রকৃতপক্ষে এই ঘাই হরিণীটি কি? এটা সবার জানা, ঘাই হরিনী বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে জ্যান্ত হরিণ, যাকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রখ্যাত জীবনানন্দ গবেষক ক্লিন্টন বি সিলি A Poet Apart বই এ উল্লেখ করেন, এই ঘাই হরিণীর ব্যবহার জীবনানন্দের জীবনের এক অসফল অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়, যে প্রেমিকা তাকে প্রত্যাখান করেছে অবজ্ঞা ভরে। এ ব্যাপারে জীবনানন্দের আত্মীয় পরিজনদের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায় না, তার জীবনে কোন রমনীর সাথে এমন কোন সম্পর্ক ছিল বিয়ের আগে কিংবা পরে। এই বিষয়ে কোন পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া গেলেও আমরা ধরে নিতে পারি শিকারের অর্ন্তদ্বন্দ্বমূলক একটা প্রতিবেশ তৈরির জন্য তিনি শিকারি, শিকার ও প্রলোভনের এক জটিল ফাঁদ পেতেছেন।
ঘাই হরিণীর মৃদু শব্দময় বিষণ্ন আর্তনাদ ইঙ্গিত দেয় হরিণের অথবা চিতার আগমনের। একই সাথে যেহেতু ঘাই হরিণী শিকারের টোপ, সে আরো ইঙ্গিত দেয় শিকারীর দল আছে হয়তবা কাছে পিঠে বনের এই বিপন্ন আধারে। কবি এর পরের অংশে বর্ননা দেন চঞ্চলা হরিণের দল কিভাবে প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছে-
আজ এই বিস্ময়ের রাতে
তাহাদের প্রেমের সময় আসিয়াছে;
তাহাদের হৃদয়ের বোন
বনের আড়াল থেকে তাহাদের ডাকিতেছে
জোছনায় –
পিপাসার সন্ত্বনায় — অঘ্রাণে — আস্বাদে!
কোথাও বাঘের পাড়া বনে আজ নাই আর যেন!
তাহাদের হৃদয়ের বোন অর্থাৎ ঘাই হরিণীর দল ডেকে যাচ্ছে শুধু ফালগুনের এই সোনালি রাতে ঘাই হরিণের দলকে। বাঘের দল এখন অনুপস্থিত, সম্ভবত অনুপস্থিত স্বজাতির হাতে স্বজাতির বিনাশ রচনার এক মর্মান্তিক খেলা দেখবার জন্য।
একে একে হরিণেরা আসিতেছে গভীর বনের পথ ছেড়ে,
সকল জলের শব্দ পিছে ফেলে অন্য এক আশ্বাসের খোঁজে
দাঁতের — নখের কথা ভূলে গিয়ে তাদের বোনের কাছে অই
সুন্দরী গাছের নীচে — জোছনায়!
বনপথ ছেড়ে ঘাইমৃগীর সাথে মৈথুনে লিপ্ত হতে আসা মৃগের দল জলের শব্দ পিছে ফেলে আসে সুন্দরী গাছের নীচে। কবিতাটি স্পষ্ট আমাদের নিয়ে যায় তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বিস্তৃত সুন্দরবন অঞ্চলে, যেখানে অসংখ্য খালে বিলে নদীতে ছেয়ে আছে বিপুলা বনাঞ্চল যার ক্রোড়ে খেলা করে অদ্ভুত এক শ্বাসমূলীয় উদ্ভিদ-সুন্দরী । কথক পদশব্দ পেতে থাকেন, চারিদিকে অসহ্য আওয়াজ, সে আওয়াজ মৃত্যুর, অন্ধকারে তবু কিছু আশা ছিল, কিছু কল্পনা ছিল, সকাল হতেই, ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় ঘাইহরিণীর পাশে মৃত মৃগের সারি।
চাঁদের আলোয় ঘাইহরিণি আবার ডাকে;
এইখানে পড়ে থেকে একা একা
আমার হৃদয়ে এক অবসাদ জমে ওঠে
বন্দুকের শব্দ শুনে শুনে
হরিণীর ডাক শুনে শুনে।
কাল মৃগী আসিবে ফিরিয়া;
সকালে — আলোয় তারে দেখা যাবে –
পাশে তার মৃত সব প্রেমিকেরা পড়ে আছে।
কথকের ভূমিকা পাঠকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দেখা দেয় এইবারে।পাতে আসা হরিণের মাংস তিনি আরাম করে খান, অথচ এর আগে মনে হয়েছিল তিনি ক্যাম্পে এসেছিলেন বিহারে। যেখানে তিনি শিকারীর শিকারের নীরব দর্শক। প্রথমাংশে ক্যাম্প ফেলিয়াছির পরে শিকারীদের সাথে তিনি ছিলেন কিনা এ ব্যাপারটি স্পষ্ট নয়
আমার খাবার ডিশে হরিণের মাংসের ঘ্রাণ আমি পাব,
মাংস খাওয়া হল তবু শেষ?
কেন শেষ হবে?
কেন এই মৃগদের কথা ভেবে ব্যথা পেতে হবে
তাদের মতন নই আমিও কি?
কথক চরিত্রটি ধরে নেয়া যায় সময়ের একটা প্রতিভূ, যাকে নৈতিক অনৈতিক সব রকম কাজের শুধু দর্শক হতে হয়, দেখে যেতে হয় পরাজিত মানবতার বিপন্নতা, ক্রম অবক্ষয়। কবিতার বাঁক এখানেই বদলে যায় আশ্চর্য রূপে যখন কথক প্রশ্ন করেন তাদের মতন নই আমিও কি ? কথক নিজেকেই প্রশ্ন করছে যে প্রশ্নের অসীম উত্তরের সবটুকুই তার জানা, কিন্তু মাঝে মাঝে অজানা হয়ে ধরা দেয়। চিতার চোখের ভয়, পৃথিবীর সব হিংসা ভোলা সাহসী মৃগশাবক ধরা দিতে চায়নি কি ঘাইহরিণীর মায়াজালে ?
আমার হৃদয় — এক পুরুষহরিণ –
পৃথিবীর সব হিংসা ভুলে গিয়ে
চিতার চোখের ভয় — চমকের কথা সব পিছে ফেলে রেখে
তোমারে কি চায় নাই ধরা দিতে?
এ্ই পঙতিগুলোর পরের পঙতিতেই ফুটে ওঠে না পাওয়ার বোধ। যখন বুকের আড়শিতে জমাট হয়ে থাকা রক্তধারার মত উৎসরিত প্রেম মিশে যায় ধূলোয়, মৃত মৃগদের মতন। পরমুহূর্তেই কবির অন্তিম কৌতুহল আমাদের চিরন্তন মানবিক বোধটাকেই তুলে ধরে। নিজের বিনাশ মাঝে মাঝে তুচ্ছ মনে হয় যখন হৃদয়ের বোনের বেঁচে থাকাটা অনেক বড় অর্থ বহন করে।
আমার বুকের প্রেম ঐ মৃত মৃগদের মতো
যখন ধূলায় রক্তে মিশে গেছে
এই হরিণীর মতো তুমি বেঁচেছিল নাকি
জীবনের বিস্ময়ের রাতে
কোনো এক বসন্তের রাতে?
জীবনের বিস্ময় নিয়ে বেঁচে থাকা কোন প্রলোভন জাগানিয়া ঘাইহরিণীর মত এক সুররমনীর ভাবনা ভাবতে ভাবতে সময়ের অতলান্তে ডুব দেয় সমস্ত বনানী, নিস্পৃহ কথক, মৃত মৃগের দল, এমনকি দোনলা রাইফেলে যারা কিনে নেয় জীবন কেড়ে নেবার বিমূর্ততার ভীষণ অধিকার। কবিতা শেষ হয় আমাদের অন্তরের রক্তক্ষরণের শাশ্বত চিত্র তুলে ধরে।
ক্যম্পের বিছানায় রাত তার অন্য এক কথা বলে;
যাহাদের দোনলার মুখে আজ হরিণেরা মরে যায়
হরিণের মাংস হাড় স্বাদ তৃপ্তি নিয়ে এল যাহাদের ডিশে
তাহারাও তোমার মতন –
ক্যাম্পের বিছানায় শুয়ে থেকে শুকাতেছে তাদের ও হৃদয়
কথা ভেবে — কথা ভেবে — ভেবে।
জীবনবাবু একটি বিশেষ প্রেক্ষিতে ( পরবর্তী অংশে দ্রষ্টব্য ) এই কবিতাটি বিষয়ে কিছু মতামত রেখেছিলেন। সেখান থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করছি
যদি কোন একমাত্র স্থির নিষ্কম্প সুর এই কবিতাটিতে থেকে থাকে তবে তা জীবনের-মানুষের-কীট-ফড়িঙের সবার জীবনেরই নি:সঙ্গতার সুর। সৃষ্টির হাতে আমরা ঢের নি:সহায়- ক্যাম্পে কবিতাটির ইঙ্গিত এই; এইমাত্র।
যথার্থ অর্থেই কবিতার মূল সুর তাই। কবিতাটি আমাদের জানান দেয় আমাদের এই যে যাবতীয় অজাচার, প্রেমের অস্ফুট প্রকাশ, বেদনার নানামাত্রিক দ্বন্দ্ব সব কিছুর শেষ কথা সার্বজনীনতা। যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের, কীটের, বন বেড়ালের সে জীবনের ছায়া মানবের মাঝেও বিদ্যমান।
এই ব্যথা এই প্রেম সব দিকে রয়ে গেছে –
কোথাও ফড়িঙে — কীটে, মানুষের বুকের ভিতরে,
আমাদের সবের জীবনে।
বসন্তের জোছনায় অই মৃত মৃগদের মতো
আমরা সবাই।
কবিতাটি বিষয়ে নাতিদীর্ঘ আলোচনা হল। এবারে কবিতাটি প্রকাশের পরে সমকালে কবি, সমালোচক এবং পাঠকের সমালোচনা বিষয়ে আলোকপাত করা যাক-
* সজনীকান্ত দাশ ১৯৩১ এর সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বের হওয়া (মাঝে বন্ধ হযে গিয়েছিল) শনিবারের চিঠিতে কবিতাটির সমালোচনা করে বিস্তর লেখেন। তিনি লেখেন-
কবিতাচ্ছলে কবি যে বিরহিনী ঘাইহরিনীর আত্নকথা ও তাহার হৃদতুতো দা'র মর্মকথা কহিয়াছেন তাহা পরম রমনীয় হইয়াছে। ....
বস্তুত ঘাই হরিণী শব্দটার ব্যাবহারে তার কাছে কবিতাটিকে ভীষণ অশ্লীল মনে হয় এবং তিনি ঘাই হরিণী শব্দটিকে যৌন প্রলোভন হিসেবে নেন। এর পরবর্তীতে হৃদয়ের বোন শব্দটি ব্যবহার নিয়েও তিনি কবিকে কটাক্ষ করেন।
বনের যাবতীয় ঘাই-হরিণকে 'তাহাদের হৃদয়ের বোন' ঘাই-হরিনী অঘ্রাণ ও আস্বাদে'র দ্বারা তাহার পিপাসার সান্তনা'র জন্য ডাকিতেছে। পিসতুতো, মাসতুতো ভাইবোনদের আমরা চিনি। হৃদতুতো বোনের সাক্ষাৎ এই প্রথম পাইলাম।...
মৃগীর মুখের রূপে হয়ত চিতারও বুকে জেগেছে বিষ্ময়!
লালসা-আকাঙ্খা-সাধ-প্রেম-স্বপ্ন স্ফুট হয়ে উঠিতেছে সব দিকে
আজ এই বসন্তের রাতে
এইখানে আমার নকটার্ন-।
এতক্ষণ পরে বুঝিলাম কবিতার নাম ক্যাম্পে হইল কেন! যাহাই হউক নকটার্ন শব্দের পরে ড্যাস মারিয়া কবি তাহার নৈশ রহস্যের সরস ইতিহাসটুকু চাপিয়া গিয়া আমাদিগকে নিরাশ করিয়াছেন। ...
বাস্তবিক অর্থে কবিতার সমালোচনা করতে এসে সজনীকান্ত সকল ভব্যতা এবং সাহিত্যিক শ্লীলতাকে অতিক্রম করে ইতর শ্রেনীর আক্ষরিক পাঠ দ্বারা কবিতাটির সমালোচনা করেন। আরেক অংশে সজনী পরিচয় এর মত উচ্চশ্রেনীর পত্রিকা, যাতে রবীন্দ্রনাথ, হীরেন্দ্রনাথের লেখা ছাপা হয় সেখানে এরূপ অশ্লীল কবিতা কিরূপে ছাপা হয় এই প্রশ্ন তোলেন। ক্যাম্পে কবিতাটি তার মতে, পরিচয়ের অশ্লীলতা চর্চার চূড়ান্ত নমুনা।
প্রকৃতপক্ষে সজনীকান্তের মত ২য় শ্রেনীর কাব্য সমালোচকের দ্বারা বাংলা কাব্য ধারার বাঁক বদলকারী কবিতার এমন রূঢ় সমালোচনা হবে এটা স্বাভাবিক ভাবেই ধরে নেয়া যায়। এই কবিতায় তিনি এমনকি সুন্দরী গাছের কথাকে উল্লেখ করে কবিকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, কবির তন্ময়তায় না হয় গাছও সুন্দরী হইল !! (তিনি সুন্দরবনের এই সুন্দরী গাছের কথা জানতেন না)। তার পত্রিকায় জীবাননন্দের নাম বিকৃত করে ছাপতেন, লিখতেন জীবানন্দ। জীবনানন্দকে কবি গন্ডার বলে ডাকতেন। এছাড়াও তাকে বর্নবাদ মূলক বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে প্রায়ই। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের লেখক কবিদের লেখাকে তিনি তাচ্ছিল্য করতেন পূর্ববঙ্গীয় সাহিত্য বলে। তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন,
এই সাহিত্যের স্পেন্সার হইতেছেন ভাওয়ালের কবি গোবিন্দ দাস, ব্রাউন-কালীপ্রসন্ন ঘোষ, বিদ্যাসাগর এবং হু্ইটম্যান- শ্রী জীবানন্দ (লক্ষ্যনীয় কবির নাম বিকৃতি)দাশগুপ্ত; ইহার ম্যাথু আর্নল্ড ও ওয়াল্টার পেটার যথাক্রমে শ্রীমান বুদ্ধদেব বসু ও শ্রীমান অজিতকুমার দত্ত।
* কবিতাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কাছেও কিছুটা অগ্রহনযোগ্য মনে হয়েছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সুধীন দত্তের কাছে বলেন, জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কোন স্টাইল নেই, আছে পাচমিশালী ভাব।প্রকৃতপক্ষে বাংলা কাব্যজগতে রবীন্দ্রনাথের সমকালীন আর কোন কবি লেখকই তাদের আঙ্গিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেক রবীন্দ্রনাথের থেকে এত বেশি পৃথক ছিলেন না। সেই ক্ষেত্রে চিরকালনীন রোম্যান্টিসিজম ও আধ্যাত্ববাদের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনানন্দ দাশের মানবের চিরন্তন বিপন্নতা এবং না পাওয়ার বোধে নুব্জ স্যুরিয়ালিস্টিক কবিতাটি ভাল না লাগাটাই ছিল স্বাভাবিক।
বিরূপ সমালোচনায় অতিষ্ঠ হয়ে জীবনানন্দ প্রথম বারের মত তার কবিতার সমালোচনা বিষয়ে কলম ধরলেন। যদিও এই প্রতিক্রিয়াটি জীবনানন্দের স্বভাব সুলভ আচরণের কারণেই প্রকাশ পায়নি তার জীবদ্দশায়। পরবর্তীতে জীবনানন্দ অনুগ্রাহী কবি ভূমেন্দ্র গুহর কাছে লেখাটি ছিল। তিনি সেটি শতভিষা পত্রিকার ১৩৮১ সংখ্যায় প্রকাশ করেন।
আমার ক্যাম্পে কবিতাটি সম্বন্ধে দু একটা কথা বলা দরকার বলে মনে করি। কবিতাটি যখন শেষ হয় তখন মনে হয়েছিল সহজ শব্দে-শাদা ভাষায় লিখেছি বটে, কিন্তু তবুও কবিতাটি অনেকে বুঝবে না। বাস্তবিকই ক্যাম্পে কবিতাটির মানে অনেকের কাছে এতই দুর্বোধ্য রয়ে গেছে যে এ কবিতাটিকে তার নির্বিবাদে অশ্লীল বলে মনে করেছেন।
কিন্তু তবুও ক্যাম্পে কবিতাটি অশ্লীল নয়। যদি কোন একমাত্র স্থির নিষ্কম্প সুর এই কবিতাটিতে থেকে থাকে তবে তা জীবনের-মানুষের-কীট-ফড়িঙের সবার জীবনেরই নি:সঙ্গতার সুর। সৃষ্টির হাতে আমরা ঢের নি:সহায়- ক্যাম্পে কবিতাটির ইঙ্গিত এই; এইমাত্র। কবিতাটির এই সুর শিকারী, শিকার, হিংসা এবং প্রলোভনে ভুলিয়ে যে হিসা সফল-পৃথিবীর এই সব ব্যবহারে বিরক্ত তত নয়- বিষণ্ন যতখানি; বিষণ্ন নিরাশ্রয়অ ক্যাম্পে কবিতায় কবির মনে হয়েছে তবু যে স্থুল হরিণ শিকারীই শুধু প্রলোভনে ভুলিয়ে হিংসার আড়ম্বর জাকাচ্ছে না, সৃষ্টিই তেমন এক শিকারী, আমাদের সকলের জীবন নিয়েই যেন তার সকল শিকার চলছে; প্রেম-প্রাণ-স্বপ্নের একটা ওলট পালট ধ্বংসের নিরবচ্ছিন্ন আয়োজন যেন সবদিকে: king lear এর 'As this to wanton toys are we to the gods, they kill us for their sport' এই আয়োজন।
বাংলা সাহিত্যে-অন্তত কাব্যে এ সুর-ক্যাম্পে কবিতাটির এই পবিত্র কঠিন নিরাশ্রয়তার সুর: 'জোৎস্নায় ওই মৃত মৃগদের মত আমরা সবাই'- এই সুর আগে এসেছে কিনা জানিনা। অন্তত: এ সুরের সঙ্গে চলতি বাঙালী পাঠক ও লেখক যে খুব কম পরিচিত তা নি:সঙ্কোচে বলা যেতে পারে। যে জিনিস অভ্যস্থ বুদ্ধি বিচার কল্পনাকে আঘাত করে-যা পরিচিত নয় তার অপরাধ ঢের। কিন্তু তবুও অশ্লীলতার দোষে ক্যাম্পে কবিতাটি সবচেয়ে কম অপরাধী। ইংরেজী, জার্মান বা ফ্রেঞ্চ এ কবিতাটি অনুবাদ করে যদি বিদেশী literacy circle - এ পাঠানো হ'ত তাহলে এ কবিতাটির কিরকম সমালোচনা হ'ত ধারনা করতে পারা যায়; ক্যাম্পে কবিতাটির যে সুরের কথা আমি ইতিপূর্বে বলেছি তাই নিয়ে বিশ্লেষণ চলত। দু একটি prurient মন ছাড়া এ কবিতাটির ভিতর থেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় খোরাক খুজে বার করবার অবাধ শক্তি যাদের রয়েছে;এই তাদের একমাত্র শক্তি, এই prurience-র কাছে ক্যাম্পে অশ্লীল- আকাশের নক্ষত্রও শ্লীল নয়। শেলীর 'souls' 'sisters' পাশ্চাত্য কবি ও সমালোচক ও পাঠকদের গভীর আদরের expression কিন্তু হৃদয়ের বোন (এই expressionটির জন্য আমি শেলীর কাছে ঋণী )- এই শব্দ দুটি prurient অন্ত:করণকে শুধু বুঝতে দেয় যে সে কত prurient-তার ভিতরে অন্য কোন চেতনা জাগায় না। Muteykeh (একটি ঘোটকী) সম্বন্ধে browning বলেছেন, 'She was the child of his heart by day, the wife of his breast by night,' না জানি browning সম্বন্ধে prurience কি বলত।
কিন্তু বাংলাদেশে সজনে গাছ ছাড়া যে আরো ঢের গাছ আছে- সুন্দরী গাছ বাংলার বিশাল সুন্দর-বন ছেয়ে রয়েছে যে সজনের কাছে তা অবিদিত থাকতে পারে- prurience এর কাছে প্রকৃত সমালোচকের অন্তরাত্মা যেমন চিরকালই অজ্ঞাত, অনাবিষ্কৃত।
বাংলাদেশের সব কবিই এই ১৯৩২ সালে কলেজীয় কবিতা যুদ্ধের naivete-র ভিতর রয়ে যায় নি। কিন্তু হায়, যদি তেমন হ'য়ে থাকতে পারা যেত। সহজ সরল বোধ নিয়ে সুসাধ্য-সুগম পথে চিন্তালেশশূণ্যতার অপরূপ উল্লাসে জীবন কত মজারই না হ'ত তাহ'লে।
বুদ্ধদেব বসু এই বিষয়টির (সজনীকান্তের ক্রমাগত সমালোচনা) অনিবার্য ফল হিসেবে জীবনানন্দের কলকাতা সিটি কলেজ থেকে চাকরি যাবার কথা লেখেন। এই বিষয় নিয়ে কলকাতার দেশ পত্রিকায় (১৯৬৮ সালে)তিনি একটি নাটিকা লেখেন যেখানে একজন লেখক এবং একজন অধ্যাপক আলোচনা করছেন জীবনানন্দের চাকরি যাবার কারণ নিয়ে, যার উত্তর লুকিয়ে আছে ঘাইহরিণীতে।
তিনি আরো এক জায়গায় লেখেন, এ কথাটি এখন আর অপ্রকাশ্য নেই যে, পরিচয়ে প্রকাশের পরে ক্যাম্পে কবিতাটির সম্বন্ধে অশ্লীলতার নির্বোধ ও দুর্বোধ্য অভিযোগ এমন ভাবে রাষ্ট্র হয়েছিল যে কলকাতার কোন এক কলেজের শুচিবায়ুগ্রস্ত অধ্যক্ষ তাঁকে অধ্যাপনা থেকে অপসারিত করে দেন (কবিতা পৌষ, ১৩৬১)
বুদ্ধদেব বসু যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কেননা কলকাতা সিটি কলেজ থেকে তিনি অপসারিত হন ১৯২৮ সালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতে। আর ক্যাম্পে কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। যাই হোক ক্যাম্পে কবিতার বিষয়ে তৎকালে এই প্রবল সমালোচনায় বিরক্ত হয়েই হোক, কিংবা তৎকালীন লেখক সমাজের প্রতি অভিমান বশতই হোক, কিংবা নিজের সাহিত্য কীর্তির সামর্থ্য বিষয়ে সন্দিহান হয়েই হোক, ১৯৩৫ সালে বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং সমর সেন সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকাটি বের হবার আগে লেখা আর পত্রিকায় ছাপতে দেননি। এ সময়ে কল্লোল, প্রগতি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আপন মনে নিভৃতে লিখে গেছেন এই নির্জনতার চাষী বিষাদ লিরিকের জন্মদাতা শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশ।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:০৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: একটু দীর্ঘ। সময় নিয়ে পড়বেন। আশা করি ভাল লাগবে।
খুব দীর্ঘ করেছি যাতে খুব সরল থাকে।
২|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:২০
ঈষাম বলেছেন: অনেক বড়! সেভ করে রাখলাম ![]()
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:২৩
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আচ্ছা ভাইয়া
কেমন লাগল জানাবে
৩|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:০৩
ফারিয়া বলেছেন: পুরোটা পড়িনি, তবে ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে লেখাটা!
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:০৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হুমম সময় নিয়ে পড়তে হবে।
যথাসম্ভব ডিটেল লিখতে চেষ্টা করেছি
৪|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:২৪
মুনসী১৬১২ বলেছেন: জীবনানন্দ দা বস পাবলিক--
অনেক কিছু জানলাম....
নতুন সৃষ্টি জীবিত সময়ে সর্বদাই তার সৌন্দর্য বুঝাতে ব্যর্থ হয় - ইতিহাস তাই বলে
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:২৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: সেইটিই সব সময়ে দেখে আসছি।
তার পরেও জীবনবাবুর চর্চা প্রতিদিনই বাড়ছে।
শুধুমাত্র কবিতায় রবীন্দ্রনাথের পরে জীবনানন্দের নামই তোলা চলে, ক্ষেত্র বিশেষে তিনি রবীন্দ্রনাথকেও ছাপিয়ে গেছেন
৫|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০২
মিরাজ is বলেছেন: প্রিয় জীবনানন্দ!! প্রিয় কবিতা।
আলোচনা ভালো হয়েছে তবে বেশি সাহিত্যিক হয়ে গেছে। আপনার নিজের ব্যখ্যায় জোর দিলে বেশি ভালো লাগতো।
সমালোচকরা হারিয়ে যায় জীবনানন্দরা বেঁচে থাকে।
ভালো লাগা রইলো।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: উপরে তো আমি কবিতার ব্যাখ্যা যথাসম্ভব আমার মত করেই দিয়েছি।
পরবর্তীতে সমালোচনা এবং বাকিদের মতামতটা দিয়েছি।
মনে হয় ঠিকই আছে মিরাজ।
ভাল বলেছ - সমালোচকরা হারিয়ে যায় জীবনানন্দরা বেঁচে থাকে
৬|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৭:১১
কালীদাস বলেছেন: চতুরমাত্রিকে লেখেন?
পোস্ট ভাল হয়েছে
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:৫০
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হুমম লিখি মাঝে মাঝে
আপনি কি এই ব্লগে আবারো নিয়মিত হচ্ছেন ?
৭|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:৫২
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: আলোচনাটি ভালো লেগেছে। সব চেয়ে ভালো হয়েছে পুরো কবিতা তুলে ধরায়। পাঠক কবিতাটি পড়ে আপনার বা অন্য সমালোজকের মতামত নিজের বিবেচনা দিয়ে যাচাই করে নিতে পারবেন। পারবেন নিজের মত তৈরী করতে। শ্রমঘন লেখার জন্য ধন্যবাদ।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:৫৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল ভাই।
আপনার ভাল লাগল জেনে সুখি হলাম
ভাল থাকবেন
৮|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:১৬
বৃষ্টিধারা বলেছেন: পড়তে বসছিলাম, মেয়ে জ্বালাচ্ছে ।
পরে পড়ব । খুঁজে পাওয়ার জন্য কমেন্ট করে গেলাম ।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:২৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আচ্ছা ঠিক আছে বৃষ্টি।
ভাল থাক
৯|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৩২
সায়েম মুন বলেছেন: বরাবরের মত চমৎকার বিশ্লেষণী পোষ্ট। অনেক ভাল লাগলো।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৪৫
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় মুন ভাইয়া
১০|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৫২
রেজোওয়ানা বলেছেন: এটার একটা সমালোচনা পড়েছিলাম, মনে হয় "যামিনী" নামের একটা আর্ট বিষয়ক ইন্ডিয়ান পত্রিকায়!
লেখাটা পড়ে শেষ করতে পারলাম না,
আবার দেখবো!
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৫
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: এটা নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে।
পড়া শেষ হলে জানাবেন কেমন লাগল
১১|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:০৪
কালীদাস বলেছেন: আমি কি অনিয়মিত ছিলাম কখনো? নিয়মিত ডুব মারা/ফিরে আসার মাঝেই তো থাকি![]()
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:২২
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: তাইতো !!
বিরাট ভুল করে ফেলেছি
যাক এরকম ডুবে ভেসে ওঠা একটু বাড়লেই ভাল হবে
১২|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:২৫
শিপু ভাই বলেছেন:
হয়রান হইয়া গেলাম!!! শেষ কর্তে পারলাম না।
লেখা বরাবরের মতই ভাল হইছে।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৪১
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আহারে তানিম বলগারগো কত কষ্ট দেয় রে !!
লন পানি খান
১৩|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৩১
বেঈমান আমি বলেছেন: কত বড় লেখা রে
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৪১
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হে হে
আপনার ছবির হাসিটা তো ছোট্ট
১৪|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৫৫
ডলুপূত্র বলেছেন: বাহ বাহ
Click This Link
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:০৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ
১৫|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:৩০
~মাইনাচ~ বলেছেন: অর্ধেক পড়লাম (যা সত্যি) বাপরে কিভাবে লেখে এত্তসব?? মনেইবা রাখেন কি করে???
পানি দেন , শিপু ভাইয়ের মতো :-<
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:০৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: শিপু ভাই এক বোতল সব খাইছে, আর নাই
এই লন
১৬|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৩৪
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মাথা ব্যথা। ভেবেছিলাম শীঘ্র শুয়ে পড়বো, এবং এ লেখাটা আগামী রাতে পড়বো। কিন্তু পড়া শুরু করে শেষ না করে আর ওঠা গেলো না। সমালোচনা সাহিত্য আমার প্রিয়তম বিষয়গুলোর একটি।
আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আপনার বিশ্লেষণী ক্ষমতা ভালো।
শুভ কামনা।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৪৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অনেক ভাল লাগল আপনার কমেন্ট পড়ে।
আপনাদের ভাল লাগাই আমার প্রেরণা
১৭|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:০০
অক্টোপাস পল বলেছেন: যাপিত জীবনের মতোই জীবনানন্দ অন্তর্মুখী তাঁর কবিতায়ও। প্রিয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:১০
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ তোমাকে
ভাল থাকা হোক
১৮|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৪:৫৩
ফারিয়া বলেছেন: পুরোটা পড়ে বলতে হবে অতি অসাধারন ভাইয়া!
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:৩৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ফারিয়া
১৯|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:০২
নির্জন আমি বলেছেন: আপনার এমন পোস্ট দেওয়া ঠিক আছে। কবিতা লিখে কি হয়। জীবনানন্দের পরে বাংলাদেশের সেরা কবি নিশাচর ভবঘুরে আপনার কবিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, সুতরাং, আপনার কি হবে গো ?
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:১৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: তাইতো !! ভাই আমার এখন কি হবে গো ?
ইতিমধ্যে জীবনানন্দ পরবর্তী যুগের তিন তিনজন সেরা কবি আমাকে অকবি বলে ঘোষনা দিয়ে ফেলেছেন, যাদের মধ্যে উজ্জলতম আবার উনি। এখন আমি কই যাই ?
যাক গে জীবনানন্দ পরবর্তী আরো যত বড় বড় কবি আছে তারা যদি সবাই আমাকে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করে তবে কেঁদেই ভেগে যেতে হবে
২০|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:৩২
মাইনাস এইটিন_পন্ডিত বলেছেন: শুধু এটুকু বলি- লেখা খুব ভালো লেগেছে। এতো কঠিন লেখা ভালো লাগার কোন কারণ নাই, তাও ভালো লেগেছে।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:৪১
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনিও বুয়েটিয়ান জেনে ভীষণ ভাল লাগছে। আপনি বোধহয় আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র হবেন।
আমি ২০০৫ ব্যাচ আপনি ?
২১|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:০৮
মাইনাস এইটিন_পন্ডিত বলেছেন: বুয়েট ০২ ব্যাচ। তবে আমি বুয়েটে কন্টিনিউ করিনি। যন্ত্রকৌশলের যান্ত্রিকতা ভালো লাগছিল না। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইছি কম্পু-কৌশলে।
আপনাকে ফেবুতে এড দিছি কয়েকদিন আগে। চিনতে পারছেন?
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৪:০৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ওহ আচ্ছা, বুয়েটে কন্টিনিউ করেননি !
আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।
কি করে পারব, একটু মেসেজ দিয়েন
২২|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:২৯
সমানুপাতিক বলেছেন: আপনার Practical Criticism খুব ভাল লাগল। আমার পছন্দের কবিদের অন্যতম একজন জীবনানন্দ। আরো লিখবেন আশা করছি।
০৮ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৪:০৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি আরো লিখব আশা রাখছি
২৩|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৩৭
অনুপম হাসান বলেছেন: কবিতা সম্বন্ধে আপনার পাণ্ডিত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এখানে ক্যাম্পে কবিতার যে বিশ্লেষণ করেছেন তা নিঃসন্দেহে মনোজ্ঞ এবং তথ্য-উপাত্ত সংবলিত। যেকোনো টেক্স ডিকন্সট্রাকশন পাঠক ভেদে ভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি হতেই পারে। সামগ্রিকভাবে আপনার এ আলোচনার সাথে মতদ্বৈততার সেই অর্থে সুযোগ নেই। তবে আলোচনার শুরুতে আপনার একটি বক্তব্য আমাকে বেশ খানিকটা ভাবিয়েছে 'বলা চলে বাংলা কাব্যের আধুনিকতম কবি তিনি' আপনার একথার অর্থ ঠিক আমার কাছে বোধগম্য হয় নি। 'বলা চলে' কথা দ্বারা যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে অনুমিত হয় আপনি জীবনানন্দ দাশকে আধুনিকতম কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন! আসলে ব্যাপারটি মোটেই তা নয়, তিনি আধুনিক কবি এবং সমকালের বিবেচনায় আধুনিকতম কবিও বটে।
ভালো থাকবেন...
০৯ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:১৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: চমৎকার মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।
বলা চলে কথাটা যদিও বলেছি, তথাপি আমি নিজেও বিশ্বাস করি জীবনবাবু ভীষণ আধুনিক, তার সময়ের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
খুব ভাল লাগল আপনার কমেন্ট
২৪|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৯:৩৩
গাধা মানব বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ।
তবে কিঞ্চিত বড় হয়ে গেছে। :!> :!>
০৯ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:১৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: একটু বড় হয়ত
কবিতাটাই তো দীর্ঘ। এটাই জায়গা নিয়ে নিয়েছে
২৫|
০৯ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৪১
শাহেদ খান বলেছেন: দারুণ পোস্ট তানিম ! চমৎকার লিখেছো ! +++
আমি এখানে অনেকের অনেক আলোচনা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
তবে একটা ব্যাপার বুঝিনা। পোস্টের শেষে লিখেছো, "কলকাতা সিটি কলেজ থেকে তিনি অপসারিত হন ১৯২৮ সালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতে। আর ক্যাম্পে কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।" (এই পোস্ট দেখার আগে 'ক্যাম্পে' কবিতার প্রকাশকাল আমি জানতাম না)
অথচ বুদ্ধদেব বসু ছাড়াও আরও ক'জন এটাকেই কবি'র চাকরিচ্যুতি'র কারণ হিসেবে দেখেন:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখেছেন:
অশ্লীলতার অপবাদে তার চাকরিটি কেড়ে নেয়। যতদূর দেখতে পাই, অশ্লীলতার হাড়িকাঠে জীবনানন্দই প্রথম বলি।
[কল্লোল যুগ]
সুকুমার সেন বলেন:
"কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে তাঁহার কোন কোন কবিতার ভাব সুরুচির গন্ডি উল্লঙ্ঘন করায় তাঁহার কর্মচ্যুতি হয়"
[বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, চতুর্থ খন্ড]
বিতর্কিত এই কবিতা'র প্রকাশ যে চাকরিচ্যুতির অনেক পরে - এ ব্যাপারটা তাঁদের মত গবেষকদের কারও মাথায় কেন আসলো না, ব্যাপারটা আমার কিছুতেই পরিষ্কার হয় না !
জীবনানন্দের মত মানুষ এই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করবেন, তা আশা করাও অনুচিৎ। তবে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষেরও কোনও কথা শোনা কি যায়নি এবিষয়ে পরে?
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:০৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়া, চমৎকার কমেন্টের জন্য।
আমি ঠিক জানিনা এত বড় বড় সাহিত্যিকেরা সবাই এই ভুলটি কেন করেছেন। এর একটা কারণ হতে পারে জীবনানন্দ বেকার ছিলেন দীর্ঘদিন। ১৯৩৫ সালে চাকরি পুন:প্রাপ্তির আগে তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত বরিশালে ছিলেন। এ সময়ে তিনি একেবারেই কোলকাতামুখো হননি। হয়ত একারণে কোলকাতার এসব লেখকদের ভুল হয়ে থাকতে পারে।
আর উনার চাকুরিচ্যুতির পিছনে কি কারণ সেইটা আমি একটু ব্যাখ্যা করি
কলকাতা সিটি কলেজ মূলত ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠিত। এই কলেজের রামমোহন রায় ছাত্রাবাসে সব ধর্মের ছাত্ররা থাকলেও শুধু মাত্র রবিবাসরীয় প্রাত্যূষিক বক্তৃতা ছাড়া কোন ধর্মীয় আচার বা মূর্তিপূজো কলেজ প্রাঙ্গনে নিষিদ্ধ ছিল।
বিশের দশকের শেষের দিকে (জীবনবাবু চাকুরিচ্যুত হন ১৯২৮ সালে) কলেজের ছাত্ররা সরস্বতী পূজো করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের বাধায় ছাত্ররা ফুসে ওঠে। প্রবল বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পুজো হয়। কিন্তু সিটি কলেজের বিষয়ে সমাজে একটা বাজে ধারণা গড়ে ওঠে।
যার কারণে ১৯২৮ সালে ছাত্র ভর্তি অর্ধেক হ্রাস পায়। এর ফলে ব্যয় কমাতে শিক্ষক ছাটাই করা হয়। যাতে এগারো জন শিক্ষকের সাথে জীবনবাবু চাকরি হারান।
২৬|
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৪৬
নীরব 009 বলেছেন: কঠিন আলোচনা। আবার পড়ে যাব একসময়। এখন যাই একটা এক্সাম আছে কালকে। এই কঠিন কঠিন কথাগুলো দেখে গেলাম। পরে এসে আত্মস্থ করবো।
দারুণ পোস্ট। ১৫তম ভাললাগা। এত্ত পড়িস কেন তুই?
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৫৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হা হা
তোরা তো এক্সামের পড়া পড়তে পড়তে কাহিল। আমি তো আর পড়ালেখা করি না তাই যতটুকু সময় পাই এইসব পড়েই সময় কাটাই। আর লেখবার চেষ্টা করছি।
২৭|
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৩৫
কল্পবিলাসী স্বপ্ন বলেছেন: কবিতা আমার সবসময় ভালো লাগে , সেজন্যই কবিদের শ্রদ্ধা করি । কিন্তু আমার নিজস্ব সীমাবদ্ধতার জন্যই কখনো , তাদের কাটা ছেড়া করতে পারি না । আপনি কবি তাই হয়তো করেছেন । আপনার কস্টসাধ্য এই পোস্টের মূল্যায়নের জন্য , আমার "ভালো লাগলো" বাটনটায় ক্লিক করা , হয়তোবা যথেস্ট না । কিন্তু এরবেশী কিছু আমি করতে পারবোনা।
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৩৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অনেক ভাল লাগল আপনার কমেন্ট।
আমার কাক ও কবি বিষয়ক স্টাটাসে আপনার কমেন্ট পেয়ে বুঝেছিলাম কবিতা বিষয়ে আপনার আগ্রহের বিষয়টি।
কবিতার ভিতরে সৌন্দর্য্য বোঝার অধিকার সবারই আছে। যদিও তার শাড়িসজ্জা কি করে খুলতে হয় আমরা জানিনা কেউই। পৃথিবীর কোন কবিই বলতে পারবেন না যে কবিতার সবটুকু তিনি বোঝেন, বরং আমি বলব যিনি সব বোঝেন তিনি সবচেয়ে বড় অকবি।
তাই এই না বোঝাকেই ভাঙতে থাকি আমরা আমাদের মতন করে। দেখি না কি হয় !!
ভাল থাকুন
২৮|
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:১৪
জীবনানন্দদাশের ছায়া বলেছেন:
জীবনানন্দের ক্যাম্পে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি কবিতা। কবিতা পরে আমার মনে হয়েছে কি নিঃসংগ, রিক্ত, প্রতারিত একজন একজন মানুষের বয়ান।
লেখা চমৎকার হয়েছে। যদিও অনেক বেশি একাডেমিক বলে মনে হচ্ছে। বাংলা সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেন যারা তাদের কাছে নিশ্চই আরো বেশি কমিউনিকেটিভ মনে হবে।
লেখা পড়ে আপনাকেতো পুরো দস্তুর সাহিত্যের ছাত্র মনে হচ্ছে। যদিও আমার জানা মতে আমি সায়েন্সের ছাত্র ![]()
১০ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:২৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: জীবনানন্দের ক্যাম্পে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি কবিতা। কবিতা পরে আমার মনে হয়েছে কি নিঃসংগ, রিক্ত, প্রতারিত একজন একজন মানুষের বয়ান।
আমার কাছে ব্যাপারটা একজনের বলে মনে হয় না, আমার কাছে কবিতাটি মনে হয়েছি নিয়তিবাদের এক ভিন্নধর্মী প্রকাশ।
আমরা অবাক তাকাই বিপন্ন বিস্ময়ের এই ফালগুনের আগুনরঙা চাঁদের রাতে। ঘাইহরিণীরা বনান্তের বানী নিয়ে আসে শালবনের প্রান্তে, এই আমাদের কাছে। কবিতারা জাগে, যত শব্দ খুঁজে নেয় নৈ:শব্দের পাখপাখালির দল। আশার দেয়ালি জ্বালা অন্ধকারের এই হাওয়ার রাতটুকু শেষ, সূর্যদীপ্ত সকাল মানে চির অবসান- আমরা পড়ে আছি অই মৃত মৃগের মতন।
জীবনানন্দের ভাষায় বললাম কথাটুকু।
আপনার জানা ঠিকই আছে। আমি ইঠ পাথরের জঞ্জাল কিভাবে গড়তে হয় তাই নিয়ে পড়েছি।
২৯|
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৩৮
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
সকালে সময় নিয়ে আসতে হবে ![]()
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আসলেই তাই
৩০|
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:০৮
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
জীবনানন্দের কবিতার সমালোচক যারা, তারা অনেকটাই হারিয়ে গেছেন।
অনেক কষ্টে নাম মনে করতে হয়।
আর জীবনানন্দ? বাংলা কবিতা যতদিন, ততদিন প্রথম দিকেই তার নাম থাকবে।
শুধু এটুকুই বলা যায়, জীবিতবস্থায় স্বীকৃতি পেলে আমরা হয়তো আরো অনেক কবিতা পেতাম, হয়তো না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে জীবনানন্দ প্রেমী। উনার কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলে আমি কবিতা বুঝতে যাবো না। আমি তার লেখায় বুদ হতেই ভালোবাসি।
পোস্টের বিষয়ের বাইরের কথাবার্তা ই বলে ফেললাম, নিজের পছন্দ নিয়ে।
চমৎকার পোস্ট।
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:৩২
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ভাল বলেছ।
ধন্যবাদ পুনরায় কমেন্টের জন্য
৩১|
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৪:৫৭
লেজকাটা বান্দর বলেছেন: লেখাটার পিছনে অনেক শ্রম ব্যয় করেছেন মনে হচ্ছে। এত ভালো সমালোচনা আসলেই অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। যাই হোক, পড়ে ভালো লাগলো। প্লাস।
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪০
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
সবাই পড়ছেন বলেই আরো এই ধরণের পোস্ট দেবার সাহস পাই।
ভাল থাকবেন
৩২|
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:২৪
নেক্সাস বলেছেন: ভালো লাগলো
লিখাটি
১১ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৪৯
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ নেক্সাস ভাই
৩৩|
১২ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৯:১৯
শব্দহীন জোছনা বলেছেন: আলোচনা গুলা অনেক ভাল হয়েছে।
লোকটা তার কবিতাগুলার মতই রহস্যময়।
১২ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:১৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হয়ত নির্জনতাই রহস্যময়
৩৪|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:১১
তন্ময় ফেরদৌস বলেছেন: এই পোস্ট টা খুব মনযোগ দিয়ে পড়া লাগবে। তাই সেভ করে রাখছি। হতাশার দিক দিয়ে কবির সাথে আমার কিছুটা মিল ছিলো।
শুভ নববর্ষ তানিম ভাই।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:০২
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা ভাইজান।
ভাল থাকেন
৩৫|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:০৪
মাহমুদা সোনিয়া বলেছেন: হুম! পড়লাম!! বিস্তারিত, তথ্য, বিশ্লেষণ গুলো ভালো লাগলো!
অনেক শুভকামনা প্রিয় তানিম। ভালো থাকো।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১২:০৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ
৩৬|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:১২
জুল ভার্ন বলেছেন:
লেখাটা বেস কয়েকবার পড়েছি। অসাধারন সুন্দর রিভিয়্যু! একটা শব্দ বা লাইনও যোগ করার সুযগ পেলামনা!
২১তম ভাল লাগা।
শুভ কামনা।
১৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:০৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাল থাকুন নিরন্তর
৩৭|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:১৪
লেখোয়াড় বলেছেন:
এখন প্রিয়তে নিলাম, পরে পড়ব।
১৮ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:৩৭
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ
৩৮|
১৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৫৩
শহিদুল ইসলাম বলেছেন: প্রিয়তে না নেওয়ার মত কোন উপায় রাখছেন ?
আছেন কেমন তানিম ভাই ?
১৯ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:০৫
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: পোস্ট খারাপ হলেও তুমি নিতে শহীদ।
এটা নিয়ে আমি টেনশনে নাই। নেক্সট এ জীবনবাবুকে নিয়ে কিছু লিখলে উৎসর্গ করা হচ্ছে নতুন লিটল এ্যালেক্স কে
আর আমি আছি অনেক অনেক ভাল। বেশ এনজয় করছি সময়টা। তবে গরম একটু বেশি এই যা
৩৯|
২১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৩৯
অরুদ্ধ সকাল বলেছেন: সমালোচনা - বা আলোচনা করা কঠিন কাজ
মাথায় ঢুকে না। পড়লাম তাই সময় নিয়ে।
২১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:২১
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সকাল। সময় নিয়ে পড়বার জন্যে
৪০|
২৯ শে জুন, ২০১২ ভোর ৪:২৭
সজল শর্মা বলেছেন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ছাত্র যেমন ক্যালকুলাস বুঝার জন্য প্রস্তুত থাকে না, আমার মনে হয়- সে সময়ের সমালোচক ও কাব্যানুরাগী জীবনানন্দ দাশকে বুঝতে সেরকমই প্রস্তুত ছিলেন না। সেটা হয়তো সময়ের অপরিপক্কতা, অথবা বুঝে নেবার। আজকের এই সময়ে, এই কবিতাটি কিন্তু কাব্যানুরাগী কারও অবোধগম্য হবে না।
২৯ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৫৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: একদম ঠিক বলেছেন।
অতিরিক্ত কনর্জাভেটিভ পাঠক তার চেয়েও বেশি কনর্জাভেটিভ সমালোচক
কবিতার বারোটা বাজানোর জন্য যথেষ্ট
৪১|
২৯ শে জুন, ২০১২ ভোর ৪:৪১
শুভঙ্করঃ বলেছেন:
আপাতত ওয়াচে রেখে গেলাম পরে পড়বো।
২৯ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৫৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ঠিক আছে। কেমন লাগল বলে যাবেন
৪২|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৩:৫৯
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন:
তানিম, অনেকক্ষন সময় নিয়ে লিখাটা পড়লাম (জীবনানন্দ রিলেটেড যেকোন লেখায় অবশ্য আমি এইটা করি) । লিখাটা ভাল লেগেছে । আমার কাছে এর ইংরাজী অনুবাদটা ছিল । তোমার সাথে শেয়ার করলাম ।
=============
In Camp
Jibanananda Das
Here on the edge of the forest I pitched camp.
All night long in pleasant southern breezes
By the moon's light
I listen to the call of a doe in heat.
To whom is she calling?
Somewhere the deer are hunted tonight.
Hunters entered the forest today.
I too seem to catch their scent,
As I lie here upon my bed
Not drowsy at all
In this spring night.
Forest wonder everywhere,
An April breeze,
Like the taste of moonlight.
A doe in heat calls all night long.
Somewhere deep in the forest—beyond the reach of moonbeams—
All stags hear her sounds.
They sense her presence,
Come toward her.
Now, in this night of wonder
Their time for love arrives.
That sister of their hearts
In moonlight calls them from forest cover—
To quench their thirst—to smell—to savor!
As if this night's forest were free of tigers!
No clear fear fills those stags' breasts tonight,
Not even the shadow of uncertainty.
There is only thirst,
Excitement.
Perhaps wonder wakes in the cheetah's breast as well at the beauty of that doe's face.
Lust-longing-love-desire-dreams burst forth
In this springtide night.In this springtide night.
Here is my nocturne.
One by one deer come from the wooded deep,
Leaving behind all water's sounds in search of another assurance.
Forgetting tooth and claw, they approach their sister there
Beneath that sundari tree, bathed in moonlight.
As man draws near his salty woman, lured by scent, so come those deer.
I sense them—
The sound of their many hooves.
In moonlight calls that doe in heat.
I can no longer sleep.
As I lie here
I hear gunshots
Again I hear the sounding guns.
The doe in heat calls once more in the light of the moon.
As I lie fallen here alone
A weariness wells within my heart
While I listen to the sound of guns
And hear that doe's call.
Tomorrow she will return.
In the morning, by daylight, she can be seen.
Nearby lie her dead lovers.
Men have taught her all this.
I shall smell venison upon my dinner dish.
Has not the eating of flesh ceased?
But why should it?
Why must I be pained to think of these deer—
Am I not like them?
On some spring night
On one of life's wondrous nights
Did not someone come into the moonlight, call me too, in the pleasant southern breezes
Like that doe in heat?
My heart, a stag,
Forgetting the violence of this world,
All caution cast to the winds—all fear of the cheetah's eyes—
Had not it yearned to possess you?
When, like those dead deer, the love in my heart
Lay caked with blood and dust,
Did not you, like this doe, live on
Through life's wondrous night
One spring night?
You too had learned from someone!
And we lie here, our flesh like that of dead animals.
All come, then fall in the face of separation—separation and death—
Like those slain deer.
By living-loving-longing for love, we are hurt, we hate and die,
Do we not?
I hear the report of a double-barreled gun.
That doe in heat calls on.
No sleep comes to this heart of mine
As I lie here, alone.
Yet one must silently forget the thunder of those guns.
Night speaks of other things upon camp beds.
They by whose barrels deer perished tonight,
Who relished flesh and bone of deer upon their dinner plates,
They too are like you.
Their hearts too wither there in sleeping bags.
Thinking—just thinking.
This pain, this love resides everywhere,
In the locust, the worm, in the breast of man,
In the lives of us all.
Like those slain deer in spring's moonlight
Are we all.
-Translated by
Clinton B. Seely
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ২:০০
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ ফাহাদ ভাইয়া
বাংলা কবিতার জীবনানন্দ অধ্যায় যার জানা নেই তার বাংলা কবিতার অনেকটাই জানা নেই, আমার বিশ্বাস।
যা হোক, অনুবাদটা শেয়ার করলেন বলে অনেক ভাল লাগল
আমার কাছে বাংলাটা আছে ( অনন্য জীবনানন্দ) বইটা একটা মাস্টারপিস এটা বলতেই হবে একবাক্যে। আব্দুল মান্নান সৈয়দেরটা অনেক বেশি কবিতার ব্যকরণ ঘেষা, সেদিক থেকে এ বইটি আলাদা মাত্রায় প্রকাশিত
৪৩|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ ভোর ৪:০৬
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন:
আমার মধ্যে সব সময় এমন একটা self-generated ফিলিং কাজ করে এই রকম যে 'আই হেইট দোজ হু হেট জীবনানন্দ' কিছুটা চাইলডিশ কৈতে পারো
। but this exists ।
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ২:১২
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: শিশুতোষ এর কিছু নয় ফাহাদ ভাইয়া
অনুভব করতে পারছি আপনার ভালবাসা নির্জনতম কবির প্রতি
আপনারই জন্যে
একটি নক্ষত্র আসে
একটি নক্ষত্র আসে; তারপর একা পায়ে চ'লে
ঝাউয়ের কিনার ঘেঁষে হেমন্তের তারাভরা রাতে
সে আসবে মনে হয়; - আমার দুয়ার অন্ধকারে
কখন খুলেছে তার সপ্রতিভ হাতে!
হঠাৎ কখন সন্ধ্যা মেয়েটির হাতের আঘাতে
সকল সমুদ্র সূর্য সত্বর তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাত্রি হতে পারে
সে এসে এগিয়ে দেয়;
শিয়রে আকাশ দূর দিকে
উজ্জ্বল ও নিরুজ্জ্বল নক্ষত্র গ্রহের আলোড়নে
অঘ্রানের রাত্রি হয়;
এ-রকম হিরন্ময় রাত্রি ইতিহাস ছাড়া আর কিছু রেখেছে কি মনে।
শেষ ট্রাম মুছে গেছে, শেষ শব্দ, কলকাতা এখন
জীবনের জগতের প্রকৃতির অন্তিম নিশীথ;
চারিদিকে ঘর বাড়ি পোড়ো-সাঁকো সমাধির ভিড়;
সে অনেক ক্লান্তি ক্ষয় অবিনশ্বর পথে ফিরে
যেন ঢের মহাসাগরের থেকে এসেছে নারীর
পুরোনো হৃদয় নব নিবিড় শরীরে।
আমার কবিতা ভাবনায় আপনি কি সেই, যে তারার কথা বলে গেছে জীবন বাবু ?
৪৪|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ ভোর ৪:২৭
সুপান্থ সুরাহী বলেছেন:
তানিম এত পরিশ্রমের প্রেরণা পাও কই?
ক্যাম্প নিয়ে ইত্তেফাকে একটা লেখা পড়ছিলাম প্রায় ১০/১২ বছর আগে...
সেটার চেয়েও তোমারটা ভাল হইছে....
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ২:১৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: হা হা পরিশ্রমের কথা বলে হাসালেন পান্থ ভাই
আমার সম্পর্কে আপনি যা খুশি প্রশংসা মূলক বলুন দয়া করে আমাকে পরিশ্রমী বলবেন না। জীবনানন্দ নিয়ে এরকম আরো বেশ কটি লেখা লেখার সময় আমার হাতে থাকা সত্বেও আমার অসাধারণ আলস্যে সব বরবাদ।
আমি কেমনতরো অলস ওটা দেখতে হলে আমাকে একদিন অবসার্ভ করতে হবে। তাইলেই টের পাইবেন।
আর লেখা ভাল হয়েছে শুনে সুখী হলাম। এটা লিখতে আমার সর্বাধিক পরিশ্রম গেছে। তবে পত্রিকায় ছাপা হবার মত ব্যক্তিগত পরিচিতি আমার নেই তাই এর চেয়ে ভাল লিখলেও অদূর ভবিষ্যতেও পত্রিকার পাতায় আমার নাম দেখার সম্ভাবনা কম
৪৫|
০১ লা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:২৫
হাসান মাহবুব বলেছেন: পড়লাম। দারুণ লাগ্লো। সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা কবিতা। সজনীকান্তের সমালোচনাটা পড়ে হাসি এলো! প্রিয়তে নিতাসি। তোমার কাব্যবোধ আসলেই প্রখর। দারুণ আলোচনা।
০১ লা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৩১
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ধন্যবাদ হাসান ভাই
কত নাম্বার হল কমেন্ট ?
৪৬|
১১ ই মে, ২০১৩ দুপুর ১২:২৪
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন: ছোট মানুষ বলে আপনার বিশ্লেষনের অনেক বিষয় বুঝতেই একটু কস্ট হয়েছে । তবে জীবনানন্দের ঐ কবিতায় সমালোচনা করার কি ছিলো সেটা আমি বুঝতে পারিনি ।
সজনীকান্ত ঘাইহরিণী সম্পর্কিত যে কথাগুলোকে অশ্লীল বলে সমালোচনা করলেন সেখানে অশ্লীলতার কিছু আসলেই ছিলো নাকি প্রশ্ন রয়ে যায় ।
নাকি "শনিবারের চিঠি" যার অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিলো সমালোচনা করে পিত্ত জালিয়ে দেয়া সেই উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করার জন্য সজনী বাবুর এই প্রয়াস ?
১১ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৪:০৮
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: এত দিন পরেও খুজে বেছে লেখাটি পড়লেন দেখে অনেক সুখী হলাম
সজনীকান্ত পরে অবশ্য নিজেই বলেছেন, জীবনবাবুকে তিনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
শনিবারের চিঠি একধরনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করত। এই চেষ্টা বেশিদিন টেকেনি বলাই বাহুল্য।
কোন জায়গায় বুঝতে সমস্যা থাকলে বলুন, চেষ্টা করছি বোঝানোর...
৪৭|
২০ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:০৬
সন্দীপ হালদার বলেছেন: এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। অনেক ভাল ও তথ্যবহুল লেখা। সজনীকান্তের সমালোচনা ও জীবনানন্দের জবাব টা আগে পড়েছিলাম। কিন্তু কোন কবিতা নিয়ে লেখা তা মনে ছিল না। আপনার লেখা পড়ে এবার মনে পড়ল।
ক্যাম্পে কবিতার বিশ্লেষন অনেক ভাল দিয়েছেন আপনি। অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
২১ শে মে, ২০১৩ বিকাল ৪:১৩
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: ভালো লাগল জেনে সুখী হলাম
৪৮|
২৮ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
রহস্যময়ী কন্যা বলেছেন: গুরু পড়তে পড়তে মইরা গেলাম
তবে ভালো লাগলো, জানলাম অনেক কিছু ![]()
২৯ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪৪
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: এই জন্যেই কবি বলেছেন
জানার কোন শেষ নাই
জানার চেষ্টা বৃথা তাই![]()
৪৯|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:১৪
অপরাজিতার কথা বলেছেন: খুব ভাল লাগল ।নতুন করে জীবনান্দকে জানার শুরু করেছিলাম,আপনার এই লেখার মাধ্যমে তার সাথে কিছু যুক্ত হল।ধন্যবাদ।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: জেনে সুখী হলাম জীবনবাবুকে নতুন করে জানবার চেষ্টা করছেন বলে। ![]()
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:১০
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটি পঢ়া জন্য।
আমি আসলে ব্লগে এখন নিয়মিত নই তাই আপনার মন্তব্য ছকে পড়েনি, শুভেচ্ছা জানবেন
৫০|
১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৭
রুদ্র জাহেদ বলেছেন: অসাধারন বিশ্লেষণী লেখা।খুব ভালো লাগল। প্রিয়তে রাখলাম
১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৫:২৩
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই লেখাটির সংশোধিত সংস্করণ ছাপা হয়েছিল বাংলা অ্যাকাডেমির "উত্তরাধিকার" পত্রিকায়।
আমার লেখাগুলো খুঁজে খুঁজে পাঠ করায় অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আপনার জন্যে জীবনবাবুর কয়েকটি লাইন
সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি —
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে
এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে
সুজাতাকে আমি ভালোবাসি কি না।
পুরোনো চিঠির ফাইল কিছু আছে:
সুজাতা লিখেছে আমার কাছে,
বারো তেরো কুড়ি বছর আগের সে-সব কথা;
ফাইল নাড়া কি যে মিহি কেরানীর কাজ;
নাড়বো না আমি
নেড়ে কার কি লাভ;
মনে হয় অমিতা সেনের সাথে সুবলের ভাব,
সুবলেরই শুধু? অবশ্য আমি তাকে
মানে এই — অমিতা বলছি যাকে —
কিন্তু কথাটা থাক;
কিন্তু তবুও —
আজকে হৃদয় পথিক নয়তো আর,
নারী যদি মৃগতৃষ্ণার মতো — তবে
এখন কি করে মন কারভান হবে।
----------- লোকেন বোসের জর্নাল (অংশবিশেষ)
৫১|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৩
শিবলী মিঁয়াও বলেছেন: ভালো লাগলো তবে 'ঘাই' শব্দটি অসমীয়া এবং জীবনানন্দদাস অবশ্যই আসামে গিয়েছিলেন (সম্ভবত শব্দটি সেখানেই শিখা) এবং বেশ কিছুদিন অবস্থানও করেছিলেন, সেখানে প্রনয়ঘটিত একটা বেশ বড়সড় প্রভাব বিস্তারকারী অধ্যায় আছে তাঁর জীবনে। উনি আসাম যাননি তথ্যটা সঠিক নয়।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:০৩
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: আপনার পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আমার এই লেখাটি বিভিন্ন গবেষকদের কাজ পড়াশুনার পরই লেখা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আপনি যা বলছেন তা আমি পাইনি। এখানে লেখাটার সংশোধিত ভার্সন প্রকাশ পেয়েছে যেখানে আমি উল্লেখ করেছি রেফারেন্স, আপনি দেখবেন আশা করছি.।
আশি বছরের পাঠ : জীবনানন্দের ক্যাম্পে, সেকালে ও একালে
তবে আমার অজান্তে থেকে যেতে পারে, তাই আপনার মতামত কিংবা ধারণার সমর্থনে কোন লিংক বা বইয়ের তথ্য জানা থাকলে শেয়ার করবেন এই কামনা রইল.।
৫২|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০২
শিবলী মিঁয়াও বলেছেন: সঙ্গক্রমে ঃ কোন নারীর দ্বারা ভালবাসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা নাই তাঁর জীবনে এটাও একটা বেশ বড় ভুল। এটার প্রভাব কতটা তাঁর জীবনে/ কবিতায় সেটা বলাই বাহুল্য।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:০৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: এই বিষয়টিও আমি খুঁজে পাইনি। আগের কমেন্টের লিঙ্কটা কাজ করছে না, এই শিরোনাম দিয়ে নেটে সার্চ দিলেই পাবেন, আমার লেখা ও তার রেফারেন্স
আশি বছরের পাঠ : জীবনানন্দের ক্যাম্পে, সেকালে ও একালে
৫৩|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৩
শিবলী মিঁয়াও বলেছেন: একজন কমলালেবু ।। শাহাদুজ্জামন ……
আব্দুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত জীবনানন্দ সমগ্র দেখতে পারেন । চমকপ্রদ বটে !
৫৪|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৯
শিবলী মিঁয়াও বলেছেন: আপনার দেয়া লিঙ্কটাতে পেজ নট ফাউন্ড দেখাচ্ছে । ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:০৬
মামুন হতভাগা বলেছেন: পড়তে পড়তে বুড়া হয়ে গেছি