নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি পোলাডা কইলাম খুব একটা বালা না, একদিকে হাছা কতা কই, অন্যদিকে আবার অবিশ্বাসী(ইংরেজিতে যারে এথিস্ট না কী যেনো কয়); তাই আমার থেকে সর্বদা দূরে থাকুন.... আমি হইলাম জ্বলন্ত অগ্নিগিরি।

মুক্ত তরণী

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তার আপন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ। আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী স্বাধীন বাঙলার আশ্চর্য পরাধীন একজন মানুষ।

মুক্ত তরণী › বিস্তারিত পোস্টঃ

-:সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গিতে আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা:-

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:৩০

আজকাল একটা প্রশ্নের প্রায় হিড়িক পড়ে গেছে; তুমি কি আস্তিক নাকি নাস্তিক?

কেনো পড়েছে সেটা মনেহয় নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।



পথে-ঘাটে, ঘরে-বাইরে, সমাজে-ঘরে সর্বদা একটাই মহাপ্রশ্ন; তুমি কি আস্তিক নাকি নাস্তিক?

আজকাল আবার নাস্তিকদের নামের আগে মহা বিশেষণ জোড়ার প্রচলন হয়েছে, 'অমুক কুত্তা, অমুক খোক্কস, অমুক কাফির, অমুক শয়তান, অমুক নাফোরমান প্রভৃতি বিশেষণ।'

'কুত্তা, খোক্কস' এ-দুটো বিশেষণে আমারসহ অধিকাংশ নাস্তিকেরই কোনো আপত্তি নেই; কেননা আমরা সদা প্রস্তুত থাকি এ-জাতীয় বিশেষণ হজম করতে, অনেকে আবার আনন্দের সাথেই গ্রহণ করি এবং নিজের নাস্তিকতা নিয়ে সুখ পাই; কিন্তু আমাদের আপত্তি 'শয়তান, কাফির, নাফোরমান' প্রভৃতি ভিনদেশিয় সাধারণ শব্দে। আমারসহ প্রত্যেক নাস্তিকের বিশ্বাস- আমাদের বাঙলা ভাষায় নিন্দা প্রকাশ তথা গালি দেয়ার জন্যে প্রচুর শব্দের অস্তিত্ব রয়েছে; আমাদের মস্তকে সেগুলো নিক্ষেপিত হোক, আমরা বিনম্রচিত্তে তা মাথা পেতে নেবো। তাছাড়া মাতৃভাষাত এতো প্রকৃতির রত্নরাজি রেখে বিদেশি শব্দ হজম করতে বাথরুমে আমাদের যায়-যায়-দশা হয়ে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্যতার মোকাবেলা করতে হয়।





আমার সাধ্যের অতীত এটা বোঝা যে, নাস্তিকদেরকে কেনো এতোটা অবহেলা করা হয়; কেনো তাদেরকে ঘৃণা করা হয়, কেনো তাদেরকে অকারণে সন্দেহ করা হয়, যেখানে বে-ধর্মীদেরও কিছুটা শ্রদ্ধা করা হয়(যদিও তা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র)?





নাস্তিকরা পৈত্রিক ঔরসে লাভ করা ধর্ম ত্যাগ করে, এ-জন্য?

তারা সদা সত্যকথা বলে, এ-জন্য?

তারা মিথ্যা কিছু বিশ্বাস করে না, এ-জন্যে?

তারা দেশে বসে বিদেশের গুণকীত্তন করে না, এ-জন্যে?

তারা কিছুটা সত্‍ ও নিরীহ প্রকৃতির হয়, এ-জন্যে?

তারা উচ্চশিক্ষিত ও রুচিসম্পন্ন হয়, এ-জন্যে?

তারা রুপকথায় বিশ্বাসী নয়, এ-জন্যে?

তারা নিরীহ সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলে, এ-জন্যে?

তারা মননশীল হয়, এ-জন্যে?



তবে কী জন্যে?





আজকাল সকলেই বলে তারা নাস্তিকদেরকে ঘৃণা করে, কিন্তু কেনো ঘৃণা করে?

আমরা তো অবিশ্বাসী, এটাই আমাদের দোষ?

তাই যদি হয় তবে যারা বিশ্বাস করে তারাও সমান দোষী।



পৈত্রিক ঔরসে পাওয়া ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করায় কোনো লাভ নেই, আমি স্পষ্টই বলে দিচ্ছি। সকল ধর্মীয় গ্রন্হগুলো নিজের মনে করে পড়ে দেখুন, তারপর ধার্মিক হন; তবেই প্রকৃত ধার্মিক হতে পারবেন।



ইসলামের কোরান ও হাদিস মতে, অবিশ্বাসীরা জাহান্নামে যাবে; অবিশ্বাসী তারাই যারা আল্লা, রাসুল এবং পবিত্র কোরানে বিশ্বাসী নয়।

তাহলে কী দাড়াচ্ছে?

অইসলামি সবাই নাস্তিক। অর্থাত্‍ একজন হিন্দু ইসলামের দৃষ্টিতে নাস্তিক, একজন খ্রিস্টান নাস্তিক, ইহুদি নাস্তিক, বৌদ্ধ নাস্তিক; এক কথায় ইসলাম ছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে অন্য সকল ধর্ম বিশ্বাসী তথা অবিশ্বাসীরা নাস্তিক। এ-জন্যে ইসলামে বারবার বলা আছে খাঁটি মুসলিম না হয়ে কেউ মারা যেও না, তোমাদের জন্যে জাহান্নাম অপেক্ষা করবে।



আসুন একটু খ্রিস্ট ধর্মের দিকে যায়, পবিত্র বাইবেলের প্রকাশিত বাক্যে বলা আছে যে, অবিশ্বাসীরা সবাই নরকে যাবে। প্রশ্ন থাকতে পারে অবিশ্বাসী কারা? যারা খ্রিস্ট ও বাইবেলকে অস্বীকার করে, তারাই অবিশ্বাসী বা নাস্তিক।

ওল্ড টেস্টামেন্টে আরো বলা আছে, যিশু খ্রিস্ট যখন পুনরায় ইসরাইলের যৈতুন পর্বতে নামবেন তারপর তিঁনি বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের আলাদা করবেন। বিশ্বাসীদের মেঘে চড়ে স্বর্গে নিয়ে যাবেন। আর অবিশ্বাসীরা সকল বিচারের ঊর্ধে, ওদের স্হান নরক।

তাহলে কী দাড়ালো?

খ্রিস্ট ধর্ম মতে খ্রিস্টান ছাড়া কেউ স্বর্গে যাবে না।



আর্থাত্‍ ইসলাম এবং খ্রিস্ট একই কথা বলে। তাদের নিজেদের অনুসারী ছাড়া অন্যরা সব নরকে যাবে।





তাহলে ভাই, আপনি কী করবেন? একদিকে আপনার স্বর্গ অন্যদিকে নরক। দুটোই আপনার ডিসিশনের ওপর নির্ভরশীল।

এখন আপনি মুসলিম বলে বলতে পারেন না যে ইসলামই সত্য বাদবাকি সব মিথ্যা। কেননা আপনার হাতে কোনো বস্তুনিষ্ট প্রমাণ নেই; আছে শুধু এক পশলা বিশ্বাস।





আমরা অবিশ্বাসীরা কোনো প্রচলিত ধর্মেই বিশ্বাসী নয়, তবে আমরাও বিশ্বাসী; আমরা বিশ্বাসী মানবতা নামক অমোঘ ধর্মে।



অর্থাত্‍ হে বিশ্বাসীগণ, আপনারা আমাদেরকে অবহেলা করবেন না; আমরা তো আপনাদের বাড়া ভাতে ছাই দেই নি। পার্থক্য শুধু এখানেই আপনার বিশ্বাসী আর আমরা আপনাদের বিশ্বাসে বিশ্বাসী না হয়ে অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী। তাই আপনাদের চোখে আমাদের স্হান হওয়া উচিত্‍ বে-ধর্মী রূপে।

তাই বলে অবহেলা করা ঠিক নয়। কেননা কোন পথ যে সঠিক তা কেউ বিশ্বাস ছাড়া যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে পারবে না।



বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২.৩% মানুষ নাস্তিক। গবেষণা করে দেখা গেছে নাস্তিকেরাই শিক্ষ-দীক্ষা, রুচি, মনন সবদিক দিয়েই অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই আমাদের অবহেলা করে কি আপনারা সুন্দর একটি পৃথিবী গড়তে পারবেন?



নাস্তিকদের পরে যে গোষ্ঠির অবস্হান, তারা হলো এমন অবিশ্বাসী যে এরা নাস্তিকও নয় আবার কোনো ধর্মও বিশ্বাস করে না। পৃথিবীতে এদের সংখ্যা ১১.৯%। (ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এরা অজ্ঞেয়বাদী বা সংশয়বাদী, যাকে নাস্তিকতার আগের স্টেজ ধরা হয়)।



আর মুসলিম ভায়েরা আপনাদের অবস্হানই হচ্ছে সবচেয়ে নিচে।







আর কিছুই বলবো না, এখন বিচার আপনাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম---

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.