| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুক্ত তরণী
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে তার আপন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ। আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী স্বাধীন বাঙলার আশ্চর্য পরাধীন একজন মানুষ।
সত্যিকথা বলতে আমি বাঙলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ভক্ত নয়; আমি ভক্ত সত্ মানুষের সততায়।
আমার ভোট কে পাবে?
ভুল হোক শুদ্ধ হোক আমি নিজেকে বিচক্ষণ মানুষ বলে ভাবতে পছন্দ করি, তাই এক্ষেত্রেও আমার বিচার কিছুটা আলাদা।
আমি ভোট দেবার জন্যে এমন একজন মানুষকে মনোনীত করবো, যিনি সত্ এবং মানবদরদী। অর্থাত্ আমি হয়তো আমার সমস্যা নিয়ে কখনো তার কাছে যাবো না; কিন্তু বিভিন্ন সমস্যাগ্রস্ত মানুষ যার কাছে সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি তাদের ফেরাবেন না এবং যথাসম্ভব অপরের সমস্যাকে নিজের মনেকরে তা সমাধানের চেষ্টা করবেন, তেমন মানুষই আমার দ্বারা মনোনীত হবেন।
সর্বত্রই একটি বাক্যের জয় জয়াকার শুনছি, 'দেশ থেকে ইসলাম বিলুপ্তির পথে'।
আমার কাছে বাক্যটি বিভিন্ন কারণে অযৌক্তিক মনে হয়; সব কারণ আলোচনা করতে গেলে অন্তত দু-চার ঘণ্টা সময় প্রয়োজন, তাই তা বিস্তারিত আলোচনাপর্বে গেলাম না।
বাড়িতে আমার মা-বাবার মুখেও সারাক্ষণ একই কথা, 'ইসলাম এবার শেষ'।
আমারও কি তাই মনে হয়?
না, হয় না।
কেনো হয় না?
আমার দৃষ্টিতে ধর্মের সাথে রাজনীতির সংশ্লষ্টতা নেই, দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিশ; যার একটির সাথে অন্যটির সংমিশ্রণে বিপদ ঘটে যায়।
আর্থাত্ আমরা যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মোকাবেলা করছি, তা এই দূষণেরই ফল।
বাঙলাদেশ নামক ভূখণ্ড থেকে যদি জামাত ইসলাম নামক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়, তবে আমার দৃষ্টিতে দেশের মঙ্গল ছাড়া অমঙ্গলের বিন্দু বিসর্গ ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই, আর ইসলামের জন্যে তো তা লাভই বলা চলে; কেননা ধর্ম ব্যবসায় এবং ব্যাবসায়ীদেরই শুধু বিলপ্তি ঘটবে, ইসলামের নয়। আর এতে করে ইসলামও দূষণমুক্ত হবে।
আজ যদি একটি ইসলামিক দল বন্ধ হয় তবে দেশের অগণিত মুসলিমরা কি সব দলে-দলে হিন্দু কিংবা অন্য কোনো ধর্মে যোগদান করবে? না, তা করবে না। তবে ভয়ের কারণ কী হতে পারে? ধর্ম নিয়ে লাভজনক ব্যবসা করা যাবে না এই ক্ষতি? তবে তো তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা পবিত্র জিনিশকে ব্যবসায়ের পণ্য বানিয়ে অপবিত্র করে।
আমার কথা হলো বাঙলাদেশ থেকে জামাত ইসলামের মতো একটি দলকে নিষিদ্ধ করলে ইসলামের কোনো ক্ষতি হবে না, পক্ষান্তরে একজন মুসলিমও অমুসলিম হবে না।
দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রকৃয়া শুরু হয়েছে, অনেকে এটাকে সন্দেহের চোখে দেখেন এবং অপ্রয়োজনে নাক কুঁচকান। ভাই, একবার বুকে হাত রেখে বলেন তো: আমাদের আত্মার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত যে মুক্তিযুদ্ধ; আর সেখানে যারা আমাদেরই লোক হয়ে ভিনদেশিদের দালালি করেছে, আপনি কি তাদের বিচার চান না?
হয়তো আপনার উত্তর হ্যাঁ, আপনিও চান। আর যদি আপনার উত্তর হয় যে আপনি বিচার চান না; তবে আমাকে উত্তর দেন তো, আপনি কি বাঙালি?
আপনি বিয়ল্লিশ বছরেও যোগ্য বাঙালি হতে পারেন নি। আমি ও আমরা যারা বাঙালি হিশেবে গর্ববোধ করি তারা আপনাকে স্বাধীন দেশের পরাধীন রাজাকার বলি এবং আপনাদেরকে ঘৃণা করি। এটা কোনো রাজনৈতিক মতবাদ নয়, এটা বাঙালিদের দেশের প্রতি ভালোবাসা; যেমন আপনাদেরও দেশপ্রেম উত্থলে ওঠে পাকিস্তান নামের কলঙ্কিত ভূখণ্ডের প্রতি।
ব্যাপারটা এমন হতে পারে যে, আপনারা অনেকেই চান যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক; কিন্তু যারা একাত্তরে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী ছিলো না তাদেরকে কেনো বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে?
এক্ষেত্রে আমার বলার কিছুই নেই, নিঃসন্দেহে এটা আমাদের বিচার ব্যবস্হার ত্রুটি এবং বহিঃবিশ্বের চাপ। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে বিভিন্ন দাতা দেশের মতামতকে মূল্যায়ন করে চলতে হয়; তাই তারা যদি দু-একটা অযৌক্তিক কিছুও দাবি করেন আমাদের কাছে, আমাদের উদ্দামের সাথেই তা করতে হয়; কেননা তা করা ছাড়া আমেদের আর কোনো পথ থাকে না।
আর বিচারপ্রক্রিয়ায় যদি এরকম কোনো অনিয়ম থাকে, একজন বাঙলাদেশি হিশেবে আমি তাকে ধিক জানায়।
আপনার প্রশ্ন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি হবে তবে বিয়াল্লিশ বছর পরে কেনো, স্বাধীনতার পরপরই কেনো তা হলো না; তখন শেখ মুজিব কেনো সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন?
একবার ভেবে দেখুন তখন দেশের সামগ্রিক পরিস্হিতি এমন ছিলো যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব ছিলো না। দেশ ছিলো সামগ্রিকভাবে ধ্বংসপ্রায়। সেই ধ্বংসপ্রায় পরিস্হিতিতে এদের বিচার করতে গেলে বাঙলাদেশ ভূখণ্ডটি অচিরেই তলিয়ে যেতো, আজ পর্যন্ত বাঙলাদেশের অস্তত্ব থাকতো না।
তাই আসুন ভাই, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণা করে তাদের বিচার প্রকৃয়া সুষ্টভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ়ভাবে সংকল্প করি। আর সাঈদিকে নিয়েই কি আপনার আপত্তি?
লেখার আগের অংশটুকু পড়ে নিশ্চয় বুঝে গেছেন বিষয়টি আমি সুচতুরভাবে এড়িয়ে গেছি। সাঈদির ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড, তাই সে-সম্পর্কে আমি কিছুই বলবো না। তবে শুধু আশা করি যে তিঁনি যদি নিদ্বোষ হন, তবে তাকে যেনো মুক্ত করা হয়; আর যদি দোষী হন, তবে অচিরেই তার ফাঁসি কার্যকর হোক।
আমার লেখা পড়ে কি মনে হচ্ছে আমি আওয়ামি লিগ করি?
আমি মোটেও আওয়ামি করি না, তবে আমি দেশকে ভালোবাসি। এখনি যদি মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হতো তবে আমি সম্ভাবত যুদ্ধে অংশ না নিয়ে লুকিয়ে থাকতাম কিংবা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে যেতাম, কারণ আমি ভীরু, কাপুরুষ; কিন্তু তাই বলে ঔই সময় যারা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে আমাদেরকে একটি স্বাধীন বাঙলাদেশ উপহার দিয়েছে, তাদেরকে কেনো সম্মানিত করবো না? আর কেনোই বা যারা আমাদের সাথে বেঈমানি করেছে তাদেরকে ঘৃণা করবো না? আমি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধে অংশ না নিলেও এটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি কখনো বিদেশি শক্তির সাথে আতাত করতাম না, তাতে আমার জীবন গেলেও।
২|
১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৫:৩৬
আমিই মিসিরআলি বলেছেন: অবশ্যই না !!! ঠিকই বলেছেন
আমার তো মনে হয় জামাতি ইসলাম নিষিদ্ধ হলে ব্যাক্তিগত স্বার্থের
দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩২
মুক্ত তরণী বলেছেন: আমি কি কিছুমাত্রায় ভুল কিছু লিখেছি?