নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্মৃতির ডায়েরীতে নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকি।

নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী

পাখির মত মন

নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিমু এবং হুমায়ূন আহমেদ।

১৯ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:০০

হিমু প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি অমর সৃষ্টি। হিমু কি শুধু কল্পনা বিলাসী এক যুবকের গল্প নাকি গল্পের আড়ালে সমাজের অসংগতিগুলোর বিপক্ষে প্রতিবাদের ভাষা। সাধারণত যে কথা গুলো মানুষ বলতে সংকোচ বোধ করে হুমায়ূন আহমেদ হিমুর মাধ্যমে সেই কথাগুলো প্রকাশ করেছেন ছাপার অক্ষরে।



ময়ূরাক্ষী



বলেছিলাম এই পুলিশ সার্জেন্ট তাঁর একটি কর্মমুখর দিনে তিন প্যাকেট বেনসন অ্যান্ড হেডেজ পান করেন।তিনি জানিয়েছেন টেনশন দূর করতে এটা তাঁর প্রয়োজন। অবশ্যই তিনি খুব টেনশনের জীবন যাপন করেন।এই বাজারে দিনে তিন প্যাকেট করে বেনসন খেলে মাসে দুই হাজার তিনশো টাকা প্রয়োজন। আমাদের জিজ্ঞাসা তাঁর বেতন কত?



দরজার ওপাশে



তুই কোন মন্ত্রী চিনিস না, তাই না? চেনার অবশ্য কথা না। ভাল মানুষদের সঙ্গে মন্ত্রীর পরিচয় থাকে না। বদগুলির সঙ্গে থাকে।



ওসি সাহেব ড্রয়ার থেকে কাগজ এবং পেনসিল বের করলেন।থানায় এই এক মজার জিনিস দেখলাম। সব কাজকর্ম পেনসিলে। সম্ভবত ইরেজার ঘসে লেখা মুছে ফেলার চমৎকার সুযোগ আছে বলেই পেনসিল।




জাজ সাহেবদের টাকা খাওয়াতে হবে। আগে জাজ সাহেবরা টাকা খেত না। এখন খায়। অনেক জাজ দেখেছি কাতলা মাছের মত হা করে থাকে।



পারাপার



বিত্তবানরা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে থাকে না। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে থাকেন। তাঁদের কপালে দেশের মাটিতে মৃত্যু লেখা থাকে না। তাঁদের মৃত্যু অবধারিতভাবে হবে দেশের বাইরে।



সততা এক সময় রোগের মতো হয়ে দাঁড়ায়। সবসময় দেখা যায় সৎ মানুষরা ভয়ানক অহংকারী হয়। এরা নিজেদেরকেই শুধু মানুষ মনে করে, অন্যদের করে না। আপনি নিজে যেমন কারোর সাহায্য নেন না- আমি নিশ্চিত, আপনি কাউকে সাহায্যও করেন না।




এবং হিমু



বিনয়ের বাড়াবাড়িটাই সন্দেহজনক। আমার নিজের ধারণা বিনয় ব্যাপারটা পৃথিবী থেকে পুরোপুরি উঠে গেলে পৃথিবীতে বাস করা সহজ হত। বিনয়ের কারণে সত্য মিথ্যা প্রভেদ করা সমস্যা হয়। মিথ্যার সঙ্গে বিনয় মিশিয়ে দিলে সেই মিথ্যা ধরার কারো সাধ্য থাকে না।



হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম





হরতালের বিপরীত শব্দ কি? আনন্দতাল? সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে একটা বিশেষ দিনকে আনন্দতাল ঘোষণা দিলে চমৎকার হত। সকাল সন্ধ্যা আনন্দতাল। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট সব খুলে যাবে - সবাই সবার গাড়ি নিয়ে হর্ন বাজাতে বাজাতে রাস্তায় নামবে। রাস্তার মোড়ে পুলিশ এবং বিডিআর থাকবে না। থাকবে তাঁদের ব্যান্ডপার্টি। এরা সারাক্ষণ ব্যান্ড বাজাবে। তাঁদের দিকে পেট্রোল বোমার বদলে গোলাপের তোড়া ছুঁড়ে দেয়া যাবে ............



'রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষদের কষ্ট দিতে এত ভালবাসে কি জন্যে? তাঁরা রাজনীতি করেন - আমরা কষ্ট পাই। এর কারণ কি?'

'রাজনীতি হল রাজাদের ব্যাপার- বোধহয় এই জন্যেই। রাজনীতি বাদ দিয়ে তাঁরা যখন জননীতি করবেন তখন আর আমাদের কষ্ট হবে না।




আমার ধারণা নিন্মশ্রেনীর পশুপাখি মানুষের কথা বুঝে। অতি উচ্চ শ্রেণীর প্রাণী মানুষই শুধু একে অন্যের কথা বোঝে না। বেগম খালেদা জিয়া কি বলছেন তা শেখ হাসিনা বুঝতে পারছেন না। আবার শেখ হাসিনা কি বলছেন তা বেগম খালেদা জিয়া বুঝতে পারছেন না। আমরা দেশের মানুষ কি বলছি সেটা আবার তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁরা কি বলছেন তাও আমাদের কাছে পরিস্কার না ।



'একটা কি ব্যবস্থা করা যায় হিমু ভাই- আমি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুটা কথা বলব, শেখ হাসিনার সঙ্গে দুটা কথা বলব- এরশাদ সাহেবের সঙ্গে তো কথা বলা যাবে না।উনি জেলে।'

কারো সঙ্গেই কথা বলা যাবে না- নেতারা সবাই আছেন জেলে। নিজেদের তৈরি জেলখানায় তাঁরা আটকা পড়ে আছেন। সেই জেলখানা পাহারা দিচ্ছে তাঁদেরই প্রিয় লোকজন। তাঁরা মনে করেন তাঁরা স্বাধীন মুক্ত বিহঙ্গ...............




হিমুর দ্বিতীয় প্রহর



হাসপাতালের মানুষগুলির ভেতর একটা মিল আছে। সবাই রোগী। রোগযন্ত্রণায় কাতর। ব্যাধি সব মানুষকে এক করে দিয়েছে। একজন সুস্থ মানুষ অপরিচিত একজন সুস্থ মানুষের জন্য কোন সহমর্মিতা বোধ করবে না, কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষ অন্য একজন অসুস্থ মানুষের জন্যে করবে।



সাজানো মামলা অরিজিন্যালের চেয়েও কঠিন হয়। অরিজিন্যাল মামলায় আসামি প্রায়ই খালাস পেয়ে যায়। সাজানো মামলায় কখনো পায় না। কথা হল এভিডেন্স ঠিকমতো প্লেস করতে হবে।

বাংলাদেশে এভিডেন্স কোন সমস্যা না। মার খেয়ে পা ভেঙেছে চান? পা ভাঙা লোক পাবেন। X-RAY রিপোর্ট পাবেন। রেডিওলজিস্টের সার্টিফিকেট পাবেন। টাকা খরচ করলে দুনম্বরি জিনিস সবই পাওয়া যায়।






এ দেশের কিছু মজার ব্যাপার আছে। বিনয়কে এ দেশে দুর্বলতা মনে করা হয়, বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়। মেয়েমাত্রকেই অল্প বুদ্ধি ভাবা হয়। মেয়ে ডাক্তার বললেই সবাই ভাবে ধাত্রী। যারা বাচ্চা ডেলিভারী ছাড়া আর কিছুই জানে না।



হিমুর রুপালী রাত্রি





যে বাড়িতে মানুষ মারা যায় সে বাড়িতে মৃত্যুর আট থেকে ন'ঘন্টা পর একটা শান্তি শান্তি ভাব চলে আসে। আত্মীয় স্বজনরা কান্নাকাটি করে চোখের পানির স্টক ফুরিয়ে ফেলে। চেষ্টা করেও তখন কান্না আসে না। তবে বাড়ির সবার মধ্যে দুঃখী দুঃখী ভাব থাকে। সবাই সচেতনভাবেই হোক বা অবচেতনভাবেই হোক - দেখাবার চেষ্টা করে মৃত্যুতে সে-ই সবচে কষ্ট পেয়েছে। মূল দুঃখের চেয়ে অভিনয়ের দুঃখই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। একমাত্র ব্যাতিক্রম সন্তানের মৃত্যুতে মায়ের দুঃখ।



আচ্ছা নগরীর মানুষ কি বদলে যাচ্ছে? তারা এত সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠছে কেন? সবাই সবাইকে সন্দেহ করছে। আপনার নাম কি ইয়াকুব? এই নির্দোষ প্রশ্নে আতংকে অস্থির হওয়ার মানে কি? আপনার নাম কি গোলাম আযম? এই প্রশ্নে শংকিত হওয়া যায়।



প্রথমে একটা থামবে তার পেছনে আর একটা। দেখতে দেখতে সিরিয়াস যানজট লেগে যাবে। গাড়িতে গাড়িতে গিট্টু। কেউ বুঝতে পারবে না যানজট কেন হচ্ছে। এক সময় গুজব ছড়িয়ে পরবে - যানজট হচ্ছে কারণ সামনে মিছিল বের হয়েছে, গাড়ি ভাঙ্গাভাঙ্গি হচ্ছে। বিশ্বাসযোগ্য গুজব বলেই সবাই সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করে ফেলবে। পেছনের গাড়িগুলি তখন চেষ্টা করবে উল্টো দিকে ঘুরাতে। এই চেষ্টার ফলে এমন যানজট হবে যে সারাদিনের জন্য নিশ্চিন্ত। রাজনৈতিক নেতারা খবর পাবেন যে মিছিল বের হয়েছে, গাড়ি ভাংচুর হচ্ছে। তারা ভাববেন যেহেতু তারা মিছিল করেন নি- কাজেই বিপক্ষ দল মিছিল বের করেছে। তারা আন্দোলনে পিছিয়ে পড়েছেন। কি সর্বনাশ! তারা তড়িঘড়ি করে জঙ্গি মিছিল বের করবেন। এবং তখন সত্যি সত্যি শুরু হবে গাড়ি ভাঙ্গাভাঙ্গি।

পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিয়ে ছোটাছুটি। টিয়ার গ্যাসের সেল মারবে কি মারবে না বুঝতে পারছে না। সরকারী দলের মিছিলে টিয়ার গ্যাসের শেল মারতে খবর আছে। এই হাঙ্গামার মধ্যে কেউ না কেউ মারা যাবে। নাম পরিচয়হীন সেই লাশ নিয়ে পড়ে যাবে কাড়াকাড়ি। একদল বলবে এই লাশ বিএনপি কর্মীর, আরেক দল বলবে আওয়ামী লীগের। অথচ কেউ জানে না মৃত মানুষের কোন দল থাকে না।






মন্ত্রীর শালাদের ক্ষমতা মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। মন্ত্রী তার পাজেরো গাড়ি নিয়ে যত ঘুরেন- তার শালা তার চেয়ে বেশি ঘুরেন। এটাই নিয়ম।



মন্ত্রীরা মিথ্যা বলেন এটা ধরে নিয়েই আমরা চলি। এতে সিস্টেম অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কাজেই হঠাৎ একজন মন্ত্রী যদি সত্য বলা শুরু করেন তাহলে সমস্যা হবে না?



একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা



পুলিশ যাদের ধরে নিয়ে আসে তাদের বেশ বড় অংশই কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। তাদের টেনশন বেশি।

কারণ তারা চেষ্টা করে তাদের নিরপরাধ প্রমাণ করতে। এই চেষ্টা করতে গিয়ে সব কিছু আরো জট পাকিয়ে ফেলে। অপরাধী পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পায় নিরপরাধী সাধারণত পায় না




আমি কাচুমাচু মুখ করে বললাম, পুলিশের অফিসগুলিতে পানি খাওয়া ঠিক না। এদের পানির ট্যাংকে ডেডবডি থাকে। পত্রিকায় পড়েছি।



এখন সাইরেন বাঁজিয়ে এম্বুলেন্স গেলে সবাই চোখ সরু করে এম্বুলেন্সের ভেতরটা দেখার চেষ্টা করে। আজকাল এম্বুলেন্সের ভেতর রুগী কমই থাকে। চিত্র নায়িকা বসে থাকেন। তাঁকে অতি দ্রুত শুটিং স্পটে নিয়ে যেতে হবে। সাইরেন ছাড়া গতি নেই। টেরার গ্রুপের প্রধানরাও মাঝে মধ্যে থাকেন- শান্তিবাগ এলাকার ঝন্টু গ্রুপের প্রধান- জনাব ঝন্টু হয়ত যাচ্ছেন। কিংবা যাচ্ছেন ঝন্টু গ্রুপের কাউন্টার- জনাব কানা ছালেক। এক গ্রুপকে মদদ দিচ্ছেন সরকারী দল। আরেক গ্রুপকে মদদ দিচ্ছেন বিরোধী দল। এবং এই দুই গ্রুপকেই মদদ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মহান পুলিশ বাহিনী।





এখনকার পত্রিকাগুলি অন্যরকম হয়ে গেছে, গুরুত্বহীন খবরগুলি প্রথম পাতায় ছাপা হয়। মিথ্যা খবর দিয়ে লিড নিউজ আসে।



রাজনীতির খেলা যত জমে পত্রিকাওয়ালাদের ততই রমরমা। রাজনীতিবিদরা তাদের খেলা খেলেন, পত্রিকাওয়ালারা খেলেন তাঁদের খেলা। তারা যে নিরপেক্ষ ভাবে খেলেন, তা না। প্রতিটি পত্রিকামালিক

কোনো-না-কোনো রাজনীতিবিদের থলেতে বসে খেলেন। এই সিনড্রমের একটা নাম ক্যাঙ্গারু সিনড্রম। ক্যাঙ্গারুর ছানার মত থলেয় বসে খেলাধুলা।




এই যে ঘটনাগুলি ঘটে- আপনাদের হাতে লোকজন মারা যায় আপনাদের খারাপ লাগে না?

ওসি সাহেব সিগারেটে লম্বা টান দিতে দিতে বললেন, সত্যি কথা জানতে চান?

- হ্যা জানতে চাই।

পরনে যখন খাকি পোষাক থাকে তখন খারাপ লাগে না। বাসায় গিয়ে যখন লুঙ্গি গেঞ্জি পরি তখন খারাপ লাগে।




তোমাদের এই নগরে



প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় স্বজনের ইনফ্লুয়েন্স ছাড়া পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া মুশকিল।





আগে পুলিশের মারের মধ্যে রাখ ঢাক ছিল। দেখে কিছু বোঝা যেত না। মারটাও তারা শিল্পকর্মের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল- এখন সে অবস্থা নেই। ইচ্ছা হল মেরে ফেললাম- পানির ট্যাংকে ফেলে দিলাম। ডেডবডি প্রকাশ হয়ে পড়লেও ক্ষতি নেই- পত্রিকায় বিবৃতি দেওয়া হবে- এই লোক পানির ট্যাংকে গিয়েছিল পানি খেতে। তারপর পা পিছলে ট্যাংকে পড়ে গেছে। সেখানেই মৃত্যু।

ডাক্তাররা সুরতহাল করবেন। তারাও রিপোর্ট দেবেন - লাংসে পানি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ পানিতে দুবে মৃত্যু। মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে- পানির ট্যাংকের ঢাকনার ধাক্কার কারণে তা হতে পারে।












হলুদ হিমু কালো রেব



র‍্যাবের গাড়ি দেখেই মনে হয় অন্যরা পথ করে দিচ্ছে। পোঁ পোঁ শব্দের অ্যাম্বুলেন্সকেও কেউ এত দ্রুত পথ ছাড়ে না।



পুলিশের সঙ্গে র‍্যাবের এইটাই মনে হয় তফাত। পুলিশ বেশি কথা বলে। র‍্যাব চুপচাপ। তারা কর্মবীর। কর্মে বিশ্বাসী।



আমি খবরটা মন দিয়ে পড়লাম। সবই ঠিক আছে , একটা শুধু সমস্যা। মুরগি ছাদেক পাঁচ রাউন্ড গুলি এবং পিস্তল নিয়ে র‍্যাবের সঙ্গে গাড়িতে বসেছিল? এত জিজ্ঞাসাবাদের পরেও কেউ বুঝতে পারে নি মুরগি ছাদেকের সঙ্গে গুলিভরা পিস্তল আছে?



দেশরত্ন শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের আগমন।

ইন্টারেস্টিং খবর তো বটেই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান রাজনীতি করবেন, আর শেখ হাসিনা চুপ করে বসে থাকবেন, তা হবে না। এবার হবে পুত্রে পুত্রে লড়াই। আমরা নিরীহ দেশবাসী মজা করে দেখব।






টাকা খাওয়া- খাওয়ির ব্যবস্থা থাকার এটাই সুবিধা। হাসপাতালের কেবিন যে কোন সময় পাওয়া যায়। সমস্যা হয় রমজান মাসে। সব ঘুসখোররা রমজান মাসে রোজা রাখেন, তারাবির নামাজ পড়েন। একটা মাস ঘুস খান না। ঘুস খাইয়া শুরু হয় ঈদের জামাতের পর।









আজ হিমুর বিয়ে







ভিক্ষাবৃত্তিকে আমাদের সমাজে খুব খারাপভাবে দেখা হয় না। আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে ভিক্ষা করি। আমাদের রাষ্ট্রও ভিক্ষুক রাষ্ট্র। দাতা দেশের ভিক্ষায় আমরা চলি।



আমাদের দেশে র‍্যাব নামের এক বস্তূ আছে। এরা আসামি ধরে কিন্তু থানায় জমা দেয় না।

তারা কি করে?

তারা থানা কোর্ট হাজত এইসবের ঝামেলায় যেতে চায় না । মেরে ফেলে।

মেরে ফেলে মানে?

কোনো একটা ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে বলে, তোমাকে ছেড়ে দিচ্ছি। দৌড় দাও। ঝেড়ে দৌড় দেবে। খবরদার পেছনের দিকে তাকাবে না। অপরাধী ঝেড়ে দৌড় দেয়, তখন পেছন থেকে গুলি।






গায়ে যাতে দাগ না পড়ে তার জন্য কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে পেটানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি পুলিশের আছে। হঠাৎ হঠাৎ পদ্ধতিতে সামান্য গণ্ডগোল হয়। আসামি মারা যায়। পুলিশের তাতে তেমন অসুবিধা হয় না। হার্ট অ্যাটাকে মানুষ তো কতই মরে। পুলিশের ডেডবডি ডিসপোজাল সিস্টেমও ভালো। সম্ভব আসম্ভব যে কোনো জায়গায় তারা ডেডবডি ফেলে দিয়ে আসতে পারে। নিজেদের পানির ট্যাংকে ডেডবডি ফেলে সেই পানি খেতেও তাদের আপত্তি নেই।









হিমুর মধ্যদুপুর



ফিনাইল গন্ধমুক্ত হোটেলধর্মী হাসপাতাল। ইদানিং এই ধরনের হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রচুর হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলোর লক্ষ্য রোগীকে ফাইভ স্টার হোটেলের আনন্দে রাখা। চিকিৎসা অনেক পরের ব্যাপার। সমস্যা হচ্ছে রোগীরা চাচ্ছে চিকিৎসা। ফাইভ স্টার হোটেলে আরামে থাকতে চাইলে তারা ফাইভ স্টার হোটেলেই যেত। হাসপাতালে ভর্তি হতো না।





কাদের সিদ্দিকীর গামছা মানে ?

পলিটিক্যাল গামছা, স্যার। টেকসই, সহজে রঙ যায় না।




খালু সাহেবের সঙ্গে যতবারই কথা হয় আনন্দ পাই। একটা মানুষ জগতের আনন্দ যজ্ঞের নিমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আনন্দ যজ্ঞে আমাদের সবার নিমন্ত্রণ। কিন্তু আমরা নিমন্ত্রণের কার্ড হারিয়ে ফেলি বলে যেতে পারি না। দূর থেকে অন্যের আনন্দ যজ্ঞ দেখি।





হিমুর নীল জোছনা



উপস্থাপিকার পাশে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়। উনি বেঁটে এবং স্থূলকায়। পায়জামা পাঞ্জাবির সঙ্গে মুজিবকোট পরেছেন। মুজিবকোট বঙ্গবন্ধুকেই মানায়। এই কোট বেঁটে এবং মোটারা পরলে তাদের লাগে পেঙ্গুইন পাখির মতো।







আমরা পুলিশরা হচ্ছি কাকের মতো। কাকের মাংস কাক খায় না। পুলিশের মাংস পুলিশ খায় না। সাংবাদিকদের ঠাণ্ডা রাখার জন্য বলা হয় - সাময়িক বরখাস্ত। এক থানার ওসি ক্লোজ হলে অন্য থানায় তাঁকে ওপেন করা হয়।





তৃতীয়জন বলেছেন তিনি কাহালুর ছাত্রলীগের সংস্কৃতি সম্পাদক। তাঁর বয়স একষট্টি তবে তিনি তাঁর ছাত্রত্ব সম্পর্কে গ্যারান্টি দিচ্ছেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনে সবসময় কোন না কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন।



বললাম না , ভাসমান পতিতা। শমিতা পত্রিকায় বিশাল ইন্টারভ্যু দিবে। সেই ইন্টারভ্যু ছবিসহ ছাপা হবে। আপনারা পুলিশেরা যেমন ইচ্ছেমতো সাক্ষী হাজির করতে পারেন। আমরাও পাড়ি ইচ্ছেমতো ইন্টারভ্যুর ব্যবস্থা করতে।



বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র নাম রাখায় কিছু বিপদ আছে। সরকার বদল হলেই নাম বদল হবে। নতুন নাম ' জিয়া গবেষণা কেন্দ্র'। বাড়ি ছাত্রদলের দখলে চলে যাবে। 'নজরুল পাঠচক্র' - এ এই চক্কর থাকবে না।



নারীকণ্ঠ বলবে, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ থেকে বলছি। আমি রিনা। কেমন আছেন? শুভ দুপুর। ( চাঁদা চাইতে হবে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের নামে। নজরুল পাঠচক্রের নামে চাঁদা চাইলে দুই তাকার ছেঁড়া নোটও পাওয়া যাবে না।)



হিমু বলল, চাঁদা না দিলেও তের তারিখ এই বাড়িটা ছেড়ে দেবেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অন্য কোথাও করবেন। ভালো কথা, আপনি ছাত্রলীগ করেন। বঙ্গবন্ধু যখন সপরিবারে নিহত হলেন তখন কিন্তু আপনার ছাত্রলীগ টুঁ শব্দ করে নাই। মিটিং মিছিল দূরের কথা।

সেই সময়ের ছাত্রলীগ কি করেছে তাঁর দায়িত্ব তো আমাদের না ।

হিমু বলল, আচ্ছা এই সময়ের ছাত্রলীগের কথাই হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে অ্যারেস্ট করে জেলে ঢোকানো হলো। তখনো কিন্তু আপনারা টুঁ শব্দ করেন নি। মিটিং না , মিছিল না। আজ অন্যের বাড়ি দখল করে গবেষণা কেন্দ্র খুলে বসেছেন।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০১৪ ভোর ৪:৩৭

সাফকাত আজিজ বলেছেন: ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংকলন গুলো ভালো লাগলো...।

২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:০৬

নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী বলেছেন: ধন্যবাদ সাফকাত আজিজ ভাই।

২| ২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:০২

পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ‌'সাহিত্যিকের মৃত্যু এবং আমাদের গদগদে আবেগ' শিরোনামে একটি গদ্য রচনা করেছিলাম। আজ গদ্যটি স্মরণ করছি। যারা পড়েননি তাদের পড়ার আহবান জানাই।
গদগদে আবেগ
Click This Link

২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:১২

নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদ এর সমালোচনা করা এমন চমৎকার মান সম্মত একটি পোস্ট লিখেছেন জেনে ভালো লাগল। কিন্তু বাজারি সাহিত্যিকের উপর লেখা আপনার এমন উঁচু মানের প্রবন্ধ নিয়ে নিজেই সন্তুষ্ট থাকলেন না। প্রায় প্রতিটি পোস্টে গিয়েই আপনার এই লিংক ফেরী করে বেড়াতে হচ্ছে। আপনার সাহিত্যমানের তো জাত গেল। থ্যাংকস গড অন্তত লিংক ফেরী করার ব্যবস্থা সামুতে আছে নয়ত কলিকাতা হারবালের মত বিজ্ঞাপন দিতে হত।

হুমায়ূন আহমেদ কে সমালোচনা করতে চান তাহলে এই পোস্টেই আপনার মুল্যবান কথা বলুন। দেখি আপনার যুক্তি খণ্ডন করতে পারি কি না।

৩| ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:২০

মাহমুদ০০৭ বলেছেন:
ভাল লাগা রইল ।

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪৫

নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী বলেছেন: Thanks Mahmud.

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.