নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেচে থাকার তাগিদে পথ চলি। ব্যাস্ত মানুষের ভিড়ে অলস দৃষ্টি আমার হারিয়ে যায়। খুঁজে ফিরে একটুকরো নাগরিক অবসর।

নাগরিক-দাঁড়কাক

https://www.facebook.com/nagorik.darkak

নাগরিক-দাঁড়কাক › বিস্তারিত পোস্টঃ

শেষের ওপাশে

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৩০

কাকরা এসে ঘরের প্লাস্টিক চালে বসার আগেই ঘুম ভাঙ্গে বাকের মিয়ার। মিয়া নামটা শখ করে রেখেছিলো বাকেরের বাবা। কয়লার মাজন দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে পুরনো গামছা কাঁধে ঝুলিয়ে বাকের বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। বস্তি থেকে কিছুটা দূরেই বাকেরের অন্ন যোগানের একমাত্র উপায় ছোট্ট টং এর দোকান। শরীরে আগের মতো শক্তি না থাকলেও সকালে আয় একটু বেশী হয় বিধায় খুব সকালে উঠেই তার দোকান খুলে বসতে হয়



বেশীর ভাগ নিম্ন মধ্যবিত্ত আর সাধারণ মানুষ এসে বসে বাকেরের পাতানো ছোট্ট টুলে। চায়ের কাপে চামচ নাড়তে নাড়তে শুনে সিএনজিওয়ালার জীবনের গল্প , অফিস কেরানীর দুঃখের কথা , সাধারণ চাকুরীজীবীর মাসের বকেয়া বেতনের ক্ষোভে বসকে গালি কিংবা নিজের ওজনের চেয়ে ভারী বিশাল স্কুল ব্যাগ কাঁধে এক ঝাঁক বকের মতো সাদা ইউনিফর্মে স্কুল ছাত্রদের স্বপ্নের কথা!

একসময় বাকেরেরও কৈশোর মনে এসে ভিড় করতো কত স্বপ্ন ইচ্ছে; পড়াশুনা করবে বড় হবে আর কাড়ি কাড়ি টাকা ইনকাম করে আরাম আয়েশ করবে। নয়টি পেটের অন্য যোগাতে যেখানে হিমশিম খেতো বাকেরের বাবা সেখানে পড়াশুনা তো বিলাসিতা বটে। "চাচা" ডাকে ঘোর ভাঙ্গে বাকেরের...



আজিম গত দুই বছর ধরেই বাকেরের দোকানের নিয়মিত কাস্টমার। বয়সের অনেক পার্থক্য থাকলেও বেশ ভালো সম্পর্ক আজিমের সাথে। সকালে এসেই এক কাপ চা আর একটা রুটি খেতে খেতে নানান গল্প হয় বাকেরের সাথে।

ধরা যায় আজিম এই শহরের সাধারণ যুবক। কোনভাবে টিউশানি করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। আজিমের মতো অনেক ছেলেই এই শহরে টিউশানি করে স্বপ্ন পূরণ করে। জীবনের চাহিদা মেটাতে মেটাতে যান্ত্রিকতায় আচ্ছন্ন কর ফেলে আজিমের অবসরকে। যান্ত্রিকতা আর টানাপোড়নে আজিমের ছোট্ট মন মরে গেলেও এক কোনায় যেন কিছু ভালোবাসা জমা থাকে নুসরাতের জন্য। বাসা থেকে দুই মাইল হেটে এসে ছোট্ট টুলে বসে চা খেতে খেতে নুসরাতের জন্য অপেক্ষা করে। কয়েকমাসের টিউশানির টাকা জমিয়েছে একটা সাইকেল কিনতে , তাহলে রোজ সকালে হেটে আসার কষ্টটা কমে যাবে! খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠে আজিমের চোখ। অপেক্ষার প্রহরগুলোতে ছোট ছোট স্বপ্ন বুনে রুটিতে কামড় দিতে দিতে। এই পথ দিয়েই একটু পর রিকশা করে চলে যাবে নুসরাত। আজিমের খুব ইচ্ছে নুসরাতের সাথে ঘুরতে বের হবে একদিন সকালে । মেহেদী মাখানো হাত ধরে দুজন ঘুরে বেড়াবে অচেনা শহরের অলিতে গলিতে। রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে পথে থেমে কিনে দিবে শিশির-সিক্ত একগাদা গোলাপ...



-কাশেম সাবের মাইয়ার লগে কিছু আছে নাকি আপ্নের ?

বাকেরের প্রশ্নে বিব্রত হয়ে যায় আজিম। ভাবতে থাকে একজন ভালবাসলে আদৌ তাকে প্রেম বলা যায় কিনা !



"না" উত্তর দিয়েই আবার খেতে থাকে আজিম।



-প্রেমে করনের বয়স তো এইডাই। আপ্নের বয়সে আমিও পাশের গ্রামের একডার প্রেমে পড়ছিলাম। চৌধুরী বংশের মাইয়া , অনেক বড়লুক। গরিব বলে প্রেমডা হয়নাই।



আজিম আনমনে শুনতে থাকে বাকেরর কথা... মানুষের জীবনের গল্প আজিমকে বিমোহিত করে।

নুসরাত ও তার নয় । হবেই কেন ! আজিমকে তো চিনে না নুসরাত ।।একবার এক কাজে এসে নুসরাতকে দেখেই ভালো লেগেছিলো আজিমের এর পর থেকেই রোজ নুসরাতের দুচোখ দেখতে আসে ... দেখতে আসে মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে তার চলে যাওয়া।। চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়না সে। নুসরাত তার নয় ভাবতেই চোখ ছলছল করে আজিমের । ছলছল চোখে টাকাটা দিয়ে বিপরীতে হাঁটা শুরু করে আজিম। বাকেরের দৃষ্টি সে দৃশ্যকে আড়াল করেনা। বাকের বুঝতেও পারেনা রোজ একটা মানুষ এইভাবে চলে যাওয়া দেখে কি পায় ?চায়ের কেটলিটা স্টোভে বসাতে বসাতে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায় সে...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.