নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেচে থাকার তাগিদে পথ চলি। ব্যাস্ত মানুষের ভিড়ে অলস দৃষ্টি আমার হারিয়ে যায়। খুঁজে ফিরে একটুকরো নাগরিক অবসর।

নাগরিক-দাঁড়কাক

https://www.facebook.com/nagorik.darkak

নাগরিক-দাঁড়কাক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃষ্টিস্নাত ব্যবধান

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৪৮





এক পশলা বৃষ্টিতেই শহরের পথ ঘাট ভিজে যায়। শহর ভিজে গেলে আসিফের ও মন খারাপ হয়ে যায়। সন্ধ্যে বেলার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় হাটতে বেশ অসুবিধা হয়। আসিফের মন খারাপ হলেই হলুদ আলোর সাথী হয়। ছুটে যাওয়া হেড লাইটের আলোয় ব্যস্ত মানুষ দেখতে তার আনন্দ হয়। বেকারের জীবনের অর্থ নেই বোধ হয়।

অনেক দিন হলো বিরিয়ানি খাওয়া হয় না। বিরিয়ানির কথা মনে পড়তেই ক্ষিধেটা বেশ বেড়ে গেলো। দুদিন আগে টিউশানির টাকা পাওয়ায় টাকার অভাব নেই আপাতত। ভাবতে ভাবতেই বের হয়ে গেলো আসিফ...

১৫ মিনিট হেটেই করিমের দোকানে পৌঁছানো যায়। করিম তার থেকে বয়সে ছোট ভালো বিরিয়ানি রাঁধতে পারে। মাংসের পরিমাণের উপর বিরিয়ানির দাম তবে ২০ টাকার বেশী নয়। আজ অনেক টাকা আছে পকেটে । টাকা না থাকলে ১০টাকার বিরিয়ানি খাওয়া যায় ।আজ ২০টাকা প্লেট বিরয়ানী নিয়েই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে লাগলো আসিফ।

নিম্ন মধ্যবিত্ত আর গরিবেরা ফিরতে করিমের দোকানে এসে বিরয়ানী খেয়ে যায়। করিমের বেশ ভালো লাভ হয়। এই টাকায় ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা আর ছোট্ট সংসারের ভালোভাবে চলে যায়। তবুও বাবার অভাব থেকে যায় করিমের। বেশ কয়েক বছর হলো করিমের বাবা মারা গেলো। সময়ের স্রোতে শোকও শুকিয়ে গেলো। করিমের মুখেই এইসব গল্প একসময় শুনেছিলো , শুনে সেইদিন আসিফ ১০টাকার প্লেট জোর করে ১৫ টাকা দিয়েছিলো । নিতে না চাইলেও করিম প্রাণবন্ত হাসি দেখতে পেয়েছিলো।এরকম সুখী মানুষ বোধ হয় আসিফ সেদিনেই দেখেছিলো।

নিম্নবিত্ত এক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা এসে বিরানি খাচ্ছিল তা এতক্ষণ খেয়াল করেনি আসিফ। বোধ হয় গার্মেন্টসে চাকুরী করে। মেয়েটির নাক-ফুল জ্বল জ্বল করছে করিমের ফ্লাড লাইটের আলোয়। দুজন বেশ মজা করে বিরানি খাচ্ছে। চোখ দেখে মনে হয় মেয়েটি অনেক স্বপ্ন চোখে বাঁচিয়ে রেখেছে জীবন সংগ্রামের মাঝে। হাসি দেখতে অনেকটা রুপার মতো। রুপার কথা মনে হতেই কিছুটা বিষাদগ্রস্ত হয়ে যায় আসিফ। দাম মিটিয়ে বাসার দিকেই পা বাড়ায় ...

সপ্তাহে তিনদিন পড়ন্ত বিকেলে পড়াতে যায় রুপাকে। পড়ার মাঝে মাঝে মুগ্ধ হয়ে রুপাকে দেখে। মিষ্টি হাসি খেলা করে সবসময় রুপার ঠোটের কোনে সবসময়। রুপার কথা মনে হতে আজকের বিকেলের কথাগুলো মনে পড়ে যায় আসিফের।

-স্যার কি দেখেন?

কিছুনা... রূপা আসিফের দিকে তাকিয়েছিল বুঝতে পেরে বেশ বিব্রত বোধ করে।

-চা খেয়ে নেন স্যার ।ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে ।

চা'য়ের কাপ হাতে তুলে নিতে নিতে আসিফ খুঁজে পায়না রূপার প্রতি ভালোলাগা জন্মেছে কিনা ! এইসব ভাবতে ভাবতে মনে হয় রূপাকে আর বেশীদিন পড়ানো হবেনা। মনে পড়তেই আসিফ চাপা কষ্ট অনুভব করে ! উঠে চলে আসে রূপার বাসা থেকেই... মন খারাপের সন্ধ্যেকে সাথে নিয়ে ব্যবধান বাড়তে থাকে দুজনের মধ্যে। বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে যায় শহরকে , আসিফকে ...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.