| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লোকাল বাস গুলো যেন একেকটা আগ্নেয়গিরি হয়ে আছে। অফিস ফেরত, কর্মস্থল ফেরত মানুষগুলো বস্তাবন্দী হয়ে গন্তব্যে ছুটছে, সারাদিনের ক্লান্তি ছাপ লেগে থাকে সারা অবয়বে। এই যে বাসা অফিস বাসা চক্রে বন্ধী হয়েছে তাতে বিন্দুমাত্র বিরক্তি নেই মানুষগুলোর। যে বেচে থাকার নিমিত্তে সব ইচ্ছা বিসর্জন দিলো। অর্কের এই চক্রাকার জীবন ভালো লাগে না। ছোটখাটো একটা চাকরী করে অর্ক। অফিস শেষে প্রতিদিন দুই মাইল হেটে যায়। এই যে বস্তাবন্দী মানুষের ছুটে চলা , রাস্তার পাশে জীবন সৈনিকদের অবসর কাটানো কিংবা মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তদের ব্যস্ততা প্রতিদিন দেখতে দেখতে ঠিকেই বাসায় পৌঁছে যায়। প্রতিদিন নতুন নতুন চিত্র দেখে ভাবতে থাকে প্রতিটি মানুষগুলো আলাদা , মানুষগুলোর কাজ আলাদা।
মাস ফুরোতে আরো নয় দিন আছে অথচ হাতে যা টাকা আছে তাতে বড়জোর তিন চারদিন যাবে। এটা নিয়ে অবশ্য খুব একটা চিন্তিত নয় অর্ক। কত মানুষ এক বেলা খেয়ে বেচে থাকে অর্ক ও ঠিকেই বেচে থাকবে। অর্ক মনে করে বেচে থাকতে দুবেলা খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
আসার সময় যাকেরের চায়ের দোকান পড়ে, প্রতিদিন যাকেরের দোকানে কিছুক্ষণ বসে যায় অর্ক।
চা খেতে খেতে হটাৎ কারো অর্ক ডাকে সম্বিত ফিরে পায় অর্ক। পিছনেই ঘুরতে কিছুক্ষণের জন্য কোথায় হারিয়ে যায় অর্ক। তিনটি বছর যাকে অর্ক খুঁজে বেড়ায় এই শহরে আজ সেই অর্কের সামনে।
কেমন আছো?
- হুম চলে।
কি করছো ?এখনো বেকার?
চাকরী করে কথাটা বলতে অর্কর ইচ্ছে হল না। বেকারও বলতে ভালো লাগলো না। কথা ঘুরিয়ে দিতে বলল "চা খাও। "
আমি খেয়েছি , তুমি খেয়ে নাও; বলে তমার ঠোটের কোনায় কেমন যেন মলিন হাসি ফুটে উঠলো । রাস্তায় চা খাওয়া তমার খুব একটা পছন্দ না। তমার জোর করে হাসলে অর্কের চোখ এড়ায় না। দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিচয়ে তমার চোখের ভাষা ঠিকেই ধরতে পারে অর্ক। অর্ধেক চা রেখেই দুজন সামনে এগুতে লাগলো।
-এখন কি করছ?
এফসিপিএস শেষ হল কিছুদিন আগে, চেম্বার করবো চিন্তা করছি।
হুম বলেই কি জিজ্ঞেস করবে খুঁজে পায় না অর্ক। অথচ অর্কের মনে হাজারো প্রশ্ন জমা ছিল তমার জন্য। খুঁজে পেলে উত্তর চেয়ে নিবে সেসসবের ।অথচ সেসব প্রশ্ন মনেই আসছে না।
-এখনো কথা খুঁজে পাওনা ?নাকি আমাকে দেখে বিরক্ত হচ্ছ?
তমার কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে ইচ্ছে হলোনা অর্কের , প্রশ্ন তো অর্কেরেই করার কথা। তারপরও কিছু একটা বলা উচিৎ ভেবে প্রশ্ন করলো " বিয়ে করেছো ?"
অর্কের অবাক করা প্রশ্নে তমা কিছুটা নির্বাক থেকেই উত্তর দিলো নাহ। দুজন হাঁটতে হাটতে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এসে থামল এই কৃষ্ণচূড়ার নিচেই প্রথম দেখা হয়েছিল তমার সাথে। চোখে চোখ রেখে অর্ক সেদিন মনে করেছিলো অর্কের চেয়ে বড় সুখী কেউ নেই আর। অথচ অর্ক তমার আজ কত যোজন যোজন দূরত্ব।
-যায়গাটার কথা মনে আছে?
তমার প্রশ্নে সম্বিত ফিরে পেয়ে চোখ রাখল তমার চোখে, ধুসর আলোয় তোমার চোখ চিকচিক করছে সে দৃশ্য অর্কের চোখ এড়ায় নি। তমা কেন কাঁদছে উত্তর খুঁজে পায় না অর্ক। অর্ক একটি ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে তমার দিকে এগিয়ে দিয়েই বলল তারিখের কথাটাও মনে আছে। হটাৎ তমার মনে হল আজ ২৭শে জুন, আট বছর আগে এদিনেই অর্ককে ভালোবাসি বলেছিল তমা।
চোখ ঠিকরে কান্না বেরিয়ে আসছে যেন তমার , ইচ্ছা করছিলো অর্কের হাত ধরে বলবে ভালোবাসি। কোন অদৃশ্য দেয়াল যেন তাদের মাঝে কেউ গড়ে দিয়েছে চাইলেও সেই দেয়াল পেরিয়ে তমা কিংবা অর্ক হাত ধরতে পারেনা।
২৮ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৭
নাগরিক-দাঁড়কাক বলেছেন: ধন্যবাদ।
২|
২৮ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:০১
মামুন রশিদ বলেছেন: কিন্তু দেয়ালটা কেন, একটু বিস্তারিত লিখলে ভালো হত ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৩৫
ফা হিম বলেছেন: ++++++