নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আকাশ পানে চেয়ে থাকা আপলক দৃষ্টি যবে ঝরে বৃষ্টি মন হয় উদাস দেখি সব অপরূপ সৃষ্টি

নিরল হৃদয়

জনশূন্য হৃদয়ের আর কী-ই বা কথা থাকতে পারে! তাই তো আমার হৃদয় আজো নিরল।

নিরল হৃদয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

>>>

১৯ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৩


বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের একটি অনুমোদিত সংস্থা। এতে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ইউরোপের ডেনমার্ক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে একই মহাদেশের সুইজারল্যান্ড ও আইসল্যান্ড।

১৫৭ দেশের এই দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১১০তম। আর তালিকার সবচেয়ে অসুখী দেশ বুরুন্ডি।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) প্রকশিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট আপডেট ২০১৬-এর তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

তালিকা করা হয়েছে মূলত কয়েকটি দিক বিবেচনা করে তার মাঝে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য হলো- দীর্ঘায়ু, দুর্নীতির নিম্নমাত্রা এবং জীবনপন্থা নির্বাচনে স্বাধীনতা, সামাজিক সুযোগ ও সহযোগিতা, হৃদ্যতা, সুখভোগের বৈষম্যের স্বল্পমাত্রা, মাথাপিছু আয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

যে বিষয়গুলো নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে বিষয়গুলো নিয়ে এবার একটু আলোচনা করা যাক। প্রথমেই আছে দীর্ঘায়ু, হ্যাঁ এই জায়গাতে আমরা একটু এগিয়েছি কিন্তু বাকীগুলো???

বাকীগুলোর মাঝে আছে দুর্নীতির নিম্নমাত্রা। আসলেই কী আমরা দুর্নীতির নিম্নমাত্রায় পড়ি?? কেমন করে পড়ি- যেখানে বাংলাদেশ সংবিধানের (২৭নং অনু) বলা হয়েছে, আইনের চোখে সমতা। সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হবে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারে না ।

অপরদিকে (৪০নং অনু) বলা হয়েছে- যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিক আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধসাপেক্ষে যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণ করতে এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায় পতিচালনা করতে পারবে ।

আসলেই কী আমরা আইনের চোখে সমান এবং যোগ্যতানুযায়ী চাকুরি পাই! পাই না। চাকুরি পেতে হলে দলীয় সিল থাকা লাগবে। এ সমস্যা যে শুধু এ আমলে তা কিন্তু না। সব আমলেই আমরা এ মৌলিক অধিকারের সঠিক প্রাপ্য হিস্যা বুঝে পাইনি। তাহলে কেমন করে আমরা সুখী দেশের তালিকায় আসি??

জীবনপন্থা নির্বাচনে স্বাধীনতা, এটিও একটি আলোচ্যবিষয়। সেটা নিয়ে এবার কটি কথা না বললেই না। যেখানে বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৬ থেকে ৪১ নং অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এখানে উল্লেখ আছে চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা, পেশার স্বাধীনতা ও ধর্মের স্বাধীনতা।

আমরা কি উপরক্ত সকল স্বাধীনতা ভোগ করতে পারি?? পারি না। স্বাধীন ভাবে চলা-ফেরা করতে পারি না । স্বাধীন ভাবে কথা বলতে পারিনা। জরুরী কোন কথা বলতে বলতে গেলেও ভয় কাজ করে। হয়তো সে কথা কারো আঁতে লেগেছে এবং তার প্রতিদান স্বরূপ হতে হয় লাশ। এত পরাধীনতার মাঝে বসবাস করেও যখন শুনি আমরা সুখী দেশের তালিকায় আছি তখন সত্যিই আমার খুব কষ্ট হয়।

সামাজিক সুযোগ ও সহযোগিতা নিয়ে দুটো কথা না বললেই না। কিছু মানুষ আছে যারা সব সময় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে রাখে কিন্তু সর্বসাকুল্যে অবস্থা মোটেও ভালো না। সকলে ব্যস্ত নিজের আখের নিয়ে।

মাথাপিছু আয় সম্পর্কে কথা বলেই শেষ করব। শত কষ্ট সহ্য করে, পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে পড়ে আছে নিজের আর দেশের উন্নয়নের জন্য। যারা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে আমরা তাদের পাঠানো টাকাটাও সঠিকভাবে সামলে রাখতে পারিনা অথচ সুখী দেশের তালিকায় নাম আছে বলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে সবকিছু দেখেও না দেখার ভাব করে দিব্যি আরামসে খুরে বেড়ায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.