নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আ‌মি মুসলমান, আ‌মি বাঙ্গালী। নির্জনতার মা‌ঝে আনন্দ খু‌জি।

িনর্বাক ব্রহ্মপুত্র

আ‌মি সাধারণ একজন মানুষ... সাধারণ জীবন যাপ‌নে অভ্যস্ত। ভাললা‌গে বই পড়‌তে, ‌দেশ বি‌দে‌শে বেড়া‌তে, আড্ডা দি‌তে। অ‌পছন্দ ক‌রি কা‌রো অবর্তমা‌নে নিন্দা করা, অবজ্ঞা করা, অ‌ফিস করা। আমার কোন ভ‌বিষ্যত প‌রিকল্পনা নেই, শুধু আজ‌কের জন্য ভালভা‌বে বাঁচ‌তে চাই।

িনর্বাক ব্রহ্মপুত্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

সত্যজিতের রবি শঙ্কর

০৩ রা মে, ২০১৪ রাত ১:২০

‘আ সিতার রিসাইটাল বাই রবি শঙ্কর’ নামের সেই তথ্যচিত্র কখনও আলোর মুখ না দেখলেও, এবার বই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে সেটির খসড়া ও চিত্রনাট্য।



‘দ্য হিন্দু’-এর তথ্য অনুযায়ী, শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের লেখনিতে ‘সত্যজিৎ রায়’স রবি শঙ্কর: অ্যান আনফিল্মড ভিজ্যুয়াল স্ক্রিপ্ট’ নামের বইয়ে তথ্যচিত্রটির জন্য সত্যজিতের নিজের আঁকা দৃশ্যেও খসড়া, গল্পকাঠামো আর চিত্রেনাট্যেও পাশাপাশি স্থান পেয়েছে তার ছেলে নির্মাতা সন্দীপ রায়ের বক্তব্যও।



হারপার কলিন্সের তরফ থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বইটির মোড়ক উন্মোচন হবে। কলকাতায় সত্যজিতের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন ভারতীয় অভিনেতা নাসির উদ্দিন শাহ।



সত্যজিৎ রবি শঙ্করের সুরের প্রেমে পড়েছিলেন ‘নিচানাগার’ এবং ‘ধারতি কে লাল’ সিনেমা দুটো দেখে। আর তারপরপরই ‘পথের পাঁচালি’র জন্য সংগীত পরিচালনা করতে রবি শঙ্করের দ্বারস্থ হন তিনি।



এর পর আরো তিনটি সিনেমায় একত্রে কাজ করেছেন দুজন। সত্যজিতের অমর সৃষ্টি ‘অপু ট্রিলজি’ (পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার) তো বটেই, মাঝখানে ১৯৫৮ সালের ‘পরশ পাথর’ সিনেমার সংগীত পরিচালনাও করেছিলেন রবি শঙ্কর।



পঞ্চাশের দশকে একত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে একে অন্যের কাছাকাছি আসেন সত্যজিৎ আর রবি শঙ্কর। সেই ধারবাহিকতায়ই তৈরী হয় বন্ধুত্বেও এক অনন্য সম্পর্কের; দুজনের মাঝে যা টিকে ছিল জীবনের শেষ পর্যন্ত। সেই সম্পর্কেও গভীরতা এতাটাই ছিল যে, বন্ধুর মৃত্যুতে নিজের সুরে আস্ত এক অ্যালবামই তৈরী করেছিলেন রবি শঙ্কর।



“১৯৬১ সাল থেকে বাবা নিজের সিনেমার সংগীত নিজেই করতে শুরু করেন। এরপর তাই তাদের একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তাদের সম্পর্কের গাঁথুনি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর বন্ধুত্ব দিয়ে। সেই সম্পর্ক টিকে ছিল বাবার শেষ নিশ্বাসের মুহুর্ত পর্যন্ত।” বইটিতে এভাবেই বাবা সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে রবি শঙ্করের সম্পর্কেও বর্ণনা করেন সন্দীপ।



পঞ্চাশের দশকের শেষে তরুণ রবি শঙ্করের সেতার-বাদন নিয়ে তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ। সেই উদ্দেশ্যে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা দৃশ্যের খসড়া এঁকে গেছেন সত্যজিৎ; জলরঙে আঁকা সেসব দৃশ্য একসঙ্গে করলে আস্ত এক ছবির সিরিজই তৈরী করে ফেলা সম্ভব বলেই মনে করেন বইটির লেখক।



তার মতে, ‘দ্য এলিয়েন’ এর মতো রবি শঙ্কও কে নিয়ে তথ্যচিত্রটিও ছিল সত্যজিতের অনেক যত্ন আর ভালোবাসার প্রজেক্ট। শঙ্করলাল বলেন, “এটা ছিল রবি সঙ্করের সেই সেতার-বাদন, যা কেউ কখনও শোনেনি। সত্যজিৎ রায়ের জন্য এটি ছিল তার ভালবাসার সেই দুটি চলচ্চিত্র প্রজেক্টের একটি, যা তিনি বাস্তবে পরিণত হতে দেখতে চেয়েছিলেন। একটি কনসার্টেও ওপর ভিত্তি করে একটি তথ্যচিত্র- সত্যজিত শোনা এবং দেখা- এই দুই ইন্দ্রীয়সুখের সম্মিলন ঘটাতে চেয়েছিলেন এক জায়গায়।”



‘দ্য এলিয়েন’-এর বাস্তবায়ন কেন হয়নি, সেসব নিয়ে ব্যাখ্যা থাকলেও, রবি শঙ্করকে নিয়ে সত্যজিতের তথ্যচিত্রটি কেন হয়নি- তা নিয়ে কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি লেখক নিজেও। তবে তার ধারণা, সত্যজিৎ চেয়েছিলেন তরুণ বয়সের রবি শঙ্করকে তার ক্যামেরায় তুলে ধরতে। কিন্তু পরবর্তীতে রবি শঙ্করের বয়স বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আর আগাননি তিনি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.