নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি বাঙালী, বাংলাদেশি

থেমে যাবো বলে তো পথ চলা শুরু করিনি।

নিষ্‌কর্মা

সততি লিখলেই মাইনাছ আর বেশী সততি লিখলে মডু স্ট্যাটাস নাবায়া দেয়!

নিষ্‌কর্মা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আন্দোলনের এ-কাল সে-কাল

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:২২



১৯৯৬ সালের ঘটনা বলি পড়ে দেখুন। ২০১৩ সালে কি একই ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি ঘটছে না?



সর্বপ্রথম জামায়াত এবং তারপর আওয়ামী লীগ ১৯৯৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল সংসদ সচিবালয়ে পেশ করে৷ এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সংযোজন করা উচিত৷ কিন্তু বিএনপি প্রথম থেকেই এ দাবি অসাংবিধানিক বলে অগ্রাহ্য করতে থাকে। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন সংসদ ভবনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে৷ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই রূপরেখাকে অসাংবিধানিক ও অবাস্তব বলে ঘোষণা করেন৷। বেগম জিয়া বলেন, একমাত্র পাগল ও শিশু ছাড়া কোন মানুষের পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। কমনওয়েলথ মহাসচিব সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মাঝে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন৷ এরপর নভেম্বরে কমনওয়েলথ মহাসচিবের প্রতিনিধি স্যার নিনিয়ান সমঝোতা প্রচেষ্টা চালান৷ তিনিও ব্যর্থ হন। [দৈনিক যায়যায়দিন, নভেম্বর ৬,২০০৬]



৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪ আওয়ামী লীগ, জামায়াত আলাদা সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়৷ সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকায় ২৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগপত্র পেশ করে৷ ২৩ ফেব্রুয়ারি স্পিকার তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণযোগ্য নয় বলে রুলিং দেন। ১৯৯৫ সালের ১৯ জুন বিরোধী সংসদ সদস্যদের পরপর ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিতি পূর্ণ হয়। এতে সংসদে তাদের আসন শূন্য হবে কি-না এ নিয়ে বিতর্কে সরকারি দল ও স্পিকারের মাঝে মতদ্বৈধতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেক পদত্যাগী সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হবে কিনা জানতে চেয়ে সুপ্রীম কোর্টের কাছে পরামর্শ চান৷ সুপ্রীম কোর্ট পদত্যাগী সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার পক্ষে মত দেন৷ ৩১ জুলাই ১৯৯৫ সংসদ সচিবালয় থেকে ৮৭ জন বিরোধী সংসদ সদস্যর আসন শূন্য বলে ঘোষণা করা হয়৷ এছাড়া যে ৫৫ জন বয়কটকালে হাজিরা খাতায় সই করেছিলেন তাদের সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, যেদিন তারা হাজিরা খাতায় সই করেছিলেন সেদিন বৈঠকে তারা উপস্থিত ছিলেন কি-না৷ সংসদ সদস্যরা এ চিঠির কোনো উত্তর দেননি৷ অবশেষে ৭ আগস্ট ওই ৫৫ জনের আসনও শূন্য ঘোষণা করা হয়৷ নির্বাচন কমিশন ১৪২টি শূন্য আসনে ১৭ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয়৷ পরে বন্যার কারণে উপ-নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷ তারা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৩২ ঘণ্টা হরতাল পালন করে৷ ৬ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা আবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তান দেন।[দৈনিক যায়যায়দিন, নভেম্বর ৬,২০০৬]



প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব অসাংবিধানকি ও অযৌক্তিক বলে বাতিল করে দেন৷ প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকেন৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে৷ এরপর ১৬ নভেম্বর ১৯৯৫ থেকে একাধারে ৭ দিন হরতাল পালিত হয়৷ হরতাল আর অবরোধের ফলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম দুরবস্থার মুখোমুখি হয়৷ সরকার উপ-নির্বাচনে না গিয়ে ২৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয় এবং ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৬ সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়৷ পরে তৃতীয়বারের মতো তারিখ পরিবর্তন করে নতুন তারিখ দেয়া হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷ সব বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷ বিরোধী দলগুলোর প্রতিরোধের মুখে ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ দেশব্যাপী সহিংসতায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়৷ সারা দেশ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হয়৷ ২৪, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের আহ্বানে দেশব্যাপী অসহযোগ পালিত হয়৷ ৩ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে খালেদা জিয়া ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনার ঘোষণা দেন৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ষষ্ঠ সংসদ বাতিল ও পদত্যাগ সম্পর্কে কোনো কথা না থাকায় বিরোধী দলগুলো তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে৷ ৬ মার্চ হরতাল ডাকা হয়৷ ওই দিন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের পুনঃনির্বাচনে সহিংসতায় ৯ জন নিহত হয়৷ এরপর ৯ মার্চ থেকে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে৷ এই অসহযোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে রাষ্ট্রপতি সংলাপ আহ্বানের জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন৷ প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর চিঠি বিনিময় হয়৷ পাঁচ বুদ্ধিজীবী বিভিন্নভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। [দৈনিক যায়যায়দিন, নভেম্বর ৬,২০০৬]



সূত্রঃ উইকিপিডিয়া



খেয়াল করবেন,

১। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়৷

২। তারা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে টানা হরতাল পালন করে৷

৩। বিরোধী দলের নেত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তান দেন।

৪। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব অসাংবিধানকি ও অযৌক্তিক বলে বাতিল করে দেন৷

৫। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকেন৷

৬। বিরোধী দলগুলো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে৷



এমন এক অবস্থায় ২৩ মার্চ, ১৯৯৬ তারিখে প্রেস ক্লাবের সামনে সচিবালয়ের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা তাদের চাকুরির নিয়ম ভঙ্গ করে জনতার মঞ্চ স্থাপন ও সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।



সবশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবলিত বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধন আইন, ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ ষষ্ঠ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ২৬৮-০ ভোটে পাস হয়৷



মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩০

পাঠক১৯৭১ বলেছেন: শেখ হাসিনার আবিস্কার, খালেদা বেগম ব্যবহার করছে; পেটেন্ট নিয়েছে, মনে হয়; লজিক্যালী, বেকুবদের থেকে বেকুবরাই নেতা নেত্রী হবে।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩২

নিষ্‌কর্মা বলেছেন: একদম সঠিক কথা! আপ্নি-আমি বেকুব, আমাদের নেত্রীদ্বয়ও বেকুব!

২| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪৯

মদন বলেছেন: দুই বারেই তত্তাবধায়কের মতো অগনতান্ত্রিক সিস্টেমের উদ্যক্তা জামায়াত। প্রথমবারে জামায়াত আইডিয়া আমদানী করছে, আওয়ামীলীগ ব্যবহার করেছে, দ্বিতীয়বারে ব্যবহার করতেছে বিএনপি।

প্রথমবারে বিএনপিকে সংবিধানকে ধর্ষন করতে বাধ্য করেছে আওয়ামীলীগ। দ্বিতীয়বারে মনের সুখে সংবিধানকে ধর্ষন করে চলেছে আওয়ামীলীগ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৫৬

নিষ্‌কর্মা বলেছেন: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কিছু থেকে থাকলে আমাদের দয়া করে জানান। এই জাতি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে চিরকাল।

৩| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫৫

মদন বলেছেন: গনতান্ত্রিক সিস্টেমে তত্তাবধায়ক নামের আবর্জনার প্রয়োজনই নাই। চাইলেই তত্বাবধায়করেও দলীয়করন করা যায় বা দেশে গনতন্ত্র আনার মতো তত্বাবধায়ক আনার জন্যও আন্দোলন করতে হয়। গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢাললে এমনই হয়।

একমাত্র সমাধান হলো নির্বাচন কমিশনকে ১০০% স্বাধিন করা যেখানে কারো খবরদারী চলবে না। একটি গনতান্ত্রিক দেশে এটিই সিমস্টেম। পৃথিবীর কোনো গনতান্ত্রিক দেশেই কেয়ারটেকার, নির্দলীয়, বহুদলীয় নামক আজগুবি সিস্টেমের দরকার হয় না নির্বাচনের জন্য।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৪

নিষ্‌কর্মা বলেছেন: আপনার কথাই ঠিক, কোন দেশেই তত্ত্বাবধায়ক/নির্দলীয়/বহুদলীয় নামক আজগুবি সরকার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু তাদের নির্বাচন-কালীন সরকারের ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার ভারসাম্য আছে। লক্ষ্য করবেন, ক্ষমতার সেই সমতা না এনেই আমাদের নির্বচন-কালীন সরকার নামের আজাওজা সরকার গঠন করা হয়েছে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো বলেইছেন তারানকোকে যে নির্বাচন কমিশন ১০০% স্বাধীনআপনিও কি তাই মনে করেন?

বর্তমান নির্বাচন কমিশোনের কার্যকলাপে বোঝাই যাচ্ছে যে তাদের মেরুদন্ডে নাই শক্তি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ করাই যায় তাদের দুই-পায়ের মধ্যিখানে কি আদৌ কোন জোর আছে?

৪| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:১৭

মদন বলেছেন: বর্তমান নির্বাচন কমিশন ১০০% স্বাধিন, কিন্তু সেটি আওয়ামীলীগের হয়ে কাজ করার জন্য ;)

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৪

নিষ্‌কর্মা বলেছেন: যেভাবেই বলুন না কেন, আমাদের এই নির্বাচন সঠিক ভাবে হচ্ছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.