নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিস্তব্ধ গোধূলি

নিজেকে নিয়ে লিখতে গেলে কখনোই গুছিয়ে কিছু লিখতে পারিনা। মাঝে মাঝে তুলনা করি নিজেকে চারপাশের মানুষের সাথে। সাদৃশ্য খুজতে থাকি। অন্যের মাঝে নিজেকে খুজি, খোজার চেষ্টা করি। একাকীত্ব খুব পছন্দ করি। আমি ভালবাসি আমার সত্তা কে। একান্তই আমার নিজস্ব সত্তা কে। একা একা নিজেকে নিয়ে সপ্ন দেখে যায়। সপ্ন এবং বাস্তবতাকে একি সুত্রে গাথার চেষ্টা করি। কল্পলোকের ধ্রুবতারায় বিচরন করে বেড়ায় আমার সত্তা কে ঘিরে। চেয়ে থাকি অনন্ত নক্ষত্র বীথির দিকে, মন চলে যায় অদুর ও দূরে, ভাবি শুধু আমাকে, একান্তই আমাকে। ২০০৯ সালে ভাবতাম "(i am very simple boy but some of my friends say i am very emotinal and i am very much cute. they also say that i am a joker, i love myself. i love all of my friends ). আর এখন ভাবি আমি কেউই না রক্ত মাংস গড়া একজন স্বাভাবিক জীব যার দিন শুরু হয় হাহাকার আর না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এবং শেষ হয় আগামিদিনের নতুন কিছু কল্পনাকে ঘিরে। কিন্তু বাস্তবে তার আর রুপ্ রেখা অংকিত হয়না। তবুও সপ্ন দেখে যায়, আঁকড়ে ধরে রাখি নিজে কে, চেষ্টা করি বেচে থাকতে, ভালভাবে বেচে থাকতে।। যখন আমি একা থাকি , কানে হেড ফোন লাগিয়ে দেই এবং রক মিউজিক শুনতে থাকি এবং সব কিছু কে ইগনোর করি । :) :)

নিস্তব্ধ গোধূলি › বিস্তারিত পোস্টঃ

এসএমএস এর ছেলেটি

১৬ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১:৫৫





“আকাশ তোমার সময় হলে একটু ভেব

আমার কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়ে যেও...।





অর্থহীনের এই জনপ্রিয় গানটি শুনতে শুনতে যাচ্ছি।। মাগুরা থেকে খুলনা । বাস এ ঊঠার পর থেকেই এই গানটি শুধু শুনতে ইচ্ছে করছে । অনেক স্মৃতি বিজড়িত মাগুরা শহর কে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। যেতে ইচ্ছে করছেনা কিন্তু দুইদিন পর থেকে খুলনা ইউনিভার্সিটি এর ক্লাস শুরু হবে। আস্তে আস্তে মেঠ পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাসটি। চলে যাবার সময়ে মনে হতে লাগলো মাগুরায় ফেলে আসা দিন গুলো। আমি যেন ফিরে গেলাম আমার হারানো আমিতে।

আমি তখন এস,এস,সি পাশ করে মাগুরার সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হত। সারাদিন হই হুল্লর করে দিন কাটতো। কিন্তু আস্তে আস্তে জীবনটা কেমন একঘেয়েমি মনে হতে লাগলো। ধরা বাধা জীবনটা কে আর ভালো লাগছিল না।

তখনি আমার জীবনে আবির্ভাব তার। খুবিই অল্প সময়েই তার আবির্ভাব ।

কলেজ লাইফের প্রথমদিনেই আমি নিলাকে দেখি... কিন্তু কখনো কথা বলা হয়নি। শুধু জানতাম মেয়েটা পড়ালেখায় অনেক ভালো ছিল।

একা একা সময় কাটতো না।। রুম মেট দের দেখাদেখি মিগে একটা আইডি খুললাম . প্রথম দিনেই “মাগুরা কলেজ”নামে একটা চ্যাটরুমে ঢুকি। ঐ খানে আমার কলেজের সব বন্ধুদের খুজে পাই।। আর পাই নিলাকে।। এতদিন একসাথে পড়ে ছি কিন্তু কোন দিন ও কথা বলি নি আমরা..., মিগ থেকেই আমাদের কথা বলা শুরু।

এদিকে টেস্ট পরিক্ষা চলে এসেছে ... পড়ালেখায় আমি ব্যস্ত.। মাঝে মাঝে নিলা আমাকে পড়ালেখায় হেল্প করতো।

ওর সাথে আমার মোটামোটি একটা বন্ধুত্ব ছিল। সেটাকে ভালো বন্ধুত্তে নিয়ে যেতে চাই আমি।

আর সে জন্য নতুন একটা সিম দিয়ে ও কে এসএমএস পাঠাইলাম।। ও রেস্পন্স দিল ভালভাবেই যা আমি আশা করিনি।। পরে জানতে পেরেছি ঐ দিন ওর মন অনেক খারাপ ছিল তাই আমাকে ঐ ভাবে গ্রহন করছে। এভাবে আমি অর সাথে অনেক সুন্দর বন্ধুত্ব করি... কিন্তু জানত না যে এসএমএস এর ছেলেটিই ওরই ক্লাসমেট ।



এর মাঝে আমাদের মধ্যে খুবি ভালো বোঝাপড়া হয়েগেল। আমি ওকে প্রায় রাতে ফোন করে গান শুনাতাম । ও আমার গলার স্বর বুঝতে পারত না। অনেক কথা বলতাম... অনেক মজা করতাম।। কিন্তু একটি বার এর জন্য ও আমাকে চিনতে পারেনি...।



একদিন মনে হল আমরা অনেক গভিরে চলে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে আমারা পরনির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। মনে হলে নিলাকে এখনি জানান ভালো।

ওকে সবকিছু বললাম। এসএমএস এর ছেলেটি যে ওর ক্লাস ফ্রেন্ড এইটা ভেবে ও অনেক লজ্জা পেয়েছিল সেদিন। কিন্তু আমাকে ভুল বঝেনি। ও হয়তো এসএমএস এর ছেলেটিকে পছন্দ করে ফেলছিল, েই জন্য ও আমাকে হয়তো ভুল বুঝিনি।



আমাদের বন্ধুত্ব যেন আর বারতে লাগলো। জীবনের অনেকটি অংশ জুড়ে ছিল ও। কল্পনায় ওকে ভাবতাম আমি। একাকি নিঃসঙ্গ সময় গুলো অপলকে কেটে যেত ওকে ভেবে। ওকে স্বপ্ন সাথি করে কল্পলকের ধ্রুবতারা ভেসে বেরাতাম আমি। আস্তে

আস্তে ওকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতাম। কিন্তু ওকে বলতে ভয় হত!!

সব ভয়কে জয় করে একদিন বলে ফেললাম আমি...জানিনা ও কতটা অবাক হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ওর এসএমএস পেলাম। জানতে পারলাম ও আমাকে ভালবাসে।।



এভাবেই আমাদের কাছে আসা। এরপরের সময়টা স্বপ্নের মত। এদিকে ওদিকে ঘুরা ঘুরি। ক্লাস,ব্যাচ ফাকি দিয়ে বিভিন্ন কফিশপে। দেখা করা।ওকে রিকশাতে তুলে দেয়া, ওর ভাললাগার গান শোনান, অপলকে তাকিয়ে থাকা ওর দিকে। আর কত কি...!!!

আমদের বিচরনে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। অনেক ভালবাসতাম ওকে।



এইচ এস সি এর পর ঢাকায় আসলাম কোচিং এ। তখনও ঘুরে বেরাতাম একসাথে।

কিন্তু হটাত কি যেন হল। বাসা থেকে যেনে গেল। আপুর কাছে ধরা খেলাম। অনেক বকা দিল আমায়। মাগুরাতে আমার বাসায় ফোনে জানান হল। আমাকে সবায় মিলে অনেক উত্যক্ত করতে লাগলো।

অনেক কেঁদেছিলাম... সমস্ত রাগ গিয়ে নিলার উপরে ঝারলাম। বেচারি আমাকে অনেক ভালোবাসতো। আমার আচমকা আক্রমণে ও অবাক হয়েছিল। ওর প্রতিটি অশ্রু জলের সাক্ষী আমি ছিলাম, আমি কিন্তু ওর সাথে শেয়ার করে সব কিছু আগের মত করে নিতে পারতাম। কিন্তু থার্ড পারসন রুপে একজন এসে আবার এলমেল করে দিল আমায়। আমাকে নিলা থেকে দূরে ঠেলে দিল।

আর বাবা মাকে অনেক ভয় পেতাম, ভাই বোন দের কেও... । আমার এই কথা গুল কাউ কে বলতে পারতাম না। নিলার সাথে কথা বলার চেস্টা করেও পারতাম না। পারিনি আমি, ভালবাসার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি রাখতে। ও এদিন অনেক কেঁদেছিল। কিন্তু কই করবো আমি। আমার সাথে থাকলে যে আর কাদতে হত ওকে। তাই নিজেকে ওর থেকে সরিয়ে নিলাম কাপুরুষের মতই।



সেদিনের পর থেকে আর আমাদের ভালবাসা টেকেনি। আমি বারবার ফিরে আসতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। আবার নিলাকে ভুলতেও পারিনি। ও আমাকে অনেকটা ভালবাসত। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।



এই ছিল আমার জীবনের নিলা অধ্যায়। এখনে মাঝে মাঝে ওর সাথে দেখা হয়। কিন্তু ও নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে বলে আর কস্ট দিতে ইচ্ছে হয় না।



ক্ষমা করে দিয় আমাকে তুমি। কেও বুঝেনি আমাকে, জানিনা তুমি বুঝেছ কিনা,

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.