![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আব্বু আম্মু অন্তরাকে হাঁটা শেখাচ্ছে। একসাথে। দুজন দুপাশে বসে আছে। অন্তরা টলমল পায়ে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাচ্ছে। কেউ না কেউ ঠিক ই ধরে ফেলছে। আমার পিচ্চি বোনটা মাড়ি বের করে হাসছে। নিচের পাটিতে দুটো দাঁত একটু একটু উঠেছে। খিলখিল করে হাসছে ও। কিযে কিউট লাগছে! একদম একটা পরীর মত! অন্তরার কাছে গেলাম আমি। আলতো করে ওর গালটা ছুঁয়ে দিলাম। তারপর ধ্যাবড়া করে একটা চুমু! ওর কোন ভাবান্তর নেই। যেন কিছুই হয়নি। কেউ ওকে আদর করেনি এই মাত্র।
সত্যিই তো! আমি তো আর কেউ নই যে আমার আদর ওর গালে লাগবে! ও বুঝবে ওর বড় আপুটা ওকে কত আদর করে! বড় আপুটা যে পাঁচ বছর আগেই বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে! না না ভুল হল! পৃথিবীতেই তো আছে। দৃশ্যমান পৃথিবী থেকে..
আমার আব্বুআম্মুর বিয়েটা সুখের হয়নি। আব্বু যেই আন্টিটার সাথে পাঁচ বছর প্রেম করেছিল, হঠাৎ ই তার বিয়ে হয়ে যায়। অনেকটা জেদের বশেই আম্মুকে বিয়ে করে ফেলে। আম্মু তখন সবেমাত্র ১৬ পার করেছে। লোকদেখানো ভালোবাসাটাই ছিল।আব্বুর অনিচ্ছার বিয়ে। আম্মুর ইমম্যাচিউরিটি.. কেউ কাউকে বোঝেনি। চেষ্টাও হয়ত করেনি।তাই জন্মের পর থেকে আমি কখনো তাদের মধ্যে ভালোবাসা দেখিনি। ছোটখাটো অমিল থেকেই ঝগড়া বাঁধিয়ে ঘরবাড়ি মাথায় তুলে ফেলত।
আমি ছোট ছিলাম। ভয় পেয়ে ওয়াশরুমে বসে বসে কাঁদতাম। ঝগড়া থামলে চুপি চুপি বের হয়ে ফ্রিজ খুলতাম। ছোট মানুষ ছিলাম তো। রাগ করে খাওয়াদাওয়া করবো না এরকম চিন্তা আসতো না ছোট্ট মাথাটায়। আম্মু আব্বু দুজনেই রাগারাগি করে দুই রুম এ ঢুকে দরজা আটকে দিত। আমি ফ্রিজ থেকে চকলেট বের করে টিভিতে কার্টুন দেখতে দেখতে খেতাম আর অল্প অল্প কাঁদতাম। পুরো ছেলেবেলাটা প্রায় এভাবেই কেটে গেছে।
আমার বয়স তখন ৯ বছর। ক্লাস ফাইভে উঠবো। কি জানি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল আব্বুআম্মুর। ততদিনে আমার একটু সাহস হয়েছে। ওরা কথা কাটাকাটি করলে তখনো ভয় পাই। কিন্তু আগের মত ওয়াশরুমে যেয়ে লুকাই না। কিছুই দেখিনি কিছুই শুনিনি এমন ভাব করে বসে থাকি। কিন্তু সেদিন ওটা প্রথমবার হয়েছিল। কথা কাটাকাটির মাঝে হঠাৎ আব্বু বিছানা ঝাড়ার ঝাড়ুটা হাতে নিয়ে আম্মুকে মেরে বসে। আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত আম্মুকে মারতে পারলো?
সেদিন থেকে প্রায়ই হতে লাগলো। আম্মুকে চড়, থাপ্পড়,লাথি, ঘুষি কিছুই খাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়নি। আমি আর চুপ করে থাকিনি। ঠেকাতাম। ফলশ্রুতিতে আরো বেশি মার খেতাম আমি নিজে।
বন্ধুদের সাথে বের হতাম না। আব্বুর মেজাজ খারাপ দেখলে স্কুল বাদ দিতাম। কোচিং বাদ দিতাম। যেতে খুব ভয় লাগতো। মনে হত আমি না থাকলে যদি আব্বু আম্মুকে মারে? যদি ঝাড়ু না নিয়ে বটি দা টা হাতে নেয়? আম্মু তো মরে যাবে!
এসএসসির পর হলিক্রস কলেজে চান্স পেয়েছিলাম। আমার ছোট্ট বগুড়া ছেড়ে যাইনি। শহরটাকে অনেক ভালোবাসতাম? না। ভয়ে। আমি না থাকলে আম্মু মরে যাবে! আমি কিভাবে ছেড়ে যাবো? আমাকে থাকতেই হবে!
থেকে গেলাম। কিছুই ঠিক হয়নি। যেমন ছিল তেমন ই.. বয়সের তুলনায় বাড়ন্ত ছিলাম। দেখতেও খারাপ ছিলাম না। টুকটাক বিয়ের প্রস্তাব আসতে লাগলো। কোনটাতেই রাজি হই নি। ভয় পেতাম। বিয়ে হলে তো আব্বু আম্মুর কাছে থাকতে পারবো না। তখন ওদেরকে কে সামলে রাখবে? আরো একটা ভয় ছিল। আমার অবস্থাও যদি আম্মুর মত হয়? আমার মেয়েটাও আমার মত জীবন পাবে? কখনো না! আমি হতে দিতে পারি না! পড়াশোনা, ক্যারিয়ারের চেয়েও এই দুশ্চিন্তায় একটার পর একটা বিয়ে ঠেকিয়ে যেতাম আমি।প্রতিদিন রাতে বালিশে মুখ গুঁজে আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে কাঁদতাম শুধু।
সেকেণ্ড ইয়ারে পড়ি তখন। প্রিটেস্ট এর পর। মাঝে মাঝে হওয়া মাথাব্যথাটা হঠাৎ নিয়মিত হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে মরার মত পড়ে থাকতাম শুধু। ভাবতাম অতিরিক্ত কান্নাকাটির ফল!
মার্চ মাসের কথা। এইচএসসির মডেল টেস্ট চলছে। পরীক্ষার আগের দিন থেকেই চরম মাথাব্যথা করছিল। পরীক্ষার হলে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। জ্ঞান ফিরে নিজেকে হসপিটালে আবিষ্কার করলাম। আম্মু পাশে একটা ছোট ব্যাগ এ কি সব যেনো ঢোকাচ্ছে। “আম্মু আমি কই, তুমি কি করো?” জিজ্ঞেস করতেই বলল, এখন আমরা ঢাকা যাবো। তোর চেকআপ করাতে হবে মামণি। “পরীক্ষা দিয়ে যেতাম আম্মু। এমন কিছু ইমারজেন্সি তো হয়নি।“ আম্মু বলল, দুটো দিনের ই তো ব্যাপার! কিছু হবে না চল।
হসপিটালের এম্বুলেন্স এই গেলাম ঢাকায়। ল্যাবএইডে সিটিস্ক্যানসহ আরো কি কি জানি টেস্ট করলো! এখন আর মনে নেই নামগুলো। রিপোর্ট হাতে আব্বু আম্মুকে খুব বিমর্ষ মনে হচ্ছিল। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে বলল, আরো চেকআপ লাগবে।
আরো চেকআপের পর একরাতে ঘুমাচ্ছিলাম আমি। হঠাৎ কার যেন কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। আল্লাহ্! আব্বু কি হসপিটালে এসেও মারপিট শুরু করলো? চোখ খুলে এটাই ভেবেছিলাম আমি।
ডিমলাইটের হালকা আলোতে দেখলাম আম্মু আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। আব্বুও একহাতে চোখ মুছছে বারবার। আব্বুআম্মুকে কাঁদতে দেখলে কারো খুশি লাগা ঠিক না। কিন্তু আমার লাগলো। এত বেশি যে খুশিতে আমিই কেঁদে ফেললাম।
আস্তে জিজ্ঞেস করলাম, আব্বুআম্মু, কি হয়েছে? কাঁদো কেন তোমরা? আব্বুআম্মু আমার জেগে থাকা দেখে কেঁপে উঠলো যেন! আব্বু এগিয়ে আসলো আমার বিছানার পাশে। আমার কপালে হাত বুলিয়ে বললো, আম্মু একটা কথা বলি। ভয় পাবিনা তো?
আম্মুর না বলে চাপা চিৎকারে আমি বুঝে ফেললাম, আমার কিছু হয়েছে। আব্বু ইতস্তত করছে। আমি আব্বুর হাত ধরে বললাম, বলো আব্বু। আমি ভয় পাবো না।
রোবটের মত গলায় আব্বু বলল, তোর ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছে। কাল রাতে অপারেশন। ইমারজেন্সি করতে হবে। দেরি করলে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে।
আমার কি হয়েছিল আমি জানি না। আমি হেসে ফেললাম কেন এটা শুনে? হাসতে হাসতেই বললাম, তো? এটা নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কি আছে?
আব্বু কিছু বললো না। চুপচাপ আমার মাথাটা কোলে নিল। আমিও চুপচাপ শুয়ে থাকলাম। মাথা ব্যথাটা বাড়ছে। কখন যে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম, জানিনা।
জ্ঞান যখন ফিরল, আমি একটা পোর্টেবল বেডে শুয়ে আছি। হাতে স্যালাইন লাগানো। নার্সরা ব্যস্ত এটা সেটা লাগাতে। আম্মুকে দেখতে পাচ্ছি। বেডের পাশেই বসে আছে। অস্ফূটে ডাকলাম, আম্মু? আম্মু ধড়মড় করে উঠে আসলো। আব্বুকে ডাকলো চিৎকার করে। আমার উপর ঝুঁকে পড়ে কপালে চুমু খেলো দুজনেই।
মাথাটা মনে হচ্ছে ফেটে যাবে। কিন্তু তার চেয়ে ভয়ানক গলা ধরে আসছে। কথা বলতে গেলে যদি কেঁদে ফেলি? বহুকষ্টে সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, অপারেশন কখন? “আর আধঘন্টা পর।“ আব্বু বললো। “তোর জ্ঞান না ফিরলে তোকে এভাবেই নিয়ে যেতো। ভাগ্যিস মা তোর জ্ঞান ফিরেছে! অন্তত কথা তো বলতে পারছি তোর সাথে।“ বলতে বলতেই আব্বু ডুকরে কেঁদে উঠলো। আম্মুও কাঁদছে। আমার আর সহ্য হচ্ছিল না। বড় মানুষেরা এভাবে কাঁদলে আমি ছোট হয়ে কিভাবে সামলাই?
আমি কাঁদলাম না। চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকলাম। আব্বু আম্মু কাঁদছিল অনুভব করতে পারছিলাম। আধঘন্টা শেষ হয়ে গেল দেখতে দেখতে। নার্স এসেছে নিয়ে যেতে আমাকে ওটিতে। পোর্টেবল বেডটা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে নার্স। আমার হাত ধরে হাঁটছে আব্বু আম্মু। ঢোকানোর ঠিক আগে আব্বু আম্মুকে ডাকলাম। “একটু কাছে আসবে তোমরা? কানে কানে একটা কথা বলবো”।ওরা দুজনেই এগিয়ে এলো। দুইজনের গলা দুইহাতে জড়িয়ে ধরলাম। ফিসফিস করে বললাম, “যদি আমি আর না আসি, তোমরা দুইজন দুজনকে দেখে রাখবে তো? আর ঝগড়াঝাঁটি করবে না তো? প্রমিজ করো!” আব্বু আম্মু কেঁদে ফেললো। কান্নায় আমি উত্তর পেয়ে গেলাম। সব ঠিক থাকবে। সব।
ডক্টর তাগাদা দিচ্ছে। আরো একবার দুজনকে জড়িয়ে ধরলাম। বেডটা ঢুকছে ওটিতে। আব্বু আম্মু দূরে সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছে। আমার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ শুধু মাথাব্যথা ছিল। এখন বুকটাও ব্যথা করছে। ওরা আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে তো?
এনেসথেশিয়া পুশ করলো ডক্টর। চোখগুলো জড়িয়ে যাচ্ছে। আর কোনোদিন খুলতে পারবো তো? ভালোবাসি আম্মু, ভালোবাসি আব্বু! ভাবতে ভাবতেই কখন যেন চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেল।
যখন চোখ খুললাম, মাথায় কোন ব্যথা নেই। শুধু মাথায় না। কোথাও ই নেই। শুধু ব্যথা না। কোন অনুভূতি ই নেই। আমি কি প্যারালাইজ্ড হয়ে গেছি?আচ্ছা আমি কোথায়? চারপাশে এত অন্ধকার কেন? আব্বুআম্মুই বা কোথায় গেল?
শোয়া থেকে ধীরে ধীরে উঠে বসলাম। ঘরের দরজাটা হাট করে খোলা। তাও আলো আসছে না। কি আজব!
দরজা দিয়ে বের হলাম। নিজেকে খুব হালকা লাগছে। করিডোরের শেষ মাথায় ওই তো আব্বুআম্মুকে দেখা যাচ্ছে। দৌড় দিলাম। এবার সব ঠিক হয়ে যাবে..আব্বুআম্মুর পাঁচহাত দূরে তখন আমি। বজ্রাহতের মত থেমে গেলাম। একটা স্ট্রেচার ঠেলে বের করছে ওটি থেকে। সাদা চাদরে ঢাকা। কে ওটা? আমার আব্বুআম্মু ওটার দিকে যাচ্ছে কেন? কার না কার লাশ দেখার কি দরকার!
চাদরটা সরালো নার্স। আম্মু অজ্ঞান হয়ে গেছে। আব্বুও প্রায়। আমার ও হওয়া উচিত। কিন্তু পারছি না! মৃত মানুষেরা পারেও না বোধ হয়।
হ্যাঁ.. সাদা ব্যাণ্ডেজে মোড়ানো মৃত মুখটা আমার।
মানুষ মরে গেলে নাকি আকাশের তারা হয়ে যায়। আমার মনে হয় যারা তারা হতে চায়, শুধু তারাই হয়। আমি চাইনি। আব্বুআম্মুর কাছে থাকতে চেয়েছিলাম। আছিও। ওরা আমাকে দেখেনা। রাত হলে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোয়। সেই জড়িয়ে ধরায় অনেক ভালোবাসা থাকে। আমি শিয়রে বসে মুগ্ধ হয়ে সেই ভালোবাসা দেখি। মাঝে মাঝে ওদের মাঝে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকি।
অন্তরার জন্মের পর আমাদের ছোট্ট বাসাটা আনন্দপুরী হয়ে গেছে। আমার জন্মের পর কি হয়েছিল জানিনা। আব্বু আম্মু কি এরকম বাচ্চাদের মত খুশি ছিল? জানি না। জানতেও চাই না। অন্তরাকে দেখেই আমার সাধ মিটে যাচ্ছে। পরীর মত মেয়েটা সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখে। আমার খুব ইচ্ছে করে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরি। কোলে নিই। ধ্যাবড়া করে চুমু দিই।
আমি মরে যাওয়ার পর আব্বুআম্মু আর ঝগড়া করে নি কোনদিন। অন্তরা ভালোই থাকবে। ও কোনদিন ভয় পাবে না। কাঁদবে না। ছোট্ট পরীটাকে কাঁদতে হবে না, কষ্ট পেতে হবে না।
আব্বু আম্মু ওকে সবার আগে আপা বলা শিখিয়েছে। আমার একটা ছবি রবারের ফ্রেমে বাঁধাই করা। সেটাই অন্তরার সবচে প্রিয় খেলনা। সারাদিন ওটা বুকে নিয়ে ঘুরবে। ঘুমোনোর সময় একটা হাত আপার ছবির উপর। আমি ওর পাশে শুয়ে থাকি। এক হাত দিয়ে জড়িয়ে রাখি ওকে। ও বোঝে না। তাও। ভাল লাগে।অন্তরা হাঁটতে শিখেছে। বাব্বাহ, আম্মাহ, আপ্পাহ বলে ডাকতেও পারে আজকাল। আমি তাকিয়ে থাকি। দেখি পরীটাকে।
অন্তরা ঘুমুচ্ছে। আমি ওর পাশে শুয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। ওর ঘুম ভাঙাটা খুব সুন্দর। চোখ কুঁচকে, ঠোঁট বাঁকা করে, হাত পা ছুঁড়ে ঘুম ভাঙে ওর। তারপর পিটপিট করে চারপাশে তাকায়। আজ ও তাকালো চারপাশে। তারপর আমার দিকে চোখ আটকে গেলো ওর। দেড় বছরের বেবি আপুটা আমার! ওর কপালে চুমু খেলাম একটা।
কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। অন্তরা কি করছে আজ? এতক্ষণ ধরে কেন তাকিয়ে আছে আমার দিকে? আমাকে হতভম্ব করে দিয়ে ও আমার গালে রাখলো ওর ছোট্ট হাতটা। দুইতিনটা দাঁত ভরা মাড়ি বের করে হাসলো। আমি তাকিয়েই আছি। ও কি করছে? এমন করছে যেন আমাকে দেখতে পাচ্ছে! সন্দেহটা দূর হয়ে গেল সাথে সাথেই। অন্তরা আমার গা ঘেঁষে এলো। ওর ছোট ছোট দুটো হাত দিয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো। গালে একটা চুমু দিয়ে বললো, আপ্পাহ্?
আবার আমার গলাটা ধরে আসছে, চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে। পরীটাকে জড়িয়ে ধরলাম শক্ত করে। বললাম, হ্যাঁ আপ্পাহ্!
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:০৩
হৃদছায়া বলেছেন: টাচি