নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র একজন সাধারন নাগরিক।

তুহিন নাজমুল

একজন সাধারন নাগরিক

তুহিন নাজমুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

Durkheim, Suicide and Bangladesh

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:০২

সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হবার বড় প্যাড়া হল, সামাজিক ব্যাধি গুলা নিয়ে মাথা ঘামানো এবং সেটাও হতে হবে non biased, subjective judgement free, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আত্মহত্যা ঘটনা ঘটেছে এবং গত ০২-১২-২০১৮ তে, ১৪ বছরের স্কুল ছাত্রীরির ঘটনা অনেক তোলপাড় করছে। অনেকে অনেক কিছু বলছে কেউ স্কুলের পক্ষে, কেউ বিপক্ষে, কেউ সামাজিক কাঠামো, কেউ আমাদের অধিক প্রযুক্তি নির্ভরতা কে আঙ্গুল দিচ্ছে। আমার প্রবলেম অন্যখানে। আমি একি সাথে এক জন চুনোপুটি মার্কা সমাজবিজ্ঞানী, এক জন বাবা, এক জন গবেষক।
বাংলাদেশে একমাত্র পুলিশ সুইসাইড তথ্য সিস্টেম্যাটিক ভাবে রাখার চেষ্টা করে এবং ২০১৭ তে বলা আছে ১১,০৯৫ টি কেইস, WHO মতে ২০১৭ তে বাংলাদেশে ৮,৮৭৯ টি কেইস ছিল যেটা ১.১৩%, ওই বছর এর সমগ্র ডেইথ কেস এর (বাংলাদেশ ১৩৯, সুইসাইড রেইট এ)।
সুইসাইডের কারন নিয়ে আমি কোন ব্যাখ্যা তে যাচ্ছি না, সবাই এক্সপার্ট আমরা। প্রেমে ছ্যাকা, জব হয়না, আর্থিক অবস্থা খারাপ, পারিবারিক ঝগড়া, ইত্যাদি। আমি কিছু সেকেন্ডারি ডেটা দিতেছি যেটা আমার কাছে অনেক অর্থবহ লেগেছে। S. M. Yasir Arafat (2016), Md. Mohsin Ali Shah et al. (2017), Salim Reza et al (2013) দেখে একটা জিনিষ ক্লিয়ার আমাদের লক্ষ্য হল, কারা, কত %, কিভাবে, কোন ক্লাসের লোক, মেয়ে না ছেলে, কোন বয়স এগুলা নিয়ে মাতা মাতি। কিন্তু ভাল মানের Qualitative গবেষনা হয় নাই। Md. Mohsin Ali Shah et al. এর কাজ টা ছিল ৬ মাসের পত্রিকার কন্টেন্ট বিশ্লেষন, ২৭১ টা কেইস নিয়া। যার মাঝে ৬১% এর বয়স ৩০ এর নিচে, যাদের মাঝে আবার ৩৩% এর বয়স ১১-২০ বছর। ছাত্র/ছাত্রী সুইসাইড কেইস ২৪% (সেকেন্ডারি ১৩%, গ্রাজুয়েট ৫%, মিসিং ডেটা ৭৮%) ১৩% এস এস সি দিয়েছে, ৫% স্নাতক করছে বা করেছে। তার মানে কি? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তে ব্যাপক গলদ আছে!
কি ? কেমন লাগছে ডেটা? Adolescents!!! Teenager!!!! Hormone effect?
আর একটু ভাল ভাবে দেখলে
৫৮% মহিলা,
১৭% হোম মেকার,
৪৫% বিবাহিত,
৬১% কেইস গ্রামের দিকের
নভেম্বর (২০%) আর জানুয়ারী (১৭%) তে বেশী কেইস আছে, মার্চ (১৫%), শীতকালে মানুষ বেশী সুইসাইড করে, ডুরখেইম ও তাই বলেছিল ( তাতে কি হয়ছে, তাও আমি আইসল্যান্ড, নরওয়ে যামু)।
বিবাহিতদের মাঝে সুইসাইড রেইট কম এটা আগের ধারনা ছিল, কিন্তু বাংলাদেশে ৪৫% বিবাহিত কেইস আছে (লেখকের উচিত ছিল Correlation দেখানো)। Selim Reza র গ্রাম অঞ্চলের একটা গবেষনায় দেখা গেছে, বিবাহিত মহিলারা বেশী সুইসাইডের শিকার হয়ে থাকে। অথচ বিশ্বে পুরুষের সুইসাইডের হার বেশী। Shumona Sharmin Salam et al. (2017) এটি icddrb এর একটি গবেষনা, এখানে দেখা গেছে Fatal and Non Fatal suicide case এর ক্ষেত্রে বিবাহিত adolescent female এর সংখ্যা বেশী। পশ্চিমে “বিয়ে” কে প্রটেক্টিভ ফ্যাক্টর হিসাবে দেখা হয়, কিন্তু আমাদের এখানে সেটা হচ্ছে না। আমাদের দেশে বিবাহিতদের মাঝে সুইসাইড বেশী। ২০১২-২০১৭ পর্‍্যন্ত ৭,৬৭১ জন মহিলা সুইসাইড করেছেন যার মাঝে ৫১% কেইস শ্বশুরবাড়িতে।

অনেক তথ্যের কচলানী দিলাম, এবার আসি তত্ত্ব কথায়। ডুরখেইম যে চার প্রকার সুইসাইডের কথা বলেছেন তাতে বেশির ভাগ দেখা যায় ইগোইস্টিক (egoistic) যখন Social Cohesion কমে যায়, individual bondage শূন্য হয়ে যায়। আমাদের এই আধুনিক সমাজের ক্যান্সার বলা হয় একে। আর এর জন্য দায়ী করে টেকনোলোজিকে, ফেসবুক, টুইট্যার, মোবাইল এর ব্যবহার এগুলাকে। অনেকে আছেন শহরের নিউক্লীয় পারিবারিক কাঠামোকে দায়ী করেন, মা এর জব করাকে দায়ী করেন ইত্যাদি। মানুষ যেভাবে চেঞ্জ হয়, বিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে, সমাজ ও সেইভাবে আগায়। আমাকে কেউ কেউ বলেছে ফ্যামিলি ঠিক থাকলে সুইসাইড কম হবে, বাচ্চা কাচ্চা ভাল থাকবে, ইন্সটিউশনের কি দোষ! অনেকে বলে বাচ্চাদের মাথায় তুলে ফেলছি, আমরাও মাইর খাইছি, সমাজের কথায় কেন প্রভাবিত হব? আমরাই সমাজ কে প্রভাবিত করব।
আমি প্রথম কম্পিটার ব্যবহার করি ১৯৯৬ (১৬ বছর), আমার ছোট মেয়ে মে ২০১৮ (১২ মাস বয়স) থেকে কম্পিউটার চিনে । সময়ের সাথে সব কিছু চেঞ্জ হয়। Auguste Comte এর Social static social dynamics এর হালকা ধারনা নিতে পারেন ( চাইলে আমিও জ্ঞান বিতরন করবো :P )। Progress is inevitable with negative and positive consequence, Negative consequence এর কারনে আপনি Progress আটকায়ে রাখতে পারবেন না। সো, আমরা মডার্নিটি তে ছিলাম, পোস্টমর্ডান হইতেছি, liquid modernity তে পা দিয়ে বসে আছি। পোলিশ ফিলোসপার Zygmunt Bauman ঠিক এই সময়ের কথায় বলেছিল অনেক আগেই। আমরা... মানুষ!! আমাদের সবকিছুর লক্ষ্যে থাকে আমাদের Identity, we want to show everyone/society “WHO I AM”! ডুরখেইম নিজেও mechanical থেকে organic solidarity র বিবর্তনে social change এর কথা বলেছেন । এদের কথা অনুসারে বর্তমান সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি এক একটি ইউনিট এবং liquid modernity তে আমরা যেটা বেশী ভাবি সেগুলা হল “Fear of Recognition”, “remaining unseen”, “un notice”, একটু ভাবলেই দেখব, এগুলার জন্য আমাদের Daily Identity কিভাবে আমরা পরিবর্তন করে থাকি, তবে এটা মানুষের অনেক পুরানো স্বভাব, নিজেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরতে ব্যস্ত সেই গুহা মানব আমলের কথা। যাই হোক, এই স্বকীয়তা ধরে রাখতে আমরা যে চেষ্টা করি সেটা একপর্যায়ে আমাদের কে বাকি সবার কাছ থেকে isolate করে ফেলে। কিভাবে সেটা বন্ধ করা যাবে অনেক বড় লেকচার দিতে হবে।
এই isolation থেকে সামাজিক, পারিবারিক বন্ধন টা কমে আসে। এখন একটা মানুষ যখন ধীরে ধীরে recognition, isolation এর কারনে Egoistic suicide এর দিকে যায় সেটাকে অনুধাবন করা সম্ভব। কিছু টা আচ করা সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক বাংলার সুইসাইড কাহিনি তে আমি যেটা দেখছি সেখানে ডুখেইমের Fatalistic suicide factors comprehensively মিশে আছে। যার কারনে এটা আমাদের জন্য বিশেষ করে Adolescents দের জন্য ভয়াবহ হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতিহাসগত ভাবে Authoritarian family structure পালন করে আসে। “Comparison/ তুলনা” আমাদের জন্য ডাল ভাত......।অমুক অই, ত্মুক সেই...... তুমি কি? এর জন্য আমরা যেটা করি রুলস বানায়ে দেই, কঠিন গাইডলাইন, ফলাফল “ When regulation is too strong, "persons with futures pitilessly blocked and passions violently choked by oppressive discipline" may see no way out”. আর no way out এর এন্ডিং আমরা খবরের কাগজেই দেখি। যেহেতু, আমরা “ভাল হবে” এই ভেবে সন্তান /ব্যক্তি কে কঠিন নিয়মের মাঝে নিয়ে আসি এবং তাকে সামগ্রিক ভাবে isolated করে ফেলি, সেখানে আমরা কোন ভাবেই বলতে পারি না আধুনিকতার কারনে Egoistic suicide বাড়ছে, পারিবারিক বন্ধন কমে যাচ্ছে টেকনোলোজির কারনে।
আমাদের দেশে Egoistic suicide বাড়ছে না, Ego-Fatalistic suicide বাড়ছে। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনের সুইসাইড কেইস তা প্রমান করছে। “কিছু করে দেখাতে হবে না হলে হারিয়ে যেতে হবে” এই ভয় অনেককেই সামাজিক/পারিবারিক ভাবে isolate করে দেয় এবং তার শেষ হয় অন্তিম যাত্রা দিয়ে।
একটা কথা মনে রাখা দরকার, আমাদের সমাজ একটা complex system, যেটা আমাদের সাথে adaptive-responsive structure মেনে যোগাযোগ করে থাকে, সুতরাং আমরা এই complex system কে কিভাবে নিজেদের/সন্তানদের অস্তিত্বে adapt করবো যাতে সেখান থেকে positive response আসে, সেটা আমাদের কেই ঠিক করে নিতে হবে নিউক্লীয় individual family unit হিসাবে। কথায় আছে, You can not bath in the same river twice, সমাজ টাও সেরকম, একবার একটা সিস্টেম চলে গেলে সেটাকে চেঞ্জ করা অনেক কঠিন কাজ।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:১২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বিস্তারিত পোস্ট । বিষয়টি নিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে কয়েকটি জায়গায় একটু মনে প্রশ্ন জাগছে।
1- শীতকালে সুইসাইডাল' প্রবণতা কেন বেশি?
2- ডুর্খেইম যে চার প্রকার সুইসাইডের প্রসঙ্গ এনেছেন , আপনিও প্রসঙ্গটিকে উল্লেখ করেও সরে গেছেন। যদিও ইগোস্টিক যখন সোশ্যাল কোহেশন কমে যায় বা ইন্ডিভিজুয়াল বন্ডেজ কমে যায় ,মনে হয় সামগ্রিক ভাবে বিষয়টিকে আলোকপাত করেছেন।

আপনার ছোট মেয়ের কম্পিউটার অ্যাট্রাকশন বিষয়টিকে নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা দেওয়াটা ভালো লেগেছে ।
( প্রতি মন্তব্য করতে আমাদের কমেন্ট বক্সের ডান দিকের সবুজ গঠন করে স্কুলে নতুন একটি স্পেস আসবে তার মধ্যে উত্তর লিখে জমা করলে তবে আমাদের নোটিফিকেশনে দেখাবে।)

শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবেন।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২১

তুহিন নাজমুল বলেছেন: ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।

ধারনা করা হয়ে থাকে শীত প্রধান সময়ে মানুষ বেশী ডিপ্রেসড থাকে তাই সুইসাইড অনেক বেশী হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষনায় এটাকে একমাত্র কারন হিসাবে দেখা হয় না। বরং দেখা গেছে অনেক দেশে গ্রীষ্মকালে সুইসাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফিনল্যান্ড ও গ্রীণ ল্যান্ডে বেশী সুইসাইড হয়ে থাকে। ১৯৮৫-২০১৭ এর ডেটা থেকে দেখা গেছে গ্রিনল্যান্ড, লিথুনিয়া, গুয়েনা, দক্ষিন কোরিয়া এবং কাজাকস্থানে বেশী সুইসাইড ঘটেছে। WHO এর ২০১৬ রিপোর্ট অনুসারে South East Aisa তে মানুষ বেশী সুইসাইড করে থাকে (১৩.৪০ জন প্রতি ১০০০০০), ইউরোপে ১২ জন। আসলেই কেন সুইসাইড করছে এর পিছনে সুনিদিষ্ট কারন জানা তা আসলেই কঠিন কাজ।

ডুরখেইম চার ধরনের কথা বলেছেন
Egoistic suicide সামাজিক/পারিবারিক বন্ধন কমে গেলে, মানুষ নিজকে একা, নিঃসঙ্গ ভাবতে শুরু করে এবং তখন এটা দেখা যায়।.
Altruistic suicide সামাজিক/দলীয় রেগুলেশ নীতি যখন বেশী প্রভাব বিস্তার করে এবং ব্যক্তি সত্ত্বা কে ভেঙ্গে ফেলে। ধর্মীয় দল গুলাতে এগুলা বেশি দেখা যায়, রিলিজিয়াস কাল্ট।
Anomic suicide এটা সামাজিক অস্থিরতা, বেকারত্ব ইত্যাদি সময়ে দেখা যায়।
Fatalistic suicide যখন অতিরিক্ত এক্সপেক্টেশণ থাকে, মানুষ কে নিজের মত স্বাধীনতা দেয়া হয় না তখন এটা হয়। আমাদের দেশে ছাত্র-ছাত্রী রা এর প্রভাবে আছে।

অনেক ধন্যবাদ উৎসাহ দেবার জন্য। ভাল থাকবেন।

২| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৪২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সুন্দর প্রতিমন্তব্যে শীতকালে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির ও ডুর্খেইমের চার ধরণের সুইসাইডের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমার সর্বশেষ পোস্টে কোন কমেন্ট না করলেও লাইক করাতে অনেক অনুপ্রেরণা পেলাম। কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাকে।

অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন।

৩| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৬

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: অনেক শিক্ষনীয় পোস্ট করেছেন। প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ ভাবে বর্ণনা করেছেন।
ভালোবাসা রইলো।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৯

তুহিন নাজমুল বলেছেন: ধন্যবাদ! উৎসাহ পাচ্ছি আপনাদের ভালবাসা থেকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.