| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।
যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে থাকে, আর উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের সাথে তার দেখা হয়।
পড়তে পড়তে যত আগানো যায়, তত স্পষ্ট হতে থাকে।
শীর্ষেন্দুর পার্থিব, চক্র ও মানবজমিন এই তিন উপন্যাস পড়লাম পরপর। এটা ছিলো দীর্ঘ যাত্রা। অনেকদিন লাগলো পড়তে।
কিন্তু পড়ে যে শান্তি পেয়েছি, তা অপরিমেয়।
মানবজমিন পড়ার পর রিক্যাপ লিখেছিলাম। পার্থিব বড় উপন্যাস। সেটার আর রিক্যাপ বা রিভিউ কিছুই লেখি নাই।
সর্বশেষ পড়লাম চক্র।
এই তিন উপন্যাসই বড় কলেবরের উপন্যাস। অসংখ্য চরিত্র।
চরিত্রগুলোকে লেখক আস্তে আস্তে এনেছেন, তারপর বিশদ বর্ণনার দিকে গিয়েছেন।
এধরণের উপন্যাস পড়লে অবাক লাগে, এতগুলো চরিত্র, এতগুলো ঘটনার পরম্পরা লেখকরা মনে রাখেন কীভাবে!!
আমরা পাঠক হিসেবে তো শুধু পড়ে যাই। আমাদেরই মনে থাকে না প্রত্যেকটা ঘটনার পরম্পরা। অথচ লেখক সাত নম্বর চ্যাপ্টারের পরের কাহিনী লিখতে থাকেন সাইত্রিশ নম্বর চ্যাপ্টারে।
জানি, এটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। এই কঠিণকে বড় লেখকেরা ধারণ করেন। এগুলো চরম অধ্যাবসায়, ধৈর্য্য আর মেধার নজির।
এত বড় বড় উপন্যাস লেখার ধৈর্য্য কি সবার থাকে!
.
তার এই তিন উপন্যাসই মানুষের সমাজ-সামাজিকতা, তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন, তাদের আনন্দ-দুঃখ, লোভ-লালসা, হাসি-কান্না, প্রেম-ভালোবাসার উপাখ্যান।
কী চমৎকার বর্ণনা।
চক্র উপন্যাসের কাহিনী যখন শুরু হয়, তার আগেই এই উপন্যাসের চরিত্র গৌরহরি মারা গেছেন। বেঁচে আছেন তার বিধবা স্ত্রী বলাকা।
বলাকার জবানে তাদের দাম্পত্যের যে মধুর বর্ণনা বর্ণিত হয় তা পাঠক হৃদয় মথিত করে।
একই উপন্যাসে আরেক ভালোবাসার বর্ণনা আছে অমল রায় আর পারুলের।
অমল রায় বিরাট মেধাবী ছাত্র। গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করা ব্যক্তি। আর পারুল ডাকসাইটে সুন্দরী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে।
পারুলের সাথে এক দুপুরে ঘটা দূর্ঘটনায় তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সম্পর্কের এই ছিন্নতা অমলকে যা ভোগায় তা বইয়ের একটা বড় অংশজুড়ে পাওয়া যায়।
ওদিকে রসিক বাঙাল আছে আরেক চরিত্র। বাঙাল মানুষ ওপারে যেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তার সম্পদ ঠেকাতে। অনেক দিলদরিয়া, ফুরফুরে হাসিখুশি আর সব কিছুকে থোড়াই কেয়ার করা মানুষ। রসিক বাঙাল আর তার দ্বিতীয় বউ বাসন্তীর সম্পর্কও মনে রাখার মত।
আর আছে ধীরেন খুড়ো। সারাজীবন গরীব আর টানাটানির সংসারে জীবন যাপন। অল্পে তুষ্ট, অত্যন্ত কৌতুহলী এই আশি বছরের বৃদ্ধকে খুবই ভালো লাগে। তার নির্ঝঞ্জাট জীবন যাপন দেখে শান্তি লাগে।
তার কোন অসন্তোষ নেই, নেই কোন হাহাকার, দুঃখ বা ইগো।
একটু বসে গল্প, চারটে ভালো খাওয়া দাওয়াই তার জীবনকে আনন্দে ভরে রাখে।
.
পার্থিব উপন্যাসে ছিলো বিষ্ণুপদ নামে এক বৃদ্ধ চরিত্র। তার বউ নয়নতারা। তারা জীবনের পড়ন্ত বেলায় দিন ফুরানোর অপেক্ষায় আছেন।
এই বিষ্ণুপদ ও তার বউয়ের যে কথোপকথন, তাদের মধ্যে সম্পর্কের যে রসায়ন তা পড়লে মনে শান্তি হয়।
উপন্যাসে এত চরিত্র, দৈনন্দিন জীবনের এত মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনা, কোথাও না কোথাও নিজের সাথে বা পরিচিত জীবনের সাথে সহজেই রিলেট করতে পারা যায়।
জীবনকে দেখা যায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে।
মানুষের মনের এত ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ পড়ে ক্ষণে ক্ষণে মুগ্ধ হতে হয়।
.
শীর্ষেন্দু প্রায়ই একটা সহজ কথা লিখেছেন, বিশেষত পার্থিব ও চক্র উপন্যাসে।
তা হলো- "তারা দুজন খুব হাসলো" "দুলে দুলে খুব হাসলো"।
এই সহজ কথাটি পড়তে এত ভালো লেগেছে তা বলার মত না! এই বাক্যটার প্লেসমেন্ট হয়েছে সুপার পারফেক্ট।
.
এর আগে শীর্ষেন্দুর দূরবীন পড়েছিলাম। এবার পড়লাম এই তিনটি। শীর্ষেন্দুকে পড়ে আরাম পেলাম।
আবার যখন ফিকশন পড়বো, তখন আবার শীর্ষেন্দুকে পড়া যায় কিনা দেখবো।
.
পরিশিষ্ট: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এখনো বেঁচে আছেন। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে তার জন্ম ২ নভেম্বর ১৯৩৫ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়। জন্মের সময় তার পিতা চাকরিসূত্রে ময়মনসিংহ ছিলেন। তার পৈত্রিক বাড়ি বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জে। ভারত বিভাজনের সময় তারা কলকাতায় চলে যান।
।
লেখাটি আমার নিউজলেটারে আগেই প্রকাশিত।
২|
২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
করুণাধারা বলেছেন: এগুলো অনেক আগেই পড়েছি। আপনার লেখাটা পড়ে আরেকবার মনে পড়ল। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭
অগ্নিবাবা বলেছেন: এপারে পাঠিয়ে ভালো করেছেন, দাদা। এই বারের চেষ্টায় আরো কিছু শিল্পী টিল্পী পাঠিয়ে দিন, অর্ধেক ডিম আর ইস্কনের মিড ডে মিল রেডি করে রেখেছি, দাদা।