নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের (বরিশাল স্টীমারঘাটের সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বলেছিলেন, বরিশাল হচ্ছে প্রাচ্যের ভেনিস) উজিরপুর ধানাধীন সাতলা গ্রামে। পিতা প্রাইম

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা ও ঐতিহাসি আল-কুদস দিবস

৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:১০


আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমাকেই আখেরি জুমা বা জুমাতুল বিদা বলে অভিহিত করা হয়। অনেকে ওই শুক্রবারকে‘গরীবের হজ্জ্বের দিনও’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন । দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যাকুল রোজাদারগণ নামাজ শেষে দয়াময় প্রভুর দরবারে হাজিরা দিয়ে বিগলিত চিত্তে মাগফিরাত কামনা করবেন। ইসলামের সূচনাকালে মদিনায় যখন রমজান মাসে রোজার বিধান নাজিল হয়, তখন থেকেই প্রতিবছর রমজানের শেষ জুমাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে আদায় করে আসছে মুসলিম উম্মাহ। এক মাসের সিয়াম সাধনার শেষ পর্যায়ে এসে আজ হচ্ছে পবিত্র জুমাতুল বিদা। জুমার দু'রাকাত ফরজ নামাজের পর আখেরি মুনাজাতে মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে। দিনটি মুসলিম বিশ্বে মুসলামানদের প্রথম কেবলা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ মসজিদুল আল-আকসা পুনরুদ্ধারের দাবিতে আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ শুক্রবারে জুমার নামাজের পর বিশেষ ইবাদত করতেন। তার উম্মতরা এরই ধারাবাহিকতায় এই দিনে জুমার পর নফল নামাজ আদায় করেন ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন। আজ মসজিদগুলোতে খতিবগণ জুমার খুতবায় 'আল্ বিদা-আল্ বিদা ইয়া শাহরু রামাদ্বান, আল্ বিদা-আল বিদা ইয়া শাহরু নুযুলুল কোরআন' ইত্যাদি বিশেষণ দ্বারা মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানাবেন।

এ ছাড়াও রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিকভাবে মুসলীম বিশ্বে দিনটিকে আল-কুদস দিবস বলা হয়। মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন। দিনটি মুসলিম বিশ্বে মুসলামানদের প্রথম কেবলা 'বায়তুল মুকাদ্দেস' মসজিদুল আল-আকসা পুনরুদ্ধারের দাবিতে আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়। ১৯৬৮ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসনে মুসলমানদের হাতছাড়া হয় মসজিদের আল আকসাখ্যাত বায়তুল মুকাদ্দেস। বায়তুল মুকাদ্দাস বছরের পর বছর ধরে ইহুদিদের দখলে রয়েছে। ফিলিস্তিনের মূল অধিবাসীদের অধিকাংশকে বিতাড়িত করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইহুদিরা সেখানে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কায়েম করে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে। এরপর থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আল-কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমার দিনকে আল-কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত,বায়তুল মোকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের প্রথম কেবলা মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান। হজরত রাসুলে করিম (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন,যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেন নি। হিজরতের পর বায়তুল মোকাদ্দাস ইসলামের প্রথম কেবলা। বায়তুল মোকাদ্দাস দুনিয়ার জন্য অসংখ্য ভূখন্ডের মতো কোনো সাধারণ ভূখন্ড নয় । বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতি বিজড়িত । এ পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সঙ্গে জড়িত নয় বরং এ নাম সব মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসুলের মাজার। ওহি ও ইসলামের অবতরণস্থল এ নগরী নবীদের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি।
ইবরাহিম (আ.) কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর ইয়াকুব (আ.) জেরু জালেমে আল আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন । অতঃপর সুলায়মান (আ.) এ পবিত্র মসজিদের পুনর্র্নিমাণ করেন। ৬৩৮ সালে দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.) এর খেলাফতকালে পুরো বায়তুল মোকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের দখলে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেয়ার পর বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে। এরপর ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর ও সিপাহসালার সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবি জেরু জালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন।

আল-কুদস দিবস বা আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস ইমাম খোমেনী (রহ.) এর আহবানে ১৯৭৯ সালে ইরানে প্রথম শুরু হয়েছিল। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইসরাইল কর্তৃক জেরুযালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। জেরুযালেম শহরের অপর নাম ‘কুদস’ বা ‘আল-কুদস’। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইবরাহীম ইয়াজদি সর্বপ্রথম আল-কুদস দিবস র‌্যালি আয়োজনের ধারণা দেন। তারপর আয়াতুল্লাহ খোমেইনী ১৯৭৯ সালে ইরানে এর প্রবর্তন করেন। এর পর থেকে ইরানসহ আরও বিভিন্নদেশে প্রতি বছর আল-কুদস দিবসটি গুরুত্বের সাথে উৎযাপিত হযে আসছে। মহানবী (সাঃ} মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ পবিত্র ঘর থেকেই তিনি মিরাজে গমন করেছিলেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীর স্মৃতিবিজড়িত। হজরত ইবরাহীম (আ.) কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। এর পর হজরত সুলায়মান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুননির্মাণ করেন।

রমজানের শেষ মুহূর্তে রোজাদারদের বড় জমায়েত এ জুমাতুল বিদায় মসজিদের খতিবের মুখে বার বার ধ্বনিত হয় আল বিদা মাহে রমজান, আল বিদা মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানের বিদায়ের সানাই খতিবদের মুখে মুখে করুণ সুরে বেজে উঠে। তখন গভীর শূন্যতা ও বেদনায় আবেগ আপ্লুত হয়ে উঠে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা। এমন কোনো মুসলমান নেই, যে হতভাগ্যের মতো এ জুমাতুল বিদায় ফজিলত ও ধর্মীয় আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায়। মাহে রমজানের ফজিলত ও বরকত প্রত্যেকের নসিব হোক, শান্তিপূর্ণ ও পূর্ণ মর্যাদার আদায় হোক আজকের জুমাতুল বিদা এটাই সকলের প্রত্যাশা।

বিঃদঃ পবিত্র মাহে রামাদানে আমার হাদিয়াঃ
১। আহলান সাহলান মাহে রামাদানঃ রোযা প্রত্যেক ঈমানদার নর-নারীদের জন্য ফরয
২। মাহে রমজানে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা তারাবি নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা জরুরি সুন্নত
৩। সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস রমজান এবং বাস্তবতা
৪। জান্নাতে প্রবেশের জন্য দানশীলতা একটি অতি প্রয়োজনীয় গুণঃ মাহে রমযানে দান খয়রাতের ফজিলত
৫। আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম মাস পবিত্র রমজানে আমাদের করনীয় ও বর্জনীয় কাজ সমূহ
৬। মাহে রমজানে ইতেকাফের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য, ফজিলত ও বিধান

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:৪১

হাবিব স্যার বলেছেন: আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন...........আমিন

৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:০৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ধন্যবাদ হাবিব ভাই
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন...........আমিন

২| ৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: রমজান মাস বলেই ধর্ম নিয়ে লিখছেন? নাকি লেখার বিষয় খুঁজে পাচ্ছেন না?
লেখার বিষয়ের তো অভাব নেই।

৩১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:০৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
লেখার বিষয় বিস্তর আছে।
রমজানে সময় পাচ্ছিনা খুব একটা
তাই অন্য বিষয় নিয়ে লেখার সুযোগ হয়ে
ওঠেনা।
নিরাশ হবেন না আল্লহর রহমত থেকে।
ভালো থাকবেন।

৩| ৩১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ২:২৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: পবিত্র জুমাতুল বিদা। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের ফজিলত ও বরকত আদায় করার তৌফিক দান করুন।
আমীন।

অনিঃশেষ শুভেচ্ছা প্রিয় নূরভাইকে জানবেন।

৩১ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৩:২৮

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে চৌধুরী ভাই
ব্যস্ততার কারণে আপনাদের সাথে
আগের মতো কথা বিনিময় হয়না।
দোয়া করবেন আমার জন্য।
আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানব্নে।

৪| ৩১ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


গরীবের হজ্ব ও ধনীদের হজ্ব, ২ ধরণের হজ্ব?

৫| ৩১ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: জুমার নামায পড়ে আসলাম,দোয়াও করে এসেছি সকল মুসলিম উম্মাহের জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.