নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাঁধনদার

স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিক ভেজালমুক্ত নিরীহ আকরিক

বাঁধনদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

গানে ভুবন ভরা

২৬ শে আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:২০

বিধাতার সৃষ্টিগুলোর মধ্যে সেরা যদি হয় মানুষ, তবে মানুষের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গান। গান অপছন্দের এমন মানুষ খুব একটা চোখে পড়ে না। অন্তত আমার চোখে এখন পর্যন্ত পড়ে নি।

সব ধরনের গান শোনা হয়। এক্ষেত্রে আমার কোন বাছবিচার নেই। অনেক বন্ধুদের দেখেছি, নির্দিষ্ট জেনারের বা ধারার গান ছাড়া অন্য গান শুনতে নারাজ। ব্যপারটা মোটেও ঠিক নয়। সব গানেই আছে যত্নের পরশ, মাধুর্যতা, নতুনত্ব, শব্দের এলোপাথাড়ি আক্রমণ.........

সকল মুহূর্তের জন্য, সকল অনুভূতির জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্বাদের গান। এই যে আজকের শরৎের এই অবেলার বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটছিলাম, শুনছিলাম কিছু বৃষ্টির গান।যেমন রবীঠাকুরের- "মন মোর মেঘেরও সঙ্গী ...", "বরিষ ধারার মাঝে শান্তির বারি..." জলের গানের-"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয়..." ইত্যাদি। একেক গানের একেক সুর দিচ্ছিলো, বিভিন্ন স্বাদের বৃষ্টি । হঠাত হঠাত মনে হচ্ছিলো, গানের পরিবর্তনের সাথে সাথে বৃষ্টির গন্ধ এবং শব্দও সাপের মত নির্মোক পাল্টাচ্ছে।প্রকৃতির কি মধুর সম্পর্ক !!

গানকে ভালোবেসে অনেক কবিই গানের পথে হেঁটে দেখেছেন। চেখে দেখেছেন গানের স্বাদ। নজরুলের একটা বিখ্যাত গান আছে-" আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন ..." গানটা প্রায় সবাইকেই নস্টালজিয়া করে দেয়। এই রকম গান দ্বিতীয়টি এখনো পাই নি, পাবো বলে মনেও হয় না। এছাড়াও রমজানের ওই রোজার শেষে,শুকনো পাতার নূপুর পায়ে, রণসঙ্গীত, প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই, চমকে চমকে ধীর ভীরু পায়, জাগিলে ‘পারুল’ কি গো, ঝুম ঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এল গো ইত্যাদি গানের শ্রোতার/ভক্তের শেষ নেই।ফাতেমা তুজ জোহরা বা শিল্পীর কন্ঠে নজরুল সংগীত বেশ মানায়।

আরেক কবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের শুরু আছে, শেষ এখনও পাই নি। মাঝে মাঝে তাঁকে কবির চাইতে গীতিকার বলেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। প্রত্যেক মুহূর্তের জন্য লিখেছেন গান। মৃত্যু, প্রেম, বিরহ, শিশুতোষ, সমতা, উৎসব ইত্যাদি সকল বিষয়ে রয়েছে তাঁর সৃষ্টি, তাঁর গান। তাঁকে নোবেল পুরষ্কার এনে দিয়েছে যে কাব্যগ্রন্থ, সেটা যে গানেরই গ্রন্থ( গীতাঞ্জলী)। আমার পছন্দের তালিকায় যে পরিমাণে রবীন্দ্রসঙ্গীত আছে, তা প্রকাশ করতে গেলে রাত পেরোবে বলে করছি না।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন যে গান লিখেছিলেন এবং সুর করেছিলেন তা অনেকেরই অজানা। 'দুরন্ত পরবাসী' নামের একটা বিখ্যাত মাটির গান আছে না, তা কিন্তু কবি জসীমউদ্দীনেরই লেখা এবং সুর করা। অর্থাৎ, বাংলাদেশের এই উজ্জ্বল তারাও গানকে ভালোবেসে আলিঙ্গন করেছিলেন সুরের সাথে......

সাঁওতালি/পাহাড়ি গান কখনও শুনে দেখেছেন? এই গানগুলো শুনলে ইচ্ছে করে ঢাকা ছেড়ে রাঙামাটি চলে যাই! পাহাড়ি গানের ভেতর চল মিনি আসাম যাবো, বেলা ডুবিলো, বিহুরে লগন, ময়না ছলত ছলত, ঝুম ঝুম ময়না নাচে ঝুমঝুম ইত্যাদি ভীষণ পছন্দের।

ফোক গান বা বাউল গানের প্রতিও রয়েছে ভীষণ রকমের দুর্বলতা। লালন শাহ, শাহ আব্দুল করীম, আব্দুর রাহমান ইত্যাদি সঙ্গীত স্রষ্টার কিছু সৃষ্টি রয়েছে যা অমর। জাত গেলো, গাড়ি চলে না, পাগল মন, আমি অপার হয়ে ইত্যাদি গানের কোন তুলনা হয় না। আধ্যাত্মিক গানের উজ্জ্বল নক্ষত্র যেন তাঁরাই ।

বাঙলার ব্যান্ড মিউজিকের রয়েছে বিশেষ গুন। এসব দলের গানে রয়েছে যন্ত্রের সুনিপুণ ব্যবহার। আর্টসেল, ওয়ারফেজ, এল আর বি, নেমেসিস, দলছুট, মোহিনের ঘোড়াগুলি, ইত্যাদি ছাড়াও রয়েছে শত শত বাঙলা ব্যান্ড। প্রত্যেকেরই রয়েছে স্বতন্ত্র স্টাইল, স্বতন্ত্র ভাবনা। অনেকের রক গান শুনে কষ্ট ঝেরে ফেলা হয়, অনেকের মেলোডি গান শুনি ভাবনার সাগরে ডুব দেয়া হয়। গীটার, ড্রামস, বেজ গীটারের শব্দে যেন অন্য আরেক ভুবনের সৃষ্টি হয়। কখনও গীটারের রিফের শব্দ, কখনও রিদম, কখনও লিডের সুর মন ভুলিয়ে দেয় ।

এছাড়াও রয়েছে ছবির গান, সলো গান। বর্তমানের অধিকাংশ ছবির গানগুলোর মাঝে আগের মত আর দরদ বা মাধুর্যতা নেই বললেই চলে। তাছাড়া আজকালকার সলো আর্টিস্টদের সব গানে একই কম্পোজিশন ব্যবহার করা হয়। যার কারণে ছবির বা সলো গানের প্রতি দর্শকদেরও মমতা কমে যাচ্ছে।

যতই লিখি না কেন, গান নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবে না। মনে হচ্ছে মনের ১% কথাও লিখতে পারি নি। বাঙলা গান নিয়েই শেষ করতে পারলাম না, বাহিরের গান নিয়ে লেখা তো দূরের কথা। এর মানে এই নয় যে, অন্য ভাষার গান শোনা হয় না।

এখন মনে হচ্ছে রবীবাবু'র গানের কথাকে একটু ঘুরিয়ে বলা যায়। "আলোয় ভুবন ভরা"-লাইনটি না বলে বলে, "গানে ভুবন ভরা বললেও কোন অপরাধ হবে বলে মনে হয় না। .........

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.