| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চারজনই ভীষণ ব্যস্ত । এই মুহূর্তে যদি ছবিটা তুলতে না পারে, তবে হয়তো অনেক বড় কিছু জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। তাদের চিন্তাটি আসলেই প্রশংসা পাবার যোগ্যতা রাখে।
“পথশিশুর মাথার ভেতর গেঁথে যাবে সূর্যাস্তের রক্তিম আধেক সূর্য। সেই শিশুর হাতে একমুঠ ঝরঝরে সাদা বালি, যা ধীরে ধীরে ছেড়ে দিচ্ছে মাটিতে । বালির ঝাঁক মাটিতে পড়ার আগেই ভেসে যাচ্ছে হাওয়ায়!”
অপূর্ব তাদের চিন্তাধারা ।
রকিব : সাজু , দোস্ত। তুই বসে ছবিটা তোল।
জাহিদ : না না । যেভাবে আছে সেভাবেই থাক। অস্থির একটা ছবি হবে । বসে তুললে এঙ্গেল মিলবে না ব্যাটা !
রকিব : কি জানি । আমি আবার এঙ্গেল-টেঙ্গেল বুঝি না ।
কাব্য : এই পিচ্চিটারে সামলানো ঝামেলা । ব্যাটা সোজা হয়ে দাড়া । বালু আস্তে আস্তে ছাড় ।
জাহিদ : বাতাসটাও এখন নাই ।
হঠাত মৃদু বাতাস বইতে শুরু করলো । সূর্যটাও প্রায় অর্ধেক ডুবে গেলো বালকের মস্তিষ্কে । সবকিছুই ঠিক-ঠাক, বাকি রইল ক্যামেরাবন্দি করার কাজ ।
তখনি বেদনায় মগ্ন কন্ঠে সাজু বলে উঠলো – “ধুর ব্যাটা। ডি.এস.এল.আরটা থাকলেই জোস একটা ছবি তোলা যাইতো। শিঘ্রই একটা ক্যামেরা কেনা লাগবেরে। ”
বাকি তিনজনই সম্মতি দিলো – “আসলেই”। তার কিছুক্ষন পর স্থান ত্যাগ করে যার যার বাসার পথে হাঁটা দিলো সবাই।
তারা চারজনই সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে । তাদের কাছে এখন অব্দি কোন ক্যামেরা নেই। আছে প্রত্যেকের কাছে একটি করে, যাকে আমরা বলি মনের ক্যামেরা। আর সেই ক্যামেরা দিয়েই তুলে যায় অসাধারণ সব ছবি। কিন্তু সেগুলো শুধু তারা চারজনই দেখতে পায়। হয়তো এত উঁচু মাপের ছবি দেখার মত ক্ষমতা, কারও নেই।
প্রায়ই তাদের এমন অসাধারণ পরিকল্পনা এসে জাগিয়ে দেয় স্বপ্ন । কিন্তু বড় মাপের অর্থ খরচ করার মত ইচ্ছা তাদের নেই। ইচ্ছা বলছি কারণ, তারা চাইলেই তাদের মধ্যবিত্ত বাবা-মা’কে নাছোড়বান্দার মত আবদার করে সব আদায় করতে পারে। কিন্তু এতটা নির্মম মানসিকতা তাদের নয়। তারা এও জানে, তাদের এই তুচ্ছ চাহিদাগুলো বিলাসীতা ছাড়া আর কিছু না ।
২৭ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:১৭
বাঁধনদার বলেছেন: আপনার ভালো লেগেছে জেনে, আমারো ভালো লাগলো। ছোট ছোট সব কষ্টগুলোকে ক্যামেরার সাহায্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি কেবল। হয়তো সব অপূর্ণতা খুলে বলতে গেলে, নিজেকেই হারিয়ে ফেলতাম।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:০৯
যাযাবর বেদুঈন বলেছেন: মধ্যবিত্তের স্বপ্নগলো এভাবেই বুকের গভীরে কেঁদে মরে। খুব ভাল লাগল অল্পের মধ্যে পুরো বাস্তবতা তুলে ধরার আপনার এই প্রয়াস। শুধু ক্যামেরা কেন ছোট ছোট অনেক সাধই অপূর্ন রয়ে যায়।