| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বছরের শেষ কয়েকটা দিন পত্রিকার পাতা জুড়ে অন্যরকম একটুখানি বৈচিত্র্য। নিত্যদিনকার মারামারি, সংঘাত আর অসংযত আচরন ও অশ্লীল কাদা ছুড়াছুড়ির পাশাপাশি অন্য রকম খবর আর বিশ্লেষণ। বিগত বছরের সালতামামি। কি পেলাম আর কি হারালাম বছর ধরে, তার হিসাব পত্র। সেই সাথে বিগত বছরের হতাশা, আক্ষেপ আর নতুন বছরের জন্য আশা জাগানিয়া হাতছানি।
কারো কারো বুকে আশংকার ধুকপুকানি, এবার বোধহয় দেশটাতে গৃহযুদ্ধ বেধেই গেল। কেউ কেউ ইতিমধ্যে বুক চাপড়াতে শুরু করেছে ‘‘গেল গেল, সব গেল’’ রব তুলে। দেশী-বিদেশী হিতাকাংখীরা (!) দিন রাত ছুটাছুটি করছেন এই ব্যর্থ হতে যাওয়া রাষ্ট্রটাকে কোনো রকমে টিকিয়ে রাখার অব্যর্থ গুপ্তিমন্ত্র নিয়ে।
চারপাশে অনেক বিশ্লেষণ, অনেক জ্ঞানগর্ভ আলাপচারিতা, বোদ্ধাদের মাথা খাটিয়ে বের করা দেশের ভবিষ্যতের পূর্ভাবাস। মোটা মোটা বই আর অনলাইন মেটেরিয়েল থেকে রেফারেন্স, লিংক আর টেবিল চাপড়িয়ে গলার সুর সপ্তমে তুলে চারপাশ গরম করা বক্তব্য। ফেসবুক আর ব্লগে তরতাজা স্ট্যটাস আর ব্লগিং-কেউ কারো চাইতে কম বোঝে না, নিজেকে বুদ্ধিজীবী সেলিব্রেটি বানাতে না পারলে এই জীবনের তো ষোল আনাই মিছা !
চর্তুদিকের মেধাবী আর অনেক জানাদের ভীড়ে কম জানা, কম বোঝা এই আমি কেমন যেন হতচকিত বোধ করি। মনের ভিতর অনুতাপ, লজ্জা আর বিরক্তিতে দিশেহারা লাগে। শুধু মনের কোথায় যেন কেমন কেমন করে, “কেমন আছে আমার ‘দেশ’ নামের মা টা?” পারছে কি সে সইতে তার সন্তানদের পোড়া শরীরের আর্তনাদ? পারছে কি সইতে তার সন্তানদের না খেয়ে থাকার কষ্ট? ভয় কি পাচ্ছে না তার সন্তানদের অনাগত অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের কথা ভেবে? জানি, সব প্রশ্নের উত্তরে শুধু ছেড়া মলিন আচলটুকু চোখে চেপে ধরা ছাড়া তার আর কোন কিছু বলার নাই।
ভাবতে ভাবতে অল্পবুদ্ধি-অলা এই আমার শরীরে জেদ আর সাহস এসে জড়ো হয়। সত্যি কথা, দেশের সবচেয়ে বড় অংশ কোনো কথা বলে না, বলা ভালো এদের কথার কেউ গুরুত্ব দেয় না। এরা যা পারে সেটা হলো, করে দেখানো, যার কোনো প্রতিদান বা পুরষ্কার নাই, অবশ্য এটা তারা আশাও করে না বোধহয়। দেশের মাথাওয়ালাদের কাছে অপাক্তেয়, দেশ’মা এর এই সন্তানেরা, ঝড়ের পরে আবার মাথা তুলে দাড়ানো এই অসমসাহসী মানুষগুলো, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এই লোকগুলো নীরবেই দেশ নামক মা’টার পরিচর্যা করে যাবে, কখনো হারাতে দেবে না মা’র সম্মান আর মর্যাদা।
আমি এই মানুষগুলোকে খুব কাছাকাছি দেখেছি, ভাগ নিয়েছি তাদের সুখ-দুঃখের, তাদের সাথে হাটু-কাদায় ফসলের মাঠ চষে বেড়িয়েছি আর ছুয়ে দেখেছি তাদের ফলানো শস্যের গাছ। আমি দেখেছি তাদের মমতা আর স্নেহ। তাই, এত এত ব্যখ্যা-বিশ্লেষণের মাঝেও আমি চুপচাপ থাকি আর অনুভব করি সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা।
তাই, আমি আজও স্বপ্ন দেখি। আমি জানি, এই মানুষগুলো কখনো তাদের মাকে হারতে দেবে না। “সাবাশ বাংলাদেশ”।
©somewhere in net ltd.