| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
আজ এই মুহূর্তে আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন কিংবা আপনি জন্মগতভাবেই মুসলিম, এ মুহূর্তে আপনি ইসলামের কোনো বিধান পালন করতে চান, তো আপনাকে আলেম-উলামা বা ইসলাম সম্পর্কে জানেন-এমন ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে হবে। আমাদের এই ভূখন্ডে প্রথম দিকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা ঈমান শিখেছিলেন ইসলাম-প্রচারকদের কাছে। এরপর তাদের কাছেই নামায আদায় করতে শিখেছিলেন। আজ এবং অনাগত দিনেও পৃথিবীব্যাপী প্রতিটি নওমুসলিমই ঈমান, অযু-গোসল, হালাল-হারাম, সালাত-যাকাত, সিয়াম-হজ্ব ইত্যাদির প্রথম ধারণা লাভ করবেন তার ইসলাম গ্রহণের প্রথম মাধ্যম ব্যক্তিটির কাছ থেকে এবং বহু কিছু তিনি শিখে নিবেন মুসলিমসমাজের ধর্মীয় কার্যক্রম ও কালচার থেকে। এ বিষয়টি আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারব যদি কল্পনা করি সে সময়টির কথা, যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এত উন্নত হয়নি। শিক্ষা-দীক্ষার হার ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যম বলতে তেমন কিছুই ছিল না। ছিল না এত বই-পুস্তক, পত্রিকা ও প্রকাশনা। তখন ভাবের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের একটিই উপায় ছিল। তা হল মৌখিক জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন। অর্থাৎ হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া।
আজকের এই সময়টা নিয়েই ভাবুন। দেখবেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা ইসলামী বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, ইবাদত-বন্দেগী, সুন্নত-বিদআত, জায়েয-নাজায়েয, হালাল-হারাম প্রভৃতি যা কিছুই জানেন এর সিংহভাগই সমাজ, পরিবেশ, গৃহশিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ওয়ায়েজ, মক্তবের উস্তাদ, মা-বাবা, দাদা-দাদী ইত্যাদি মানুষ থেকে শেখা। কেবল নিজের পড়াশোনা, প্রচারমাধ্যম বা অন্যান্য ব্যক্তিগত অনুসন্ধান থেকে ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা এ দেশে এখনও অনেক কম।
আমাদের সমাজের প্রকট বাস্তবতার আলোকেই বাঙ্গালী মুসলমানের প্রথম ইসলামী জ্ঞান অর্জনের এ ব্যবস্থাকে অবলম্বন করেই প্রবচন চালু হয়েছে-‘শুইন্যা মুসলমান।’ অর্থাৎ মূল উৎস ঘেঁটে, দেখে বা পড়ে নয়, শুনে শুনে যারা একটি বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ প্রবচনটি প্রয়োগ করে থাকেন গ্রাম-বাংলার মানুষ।
কেবল বই-পুস্তক পড়ে একটা কাজ শেখা আর একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে হাতে-কলমে শিক্ষালাভ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। কোনো খেলা, ব্যায়াম, সাইকেল বা গাড়ি চালনা কোনোটাই শুধু বই-পুস্তক পড়ে, মিডিয়ায় ছবি দেখে পূর্ণরূপে শিখে নেওয়া সহজ নয়। একজন উস্তাদের সাথে থেকে তার ইনস্ট্রাকশন মেনে বিষয়টি শিখলে এবং হাতে-কলমে অনুশীলন করলে পুঁথিগত জ্ঞান বা তাত্ত্বিক ব্যাকরণ ততটা না জানলেও কাঙ্খিত কার্যক্রমটুকু শিখে নেওয়া সম্ভব। পড়াশোনার বিষয়টি ব্যবহারিক পর্যায়ে থাকলেও কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। গভীর তত্ত্ব আলোচনা ও সামগ্রিক জ্ঞান অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের জন্য জরুরি হলেও বিশ্বাস, দর্শন ও জীবনব্যবস্থার সাধারণ অনুসারীর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ওই প্রশিক্ষক, গুরু, পীর, উস্তাদ, মুর্শিদ, আলেম, ইমাম বা প্রচারকের সান্নিধ্যই যথেষ্ট।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ও আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন ইসলামের প্রচার তত্ত্বের চেয়ে ব্যবহারিক পর্যায়েই বেশি অগ্রসর হয়েছে। কেননা, পৃথিবীর সকল অঞ্চলের সকল যোগ্যতার মানুষকে তাওহীদ, রিসালত ও আখেরাতের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থার দিকে দাওয়াত দিতে চাইলে কোনো কঠিন ও জটিল পন্থা অবলম্বন করা চলবে না। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সরল ও সনাতন পন্থায়ই তা করতে হবে।
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জীবনের প্রতিটি বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন, কোনো বই-পুস্তক ধরিয়ে দিয়ে গবেষণা করে বুঝে নিতে বলেই দায়িত্ব শেষ করেননি। পৃথিবীর অপরাপর এলাকায় বসবাসরত সমকালীন মানুষ এবং পরবর্তী সকল যুগের অনাগত বিশ্বমানবমন্ডলীর কাছে নিজের দাওয়াত পৌঁছে দিতেও হযরত বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, পান্ডুলিপি ইত্যাদির আশ্রয় নেননি। তিনি তাঁর সাহাবীগণকে দায়িত্ব দিয়েছেন বিশ্বময় ছড়িয়ে পড় এবং আমার আদর্শের একটি বাণী হলেও পূর্ব-পশ্চিমে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলতেন, তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায পড়, সাহাবীরা যেমন নতুন কোনো মানুষকে অযু শেখানোর সময় তাদের সামনে বসে অযু করতেন এবং বলতেন, এই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অযু। ইসলামের প্রতিটি বিধানই প্রাথমিকভাবে এর ধারক-বাহকদের মাধ্যমে ব্যবহারিক তথা প্রায়োগিকভাবেই বিস্তৃত ও প্রচলিত হয়েছে। আর ইসলামের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বা এর অন্তর্নিহিত শক্তিও এখানেই যে, এটি ধারণ বা পালন না করে বহন করা যায় না। আর একে ভালো না বেসে ধারণও করা যায় না। যারা একে ভালবাসেন ও নিজেরা ধারণ করেন, তারাই কেবল একে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর আনুষ্ঠানিক প্রচারের তুলনায় এর ধারক ও সেবকদের আন্তরিকতা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই ইসলাম অধিক, ব্যাপক, গভীর আর টেকসই পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। দেড় হাজার বছরের ইতিহাসই এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।
এখন ইসলামের একজন অনুসারী হিসেবে আমি নিজেকে নিয়েই চিন্তা করি। ইসলামের একজন প্রচারক যখন আমার কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরবেন, সে সময়টা যদি হয় আরও ২, ৪, ৫, ৭ শ বছর আগের, তখন কি তার পক্ষে সম্ভব আমার হাতে এক কপি কুরআন বা সহীহ হাদীসের একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন তুলে দেওয়া? বাংলাভাষী হওয়ায় আমার পক্ষে কী আরবী ভাষায় তা পাঠ করাও সম্ভব? শুধু আরবী ভাষা বলেই কথা নয়, আমার পক্ষে কি তাত্ত্বিক এ দুটো উৎস-বিদ্যার বিষয়গত ভাব উদ্ধার করাও সম্ভব? এখানে আমার জ্ঞান-গরিমার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বোধ-বিবেকের পরিমাণও একটি প্রশ্ন। এরপর বহু সাধনা করে কুরআন-সুন্নাহর ভান্ডার হাতে পেয়ে গবেষণা করে এর সারনির্যাস হাসিল করে নিজে ঈমান, আমল ও আখলাক চর্চা শুরু করতে আমার কত মাস, বছর বা যুগ লাগবে সেটাও কি কম বড় প্রশ্ন ? এতটা পরিশ্রম করে যদি ইসলাম পালন আমি শুরু করি, তাহলেও তো ভালো। কিন্তু এ কাজটুকু ক’জন মানুষের পক্ষে সহজ বা সম্ভব? তদুপরি প্রশ্ন দেখা দেবে যে, কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে ঈমান-আমল, নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত, বিয়ে-শাদি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঋণ-উৎপাদন, দান-খয়রাত, জীবন-মৃত্যু, জানাযা-উত্তরাধিকার ইত্যাদি শুরু করার আগ পর্যন্ত আমার মুসলমানিত্বের এ দীর্ঘ সময়ের নামায-বন্দেগী ও কাজকর্মের কী হবে?
আমার তো মনে হয়, কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর ঈমান ও আমলের জন্য, ইসলামী জীবনবোধ ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য প্রথম দিনই কুরআন ও সুন্নাহ গবেষণা শুরু করার পদ্বতি ইসলামের স্বাভাবিক রীতি নয়। যদি এই না হবে তাহলে আমার সন্তানকে আমি ঈমান শেখাব কী করে? তাকে নামায, যিকর, সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল ও আদব-আখলাক আমি কোন অধিকারে শিক্ষা দেব? যদি সে প্রশ্ন তোলে, আববু! তুমি আমাকে কুরআন ও সুন্নাহ শেখাও কেন? কুরআন-সুন্নাহ থেকে আমিই আমার জীবনবিধান খুঁজে নেব। তুমি এর মধ্যে এসো না। তুমি তোমার প্রায়োগিক আচরণ ও পর্যবেক্ষণ আমার ওপর চাপাতে চেষ্টা করো না। আমি তোমার বা তোমাদের মাযহাব মানি না। আমার দায়িত্ব তো কুরআন-সুন্নাহর ওপর আমল করা। অতএব কুরআন-সুন্নাহর ওপর দখল স্থাপন করার সময় আমাকে দাও। এরপরই আমি শরীয়তের ওপর আমল শুরু করব। পুত্রের এসব যুক্তির পর আমার বলার কি কিছু থাকবে?
পুত্রের এ বক্তব্য যে ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সে ভিত্তিই আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের প্রচার ও শিক্ষাকে যে সনাতন ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে প্রচলিত ও বিস্তৃত করেছেন, এর সম্পূর্ণ অনুরূপ হচ্ছে আমার এ উদ্যোগ।
আমার পুত্রকে ইসলামী জীবন-বিধান শিক্ষা দেওয়া আমার ওপর শরীয়তের নির্দেশ। আমি তাকে আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহর শক্তি, প্রীতি, ভীতি ও ভালবাসা শেখাব। তাকে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহত্ত্ব, অবস্থান ও অপরিহার্যতা সম্পর্কে ধারণা দেব। তাকে নামায শেখাব। খাওয়া-পরা, ঘুম-বিশ্রাম, প্রস্রাব-পায়খানা, প্রবেশ-প্রস্থান, মসজিদে যাতায়াত, আযানের জবাব, হাঁটা-চলা, সালাম, মোসাফাহা ইত্যাদির ইসলামী নিয়ম শিক্ষা দেব। আমি নিজেও অযু-গোসল, রোযা-নামায, দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন, হজ্ব-কুরবানী প্রভৃতি যথাযথ নিয়মে পালন করব। অথচ আমি কুরআন বা হাদীস পড়ার বা বুঝার মতো যোগ্যতা রাখি না। জ্ঞানের এ দুই মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান হস্তগত করে আমল করার মতো শিক্ষা, মেধা, মানসিক যোগ্যতা বা সামগ্রিক অবস্থা আমার নেই, এমতাবস্থায় আমার কী করণীয়?
আমার তো মনে হয়, এখানে আমার ও আমার পুত্রের একই ধরনের করণীয়, যা ইসলামের ১৫০ কোটি সমসাময়িক অনুসারীর প্রত্যেকেরই করণীয়। আর তা হল, কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা-কিয়াস থেকে গৃহীত ইসলামী বিধিবিধানের প্রায়োগিক রূপ ফিকহের অনুসরণ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন, একজন ফকীহ শয়তানের মোকাবেলায় এক হাজার আবেদেরও চেয়েও শক্তিশালী। এর কারণ সম্ভবত এটিও যে, এক হাজার সাধারণ মুসলিমকে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে সংশয় উদ্বেগ ও বিভ্রান্তিতে ফেলে দেওয়া শয়তানের জন্য যত না কঠিন একজনমাত্র শরীয়ত-বিশেষজ্ঞ ফকীহ আলেমকে বিভ্রান্ত করা এরচেয়ে বেশি কঠিন। কেননা, এই ব্যক্তির কাছে কুরআন ও সুন্নাহর শক্তিশালী সম্পদ রয়েছে। রয়েছে ইলমে দ্বীনের আরও বিস্তারিত ভান্ডার।
কুরআন মজীদেও আল্লাহ তাআলা এ মর্মে বলেছেন, প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মধ্য হতে একদল মানুষ যেন দ্বীনী ইলমের উপর ব্যুৎপত্তি অর্জন করে কারণ জনগোষ্ঠীর বাকি অংশটিকে তাদের শরীয়তের উপর পরিচালনা করতে হবে। এখানেও আমরা ফকীহ বা শরীয়তের আলেমের বিধিগত অস্তিত্ব এবং তাঁর কুরআনী দায়িত্ব উপলব্ধি করতে পারি।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মহামান্য সাহাবীগণের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর ইসলাম যখন আরব-উপদ্বীপ ছেড়ে একদিকে সাহারা গোবি ছুঁয়ে দূর অতলান্তিক স্পর্শ করছিল, অপরদিকে আসমুদ্র সাইবেরিয়া আর মহাচীনের প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল তখনও কিন্তু পবিত্র কুরআন ব্যাপকভাবে হস্তলিখিত হয়ে এত বিপুল পরিমাণ অনুলিপি তৈরি হয়নি, যা প্রতিটি শিক্ষিত নও-মুসলিমের হাতে তুলে দেওয়া যায়। আর হাদীস শরীফ তো তখনও যাচাই বাছাইয়ের পর সংকলিত ও গ্রন্থবদ্ধ হয়েও শেষ হয়নি। তো ইসলামের এ অগ্রযাত্রা, ইসলামী শরীয়তের আলোয় প্লাবিত এ নতুন পৃথিবীর বুকে কাদের মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর আলো প্রতিবিম্বিত হয়েছিল? এর ছোট এক টুকরো জবাবই ইসলামের ইতিহাসে সুরক্ষিত আছে, যা আমি এ লেখার শুরুতে নিবেদন করেছি। হাদীস শরীফে তো বলা হয়েছে, তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় আমি রেখে গেলাম। যতদিন তোমরা এ দুটো আঁকড়ে রাখবে ততদিন পথচ্যুত হবে না। এক আল্লাহর কিতাব। দুই. আমার আদর্শ। এ মহা দিকনির্দেশনার আরও সুসংহত রূপ হচ্ছে হযরতের অপর বাণী, যেখানে মুসলিম জাতিকে সত্যপথের দিশা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যে আদর্শের উপর আমি রয়েছি আর আমার সাহাবীগণ রয়েছেন।’ অন্যত্র বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য অবধারিত করছি আমার এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের অনুসরণ।’
এখানে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, ইসলামী অগ্রযাত্রা ও ইসলামী জীবনসাধনার সঠিক দিকনির্দেশের জন্য কুরআন ও সুন্নাহকে মূল উৎস সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইসলামী জীবনব্যবস্থার আদর্শ ও মাপকাঠিরূপে অভিহিত করা হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহচরবৃন্দের অনুসৃত পথ, যা প্রধানতই ব্যবহারিক ও সান্নিধ্যগত আদর্শ। বই-পুস্তক ও তত্ত্ব প্রধান নয়। যে জন্য সাহাবায়ে কেরামের মূল সময়কালের শেষ পর্যায়ে আমরা পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারায় হযরত মালেক ইবনে আনাসকে রাহ. দেখতে পাই গোটা মুসলিমসমাজের লোকশিক্ষক ও দিকনির্দেশক হিসেবে। ইসলামের উপর আমল করার জন্য মদীনাবাসী তখন থেকেই কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গবেষণা বা অনুসন্ধান শুরু না করে ফকীহ ও আলেম ইমাম মালেকের ফিকাহ বা মাযহাবের উপর, তার নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের উপর নিশ্চিন্তে নির্ভর করেছেন। এরও বহু আগে থেকে মক্কাবাসীরা নির্ভর করেছেন হযরত ইবনে আববাস রা.-এর উপর। এর কিছুদিন পর থেকে বৃহত্তর ইরাকবাসী ইমামে আজমের ফিকহের উপর। আর এটিই কুরআন ও সুন্নাহর বিধান। আল্লাহ তাআলা যেমন বলেছেন, তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের। আর অনুসরণ কর তোমাদের উলুল আমর বা শরীয়তী অথরিটির। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, পিতার সন্তুষ্টিতেই রয়েছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। তো আমার পুত্রকে দৈনন্দিন জীবনের যে শরীয়ত সম্পর্কিত শিক্ষা-দীক্ষা আমি দেব তা তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা ও তার উপর আমল করাও পুত্রের উপর শরীয়তেরই নির্দেশ। এখানে আমাদের মধ্যকার এ আদান-প্রদান কিছুতেই কুরআন-সুন্নাহ বিবর্জিত বা বিরোধী নয়।
মুসলিমজাতির হাতে তাদের শরীয়তের ব্যবহারিক রূপরেখা সমন্বিত ও সংকলিত আকারে তুলে দেওয়ার জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে যেসব সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী যুগের ফকীহগণ কঠোর জ্ঞান-গবেষণা ও সাধনা করেছেন তাদের মর্যাদা বা গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এখানে সম্ভব নয়, একখানা উদ্ধৃতি উল্লেখ করাই বিষয়টির মাহাত্ম্য উপলব্ধি করার জন্য যথেষ্ট মনে হয়। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন বিখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাতের কিছু সময় ইলম চর্চা করা রাতভর নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
কুরআন-সুন্নাহর ভেতর মানবজীবনের উদ্ভূত যে কোনো সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলে এ থেকেই আমাদের তা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাধানে পৌঁছার জন্য নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনার আশ্রয় নিতে হবে। এটি হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই আদর্শ। হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা.কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় তার মুখ থেকে এ কথা শুনতে পেয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে আল্লাহর শোকর গোযারি করেছিলেন।
ইসলাম পৃথিবীর সর্বকালের সকল মানুষের জন্য চিরস্থায়ী জীবনব্যবস্থারূপে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস প্রভৃতির মূলনীতির ভিত্তিতে ফকীহ ও মুজতাহিদ সাহাবীগণের মাধ্যমে ব্যবহারিক বিধানরূপে, সমস্যার সমাধানরূপে, বিচারালয়ে ফয়সালারূপে জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে অতুলনীয় ব্যবস্থারূপে তার ব্যাপক আকার পরিগ্রহ করতে থাকে। ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের নানা বিধানে কিছু বৈচিত্র ইসলামের বিশালত্ব ব্যাপ্তি ও কালজয়ী গুণেরই বহিঃপ্রকাশ। অসংখ্য বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের পর্যবেক্ষণে ছিল অনেক মতবৈচিত্র! এ ইসলামের এক স্বীকৃত রীতি। প্রায়োগিক বিধানের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তথা বিস্তারিত ফিকহ রচনার সময়ও মুজতাহিদ আলেমগণের পর্যবেক্ষণ, উপলব্ধি ও নির্বাচনে এ ধরনের বৈচিত্র ফুটে ওঠে। শরীয়তে চিন্তার এ বৈচিত্রকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে মূল কথা হচ্ছে কুরআন মজীদ, সুন্নাহ, প্রথম যুগের প্রচলন, সাহাবীদের ঐকমত্য আর পূর্ববর্তী নজির অনুসরণ। এসব মূলনীতি বিশ্লেষণ করেই আপেক্ষিক বিষয়ের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর এ ইজতিহাদী তত্ত্বের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠেছে ইসলামের বহুমাযহাব সম্বলিত ব্যবহারিক ফিকহ।
কুরআন-সুন্নাহ ও এর প্রাসঙ্গিক সকল বিষয় যে সুযোগ্য ব্যক্তির নখদর্পণে, মুসলিম জাতির প্রয়োজনে তিনিই পারেন ইজতিহাদ করতে। কেননা, সাহাবায়ে কেরামের মতবৈচিত্রপূর্ণ কোনো বিষয় কিংবা সাহাবীদের যুগের পরবর্তী কোনো নতুন সমস্যার সমাধান নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া কার্যকর করা সম্ভব ছিল না। ফলে অসংখ্য মত ও মাযহাবের বৈচিত্র ছিল খুবই স্বাভাবিক, যার মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রসিদ্ধ চারটি মাযহাবের সাথে মুসলিম জনসাধারণ সমধিক পরিচিত। এসব মাযহাবের কোনোটিই কুরআন-সুন্নাহ বহির্ভূত নয় এবং কোনোটিই এমন নয়, যার অনুসরণ করলে আমরা কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী বলে গণ্য হব না। এমনকি একটি মাযহাবের ইমাম অপর মাযহাবের ইমামের এলাকায় বেড়াতে গিয়ে তার ফিকহ অনুসারেই আমল করেছেন এমন উদাহরণও ইমামদের জীবনে দেখা যায়। যেন আমরা বুঝতে সক্ষম হই যে, মাযহাব কেবলই নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়।
কুরআন-সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের সমন্বয়ে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের বহুমাত্রিকতা থেকে একটি অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ার নাম তারজীহ। আর এ প্রাধান্যপ্রাপ্ত সমাধানগুলোই হচ্ছে মাযহাবের বৈচিত্রপূর্ণ অংশ। অতএব মাযহাব মানা আর কুরআন-সুন্নাহ মানার মধ্যে কোনোই ফারাক থাকার কথা নয়। তাছাড়া সাধারণ মুসলমানের পক্ষে কোনো আংশিক বা সামগ্রিক, প্রসিদ্ধ কিংবা অখ্যাত মাযহাব অনুসরণ ছাড়া শরীয়তের উপর আমল করাও প্রায় অসম্ভব।
কেননা, ইসলামের বিশালত্ব, চিরস্থায়িত্ব ও সর্বকালের সকল অঞ্চলের মানুষের উপযোগী ধর্ম ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে এর ভেতরকার সবকিছুই পরম উদার ও বৈজ্ঞানিক। এতে অনেক সুযোগ, উদারতা ও বিস্তৃতি রয়েছে। জীবন ও জগতকে গতিশীল উপায়ে এগিয়ে নেওয়া ইসলামের প্রেরণা। সুতরাং এখানে প্রায় সব বিষয়েই অনেক এখতিয়ার, অনেক সহজতা। ইসলামের মূল ইবাদত নামাযের ভেতর যত বৈচিত্র ও সহজতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন থেকে হাদীসের মারফত আমরা পাই, এর সবগুলোর উপরই আমাদের আমল করার বৈধতা ও যুক্তি রয়েছে। এতে একজন বিজ্ঞ মুজতাহিদ যখন একটি নামায পদ্ধতি আমাদের জন্য কুরআন-সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস-এর আলোকে নির্বাচন করবেন, তখন সেটাই এক এলাকার, এক সংস্কৃতির মানুষকে ধারণ করতে হবে। এ পদ্ধতির চর্চাই পরস্পরগতভাবে প্রজন্মান্তরে চলতে থাকবে। শুধু নামায নয়, যাকাত, হজ্ব, কুরবানী, পাক-নাপাক, হালাল-হারাম, জায়েয-নাজায়েযের প্রতি ক্ষেত্রেই এভাবে মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা মুসলিমজাতি উপলব্ধি করবে। সর্বোপরি সকল মাযহাবের ইমামদের অভিন্ন একটি কৈফিয়ত ইসলামে রয়েছে যে, আমার নির্বাচিত মাসআলার বিপরীতে যদি আরও শক্তিশালী প্রমাণ খুঁজে পাও তাহলে আমার মাসআলা ত্যাগ কর। বিশুদ্ধ হাদীস যদি আমার সিলেকশনকে চ্যালেঞ্জ করে তাহলে আমার কথাকে ছুঁড়ে ফেলে দাও। এখানে অবশ্য একজন মুজতাহিদের নির্বাচনকে যাচাই করার জন্যও ন্যূনতম কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন। সাধারণ একজন দর্শক, শ্রোতা বা পাঠকের পক্ষে এক্ষেত্রে নাক গলানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও অসঙ্গত।
যদি কোনো ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের সকল শর্ত পূরণ করা একজন মুজতাহিদ হন তাহলে তিনি কোনো ইমামের মাযহাব অনুসরণ না করে নিজেই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করতে পারেন। তবে কুরআন-হাদীসের অনেক শাস্ত্রবিদ মনীষীও এ ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। কেননা, বিষয়টি শরীয়তের এক বা দুই শাস্ত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, কুরআন ও হাদীস সংক্রান্ত সকল মৌলিক শাস্ত্রে গভীর বুৎপত্তির অধিকারী হয়ে নিজেকে নতুন পথের পন্থী দাবি করা চাট্টিখানি কথা নয়।
অতএব নির্দ্ধিধায় আমরা স্বীকৃত মাযহাবগুলোর উপর আমল করতে পারি। কর্মসূচিগত ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য যেকোনো একটি মাযহাবকে বেছে নেওয়া জরুরি। যেমন, একটি বহুতল ভবনে ওঠার জন্য যদি সিঁড়ি, এসকেলেটর, লিফট, ক্রেন, রশি প্রভৃতি উপায় থাকে তাহলে একই সঙ্গে একাধিক উপায় অবলম্বন করা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ বলে বিবেচিত। একটি পন্থাই বেছে নিতে হবে আমাকে। তাছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি পন্থা অনুসারে আমল করা এজন্যও কর্তব্য যে, ইবাদত বা আচরণে অস্থিরতা এর আবেদনকে বহুলাংশে ক্ষুণ্ণ করে থাকে।
অতএব স্বাভাবিকভাবেই আমরা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, মাযহাব অনুসরণ করলে প্রকৃতপক্ষে আমি কুরআন-সুন্নাহই অনুসরণ করলাম। আমি তখন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। আমি তখন আহলে কুরআন, আহলে হাদীস। আমিই তখন সালাফী বা পূর্ববর্তী মুরববীদের অনুসারী। কেননা, এসব পথের মূল প্রেরণা আর মাযহাব সংকলনের প্রেরণায় কোনোই বিরোধ নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বোধ ও উপলব্ধি দান করুন, আমীন।
মাসিক আল-কাউসার(সফর ১৪৩২ . জানুয়ারী ২০১১)
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:১৬
অগ্রপথিক... বলেছেন: আমি নিজের থেকে কিছু বলতে চাইনা,শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া(রহ) অত্যন্ত পরিস্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, সাধারণ শ্রেণী এবং অমুজতাহিদ আলিমদের জন্য মুজতাহিদের তাকলীদ ছাড়া কোন উপায় নেই।বিস্তারিতভাবে ফতোয়াটি পড়তে পড়ুন-ফাতওয়া শায়খুল ইসলাম-২য় খন্ড
২|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৫৪
কান্টি টুটুল বলেছেন:
অতএব স্বাভাবিকভাবেই আমরা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, মাযহাব অনুসরণ করলে প্রকৃতপক্ষে আমি কুরআন-সুন্নাহই অনুসরণ করলাম
আচ্ছা হানাফী মাজহাবে নাকি মদ খাওয়া জায়েজ যেটি হেদায়া ৪র্থ খন্ড, ৪৮২ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা আছে.........এ প্রসঙ্গে আপনার অভিমত কি?
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৭
অগ্রপথিক... বলেছেন: দয়া করে মূল কিতাবের আরবী ইবারত দিন,তারপর আপনার প্রশ্নের উত্তর পাবেন ইনশাল্লাহ।
৩|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৪৬
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনি নিজে কপি পেস্ট মার্কা পোষ্টের সারমর্ম বোঝার চেষ্টা করেছেন কি?
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:০৪
অগ্রপথিক... বলেছেন: ভাই বুঝলাম আপনি ব্যাপক জ্ঞানী মানুষ(অবশ্য আপনার জ্ঞানের নমুনা কালকেই দেখেছি)। আমি তো আপনার মতো স্বশিক্ষিত মুজতাহিদ হয়ে যাইনি, তাই জটিল বিষয়গুলোতে আলেমদের মতামত কি তা উল্লেখ করি।
আর আমি তো লিংক দিয়েই দিয়েছি যে,এটি কপি-পেস্ট পোস্ট।
৪|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৫০
মাহফুজশান্ত বলেছেন: @কািন্ট টুটুল-
এইখানে আরেকখানা কপিপেস্ট দেখেন- হেসেই মরি--------
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:০৫
অগ্রপথিক... বলেছেন: আমার জানা মতে পাগলরাই বিনা কারণে হাসে।
৫|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:১৮
মাহফুজশান্ত বলেছেন: মশাই, বিনা কারনে হাসি নাই- আগে লিংক দেয়া ঐ পোষ্টে ঘুরে আসুন। তারপরও যদি কারো হাসি না পায়, তাহলে বুঝব তিনি পাগলের চেয়েও অধম বটে-
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:১৯
অগ্রপথিক... বলেছেন: আমি আপনার আগেই দেখেছি, এবং তারপর আপনি কোন গোত্রের তাও নিশ্চিত হলাম।
৬|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৩২
মাহফুজশান্ত বলেছেন: নিশ্চিত হওয়া- সে অনেক দূরের পথ- সাতরাতে থাকুন।
মহান আল্লাহতায়ালা চাইলে এবং নিজের সদিচ্ছা থাকলে- সঠিক ঠিকানা পেয়ে যাবেন।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৫০
অগ্রপথিক... বলেছেন: কেউ কেউ পুকুরে সাতার কেটে মনে করে ,যে বুঝি সাগরে সাতার কাটছে, আর মনে করছে এটিই বুঝি সাগর--------------
৭|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:০০
মাহফুজশান্ত বলেছেন: অনেকের তো সাগর আর পুকুরের মাঝে পার্থক্য বোঝার মত বোধই নেই- তাদের জন্য সাগরে নামলেই কি, আর পুকুরে নামলেই বা কি?
ময়লা কাদা সংগ্রহ করে তা ছোড়াছুড়ি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:১৭
অগ্রপথিক... বলেছেন: অনেকে পুকুরে নেমে মনে করে,আরে আমি তো সাগরে নেমে গেছি,তখন যদি কেউ বলে আরে ! এটা সাগর নয় এটা পুকুর।তখন সেই পুকুরে নামা ব্যক্তি অহংকার করে বলে আরে তোমরা তো সাগরই চিননি এখনো,এটাই সাগর।
তেমনি আজকাল কেউ কেউ বাংলা অনুবাদ কয়েকটি বই পড়ে ,মনে করে আরে আমি তো মুজতাহিদ ঈমাম হয়ে গেছি,কবেকার কোন ইমামরা কি আমার থেকে বেশী জানত নাকি। আর মনে মনে আওরায়-
আমি জ্ঞানী, আমি গুণী, আমি স্বজ্ঞান
তোরা সব আমায় না চিনে হয়েছিস অজ্ঞান।
৮|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:১৬
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনি যদি ইসলামের ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করেন তাহলে দেখবেন যে ইসলামের স্বর্ণযুগে কোন তাফসীর, হাদীস গ্রন্থ, ফেকাহ এর কিতাব - ইত্যাদির কিছুই ছিল না। এই সবকিছুর উদ্ভাবন হয়েছে রাসুল(স.) এর ইন্তিকালের অন্তত আড়াইশ বছর পর। এবং ইসলামের প্রসার প্রভাব হ্রাস পাওয়ার সুচনাও প্রায় একই সময়ে। এই বিষয়টি আমার কাছে দুর্বোদ্ধ মনে হয় - প্রশ্ন জাগে - তাহলে কি ইসলামী জ্ঞানের এই অতিবিস্তৃতি বা সুক্ষ্ম ব্যখ্যা বিশ্লেষণই এর পতনের অন্যতম কারণ? স্কুল জীবনে পড়া সেই 'পুথির প্রতাপ' এর মত?
কারণ যখন ইসলামী বই বলতে শুধুমাত্র কোরআন ছিল - তখন যে কেউ ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে শুধুমাত্র কোরআনই পড়তে দেয়া যেত - এই ছোট গ্রন্থটি পড়তে বা কোন আলেমের কাছ থেকে শুনতে সপ্তাহ বা মাসের বেশী লাগার কথা নয়। অন্তত তিন মাসের মধ্যে কেউ পুরো কোরআন অধ্যয়ন শেষ করে ভাবতে পারত যে ইসলাম সম্পর্কে যা জানার তা সে জেনেছে - এর পরে আসত মানার প্রশ্ন। যে মানত সে মুসলমান হয়ে যেত আর যে মানত না সে কাফের/মুশরিক থেকে যেত।
কিন্তু আজকে যদি কেউ ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায় - তাহলে তাকে কত বেশী পড়া শুনা করতে হবে?? মাদ্রাসার ছাত্ররা ১৬ বছর এই কোরআন হাদীস তাফসীর ফেকাহ ইত্যাদি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে পড়াশুনা করে। তার পর অনেকে স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে গিয়ে বা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববাদ্যালয়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরো ৪-৫ বছর উচ্চতর পড়াশুনা করে - তার পরও তার জানার শেষ হয় না। তাবলীগে চেল্লার পর চেল্লা দিয়ে শত শত দিন ব্যায় করার পরও বলে 'আমরা শেষ জমানার কমজোর মুসলমান'। এত সময় শ্রম মেধা ব্যায় করার পরও যদি ইসলাম সম্পর্কে জানাই শেষ না হয় তাহলে মানবে কখন?? আর আমাদের যাদের এই সুযোগ নাই তাদের পক্ষেতো মুসলমান হওয়াই প্রায় অসম্ভব - কারণ আমরা এই বিশাল ইসলামি জ্ঞান ভান্ডারের প্রায় কিছুইতো জানি না - সেখানে মানবই বা কি আর মুসলমানই বা হব কোন মানের!!
অথচ মুহাম্মদ(স.) বা তার সময়কার সাহাবীগন কোন কিতাব, বিদ্যালয় ছাড়া মানুষকে মুখে মুখেই ইসলাম শিখাতেন। আমাদের দেশেও যারা ইসলাম প্রচার করেছেন তারা কেউ কিতাব লেখেন নি, বিদ্যালয়ও স্থাপন করেন নি - তাদের কাছে ইসলাম শেখার জন্য মানুষকে ঘরবাড়ি, কৃষিকাজ ছেড়ে দিনের পর দিন সময়ও দিতে হয় নি। সেই সহজ মুখে মুখে প্রচারযোগ্য ইসলাম কই গেল?? অশিক্ষিত আরব বেদুইনরা মুখে মুখে ইসলাম শিখে বিশ্ববিজয়ী হয়ে গেল - আর আমরা এত এত পড়াশুনা এত মেহনত করেও কেন আমাদের সমাজেই কোনঠাসা/পরাজিত হয়ে আছি - কেন এই ঘুঁনেধরা পংকীল সমাজকে বদলাতে পারি না - কেন এখানে চোর গুন্ডা অশ্লিলতা জুলুম নির্যাতন ঘুষখোরের রাজত্য চলে?
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:২৭
অগ্রপথিক... বলেছেন: কারণ মোহাম্মাদ (সা) নিজেই ছিলেন জীবন্ত কিতাব,আর তার সংস্পর্শে যারা এসেছে,তারা ছিলেন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।আর তৎকালীন আরবদের মুখস্থ শক্তি কত ছিল তা অবশ্যই সবার জানার কথা, আর আপনি বললেন সাহাবারা ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে কোথাও যায় নি,তারা জিহাদে,ইসলাম প্রচারের কাজে বছরের পর বছর ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে থেকেছেন, আর এই বাংলায় যারা ইসলামের প্রচার করেছেন,প্রসার করেছেন,তারা প্রত্যেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে হাজার মাইল দূরের এই দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছেন।
আর আপনি বললেন, ফিকাহ আর হাদিসের উৎপত্তি হয়েছে নবীজীর আড়াইশ বছর পর, এ কথা বলার পর আপনার কথার আর কি জবাব দিতে পারি,এই যদি হয় আমাদের জ্ঞান,তাহলে আর কিছু বলার নেই।
আর মুসলমানদের পতনের মূল কারণ ছিল বিলাসিতা,যা থেকে সাহাবায়ে কিরাম নিজেদেরকে বাচিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করতেন।
৯|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৪১
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: দু:খিত আপনি দুইটি বিষয় ভুল বুঝেছেন -
আমি বলিনি হাদীস/ফেকাহ দুইশ বছর পর শুরু হয়েছে - বলেছি হাদীস সংকলন বা ফেকাহর গ্রন্থগুলির কথা। এর আগেও হাদীস ছিল - কিন্তু এখনকারমত হাদীস সংকলনের বিশাল বিশাল কিতাব তখন ছিল না। সেই সময়ের মানুষেরা প্রত্যেকে আলাদাভাবে খুব কম হাদীস জেনেও যতটা ইসলাম বুঝত আজকের মাদ্রাসা থেকে মুহাদ্দীস হয়ে বহু হাদীস জেনেও তাদেরমত ইসলাম বুঝতে পারছে না - কেন?
আর ইসলাম প্রচারের জন্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যায় নি - আমি তাও বলিনি। আমি বলেছি ইসলাম শেখার জন্য স্বাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি কৃষি কাজ ছেড়ে দিনের পর দিন পথে পথে ঘোরে নি - এখন যেমন তাবলীগের লোকেরা বলে চিল্লা না দিলে ইসলাম শেখা যাবে না। যারা ইসলাম প্রচারক ছিলেন কেবলমাত্র তারাই ঘর ছেড়ে বেড়াতেন - তাও অল্প কয়েক দিনের জন্য নয় বরং যে এলাকায় যেতেন সারা জীবন সেখানকার মানুষের সাথেই মিলে মিশে থাকতেন - তাদের মাঝে ইসলাম প্রচার করতেন। আর স্বাধারণ মানুষ তাদের থেকে মুখে মুখেই ইসলাম শিখত।
আরবদের না হয় মুখস্ত শক্তি ব্যাপক ছিল - কিন্তু এই বাংলার মানুষ ইসলাম শিখেছিল কিভাবে? বা অন্যান্য অনারব অঞ্চলের মানুষ??
মোট কথা ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিষয়গুলি এত জটিল ও ব্যাপক ছিল না - বরং খুবই সহজ সরল ছিল ( আমি সেই সহজ সরল ইসলাম খুঁজছি )। পরবর্তিতে বহু মানুষের বহু গবেষণা মতামত সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর বিচার বিশ্লেষণ সংযোজিত হতে থাকায় বিষয়গুলি ক্রমান্ময়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে - ( মাত্র চারশ পাতার কোরআনের যতগুলি তাফসীর এ'যাবত লেখা হয়েছে তার মোট আকার চার লক্ষ পাতার কম হবে কি? ) - ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ১৫-২০ বছর লেখাপড়া করেও শেখারই শেষ হচ্ছে না - মানার প্রশ্নতো আসবে তারও পরে।
হ্যা ইসলামের পতনের অন্যতম দৃশ্যমান কারণ বিলাষিতা যার শীকার ছিলেন সেই সময়কার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ধনাঢ্য ব্যাক্তিরা - কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং আলেম শ্রেনীর দুর্বলতার উৎস কোথায়? আর মাযহাবের উপত্তির সময়ে এর সংখ্যা ও ব্যাপকতা কেমন ছিল - জানেন নিশ্চয়ই? মাযহাবগত বিভাজন নিয়ে যে সংঘাত সংঘর্ষের ইতিহাস দেখা যায় তারই বা ব্যাখ্যা কি??
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৫২
অগ্রপথিক... বলেছেন: মাযহাবের বিধান দ্বীনকে সহজের জন্যই ছিল,তাই দেখুন আগে সাধারণ মানুষ আলেম-উয়ালামাদের কাছ থেকে বিধান জেনে নিত। কিন্তু বর্তমানে এক দল লোক এই সাধারণ বিষয়টাকেই জটিল করে ফেলেছে। তারা ব্লছে মাযহাব মানা শিরক, তারা মসজিদে মসজিদে সাধারাণ মানুষকে ব্লছে তোমাদের নামাজ হয় না, লিফলেট বিলি করছে, এখন আপনিই বলুন সাধারণ মানুষের জন্য কি কোরআন হাদিস থেকে মাসয়ালা বের করার যোগ্যতা আছে।
আর মাযহাবের কারণে ইতিহাসের কোন বিখ্যাত দ্বন্দ্ব-সংঘাত এর ইতিহাস আমার জানা নেই, দয়া করে সেই ইতিহাস গুলো আমাকে জানালে ভালো হতো।
১০|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৩
েশখসাদী বলেছেন: +++++ সহমত ।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৮
অগ্রপথিক... বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই
১১|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:২২
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ভাই সমস্যাটাতো এখানেই
আল্লাহর কোরআন থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য যখন কোন মানুষকে মাধ্যম মানা বাধ্যতামুলক মনে করা হয় তখনই বিভাজনের সুচনা হয়। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের, বিভিন্ন যুগের, বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতির, বিভিন্ন মন মানুষিকতার আলেম ওলামাদের মতামতের মধ্যে ভিন্নতা থাকতেই পারে।
ইসলামের ইতিহাসের প্রথম কয়েকশ বছর সকল মুসলমান সরাসরি কোরআন থেকেই শিক্ষা নিত - কারণ তখন আর কোন কিতাব ছিল না। কোরআন থেকে কোনকিছু বুঝতে না পারলে তখনই কেবল আলেম ওলামার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হত। পরবর্তিতে ঘটনা হয়েছে উল্টো - মানুষ আগে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন দলের মতের মানুষের কাছে ইসলাম শিখছে এবং খুব কম সংখ্যক মানুষই সরাসরি কোরআন - হাদীস থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে - এভাবেই মুসলমানরা বিভিন্ন দল মত মাযহাব গোত্রে বিভক্ত হয়েছে এবং প্রত্যেকে নিজের দল মত ছাড়া অন্য সবাইকে বিপথগামী বিভ্রান্ত মনে করছে। এই বিভাজন কি মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যনকর??
আপনি যখন ইসলামের ইতিহাসের উপর পড়াশুনা করছেন তখন আশা করা যায় অচিরেই মাজযাবসমুহের উৎপত্তি বিস্তৃতি ও পাস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ও পেয়ে যাবেন। সম্ভব হলে বাগদাদ কেন্দ্রীক ইসলামী খেলাফতের সেই সময়কার ইতিহাস দেখুন যখন হালাকু খাঁ ঐ নগরী আক্রমণ করে ধ্বংস করেছিল। সেই সময়ে মুসলমানদের অনৈক্য ও পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মাজহাবগত বিতর্ক ও সংঘাত।
আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব কি না এই প্রশ্ন আপনি করছেন আধুনিকতম প্রজুক্তির ইন্টারনেটে বসে! আপনি এত আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান বিজ্ঞান সব কিছুই শিখতে পেরেছেন বুঝতে পেরেছেন আর সেই কোরআন বুঝবেন না একসময় যা বুঝত অক্ষরজ্ঞানহীন সমসাময়ীক সভ্য দুনিয়ার বাইরে থাকা আরব বেদুইনগন? এবং আমাদের পুর্বপুরুষ কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষ যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বই এর কথা কল্পনা করারও সুযোগ ছিল না? আর আল্লাহর সেই ঘোষণাও স্বরণ করুন যা সুরা আল ক্বমারে চার বার বলা হয়েছে - "আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?"
আপনাকে একটি অনুরোধ করি - সময় থাকলে এই ওয়েব সাইটে ঘুরে আসুন। এখানে ত্রিশতম পারার সুরাগুলির সরল বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদ সংযোজিত আছে - নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন এর মধ্যে কতটি বক্তব্য বুঝতে পারেন আর কতটি দুর্বোদ্ধ মনে হয়। আমি নিশ্চিত আপনি অধিকাংশ বক্তব্যই পরিষ্কার বুঝতে পারবেন এবং উপলব্ধি করতে পারবেন কোরআনের বক্তব্য কতটা সহজ সরল। দেখুন: http://mqs.net16.net
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪৬
অগ্রপথিক... বলেছেন: ভাই আমি যা ভেবে ছিলাম তাই হলো, আপনি যে সেই হালাকু খানের কথাই বলবেন তা অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম, কারণ আহলে হাদিসরা এটা খুব সুন্দর করে বলে, কিন্তু যাদের তৎকালীন রাজনৈতিক ইতিহাস জানা আছে,তারা ভাল করেই জানেন তখঙ্কার পরাজয়ের মূল কারণ কি ছিল।
আর সাহাবারা ছিল আরব, কিন্তু পরব্ররতীতে যখন ইসলাম আরবের বাইরে ছড়িয়ে পড়ল,তখন তাদের শিক্ষকের প্রয়োজন হয়েছে কারণ তারা আরব ছিল না, আর সাহাবারা যে নিজেরাই কোরআন শুনে আমল করেছেন তা ভাবাও ভুল, তাঁরা সাহাবীদের মধ্যে যারা ফকীহ ছিলেন ,তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে আমল করতেন। আর যদি আপনার মনে কোরআন-হাদিস বুঝতে কোন শিক্ষকের প্রয়োজন হয় না, তাহলে আপনার সাথে আলোচনায় না যাওয়াই ভাল। ওমর (রা) এর যুগে যখন কুফা নগরী প্রতিষ্ঠিত হলো,তখন তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি ১৫০০ জন সাহাবীকে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন এদের মধ্যে ছিলেন অনেক ফকীহ সাহাবী যাদেরকে পাঠানো হয়েছিল,তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আর কোরআন যদি শুধু অনুবাদ দেখেই বুঝা যেত ,তাহলে আল্লাহর কোন রাসূল পাঠানো প্রয়োজন হতো না। আর কোরআন নাযিল করা হয়েছে,এমন সকল লোকদের মাঝে ,যারা ছিলেন আরবী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, তাদের কাছে শুধু কোরান পাঠিয়ে দিলেই তো হতো ,রাসূলের কি প্রয়োজন ছিল। তিনি শুধু রাসূল পাঠিয়ে ক্ষ্যান্ত হননি ,তাঁকে আদেশও করেছেন কোরআন শিক্ষা দিতে,কিন্তু কেন,তখঙ্কার আরবরা কি আরবী বুঝত না,?কিন্তু এটি আল্লাহর বিধান নয়,কিতাবুল্লাহ বুঝতে রিজালুল্লাহ প্রয়োজন হয়, এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত এই নিয়মেই চলবে।
১২|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৩৫
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনি আবারও ভুল বুঝেছেন - আমি কখন বল্লাম কোরআন শিখতে শিক্ষকের প্রয়োজন নাই? আমি নিজেওতো শিক্ষকের কাছেই কোরআন শিখেছি। আমি যেটা বলতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে - আমাদের সরাসরি কোরআনই শিখতে হবে - কোরআন থেকেই নিজেদের জন্য প্রযোজ্য শাক্ষাগুলি বুঝে নিতে হবে - সেটা শিক্ষকের মাধ্যমেই হোক আর সরাসরি কোরআন অধ্যয়নের মাধ্যমেই হোক, আরবী ভাষা শিখেই হোক আর বিভিন্ন অনুবাদ গ্রন্থ থেকেই হোক - কখনই কোন মানুষকে এইরকম মাধ্যম মানা যাবে না যাতে শুধুমাত্র তার কথাই শুনতে হয় আর বিশ্বাস করতে হয় তিনি যা বলছেন তাই কোরআনের শিক্ষা। এই ধরনের বিশ্বাসের ফলেই বিভ্রান্তির পথ তৈরী হয় - যেমনটা আমাদের দেশেও বহু ভন্ড পীরের অনুসারী বা মাজার পুজারীদের মধ্যে দেখা যায়। তারা বিশ্বাস করে ঐ পীর যা বলছে তাই ইসলাম বা ঐ মাজারে জিনি শুয়ে আছেন তিনিই ত্রানকর্তা।
আপনি বলেছেন সাহাবাগনের শিক্ষক হওয়ার কথা, উমার(রা.) বহু সাহাবীকে বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন ইত্যাদি। ঠিকই আছে - কিন্তু সেই শিক্ষকগন কী শিক্ষা দিতেন? কোরআন, শুধু কোরআনই ছিল তাদের পাঠ্যক্রম - কারণ তখনতো অন্যকোন গ্রন্থই ছিল না যা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। হ্যা কোরআনের সাথে সুন্নাহ বা ইসলামের ব্যাবহারীক দিকও তারা শিক্ষা দিতেন কিন্তু তাও মুখে মুখে যতটুকু সম্ভব - কেননা তাফসীর, হাদীস গ্রন্থ বা ফিকাহর ঐ বড় বড় গ্রন্থগুলিতো তখনও লেখাই হয়নি। আমিও সেটাই বলছি - শিক্ষা দিতে হবে, শিখতে হবে, চর্চা করতে হবে প্রথমেই কোরআন - তার পর যদি কোরআনের কোন জরুরী বক্তব্য বুঝতে সমস্যা হয় তখন অন্যান্য সহায়ক গ্রন্থের, আলেম ওলামার দ্বারস্থ হওয়া যাবে - অথচ আজকে আমরা কোরআন চর্চাই করছি সব থেকে কম - এটাই আমাদের অনৈক্যের প্রধানতম কারণ বলে মনে হয়।
দেখুন অন্য সকল ধর্মের সাথে ইসলামের অন্যতম মৌলিক পার্থক্যই হচ্ছে বিশ্বের সকল ধর্মই পুরোহিত/ধর্মযাজক নির্ভর। ধর্মযাজকগন যা বলেন সে ধর্মের মানুষ সেটাকেই ধর্মের শিক্ষা বলে মানে। এর বিপরীতে ইসলাম হচ্ছে কোরআন সুন্নাহ নির্ভর ধর্ম - এখানে ধর্মযাজকের গুরুত্ব কম। এমনকি ইসলামের প্রথম যুগে ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহন বা ধর্মীয় কাজকে পেশা হিসেবে নেয়া নিশিদ্ধ ছিল। হযরত আবুবকর (রা.) যখন খলিফা মনোনিত হন তখনও কাপড়ের ব্যাবসায় নিয়োজিত ছিলেন - জানেন নিশ্চয়ই। তাহলে কখন কিভাবে কেন ধর্মীয় কাজকে পেশা হিসেবে নেয়া বা ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন বৈধ করা হল? সেটা কি ঠিক ছিল? যদি সেটা ঠিক হয় তাহলে প্রথম যুগের মুসলমানগন কি ভুল করেছিলেন??
ছোটদের একটা জনপ্রিয় খেলা আছে 'কান কথা'। এই খেলায় ১৫-২০ জন বাচ্চাকে এক সারিতে দাড় করিয়ে প্রথম জনের কানে কানে একটা ঘটনা বলে দেয়া হয়। প্রথম জন সেই কথা দ্বিতীয় জনকে, দ্বিতীয় জন তৃতীয় জনকে এভাবে বলতে থাকে। শেষ ব্যাক্তির কাছ থেকে একই ঘটনা যখন শোনা হয় তখন দেখা যায় প্রথম জনকে যা বলা হয়েছিল তা সম্পুর্ণ রুপে বদলে গেছে।
পুরোহিত/ধর্মযাজক নির্ভর ধর্মগুলি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এভাবেই বদলে গেছে। এমনকি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলিও অনুবাদের পর অনুবাদ, ব্যাখ্যার পর ব্যাখ্যা হতে গিয়ে ক্রমান্ময়ে মুল শিক্ষা থেকে বহুদুর চলে গেছে। ইসলামকে এই পরিনতির হাত থেকে রক্ষার জন্যই মুল আরবী কোরআন সংরক্ষনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। তাই সকল যুগের সকল মানুষের উচিত সরাসরি কোরআন থেকে শিক্ষা নেয়া।
যখন একই উৎস থেকে শিক্ষা নেয়া হবে তখন মতপার্থক্য কম হবে। কিন্তু যদি এমন হয় যে এক যুগে একজন কোরআন থেকে কোন শিক্ষা নিয়ে কিতাব লিখল বা প্রচার করল পরের যুগের মানুষ সেই কিতাব বা শিক্ষা পুণ:প্রচার করল এবং তার পরের যুগের মানুষও সেই ধারাই বজায় রাখল - মুল কোরআনের কাছে ফিরে আসল না - তাহলে ঐ 'কান কথা' খেলার মত প্রতি প্রজন্মে একটু একটু করে বদলাতে বদলাতে একসময় বিভিন্ন ধারার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাবে - ঠিক যেমন বর্তমান মুসলিম উম্মাহ এর মধ্যকার বিভিন্ন ধারার মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এই চক্র থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র পথ হচ্ছে প্রতি যুগে সরাসরি কোরআন থেকে শিক্ষা নেয়া - আর অন্য সকল উৎসকে সহায়ক হিসেবে গ্রহন করা। কিন্তু বর্তমানে আমরা কোরআন চর্চা থেকেই সবচেয়ে দুরে আছি। আমাদের যার যার পছন্দের আলেম ওলামার বই আমরা যত পড়ি মুল কোরআন তার তুলনায় সামান্যও পড়ি না - পড়লেও কেবল তেলাওয়াত করি অর্থ বোঝার চেস্টা করি না - এটা কি ঠিক??
আর একটা বিষয় বলা দরকার - না হলে আপনি হয়ত আবার ভুল বুঝবেন। শরিয়ত বা ফিকাহ হচ্ছে ইসলামের আইন - যা প্রনয়ন করতে হয় রাস্ট্রীয় ব্যাবস্থায়। যা প্রথমবার প্রনিত হয়েছিল মদীনা রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে। শরিয়ত বা ফিকাহর বিধান প্রনয়নের জন্য কোরআন হাদীস ইসলামের ইতিহাসের উপর বিষেশজ্ঞ গবেষক প্রয়োজন - এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু আমি বলছি ইসলামের নৈতিক শিক্ষার কথা। উদাহরণ হিসেবে ধরুন - চুরি যদি কেউ করে তাহলে তার বিচার কি হবে এটা ফেকাহ বা আইনের বিষয় - সেখানে গবেষণার প্রয়োজন আছে কোন কোন সম্পদ কত পরিমানে চুরি করলে কী ধরনের সাস্তি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু চুরি করা অপরাধ এই শিক্ষা প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে চুরি থেকে বিরত রাখা - এটা নৈতিক শিক্ষার বিষয়। এর জন্য বিষেশজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নাই - সরা সরি কোরআন থেকে চুরি সংক্রান্ত আয়াতগুলি শুনিয়ে দেয়াই যথেস্ট। একই ভাবে ওজনে কম দেয়া হলে তার বিচার কী হবে সেটা আইনের ব্যাপার - কিন্তু ওজনে কম দেয়া যে বড় গুনাহের কাজ এটা প্রচারের জন্য কোরআনের এই আয়াত বার বার স্বরণ করাই যথেস্ট -"যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় ।এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে, যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে। (সুরা আল-মুতাফিফফীন আয়াত ১-৫)"
একই ভাবে শরিয়তের বিধান প্রনয়নের জন্য বিষেশজ্ঞ প্রতি যুগেই থাকতে হবে - কিন্তু স্বাধারণ মুসলমানের ধর্মীয়/নৈতিক শিক্ষার মুল উৎস হতে হবে কোরআন, তার পর হাদীস এবং তারও পরে যারা অধিকতর অগ্রসর হতে চান বা ইসলামের কোন বিষয়ে বিষেশজ্ঞ হতে চান তাদের জন্য অন্যান্য সকল বিষয়ে ব্যাপক পড়াশুনা। কিন্তু বর্তমানে আমরা কোরআনকে রেখেছি সবার পিছনে এবং প্রচার করছি স্বাধারণ মানুষের জন্য কোরআন চর্চার কোনই প্রয়োজন নাই, কেউ কেউ আরো অগ্রসর হয়ে বলছি সরাসরি কোরআন চর্চা করা নিশিদ্ধ/বিপজ্জনক ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার মনে হয় না এই মনোভাব/দৃস্টিভঙ্গি সঠিক - কারণ ইসলামের প্রথম যুগে এ'রকম দৃস্টিভঙ্গি কখনই ছিল না।
আপনি হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংসের সময়কার মুসলমানদের প্রধানতম দুর্বলতা হিসেবে মাযহাবগত বিভেদকে মানতে চাইছেন না - ঠিক আছে, এটাতো মানছেন যে তখন এই বিভেদ বেশ প্রকটই ছিল? প্রধান না হলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয় কারণতো হবে না কি? আচ্ছা অতীত বাদ দিন - বর্তমানে এই বাংলাদেশে ইসলামের কতটি ধারা প্রচলিত আছে? এবং তাদের একজনের সম্পর্কে অন্যজনের মনোভাব কেমন? একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন কি? আমি দেখি আপনাকে সহায়তা করতে পারি কি না -
১. তাবলীগ জামাত
২. তরিকত ফেডারেশন (মাইজভান্ডারীর অনুসারী)
৩. জামাত-শিবির (মওদুদীর অনুসারী)
৪. ইসলামী শাষনতন্ত্র আন্দোলন (চরমোনাইর পীরের অনুসারী)
৫. আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক ও অনুসারীগন
৬. কওমী মাদ্রসার ছাত্র শিক্ষক ও অনুসারীগন
৭. ইসলামী ঐক্য জোট
৮. দেওয়ানবাগী পীরের অনুসারীগন
৯. সুন্নি আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র সেনা (মুলত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক)
১০. আহলে হাদীস
১১. জাকের পার্টি
১২. হিজবুত তাহরীর
.
.
আর মনে পড়ছে না - খুঁজলে আরো কিছু দল/গ্রুপ পাওয়া যাবে যারা নিজেদের ইসলামী দল বলে বিশ্বাস/প্রচার করে - এবং গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে এরা প্রত্যেকে নিজেকেই সঠিক ইসলামের অনুসারী এবং অন্যদের বিভ্রান্ত মনে করে। অনেকে এমনও আছে যে নিজের গ্রুপ ছাড়া অন্যদের মুসলমানই মানে না - সরাসরি কাফের বলে ফতোয়া দেয় - অন্য ধারার ইমামের পিছনে নামাজ পড়তেও অস্বীকার করে।
এ'তো শুধু বাংলাদেশের কথা - সারা বিশ্বের কথা বিবেচনা করলে এই সংখ্যা আরো বহুগুন বৃদ্ধি পাবে, তাতে কোন সন্দেহ নাই। এই অনৈক্যের, পরস্পরের প্রতি চরম বিরূপ মনোভাবের মুল কারণ কি? এই গ্রুপগুলোর অনুসারীরা কি কেউ সরাসরি কোরআন থেকে শিক্ষা নেয় না কি নিজ নিজ গ্রুপের আলেম ওলামা নেতৃবৃন্দ থেকে শিক্ষা নেয়? যদি সবাই সরাসরি একই গ্রন্থ কোরআন থেকে নৈতিক শিক্ষা নিত - তাহলে কি এত বেশী দুরত্ব তৈরী হতে পারত? কিছু মত পার্থক্য সবসময়ই থাকবে এটা আমিও মানি - কিন্তু একজন অন্যজনকে কাফের/মুশরিক বলে গালি দেয়ার পর্যায়ে আমরা কিভাবে পৌছে গেলাম? বাইরে থেকে কেউ যদি আজকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায়, ইসলামে প্রবেশ করতে চায় - তাহলে তাকে আমরা কোন ধারায় যেতে বলব? যে ধারাতেই সে যাবে অন্য অনেক ধারার মানুষ তাকে কাফের/মুশরিক বলবে - তাহলে এই মভেদ/দলাদলির মাধ্যমে আমরা কি মানুষের ইসলামের দিকে আসাকেই কঠীন করে দেই নি??
যাক অনেক কথা বল্লাম, জানি না আপনি আমার সম্পর্কে কী ভাবতে শুরু করেছেন - যদি খারাপ কিছু মনে হয় তাহলে দু:খিত। আমি আসলে এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলার মানুষ খুঁজছিলাম - আপনার লেখাগুলি ইসলাম কেন্দ্রিক এবং আপনার সাথে কথা বলে ভাল লাগল - তাই বল্লাম। আসলে আমরা মানুষেরা সবাইতো আংশিক জ্ঞান/চিন্তার মালিক - পুর্ণ জ্ঞানের উৎস আল্লাহ, তিনি যাকে যতটুকু বোঝার সুযোগ দেন সে কেবল ততটুকুই বুঝতে পারে - আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পাস্পরিক চিন্তা ধারার বিনিময় হয় এবং আরো উন্নত/সঠিক চেতনার কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয় - এটাই আসল উদ্যেশ্ব।
আল্লাহ আমাদের প্রত্যেকের সকল কল্যানকর প্রচেস্টা কবুল করুন - আমীন।
১৩|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:২৬
মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: জাজাকাল্লাহ। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:০৯
মদন বলেছেন: মাযহাব অনুসরনে সমস্যা নেই, সমস্যা হয় যখন সেটা পালনে বাধ্যতামুলক মনে করা হয়।
পাঠ্যপুস্তককে বুঝার জন্য নোটবই পড়া যেতে পারে। কোচিং বা গৃহশিক্ষকের সাহায্য নেয়া যেতে পারে, কিন্ত তা বাধ্যতামুলক হতে পারে না।