| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটা সময় ছেলেরা রাস্তায় মেয়েদের দেখলে মাথা নিচু করতো। পাশ কেটে চলে যেতো।
মেয়েরা কিবা নারীরা মাথায় ও বুকে ওড়না টানতো। পথ ছেড়ে দিতো আগেই। ছেলে ও মেয়েতে অযাচিত চোখাচোখি হলে, লজ্জায় লাল হতো মেয়ের মুখ। ছেলেটাও আর এই পথমুখো হতে চাইতো না। তখন কেমন জানি জড়তা ছিলো। এখন তেমন নেই। তাই আজ রাস্তায়, হাঁটে,মাঠে, বাজারে, বন্দরে মেয়েরা সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকে। আর ছেলেরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।
আগে বাসে বা ট্রেনে ছেলেরা ভদ্রতা দেখাতো। নারী জাতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সিট ছেড়ে দিতো। হোক সে নারী যুবতি কিংবা বৃদ্ধা। কিন্তু এখন আর তেমনটা দেখা যায় না। নারীদের দেখলে এখনকার ছেলেরা আরো সিটগুলোতে পুরো শরীর ছেড়ে বসে। হাবভাব দেখায়। উপরন্তু বাসে নির্ধারিত নারীদের সিটগুলোও তারা দখল করে নেয়।
এখন তো নারীরাও পিছিয়ে নেই,কোনোদিক থেকেই! নারীরাও বাসে চড়ছে, ট্রেনে চড়ছে। চড়ছে অটোরিকশা কিংবা পিকআপেও। পুরুষঘেঁষা হয়ে তারাও বসছে। দিব্যি হেসে কথা বলে কুটিকুটি হচ্ছে অচেনা যাত্রীর সাথে। তারপর চলছে ফোন নাম্বার আদান-প্রদান। ফেসবুকে বন্ধুত্ব। রাতভর চ্যাটিং। তারপর ঘোরতর প্রেম। তারপর ভালোবাসা। এভাবে অভিনয় অভিসারে হঠাৎ নেমে আসে ছ্যাকা খাওয়ার কিংবা দেবার প্রবণতা।
একটা সময় গ্রামে,শহরে কিবা মফঃস্বলেও ছেলেমেয়েরা অবাধে খেলতো গ্ৰামীণ খেলা। দৌড়াতো প্রাণখুলে। আর এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্রিকেট ব্যাডমিন্টন আর ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সারা দিনমান সিনেমা নাটকের ফ্রেমে ডুবে থাকে।
একটা সময় বিবাহিত ছেলেমেয়েরাও স্কুলে পড়তো। কলেজে পড়তো। এই তো কিছু বছর আগে ক্লাস ফাইভে আমার সাথেও বিবাহিতা মেয়েরা পড়েছে। কই?
তখন তো এত প্রেম প্রেম খেলা ছিলো না স্কুলে! এত ধর্ষণ, এত আত্মহত্যার শিকার হয়নি তো স্কুল-কলেজের মেয়েরা! এখন তো তিন বছরের মেয়েটাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ক্লাস টু-থ্রীর মেয়ে বা ছেলেটাও এখন অবৈধ প্রেম করছে। এই বয়সেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে। আর এদেরকে এসব শিখিয়েছে আমাদের সমাজই। ভিন্ন সংস্কৃতি লালনকারী আমাদের দেশের সিনেমা ও নাটক, পাশাপাশি আমদানি করা বিদেশি সিনেমা-নাটক দেখে দেখে আমাদের ছেলেমেয়েরা এসব শিখছে। বাল্যকালে এসব শিখে ওরা হারিয়ে ফেলছে শৈশবের স্বাদ, আনন্দ আর দূরন্ত ছুটেচলা চঞ্চল দিনগুলো। হারিয়ে ফেলছে শৈশবের সুপ্ত লজ্জা, জড়তা ও ভয়। ফলে অল্প বয়সেই প্রেম করছে। অনৈতিক সম্পর্ক করছে। অথচ আমাদের সময় এত এত বিদেশি খেলার আমদানি,এত দেশি-বিদেশি অশালীন সিনেমা নাটক ( যা সপরিবারে দেখলে মানববোধ তাড়িত হয়, বিবেকে বাঁধে), আর উন্মুক্ত নোংরা ওয়েবসাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট ছিলো না। ফলে আমাদের সময়কার ছেলেমেয়েতে বরাবরই বজায় ছিলো লজ্জা, জড়তা ও ভয়। ছিলো একে অপরের প্রতি শালীনতা ও সম্মানবোধ। ফলে প্রেম প্রেম খেলা তো দূরের কথা, প্রেমের প্রস্তাব দেয়া বা চিন্তা করাও ছেলে/মেয়ের পক্ষে অভাবনীয় বিষয় ছিলো। ভয়ের বিষয় ছিলো। অথচ আজ সামান্য স্কুল ছাত্রটি পর্যন্ত তার শিক্ষিকাকে পছন্দ করছে। সাহস করে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে। আর এর সবকিছুই ঘটছে বৈরী সমাজ ও সিনেমা-নাটকের মন্দ প্রভাবে।
এখনকার ছেলেদের প্যান্ট কাপড় দিনদিন নীচে নামছে। আর মেয়েদের উঠছে উপরে। ছেলেমেয়ের
©somewhere in net ltd.