নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্ধ বিন্দু

মানবতার জয় হোক

অন্ধ বিন্দু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আদিবাসী নারী,শিশু ধর্ষণ ও বাংলাদেশের বিচার বিভাগ

৩১ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৫৮





২০১১ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদনে অনুযায়ী বাংলাদেশে আদিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৪১ জন তারা প্রায় ২৭টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত।দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এদের বসবাস থাকলেও পাহাড়ী অঞ্চলে এদের বসবাস বেশি।দেশের অনেক গন্য মান্য ব্যাক্তি বর্গ এদের প্রশংসা করতে গিয়ে "পাহাড় ও বন ধ্বংস বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম একটি কারণ। দীর্ঘদিন যাবত পাহাড় ও বনাঞ্চলে বসবাস করে বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসেছে আদিবাসীরা" এরকম মন্তব্য করেছেন বলে যানা যায়।



শুধু তাই না ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও এদের অবদান অস্বীকার করার মত না তা বীর মুক্তিযোদ্ধা উ-মংয়াইন, উ-ক্যহ্রাচিং, উ-উসিতমং প্রমুখ দের সম্পর্কে জানলে বোঝা যায়।শুধু এরাই না গারো যোদ্ধা লতিকা এন মারাক, খাসিয়া নারী কাকন বিবি, শহীদ কাঁকেট, রাখাইন নারী প্রিনছা খে।এছাড়াও অনেক নাম না জানা খোঁজ না জানা অনেক নারী পাকিস্তানীদের কাছে বন্দী অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছেন।



কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা স্বাধীন দেশ পেলেও তারা কি আসলেই স্বধীনতা পেয়েছে ? তারা কি স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার পেয়েছে? আমার মনে হয় না পেয়েছে । যদি পেত তাহলে শত শত নারী শিশু ধর্ষনের স্বীকার হত না ।



বিগত ২০১৩ ও ২০১৪ সালের একটি ধর্ষনের বর্নণা নিম্নরূপঃ



২০১৪ সালে পরিসংখ্যান অনুযায়ী যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে ১১৭ জন নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে ধর্ষন এবং গণধর্ষনের শিকার হয়েছে ২১ জন আদিবাসী নারী ও শিশু, ধর্ষনের পর হত্যা ৭ জন, শারীরিক লাঞ্চনা ও আক্রমনের শিকার ৫৫ জন, ধর্ষনের চেষ্টার শিকার ২১ জন, অপহরণ ও অপহরনের চেষ্টা শিকার ১১ জন, যৌন হয়রানী ২ জন আদিবাসী নারী ও শিশু। ২০১৩ সালে আদিবাসী নারী ও শিশু সহিংসতার শিকারের এই সংখ্যা ছিল ৬৭ জন। ২০১৩ সালের সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারী ও শিশু থেকে ২০১৪ সালে ৫০ জন বেশী শিকার হয়েছে, যার অর্থ হলো ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালে দেড় গুণ বেশী আদিবাসী নারী ও শিশু যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে।(সুত্রঃইনটারনেট)



এইভাবে চলতে থাকলে ২০১৫ সালে ধর্ষণের হার গত বছরের তুলনায় তিনগুন হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু হবে বলে মনে হয় না ।



ধর্ষণের অপরাধে বাংলাদেশের আইনে যে সকল শাস্তির বিধান রয়েছে তা হলো:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)



(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন৷

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার নিষেধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন৷

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন৷

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন

(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে ব্যক্তি অনধিক দশ বত্‍‌সর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন৷

(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বত্সরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন। (সুত্রঃইনটারনেট)



কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এত সুন্দর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের কোন মামলার বিচার হইছে বলে আমি আজ পর্যন্ত শুনি নাই। অনেক ধর্ষকের গ্রেপ্তারের খবর শুনেছি। এমন কি দেখেছিও বটে । তবে তাদের বিচার .....!! নাহ বিচার হয় নি জামিনে ছাড়া পেয়ে হাওয়া খেতে চলে যেতে দেখেছি । ধর্ষণের খবর জাতীয় দৈনিক বা অনলাইন পোর্টালে আসে তবে বিচারের খবর আজ পর্যন্ত কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না , আমি কোনোদিন দেখি নাই। এখন অধিকাংশ ধর্ষক আমাদের বিচার বিভাগ কে বুড়োআঙ্গুল দেখিয়ে চলে যাচ্ছে না বিচার বিভাগ এর কত্তারা বুড়োআঙ্গুল দেখে ছেড়ে দিচ্ছে সেটা কিন্তু ভাবার বিষয়।



অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন আমি আদিবাসী নিয়ে কেন লিখলাম ধর্ষন তো আহরহ হয় । কিন্তু লেখার কারণ আদিবাসীদের ধর্ষনের মামলায় বেশি বাঙ্গালী জড়িত আমরা পাকিস্তানী দের ঘৃনা করি পাকিস্তানীদের নাম শুনলে তাদের মুখে একদলা থু থু নিক্ষেপ করতে চাই কিংবা তাদের মুখে বায়ু দূষন করার ইচ্ছা পোষোণ করি। কিন্তু যখন ভবিষ্যতে পাহাড়ী শিশুরা বড় হবে তারা বাঙ্গালীকে ধর্ষক হিসেবে জানবে তারাও বাঙ্গালীদের মুখে থু থু নিক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না ।





মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১২:৪৬

সুমন কর বলেছেন: চমৎকার পোস্ট।

কিছু উৎস দিতে পারতেন।


অ.ট.: প্রোপিকের ছবি বদলে দিয়েছেন !

০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:১২

অন্ধ বিন্দু বলেছেন: পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ভাই

২| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫

মেলবোর্ন বলেছেন: গোরাতেই গলদ ভাই আদিবাসী হইলো কি কইরা ঐ এলাকায় হাজার বছর আগের ইতিহাস তো নাই যা পাই তা হলো গিয়া কুমিল্লা ,চট্রগাম বা সোনারগা তে পুবপুরুষের অস্তিত্ব তাইলে ওনাদের আদিবাসি না বলে উপজাতি বলাটাই শ্রেয়। আর ধর্ষনের বিচার অবশ্যই চাই তার সথে তাদের ও বিচার হোক যারা অস্র নিয়ে বিদেশী মদদে বাংলদেশে বাংলাদেশীদের সাথে শান্তিতে থাকতে চায়না কি বলেন ?

৩| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:১৫

অন্ধ বিন্দু বলেছেন: ধন্যবাদ মেলবোর্ন ভাই সুচিন্তিত মতামত দেয়ার জন্য @



এটা আইএলও কনভেনশন ১৬৯, অনুচ্ছেদ ১ (১) (খ) এবং (২)

Convention No. 169 in Bengali

এটা আইএলও-র ওয়েবসাইটে এর লিঙ্ক ।

আমি সামুতে নতুন ভুল হলে ক্ষমার দৃস্টিতে দেখবেন।

৪| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৩৮

অন্ধবিন্দু বলেছেন:
আরেহ ! আপনিও দেখি “অন্ধ বিন্দু” নিক নিয়েছেন। অবশ্য অন্ধ এবং বিন্দুর মাঝে শূন্যতা রয়েছে, হাহ হাহ হা। লিখাটি পড়লুম। বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সমস্যাগুলো বাড়তেই থাকবে ...

শুভ কামনা রইলো।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৯:৪৪

অন্ধ বিন্দু বলেছেন: বিষয় টা খুব ইন্টারেস্টিং । এই নিক ধারী অন্য কেউ আছে জানতাম না তো

৫| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:০৫

মেলবোর্ন বলেছেন: @অন্ধ বিন্দু ধণ্যবাদ আপনার মন্টব্য লিনকগ সহ দেয়ার জন্য আদিবাসী ও উপজাতি নিয়া ব্যপক প্যচাল আছে

আমিও একটা লিংক দেই আদিবাসী জনগণ

আদিবাসী জনগণ
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পিগমি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য

আদিবাসী জনগণকে প্রাথমিক দিকে প্রথম জাতি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, আদিম মানুষ, উপজাতি প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করা হত। আদিবাসী শব্দটির প্রকৃত সংজ্ঞা ও তাদের অধিকার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক প্রচুর। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পরেও আদিবাসীদের ব্যাপারে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য কোন সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয় নি। সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত[১] এবং এখনও করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অনুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে। বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।

পাঁচটি মহাদেশে ৪০টির বেশি দেশে বসবাসরত প্রায় ৫,০০০[২] আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০[৩] থেকে ৩৫ কোটি।[২][৪] নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ায় যুগে যুগে এদের অনেকে প্রান্তিকায়িত, শোষিত, বাধ্যতামূলকভাবে একীভূত হয়েছে এবং যখন এসব অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকারের স্বপক্ষে তারা কথা বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দমন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের আলোচনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে এবং ১৯৯৩ সালকে "আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী বর্ষ" ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত "আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক" ঘোষণা করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। এছাড়া ১৯৯৫ সালের ৯ আগস্টকে "বিশ্ব আদিবাসী দিবস" ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।

আদিবাসীদের অধিকার বিশেষ করে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টি অনেক রাষ্ট্রের কাছে স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ ঐ সমস্ত দেশের জনগণের একটা বড় অংশই আদিবাসী (যেমন- কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, চীন, পাপুয়া নিউগিনি এবং অধিকাংশ লাতিন আমেরিকার দেশসমূহ)। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টি এ সমস্ত দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে প্ররোচিত করবে যা ঐ সব দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকিস্বরূপ। অবশ্য সবখানে বাস্তবতা একই রকম নয়।

বাংলাদেশ সরকারের মতে "বাংলাদেশে কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই"।[৫]


রো আছে :

বাংলাদেশের সরকার 'আদিবাসী' শব্দটির সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। কারণ তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মূলত বাঙালিরাই অর্থাৎ বাংলা ভাষাভাষীরাই এ দেশে আদিবাসী। -

One More সংবিধান সংশোধন ও আদিবাসীদের স্বীকৃতি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.