নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.oputanvir.com

অপু তানভীর

আমার চোখে ঠোঁটে মুখে তুমি লেগে আছো

অপু তানভীর › বিস্তারিত পোস্টঃ

জ্যোতলং পর্বতে ওঠার গল্প ....

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৫

সরকারিভাবে তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। । কেউক্রাডং হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় ! কিন্তু বাংলাদেশের সব থেকে উচু পাহাড় গুলোর তালিকাতে তাজিংডং এর অবস্থান ৫ নম্বরে । কেউক্রাডংয়ের অবস্থান ছয় নম্বরে। এর থেকেও আরও চারটা উচুর পর্বত শৃঙ্গ রয়েছে । তাদেরই একটা জ্যোতলং পর্বতশৃঙ্গ । এটি বান্দরবানের থানচিতে অবস্থিত । উচ্চতা হিসাবে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় উচ্চ পর্বত । আর ওঠার পথ বিবেচনা করলে এর থেকে ভয়ংকর কিছু আর সম্ভবত হতে পারে না !

যাত্রার শুরুটাই আমাদের খারাপ ভাবে হয়েছিলো । প্রথমে তো বাস এসেছিলো ঘন্টাখানেক দেরীতে । এরপর কুমিল্লা হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রওয়ানা দিতেই বাস নষ্ট হয়ে গেল । মোট চার ঘন্টা বসে থাকতে হল রাস্তার উপরে । যখন বান্দরবান পৌছালাম তখন সকাল সাড়ে নয়টা । হোটেল থেকে সকালের নাস্তা করে চাঁদের গাড়ি দিয়ে থানচির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে দিতে সাড়ে দশটা বেজে গেল ।

বান্দরবান শহর থেকে থানচি কিংবা রুমার যাওয়ার এই পথটা আমার বেশ পছন্দ । আঁকা বাঁকা পাঁকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলে, এক পাশে উচু পাহাড় অন্য দিকে নিচু খাদ তারপর দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় । যত তাকিয়ে থাকি ততই যেন তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে । থানচি পৌছাতে তিন সাড়ে তিন ঘন্টা লাগে । বলিপারা আর্মিক্যাম্পে এন্ট্রি করাতে একটু সময় লাগে । টুরিস্ট বেশি হলে এখানে অনেক সিরিয়াল দিতে হয় !

থানচি পৌছে, দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে সব রকম এন্ট্রি করিয়ে আমরা এবার উঠলাম ট্রলারে। চিকন ট্রলার । এক সাথে চার পাঁচজন উঠতে পারে । থানচি থেকে আমরা পৌছাবো রেমাক্রিতে । এই ট্রলার জার্নিটাও বেশ চমৎকার । এখন যেহেতু শীতকালের শেষ খালে পানির পরিমান একদম কম । কোথাও কোথাও হাটু পানি, কোথাও পাথর বের হয়ে আছে । তার মধ্য দিয়ে ট্রলার এগিয়ে চলছে । মাঝের একটা স্থানে বিশাল বিশাল সব পাথর । রাজা পাথর, রানী পাথর নামে পরিচিত । সেই পাথরর ভেতরে একে বেঁকে এগিয়ে চলছে আমাদের ট্রলার । স্রোতের বিপরীতে । মাঝে মাঝে পানি এতোই কম যে আমাদের ট্রলার থেকে নেমে পড়তে হয়েছে । এই ট্রলার জার্নিটা আমার অনেক দিন মনে থাকবে । বিশেষ করে সূর্য ডুবতে বসেছে । আমরা সেই বিকেলের অল্প আলোতে পানির উপর দিয়ে ছুটে চলেছি । মাঝে মধ্যে পানির নিচে তাকাচ্ছি, স্বচ্ছো পাথর দেখা যাচ্ছে । সব মিলিয়ে অতূলনীয় এক অভিজ্ঞতা ।

রেমাক্রিতে পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল । রেমাক্রি ফলসটা অবশ্য এখন প্রাণহীন । শীতকালে এখানে পানি থাকে না বললেই চলে তাই এই সময়ে গেলে রেমাক্রির আসল সৌন্দর্য্য দেখা যাবে না । আমরা অবশ্য সেই সৌন্দর্য্য দেখার জন্য যাইও নি । অনেকে রাতে এখানেই থাকে । সকাল বেলা রওয়ানা দেয় নাফাকুমের উদ্দেশ্যে । আমাদের অবশ্য এখানে থাকার উপায় নেই । আমার যেতে হবে দালিয়ান পাড়াতে । রাতে ওখানে থাকতে হবে । খুব ভোরে আমার ট্রেকিং শুরু হবে ।

সন্ধ্যার সময়েই আমরা রেমাক্রি থেকে রওয়ানা দিলাম দালিয়ান পাড়ার উদ্দেশ্য । ততক্ষনে অন্ধকার নেমে এসেছে । আমরা আস্তে আস্তে এগিয়ে চলছি অন্ধকারে । এর আগেও আমি অন্ধকারে পথ চলেছি পাহাড়ে । তাই এই পথ চলা নতুন কিছু ছিল না । দালিয়ান পাড়া পর্য্ত ট্রেকিং টা খুব বেশি কঠিনও ছিল না । কেবল উচুতে ওঠো এবং নামো নিচে । এই ভাবে এগিয়ে চলছিলাম সামনে । ভয় লাগছিলো না । কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভর করেছিলো শরীরে । মনে হচ্ছিলো যেন আর চলতে পারবো না । মাঝে দুইবার বিরতি নিয়ে অবেশেষে পৌছালাম দালিয়ান পাড়াতে । তখন রাত সাড়ে নয়টা । দেখলাম পুরো পাড়া ঘুমিয়ে পড়েছে । ঢাকাতে রাত সাড়ে নয়টা কোন রাত হল !

আমরা যে ঘরে থাকবো তারাও ঘুমিয়ে পড়েছিলো । তবে আমাদের গাইড যে ছিল মূলত তার বউয়ের বাড়িতেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে । একটা ব্যাপার জেনে বেশ অবাক হয়েছিলাম । এই পাড়াতে স্বামী আর স্ত্রীর আলাদা আলাদা বাড়ি । বিয়ের পরেও তাদের দুইজনের আলাদা আলাদা বাড়ি রয়েছে । আমাদের গাইডডের নাম ছিল বাহাদুর । তার স্ত্রীর বাসায় আমরা ছিলাম !

দেখলাম পাড়ার সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও ঢাকা থেকে আরেকটা গ্রুপ সেখানে আমাদের আগে গিয়েছিলো । তাদের বেশ কয়েকজন পাশের উঠানে বসে গল্প করছে । যাই হোক আমরা ঘরে উঠলাম । কলপাড়ে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এলাম । কয়েকজন আবার গোসল করলো । তখনই বাহাদুর সাহেব তাদের খোয়াড় থেকে মুরগি বের করে করলেন । মুরগি আলু ভর্তা ডাল আর ভাত দিয়ে রাতের খাবার বেশ ভাল হল । একটাই সমস্যা সেটা হচ্ছে খাবারে ঝাল হয়েছিলো প্রচুর ! খাওয়া শেষে দ্রুত শুয়ে পড়লাম । পরদিন আবার আমাদের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে !

পরদিন সকাল উঠে ভাত ডিম ডাল আর আলু ভর্তা খেয়ে যখন রওয়ানা দিলাম তখন সকাল সাড়ে ছয়টা । সময়টা একটু দেরি হয়ে গেল । আর ঘন্টা খানেক আগে রওয়ানা দেওয়া দরকার ছিল । ভুলটা তখন বুঝতে না পারলেও ফেরার পথে ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম । যাইহোক আমাদের পথ হাটা শুরু হল । আজকে সারা দিনে আর আমরা ফিরে আসতে পারবো না । পুরোটা সময় আমাদের পাহাড়েই কাটাতে হবে । সাথে করে পানি আর শুকনো খাবার নিয়ে নিলাম । তারপর হাটা শুরু করলাম । সকালের দিকে একটু শীত শীত করছিলো । রাতেরও বেস শীত পড়েছিলো । তবে ঘন্টা খানেক হাটার পরেই সেই শীত শীত ভাবটা চলে গেল । কিন্তু তাই বলে গরম অনুভব হচ্ছিলো না । কারণ সূর্য উঠে গেলেও আমার কাছে সূর্যের আলো পৌছানোর কোন পথ ছিল না ।

এরপর আমরা কেবল হাটতেই থাকলাম । এই যে হাটার অভিজ্ঞতা, এটা কোন ভাবেই লিখে প্রকাশ করার উপায় নেই, এমন কি ছবি দেখে কিংবা ভিডিও দেখেই এই অভিজ্ঞতা বুঝানোর কোন উপায় নেই । এটা কেবল যে এই পাহাড়ে সামিট করেছে কেবল সেই বুঝতে পারবে । সব কষ্ট শেষ করে আমরা যখন জ্যোতলংয়ের চুড়ায় উঠলাম তখন একটা বাজে । আমি একটু আগে আগেই উঠে পড়েছিলাম । আমার টিমের লোকজন একটু পিছিয়ে ছিল । আধা ঘন্টা আমি একদম একা ছিলাম চুড়ায় । এতো নির্জন আর নিস্তব্ধতা আমি এর আগে কোন দিন অনুভব করি নি । মাঝে মধ্যে কোন নাম জানা পাঠির ডাক ভেসে আসছে ব্যাস এই হচ্ছে শব্দ !
আধা ঘন্টা পরে টিমের বাকি সদস্যরা উঠে এল । ছবি তোলা হল, নাম লিখে সামিট বক্সে রাখা হল । তারপর আবারও ফেরার পথ ধরতে হল ! ভয় হচ্ছিলো যে যে পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি এখন সেই পথেই ফেরৎ যেতে হবে ।

বেলা দুইটার সময় ফিরতি পথ ধরলাম । যারা পাহাড়ে উঠেন, তারা জানেন যে পাথুড়ে আর খাড়া পাহাড়ে ওঠার চেয়ে নামাটা আরও কঠিন । আমরাও সেটা টের পাচ্ছিলাম হাড়ে হাড়ে । একটা সময়ে আমাদের সাথে আনা সব পানি শেষ হয়ে গেল । নিচে অনেক টা দুরে ছোট একটা ঝর্নাতে রয়েছে পানি । সেখানে যেতে কত সময় লাগবে সেটা আমরা কেউ জানি না । নামতেছি তো নামতেই । এদিকে পানির জন্য কেমন যেন করছে ।

এই ব্যাপারটা আপনাদের সাথে হয় কিনা জানি না তবে আমার সাথে হয় । দিনে আমি পানি কম খাই । পানির পিপাসাতে খুব বেশি কাতর হই না । আর যে পথে আমরা যাচ্ছি/নামছি সেখানে গরম খুব বেশি নেই । কিন্তু এই যে পানি শেষ, পানি নেই এই একটা অনুভূতি এটাতেই আমাকে খানিকটা কাবু করে দিচ্ছিলো । বারবার কেবল মনে হচ্ছিলো যে পানি কখন খাবো কখন ! কয়েকবার এমন স্থানে এসে হাজির হলাম যেখান থেকে পানি পড়ছে ঠিকই তবে পানি নেওয়ার কোন উপায় নেই । সেটা মনের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিলো !
যাক এক সময়ে সেই ঝর্নার কাছে এলাম । সেখানে দাড়িয়েই এক লিটার পানি খেয়ে ফেললাম । মনে হচ্ছিলো যেন এমন স্বাদের পানি আমি আর কোন দিন খাই নি।

আবারও আমাদের পাথর বেয়ে নামা শুরু হল । মাঝ পথেই অন্ধকার নেমে এল । হাটার গতি কমে এল আরও । কিভাবে যে পুরো অন্ধকারের ভেতরে আমরা আবার পাড়াতে ফিরে এলাম সেটা কেবল আমরাই জানি । এই বর্ণনা দেওয়া কোন ভাবেই সম্ভবত না ।

এর আগে আমি বেশ কয়েকটা পাহাড়ে উঠেছিলো । কোন পাহাড়েই এই অভিজ্ঞতা আমার হয় নি । বান্দরবানের সব পাহাড়ই কষ্টের । তবে এর থেকে কঠিন আর ভয়ংকর পথ বুঝি আর একটাও নেই । পথ যেন আর শেষ হয় না । তবে আশার কথা যে আমাদের টিমের কেউই বড় রকমের আহত হয় নি, টুকটাক কেটেকুটে গিয়েছিলো ঠিকই তবে বড় রকমের কিছু হয় নি । আমি অবশ্য একবার পথ থেকে ছিটকে খাদের দিকে পড়ে গিয়েছিলাম । তবে ভাগ্য ভাল যে সেখানে বাঁশের ঝাড় ছিল । সেখানে আটকে গিয়েছিলাম । নয়তো এই পোস্ট হয়তো আর লেখা হত না ! আমরা ক্লান্তির সর্ব শেষ পর্যায়ে পৌছে গিয়েছিলাম সবাই । মনে হচ্ছিলো যেন আমাদের পা আর চলবে না । যদি এমন একটা উপায় থাকতো যে না হেটে আমরা পাহাড়ে থাকতে পারবো তাহলে বুঝি আমাদের কেউই আর হাটতো না । কিন্তু জায়গাটা এমনই একটা জায়গা যে এখানে না হেটে কোন উপায় নেই । একবার সেখানে গেলে আপনাকে হেটেই ফিরে আসতেই হবে ।

পাড়াতে পৌছাতে পৌছাতে রাত এগারোটা । যেখানে আমাদের আটটা সাড়ে আটটার ভেতরেই চলে আসার কথা । ঐ রাতের বেলা গোসল করলাম । খেয়ে দ্রুত শুয়ে পড়লাম । শরীর এতোই ক্লান্ত ছিল যে অন্য কোন দিকে আর কোন হুস রইলো না ।

পরের দিন আমার যোগি হাফং যাওয়ার একটা সিডিউল ছিল । কিন্তু আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম যে আমাদের শরীরের যে অবস্থা তাতে কারো পক্ষেই আবারও সারা দিন হেটে ঐরকম আরেকটা পাহাড়ে ওঠা সম্ভব না । তাই সেই পরিকল্পনা আমরা বাতিল করলাম । এইবার কেবল জ্যোতলং সামিট পর্যন্তই থাকুক । পরের বার আমরা জোগি হাফংয়ে উঠবো ।

পরের দিন তাই একটু বেলা করেই উঠলাম । যতবার পাহাড়ে আমরা উঠেছি আমাদের সব সময় টাইট সিডিউল থাকে । আজকে ঐখানে যেতে হবে, এখান থেকে ওখানে পৌছাতেই হবে... এমন একটা চাপ থাকেই । কিন্তু পরের দিনটা আমাদের আসলে কোন কাজ ছিল না । আমরা পাড়া ঘুরতে থাকলাম, আড্ডা দিলাম, মাফিয়া খেললাম, পাড়ার গাছ থেকে কুল পেড়ে নিয়ে এলাম, সেটা আবার ভর্তা করে খেলাম সবাই । নিজেরাই রান্না করলাম দুপুর এবং রাতের । সন্ধ্যার সময় ক্যাম্প ফায়ার করলাম । সাথে গান । সব মিলিয়ে চমৎকার একটা দিন ।

পরদিন আবার সকাল বেলা ওঠা । ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার দালিয়ান পাড়া থেকে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া । আসার দিন এই পথ টুকু আমরা অন্ধকারের ভেতরে এসেছি বলে কিছুই দেখতে পারি নি । তবে আজকে সকালে রওয়ানা দিলাম বলে চারিদিকের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে এগোতে থাকলাম । আসার দিন একটা স্থানে থেমে আমরা কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম। সেই জায়গাতেও থামলাম বেশ কিছু সময় । মাঝে একটা দোকান পড়লো । সেখানে আবার রং চা পাওয়া যায় । সবাই মিলে চাও খেলাম সেখানে ।

রেমাক্রিতে বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেল । আমাদের জন্য যে নৌকা ঠিক করা ছিল সেই বেটার কোন খোজ ছিল না । প্রায় দুই ঘন্টা সেখানেই কেটে গেল । একটা সময়ে অবশ্য তারা এল । আমরা একই খাল ধরে ফিরে এলাম থানচি । এবার অবশ্য আমরা যাচ্ছিলাম স্রোতের অনুকুলে । তাই নামতে হল না আগের বারের মত ।

থানচি থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর চাঁদের গাড়িতে করে বান্দরবান শহরে । সেখান থেকে ঢাকা !

চোখের পলকে কেমন করে চারটা দিন পার হয়ে গেল সেটা বলে বোঝানো যাবে না । ঢাকাতে এসেও যেন বারবার মনে হচ্ছিলো সেই পাহাড়েই পড়ে আছি । পাহাড়ের মায়া বড় কঠিন মায়া । একবার আটকা পড়লে কিছুতেই সেখান থেকে বের হওয়া যায় না । নিচে কয়েকটা ছবি যুক্ত করে দিলাম । যদিও কেবল ছবি দেখে একশ ভাগের এক ভাগও উপলব্ধি করা যায় না !




এটা হচ্ছে থানচি ব্রিজ ।


আমাদের টিমের একাংশ চিকন ট্রলারে উঠছে । আমাদের ট্রলার ছেড়ে দিয়েছে ।



ট্রলার এগিয়ে চলছে । চারপাশের ছবি


এটা বর্তমান রেমাক্রিফলসের ছবি । বর্ষাকেল গেলে এই খালের অন্য রূপ দেখা যায় ।



আমাদের গাইড পানি গরম করায় ব্যস্ত । এখানে আমরা কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম রাতের বেলা ।



পরদিন সকালে আমরা জ্যোতলং পথে। এরপরের সব ছবিও যাবার পথে

এগুলো সব যাওয়ার পথে তোলা । অবশ্য আর শ দুয়েক ছবি রয়েছে । এতো ছবি তো পোস্ট করা সম্ভব না ! কয়েকটা দিলাম কেবল।

এই সেই পাহাড়ের চুড়া । এখান সামনে দেখা যাচ্ছে মায়ানমার ।
এই স্যান্ডেলটা পায়ে দিয়ে উঠেছি । কী ভয়ানক অবস্থা এর !


ফেরার পথে মনে হচ্ছিলো এই পথে কিভাবে উঠেছিলাম আমি !




পরদিনের দালিয়ান পাড়ায় । খুব চমৎকার সাজানো গোছানো আর পরিস্কার একটা পাড়া ।


দালিয়ান পাড়া থেকে রেমাক্রির দিকে ফিরে যাচ্ছি ।


যেই দোকানে চা খেয়েছিলাম

এই যে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়

এটা হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে প্রথমদিন কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম ।

সব শেষে আমাদের জ্যোতলংয়ের চুড়ায় আমাদের সবার ছবি


আপাতত এই হচ্ছে জ্যোতলং ট্যুরের গল্প । আবার কবে যাঅ পাহাড়ে কে জানে !

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা নিয়ে সরকারী এই গোজামিলের কারন কি? বিস্তারিত জানলাম। ভালোই এ্যাডভেন্চার করলেন দেখি!

পাহাড়ে কোন স্থানীয় ললনার প্রেমে পড়েন নাই? :-B

ছবিগুলা চমৎকার হইছে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৬

অপু তানভীর বলেছেন: আসলে এই পাহাড় গুলোর উচ্চতা খুব কাছাকাছি । কয়েক ফুট পার্থক্য ! এই জন্য একটা ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে । আর আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষ কেমন সেটা তো জানেনই ।

হ্যা সত্যিই এ্যাডভেঞ্চার হয়েছে একখান !

পাহাড়ি কোন ললনার দেখা পাই নি । পুরো পাড়ায় যত সময় ছিলাম তত সময়ে আসলে কয়েকজন মহিলা ছাড়া আর কেউই আমাদের সামনে আসে নি । তাই কুনো লাভ স্টোরী হয় নাই । তবে চিন্তা নাই গল্পে তো অবশ্যই প্রেম !

থেঙ্কু ! দেখি ছবি আর ভিডিও দিয়ে আরও একটা ব্লগ পোস্ট দেওয়া যায় কিনা !

২| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: আমার নেট স্লো। ছবি গুলোটে দেখতে পারছি না। পোষ্টে আবার আসবো।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৭

অপু তানভীর বলেছেন: আইচ্ছা আবার আইসেন !

৩| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩১

কলাবাগান১ বলেছেন: পুরানো টেকনিক এর মন্তব্য....যখনই কেউ কোন ভাল ছবি পোস্ট দেয়, তখনই উনার নেট স্লো, ছবি ঝাপসা, মাউস প্রবলেম দেখা দেয়

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

অপু তানভীর বলেছেন: পুরান ব্লগার টেকনিকও পুরান ! :D :D

৪| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৪২

ওমেরা বলেছেন: ছবি গুলো খুব সুন্দর । আলোভর্তা, ডাল, ভাত আমার খুব ভালো লাগে লিখাটাও তেমন ভালো লাগলে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৪০

অপু তানভীর বলেছেন: আমারও পছন্দের খাবার । অবশ্য শরীর তখন খুবই ক্লান্ত ছিল আর তাই যাই পাওয়া যায় তাই খেতে খুব ভাল লাগে !

ধন্যবাদ আপনাকে !

৫| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: হ্যা নেট স্প্রীড বেড়েছে।
ছবি গুলো দেখলাম।
অতি দুরগম এলাকা। এখানে বন্য প্রানী কি কি আছে? ভাল্লুক, হরিন আর হাতী?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৪২

অপু তানভীর বলেছেন: একটা ভালো নেট প্রোভাইডার থেকে লাইন নেন যাতে সময়ে অসময়ে নেট স্লো না হয়ে যায় !

এই এলাকাতে ভাল্লুক আছে শুনেছি । তবে দেখি নি । ইনফ্যাক্ট পুরো পাহাড়ে থাকা অবস্থায় আমাদের চোখে কিছুই চোখে পড়ে নি । কয়েকটা পাখির ডাক কেবল শুনেছি !

৬| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৩:০৩

মেরুভাল্লুক বলেছেন: মায়ানমারের পাহাড় গুলো আরো উচু মনে হয়। আমার খুব আফসোস লাগে ওই পাহাড় গুলোর জন্য। কত্ত সুন্দর একটা দেশ মায়ানমার

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৪৫

অপু তানভীর বলেছেন: সব দেশেই সুন্দর । হ্যা ওখানেও উচু পাহাড় রয়েছে । আসলে এক পাহাড় থেকে দুরে অন্য পাহাড়ের দিকে তাকালে উচুই মনে হয় !

৭| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৩:২৯

সোহানী বলেছেন: লেখার ফাঁকে ফাঁকে ছবিগুলো দিলে ভালো হতো। কারন পড়তে পড়তে দেখার তৃষ্ণা অুনভব করছিলাম।

এতো সুন্দর স্থান, খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। হয়তো যাবো একদিন ঠিকই।

অফটপিক: সেন্ডেল পরে কেমনে হাইকিং এ গেলা...... :-P

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৪৭

অপু তানভীর বলেছেন: আমিও একবার ভেবেছিলাম যে লেখার ফাঁকে ফাঁকেই দিবো । কিন্তু লেখা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে ভাবলাম শেষেই দিই । এখানে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার । এখানে যাওয়ার আগে অবশ্যই পাহাড়ে ওঠার অভ্যাস করে নিতে হবে !

এই পাহাড়ে স্যান্ডেলের বিকল্প নাই । জুতা পড়ার উপায় নেই কারন কয়েক স্থানে পানি পার হতে হয় । জুতা ভিজে যাবে । এছাড়া এই গ্রিপ স্যান্ডেল গুলো পাহাড়ে ওঠার জন্য ভাল !

৮| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:২৩

ডাব্বা বলেছেন: ভ্রমণ আর অভিযানের গল্প আমার ভালো লাগে।

এই পাহাড়ের নাম আমি আগে কখনো শুনিনি। সামিট নিয়ে যে ধারণা ছিল তা খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে আপনার লেখা পড়ে। আধাঘন্টা আগে আপনি চুড়ায় পৌঁছে গেলেন! বাকিদের ফেলে? ক্লাইম্বিং তো একটা টিম ওয়ার্ক। আর এই ভয়ংকর পর্বতে এই স্যান্ডেল পরে উঠে গেলেন?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৫০

অপু তানভীর বলেছেন: বই পুস্তকে এই পাহাড়ের নাম নেই । যারা পাহাড় ভ্রমন করেন তাদের কাছে সাফা হাফং, জ্যোতলং, দুমলং এই সব পরিচিত নাম !

আমার লেখাতে পড়ে যদি ধাক্কা খান তবে বলব যদি বাস্তবে এই ট্রেকিং করতে যান তাহলে ১০০ গুন বেশি ধাক্কা খাবেন । আরেকটা পোস্টে আরও কিছু ছবি আর ভিডিও আপলোড করবো ভাবছি । সেটা থেকেও আরও কিছু আইডিয়া পাবেন আশা করি !

এই পাহাড়ে ওঠার জন্য আসলে এই রকম স্যান্ডেলই প্রয়োজন । ভাল গ্রিপ করে, আর মজবুট ! জুতা ব্যবহার করা যায় না কারণ মাঝে পানির ঝিরি পার হতে হয় । তখন জুতা ভিজে যাবে !

৯| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:৫৭

জুল ভার্ন বলেছেন: দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর থেকে দুই পা ফেলিয়া!
এমন কতকিছুই দেখার আছে আমাদের নিকট দূরে।

পোস্ট ভালো লেগেছে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৫১

অপু তানভীর বলেছেন: আমাদের এই দেশেই কত কিছু রয়েছে দেখার মত । একজীবনে এই সবই হয়তো দেখে শেষ করা যাবে না !

১০| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: কিছুদিন আগে আমার পরিচিত চার জন বান্দরবন গিয়েছে। তারা এমন জাগায় গিয়েছে সেখানে সচারচর কেউ যায় না। সেখানে যেতে তাদের সময় লেগেছে ৯ দিন। পুরো পথ হেঁটে যেতে হয়েছে। আবার হেঁটে ফিরতে হয়েছে। তারা হরিন, বানর আর হাতী দেখেছে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৩৪

অপু তানভীর বলেছেন: বান্দরবান বিশাল বড় এলাকা । আমি যেখানে গিয়েছিলাম সেখানে এমন কিছু ছিল না । বানর হাতি বান্দরবানের জঙ্গলে আছে শুনেছি । তবে আমার সাথে কোন দিন দেখা হয় নি !

১১| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:০৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: দারুণ একটা পাহাড়ী জার্নি ছিলো। তবে জুতাগুলির সৌভাগ্য হল পাহাড় চড়ার

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৮

অপু তানভীর বলেছেন: এই জুতা কেবল এই পাহাড়েই না, আরও অনেক পাহাড়েই উঠেছে ।

জার্নিটা আসলেই চমৎকার ছিল !

১২| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:২৬

মা.হাসান বলেছেন: এমন কখনো হয়েছে কি যে ট্যুরে বান্ধবী সহ যেয়ে দেখলেন আপনার আগের বান্ধবীও হাজির, তার নতুন বন্ধু নিয়ে? দেশের জনসংখ্যা মাত্র ১৬ কোটি, আপনার যে পারফর্মেন্সের কথা বলেছেন তাতে এরকম হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। :P

গাইডের নাম বাহাদুর না হয়ে অমিত রায় হলে বেশি মানাতো ।

বর্ষায় রেমাক্রি ফলস এর ছবি দেখেছি। এখনকারটা দেখে মনে হলো বার্মা ঐ পারে আরেকটা ফারাক্কা তৈরি করছে।

এদের গ্রাম গুলো খুব পরিস্কার, তবে খাবারের জন্য অনেকেই শুকর পালে, খুব গন্ধ। যাদের অভ্যাস নেই তাদের নাকে লাগবে। খুব ভাল অ্যাডভেঞ্চার, খালি একটা সিরিয়াল কিলারের অভাব ছিলো মনে হচ্ছে। লিখে ফেলেন না একটা হরর?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৩

অপু তানভীর বলেছেন: আমার প্রতিটি ট্যুরের সাথে আমার এক বান্ধবী থাকে । বান্ধুবী বলতে সে কেবলই বান্ধুবী আপনি যেমনটা বোঝাতে চেয়েছেন তেমন কেউ না । সত্য কথা বলতে আমার থেকে আমার ঐ বান্ধবীর আগ্রহ বেশী ঘোরাঘুরির বেলাতে । প্রতি ট্যুরের খোজ সেই নিয়ে আসে আমি কেবল তার সাথে যাই ।
তবে আপনি যেমন বান্ধবীর ইঙ্গিত দিয়েছেন তেমন বান্ধবীর সাথে মুখোমুখী হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে । আমার ঐ সব বান্ধবীরা সব ননীর পুতুল । তারা যাবে কক্সবাজার আর সাইরুতে । খুব বেশি হলে নীলগীরি পর্বতে উঠবে । আমি যেখানে যাই সেখানে ভুলেও যাবে না কোন দিন !
রেমাক্রির বর্ষার ছবি খুবই চমৎকার । এই শীত এবং বৃষ্টি না হওয়ার আগ পর্যন্ত এই চেহারা এমনই থাকবে ।
আমরা যে পাড়াতে ছিলাম সেই পাড়াতে কোন শুকর ছিল না । ওদের কেউই এই প্রাণী পালে না । একেবারে পরিস্কার একটা পাড়া ।

আর গল্পের ব্যাপারে বলতে গেলে প্লট টা আমার মাথায় এসেছে ঐ পাহাড়ে থাকতেই । উপরেই বলেছি যে আমি একটু এগিয়ে ছিলাম সবার থেকে । এক পর্যায়ে আমি একা একা বেশ কিছু সময়ে বসে ছিলাম । তখনই প্লট এসেছে মাথায় । তবে আলসেমীর কারণে লেখা হচ্ছে না ।

১৩| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪১

জুন বলেছেন: পাহাড়ি রাস্তা দেখেই মনে পরলো এক সময় ধুমধাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতাম। এখন আপনার ছবি দেখেই ভয় পাচ্ছি। কি সুন্দর আমাদের দেশ এসব জায়গায় গেলে বোঝা যায় অপু তানভীর। ছবি আর বর্ননায় অসাধারণ। অনেক অনেক ভালো লাগা রইলো :)
+

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৬

অপু তানভীর বলেছেন: এর আগে আমি যত স্থানে গেছি এটা আসলেই সব থেকে ভয়ংকর ছিল । পুরো ১৭ ঘন্টা আমরা হাটার উপরে ছিলাম এবং এই ১৭ ঘন্টার ভেতরে আমরা ১০ জন বাদ দিয়ে আর একটা মানুষ তো দুরে থাকুক একটা প্রাণীর দেখা পর্যন্ত পাই নি । তাহলে বুঝেন কেমন ছিল অবস্থা ।
কেবল পাখির ডাক শুনেছি । আর হ্যা একটা গিরগিটির দেখা পেয়েছিলাম !
তবে এই অভিজ্ঞতা ভোলার নয় কোন ভাবেই ।
বেঁচে থাকলে সামনের আবারও যাওয়ার ইচ্ছে আছে !

১৪| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:১০

তারেক ফাহিম বলেছেন: বর্ণনা আর ছবি দেখে ভয় পেলাম।
পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা কমিয়ে দিলো।

ছবি আর ভিডিও বানিয়ে পোস্ট দিলে আরেকটু সুন্দর হতো।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৮

অপু তানভীর বলেছেন: প্রথমেই এখানে যেতে চাইলে নিশ্চিত ভাবেই বিপদে পড়বেন । এর আগে আপনাকে আরও কয়েক স্থানে যেতে হবে যাতে পাহাড়ে ওঠার ব্যাপারে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন । কেউক্রাডং দিয়ে শুরু করুন । ঐটা ওঠা অনেক সহজ !

ছবি আর ভিডিও দিয়ে আরেকটা পোস্ট করার ইচ্ছে রয়েছে । দেখা যাক !

১৫| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৪

হাসান মাহবুব বলেছেন: দুঃসাহসিক! আমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না। তাই ছবি আর লেখাতেই আনন্দ খুঁজি।

০১ লা মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অপু তানভীর বলেছেন: যদি একবার গিয়ে হাজির হন তাহলে বুঝবেন কি এক আনন্দ লুকিয়ে আছে । একবার সাহস করে বেরিয়ে পড়েন !

১৬| ০১ লা মার্চ, ২০২১ রাত ৮:৪৪

অনল চৌধুরী বলেছেন: দার্জিলিং- এ অবস্থিত হিলারীর সাথে প্রথম এভারেষ্ট বিজয়ী তেনজিং নোরগে প্রতিষ্ঠিত হিমালিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট পরিদর্শণ করেছি ১৯৯৭ এর ডিসেম্বরে। সেইসময় সেখানে পর্বত অরোহন প্রশিক্ষণ কোর্সের ফি ছিলো ১ মাসের জন্য মাত্র মাত্র ১০০০ রুপি।
তবে ঠান্ডার রোগী হওয়ার কারণে আমার পক্ষে সেখানে এতোদিন অবস্থান করা সম্ভব হয়নি।
তবে বাস্তবে উঠতে না পারলেও দেশে ফিরে আমি নিজেই প্রশিক্ষণ নিয়ে এভারেষ্ট জয় করেছি, এরকম ঘটনা বইয়ে লিখি, যেটা আবার আরেকজন সত্যি বানিয়ে সারা পৃথিবীতে প্রচার করেছে!!!
বান্দরবনে প্রথম গিয়েছিলাম ২০০১ সালে। ২০১১ সালে রাঙ্গামাটি দ্বিতীয়বার গিয়ে শুভলং সেনা ক্যাম্পে কর্তব্যরত প্রহরী বললেলন পাহাড়ের উপরে অবস্থিত তাদের ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খাওয়া দাওয়া করতে। কিন্ত প্রায় ৩০০ ফুট উঠার পর আর উঠতে পারিনি। ফিরে আমার পর একথা জানালে তিনি বললেন, তারা দিনের মধ্যে কয়েকবার ওই ক্যান্টিনে যান।
সেদিন বুঝেছিলাম, বাঙ্গালী হলেও বাংলাদেশের সেনাসদস্যরা পাহাড়ে উঠাতেও দক্ষ। আর তাদের এই দক্ষতা, সাহস আর বীরত্বের কারণেই সন্ত্রাসী সন্তর শান্তিবাহিনী ওই এলাকা আলাদা করতে পারেনি।
** ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে দার্জিলিং এর তেনজিং পাথরে পাহাড়ে উঠার প্রাথমিক চেষ্টার ছবি।

০২ রা মার্চ, ২০২১ দুপুর ১২:০৫

অপু তানভীর বলেছেন: ঠিকই বলেছেন । পাহাড়ের সেনা সদস্যরা কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যায় ।

আপনার অনেক দিনের আগের ছবি দেখে মনে হল কেবল পোজ দেওয়ার জন্যই এই ছবি । বিশেষ করে পায়ের জুতার কারনে । এই জুতা পরে পাহাড়ে ওঠা কষ্টকর !

ভাল থাকুন সব সময় !

১৭| ০৩ রা মার্চ, ২০২১ রাত ৩:১৩

অনল চৌধুরী বলেছেন: যে পাহাড়ে উঠার মতো শারীরিকও মানসিক ক্ষমতা সম্পন্ন ,সে যেকোনো জুতা পায়ে দিয়ে, খালি পায়ে এমনিক স্যান্ডেল পরেও উঠতে পারে, যার প্রমাণ স্বয়ং আপনি।!!!!

আমি এই জুতা পরেও ৩ দিন পর কাকরভিটা সীমান্ত দিয়ে নেপালে গিয়ে ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে অনেকটা উচু পাহাড়ে উঠেছিলাম, যা দেখে আমার কলকাতার ভ্রমনসঙ্গীরা অবাক হয়ে গিয়েছিলো এবং বলেছিলো, আমাকে দিয়ে পাহাড়ে উঠা হবে !!!!

০৩ রা মার্চ, ২০২১ বিকাল ৩:৪১

অপু তানভীর বলেছেন: অতিভুল কথা ।

আমি যে পাহাড়ে উঠেছি সে পাহাড়ে কোন ভাবেই যে কোন জুতা কিংবা স্যান্ডেল পরে ওঠার উপায় নেই । যে স্যান্ডেল/জুতা মাটি/পাথরের সাথে ভাল ভাবে গ্রিপ করে না সেই স্যান্ডেল পরে ঐ সমস্ত পাহাড়ে ওঠা সম্ভব না । এমন কি যারা আমাদের গাইড ছিলো তারাই এই বিশেষ গ্রিপ করা স্যান্ডেল পায়ে দিয়েই পাহাড়ে ওঠে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.