নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অতিকথন

.....সুতরাং এখানে কথা কম বলুন।

অতিকথন

কওনের মতো কিস্যু নাই- ইহা মোটেও অতিকথন নয়।

অতিকথন › বিস্তারিত পোস্টঃ

রানাপ্লাজা উপাখ্যান!

২২ শে মে, ২০১৩ রাত ১:০৯

অধরচন্দ্র স্কুলমাঠে লাশ সনাক্ত করতে গিয়ে তার সাথে দেখা। প্রথম দেখাতে এতোটাই ভয় পেয়েছিলাম যে দৌড়ে লাইন ছেড়ে মাঠে গিয়ে বসে পড়েছিলাম। স্কুল লাইফে আজিমপুর কবরস্থানে থান্ডারক্যাটস কার্টুন এর প্রভাবে খুলি নিয়ে "মামরা, মামরা" খেলা আমি কি একটা লাশ দেখে ভয় পেলে চলে? তাই কিছুক্ষণ পরে আবারো গেলাম তার কাছে। কতইবা বয়স হবে ছেলেটার?  বড়জোর আমারই বয়সী। এক্সটারনাল ইনজুরি চোখে পড়েনি, সম্ভবত চাপা পড়ে মারা গিয়েছে আর ইন্টারনাল ব্লিডিং এর কারনে ঘোর কৃষ্ণবরণ ধারন করেছে। অজান্তে মুখ দিয়ে বেড়িয়ে এল শব্দটা - "কাল্যু মিয়া"



সে রাতে বাসায় ফিরতে দুইটা বেজে যায়। ফ্রেশ হতে বাথরুমে ঢুকতেই নজর পড়ে ভ্যান্টিলেটরের দিকে। এবার ভয় নয় কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়ি। ছোট্ট জানালাটা বন্ধ করতে করতে বলি - "আব্বে কাল্যু! তুই এইহানে ক্যালা? তোরেতো আমি স্কুলমাঠে ফালায়া আইছি।" সে রাতে ঘুমটা আসলেই ভাল হয়েছিল।



পরেরদিন রাতেও একই সময়ে হেটে বাসায় ফেরার পথে অন্ধকার গলিতে আবার তার সাথে দেখা! বিষয়টাকে পাত্তা না দিয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে এলাম। এ রাতেও ঘুমটা ভালই হয়। সারাদিনের ব্যস্ততায় তার কথা একবারও মনে আসেনি। এদিন সন্ধার পরে মাঠে প্রচুর মানুষের সমাগম ছিল। কিন্তু হটাৎ করে শুরু হয় ঝরবৃষ্টি, চলে যায় বিদ্যুৎ। লাশগুলোর পাশে অল্পকিছু মানুষ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো আর বাকিরা সব চলে যায় স্কুলের অন্যপাশে। দেয়ালে হেলান দিয়ে অন্ধকার মাঠের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। একটা বজ্রপাত হলো, মৃদু আলোয় তাকে আবারো দেখতে পেলাম মাঠের ঠিক সেখানটায় যেখানে সর্বপ্রথম তাকে দেখে ভয় পেয়ে দৌড়ে গিয়ে বসেছিলাম।



মস্তিষ্ক যে আমাকে নিয়ে খেলছে তা বুঝতে দেরী হলনা, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম মাঠের দিকে। বাতাসের বেগ কমতেই অন্ধকারের মাঝেই পুরো স্কুল কম্পাউন্ডের নির্জন জায়গায় যতটুকু পারা যায় চোখ বুলিয়ে নিলাম, নজরে পড়লোনা কিছুই। তারপর .....



তারপর থেকে অদ্যাবধি ..... নাহ, থাকুক বিষয়টা অসমাপ্ত গল্পের আকারে! একটা ব্যঙ্গার্থ বা কটাক্ষমূলক কথা কদিন ধরে মাথায় গেঁথে গেছে -"টুমি শুন্টাসো, আমি কান্টাসি।" মস্তিষ্ক খুব অদ্ভুত কিংবা জটিল একটা জিনিস! অপ্রয়োজনীয় জিনিসও মাঝে সাঝে স্টোর করে রাখে। অনুভব করতে পারছি দেয়ার নিডস আ ফর্মেট নট রিস্টার্ট। সো গুডবাই কাল্যু মিয়া! RIP!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৫৩

মুক্তকণ্ঠ বলেছেন: :(

২২ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:১৯

অতিকথন বলেছেন: :(

২| ২২ শে মে, ২০১৩ রাত ২:৪৬

নানাভাই বলেছেন: আফনারে মনে ধরছে কাল্যু মিয়ার। :P
এই জীবনে আরো অনেক বার কাল্যু মিয়ার দেখা পাইবেন।
সাবধানে থাইকেন!!!!

২২ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:২৩

অতিকথন বলেছেন: নানাভাই এইভাবে বইলেননা, এম্নেই কষ্টে আছি। মনোবিদ পর্যন্ত দৌড়াইতে হইছে। পারলে মুক্তি কামনা কইরা দুয়া করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.