| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অতনু আবরার
আমি ফাজিল কিন্তু সেই সঙ্গে ভীষণ সিরিয়াস একটা ছেলে, ঘুমাতে ভালোবাসি, অবসর কাটে মুভি দেখে আর ব্লগিং করে।
ছবির কপিরাইট: তাতিয়ানা গোরশুনোভা
তিথি ভালোই হিসেব করতে পারে। ওদের ফ্ল্যাটে কয়টা রুম তাই ও বসে বসে হিসেব করছিলো, মোটমাট ছয়টা রুম, একটা ড্রয়িং, একটা ডাইনিং, একটা কিচেন, একটা রুমে তিথির বাবা মা থাকেন, আরেকটাতে তিথি থাকে আর একটা গেস্টরুম। ওহ আরও তিনটা রুম বাদ পড়ে গেছে: দুইটা বাথরুম আর একটা স্টোররুম। ছয়টার সাথে তিনটা যোগ করলে কত হয়?
তিথি আঙুলের কর গুনে দেখলো মোটমাট নয়টা রুম। ধ্যাত !!! আর একটা রুম থাকলে কি হতো ? তিথির বান্ধবী আফসানাদের বাসায় দশটা রুম। তিথি খুঁজতে বেরুলো ওদের বাসায় আর কোনও রুম আছে কিনা।
খুঁজতে খুঁজতে তিথি স্টোররুমে চলে এলো, এই ঘরটায় তিথি খুব বেশি একটা আসেনা। রাজ্যের যত পুরোনো মালামাল এই ঘরটাতে এনে জমা করে রাখা হয়েছে। তিথি এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো, যদি কোনও ঘর পাওয়া যায়। হঠাৎ তিথি শুনতে পেলো মেউ মেউ শব্দে কিছু একটা ডাকছে, শব্দটা আসছে পুরোনো চৌকিটার নীচ থেকে, তিথি সাহস করে এগিয়ে গেলো, চৌকির নীচে ছালার বস্তার মধ্যে গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে ধবধবে সাদা রঙের পুঁচকে একটা বেড়াল। তিথির আর আনন্দ ধরেনা, ওর অনেকদিনের শখ ছিল একটা বেড়ালছানা পালবে। বাপিকে কতবার বলেছে, বাপি মোটে পাত্তাই দেয়নি।
খুব যত্ন করে চটের বস্তাটা ধরে ও ওর রুমে চলে এলো। তিথিদের কাজের মেয়ে শরিফা তখন ঘর ঝাঁট দিচ্ছিল।
শরিফার আবার সব কিছুতেই খুব কৌতূহল। সে তাড়াতাড়ি ঘর ঝাঁট দেয়া রেখে দৌড়ে এলো,
"এইডা কি আনছেন আফা, দেখিতো?"
তিথি বলল, "এটা একটা বেড়ালছানা, এই দেখ কেমন করে ঘুমাচ্ছে"
"হায় হায় গো আফা এইডা দেহি বিলাই, পাইলেন কই?"
"স্টোররুমে পেয়েছি"
"হায় হায় গো আফা !! আমনে কি এহন বিলাই পালবেন?"
"আরে আস্তে বল, আম্মু শুনতে পাবে।"
শরিফার আরেকটা স্বভাব হোল ওকে কোনও কিছু না করতে বললে ও সেটা আরও বেশি বেশি করে, শরিফা চীৎকার দিয়ে বলল, "হায় হায় খালাম্মাগো, তিথি আফায় নাকি বিলাই পালবো হুনছেন"
তিথির আম্মু সাজেদা হক একটু কড়া ধাতের মানুষ। সংসারে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা তিনি মোটেও পছন্দ করেননা। নিজের স্বামী এবং মেয়েকে তিনি শাসনের উপর রাখেন। তিনি রান্নাঘরে মাংস কসাচ্ছিলেন, শরিফার চীৎকার শুনে তিনি খুন্তি হাতেই দৌড়ে এলেন। তিথি মাকে দেখে ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলো। এরি মধ্যে বিড়ালছানাটার বোধয় ঘুম ভেঙে গেলো, তিথির দিকে আদুরে ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলল, "ম্যাও"
সাজেদার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো, কুকুর, বেড়াল এইসব নোংরা প্রাণী তিনি দুই চোখে দেখতে পারেননা।
তিনি কড়া গলায় তিথির দিকে তাকিয়ে বললেন, "কোথায় পেয়েছ এটা?"
তিথি ভয়ে ভয়ে বলল, "স্টোররুমে"
"যাও যেখানে পেয়েছ সেখানে রেখে আসো"
"কিন্তু আম্মু................."
"আমি কোনও কথা শুনতে চাইনা। এক্ষনি যাও। তারপর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেল, আর খবরদার কখনো যেন এসব জিনিস ধরতে না দেখি।"
তিথি আর ওর বাপির মধ্যে খুব ভাব, তিথির বাপি আরিফুল হক একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং হেড। বাড়ি ফিরতে ফিরতে তার প্রায়ই দেরি হয়ে যায়, আজকে যদিও একটু তাড়াতাড়ি ফিরলেন।
তিথি কলিংবেলের শব্দ শুনবার জন্য অপেক্ষা করছিলো, বেল বাজতেই সে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। আরিফ সাহেব দুহাত বাড়িয়ে বললেন, "আমার তিথি মামনি কই রে?"
তিথি দৌড়ে গিয়ে বাপির কোলে চরল।
সাজেদা দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ঠাণ্ডা গলায় বললেন, "তিথি তোমাকেনা কতবার বলেছি কে এসেছে জিজ্ঞেস না করে দরজা খুলবেনা।"
তিথি বাপির কোলে সিটিয়ে রইল। আরিফ সাহেব বললেন, "আহা, থাকনা, ছোট মানুষ ওতো কিছু ওকি আর বুঝে?"
"নাহ তা কেন বুঝবে,আস্কারা দিয়ে তুমিইতো ওকে মাথায় তুলেছ, তুমি না হয়ে চোর ডাকাতওতো হতে পারতো"
"আচ্ছা ঠিক আছে, আমি ওকে বুঝিয়ে বলব"
রাতের খাবারের পর সাজেদা বেগম বসে বসে বিটিভিতে নাটক দেখেন। এই ফাঁকে তিথি গিয়ে ওর বাপিকে ধরল, "বাপি বাপি একটু এইদিকে আসো"
"কি হয়েছে মা?"
"আরে আসইনা"
তিথি ওর বাবার হাত ধরে স্টোররুমে নিয়ে গিয়ে লাইট জ্বেলে বলল, "ওই দেখ বাপি, চৌকির নীচে ওটা কি"
"কি ওটা? ইঁদুর নাকি?"
"ধ্যাত !! ওইটা একটা বেড়ালছানা"
"ও হ্যাঁ, তাইতো"
"বাপি আমি এইটা পালবো"
"কিন্তু তিথি, এই বেড়ালছানাটাতো খুবই ছোট, মায়ের দুধ ছাড়া এটা একদিনও বাঁচতে পারবেনা"
তিথি একটু চিন্তায় পড়ে গেলো, তারপর ভেবে বলল, "তাহলে এটা বড় হয়ে গেলে আমি পালবো"
এবার আরিফ সাহেব একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন, "কিন্তু মামনি, বেড়াল পাললেতো রেবিজ হয়, তাছাড়া তোমার আম্মুতো কখনই রাজি হবেনা।"
তিথি কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল, "বাপি প্লীজ একটা উপায় বের কর"
আরিফ সাহেব মাথা চুলকে বললেন, "উপায় অবশ্য আছে, বেড়ালটাকে টিকা দিতে হবে আর তোমার আম্মুকে রাজি করাতে হবে, তবে সেটা বোধয় আমি পারবোনা।"
তিথি বাপির গালে একটা চুমু খেয়ে বলল, "বাপি তুমি পারবে, প্লীজ আম্মুকে রাজি করাও, প্লীজ, প্লীজ, প্লীজ"
তারপর কি হোল কেজানে, কিন্তু তিথির আম্মু ওকে বেড়াল পালতে দিতে রাজি হলেন। তবে তিনি কয়েকটা শর্ত জুড়ে দিলেন।
১. বেড়াল যেন ঘর নোংরা না করে,
২. বেড়াল যেন চিল্লাপাল্লা না করে,
৩. বেড়াল যেন ওর জায়গামত পটি করে,
৪. বেড়াল যেন রান্নাঘরে না ঢুকে,
৫. বেড়াল যেন তিথিকে খামচে না দেয়,
৬. তিথি যেন বেড়ালকে ঠিকমতো গোসল করায়,
৭. তিথি যেন বেড়ালটাকে নিয়ে মেতে না থাকে,
৮. তিথি যেন ঠিকঠাক হোমওয়ার্ক করে ইত্যাদি ইত্যাদি
তিথি আর ওর বাপি গিয়ে একদিন বেড়ালটাকে টিকা দিয়ে আনল। বেড়ালছানাটা এই কদিনে বেশ বড়সড় হয়ে গেছে, দুষ্টুও হয়েছে ভীষণ, সারাদিন শুধু ঘরময় ছোটাছুটি করে, তিথি অবশ্য খেয়াল রাখে ও যেন রান্নাঘরে ঢুকতে না পারে। একদিন দুষ্টুটা কোত্থেকে যেন একটা ইঁদুর ধরে নিয়ে এলো। তিথি তাড়াতাড়ি কাগজে ধরে ওটা বাইরে ফেলে দিল। শরিফা দেখলেতো নির্ঘাত চীৎকার করে উঠবে আর আম্মু দেখলেতো কথাই নেই।
তিথি ওর বেড়ালটার নাম দিয়েছে গুল্লু। কিরকম মোটাসোটা গুদুম গাদুম চেহারা,তাই। বাপি এই নামটা বেশ পছন্দ করেছে কিন্তু শরিফা ওকে "বিলাই" বলে ডাকে আর এইজন্য গুল্লু ওকে দেখলেই শুধু খামচে দিতে চায়, তিথি বুদ্ধি করে গুল্লুর নখগুলো নেইলকাটার দিয়ে কেটে দিয়েছে, এখন গুল্লু ইচ্ছা করলেও কাউকে আঁচড় কাটতে পারবেনা।
গুল্লুর কিন্তু দারুন বুদ্ধি, তিথি একবার শুধু দেখিয়ে দিয়েছে আর এখন গুল্লুর পটি ধরলেই ও নিজে নিজেই বাথরুমে চলে যায়। গুল্লু এখন তিথির রুমেই থাকে। বাপি গুল্লুর জন্য বাসা বানিয়ে দিয়েছে হার্ডবোর্ড আর তুলো দিয়ে। রাত্রিবেলা ভয় পেলে ও এসে তিথির চাদরের তলায় ঢুকে হাত পা ছড়িয়ে মড়ার মত ঘুমায় ,পাজিটা আবার নাকও ডাকে। গুল্লুর মাও আছে একটা, ওর মতই ধবধবে ফরসা। আগে প্রতিদিন এসে গুল্লুকে দেখে যেতো,ওর সাথে ছোটাছুটি খেলতো আবার আদর করে গা-হাতপাও চেটে দিতো, এখন অবশ্য আর আসেনা।
খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে গুল্লুর কোনও বাছবিচার নেই, পেটুকটা সব খায়, আগে এঁটোকাঁটা সব ফেলে দেয়া হতো, এখন গুল্লুই সব চেটেপুটে খায়। এইতো সেদিন একটা তেলাপোকা মেরে খেয়ে ফেলতে গিয়েছিল, তিথি আচ্ছা করে পাজীটার কান মলে দিয়েছে। গুল্লু মোটেও গোসল করতে চায়না। গোসলের সময় হলেই দৌড়ে পালায়, ওকে তাড়া করে ধরে জোর করে গোছল করানো, সে এক মহাহুজ্জুতে ব্যাপার।গুল্লু বড় তুলতুলে, যে দেখে সেই কোলে নিতে চায়, ওইদিন আফসানা এসে কোলে নিতে চাইলে গুল্লু দৌড়ে পালিয়েছিল বিছানার তলায়। গুল্লু শুধু তিথির কোলে উঠে। গুল্লু তিথির ভালো বন্ধু, সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
সাজেদা তিথির কর্মকাণ্ডে খুবই বিরক্ত হচ্ছেন। সারাদিন শুধু গুল্লুর পিছনে পড়ে আছে মেয়েটা। আর ওই বিড়ালটাও মহা বদমাশ। তিনি মাছের কাঁটা নীচে না ফেলে বোনপ্লেটে রাখলেন দেখে বেড়ালটার সেকি তর্জনগর্জন। সব দোষ বাপবেটির, একটা বদ অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছে এরা, এঁটোটা কাঁটাটা বোন প্লেটে না ফেলে নীচে ফেলে আর অসভ্য বেড়ালটা তা চেটেপুটে খায়। ঘরদোরযে নোংরা হচ্ছে এদিকে ওদের খেয়াল নেই। ওইদিন বেড়ালটা রান্নাঘরে ঢুকতে গিয়েছিলো, তিনি দেখে ফেলেছেন তাই রক্ষা নইলে কারো আর রাতের খাবার খাওয়া হতনা। এইসব সৃষ্টিছাড়া জিনিস ঘরে রাখার অনুমতি দেয়াই তার ভুল হয়েছে।
আরিফ সাহেব নাইটকোচে চিটাগাং যাবেন অফিসের কাজে, সাজেদা তাই উনার ব্যাগ গোছগাছ করছিলেন। এর মধ্যে দুষ্টু বিড়ালটা তার পায়ে আঁচড় কেটে পালাল। তিনি "ও মা গো" বলে চেঁচিয়ে উঠলেন। আরিফ সাহেব ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছিলেন, তিনি দৌড়ে এলেন, "কি ব্যাপার কি হোল?"
"ওই বেড়াল আর আমি এ ঘরে রাখবনা"
"কেন কি হোল?"
"আমাকে একটু আগে আঁচড় কেটে পালিয়েছে, কোনদিন জখম করবে কেজানে, ওকে আর এই বাড়িতে রাখা যাবে না"
আরিফ সাহেব হো হো করে হেসে বললেন, "আরে তুমিতো দেখি ঠাট্টাও বুঝনা, ও একটু ঠাট্টা করেছে তোমার সঙ্গে।"
সাজেদা সবকিছু ভস্মীভূত করে দেবার দৃষ্টিতে আরিফ সাহেবের দিকে তাকালেন। আরিফ সাহেব কাচুমাচু মুখ করে ড্রয়িংরুমে চলে যেতে যেতে বললেন, "ইয়ে মানে যাই, দশটার খবরটা দেখে আসি।"
পরদিন সকালে সাজেদা নিজের রুমে যাচ্ছিলেন হঠাৎ শুনতে পেলেন চুকচুক শব্দ ভেসে আসছে তিথির রুম থেকে। তিনি দরজায় কান পাতলেন। হ্যাঁ তাইতো, চুকচুক শব্দই তো আসছে ভিতর থেকে। এই একটু আগে তিথিকে এক গ্লাস গরম দুধ দিয়ে এসেছেন তিনি। তিনি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলেন।
তিথি চমকে উঠল। সাজেদা যা ভেবেছিলেন ঠিক তাই, তিথি তার দুধটুকু আদর করে গুল্লুকে খাওয়াচ্ছে। সাজেদা আর মাথা ঠিক রাখতে পারলেননা। ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন তিথির গালে, "অ্যাঁ, পয়সা দিয়ে দুধ কিনি তোমার বিড়ালকে খাওয়ানোর জন্য?"
গুল্লু বুঝতে পারছিল অবস্থা বেগতিক। তাড়াতাড়ি পালাতে গিয়ে ও দুধের গ্লাসটা উলটে দিয়ে গেলো। সাজেদার মেজাজ পুরো সপ্তমে চড়ে গেলো। অন্যসময় তিনি গুল্লুর টিকিটিরও নাগাল পাননা, আজ খপ করে ধরে ফেললেন। তারপর ছুড়ে মারলেন জানলা দিয়ে। ম্যাওম্যাও করতে করতে গুল্লু চারতলা থেকে নীচে পড়ে গেলো।
তিথি চীৎকার করে কেঁদে উঠল। সাজেদা তাকে আরেকটা চড় দিয়ে বসিয়ে দিয়ে বললেন, "যথেষ্ট সহ্য করেছি, আর না, একটুও যদি কাঁদিস তাহলে তোকেও ফেলে দিব। তোর মত বজ্জাত মেয়ের দরকার নাই আমার।"
তিথি দুপুরে খেলোনা ঠিকমতো, গুল্লু হয়তো মরেই গেছে, কিংবা বেঁচে আছে, গুল্লু হয়তো ফিরে আসার চেষ্টা করছে, তিথির ভীষণ কান্না পেলো, ইস বাপি যদি থাকতো।
দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পরে সাজেদা বিছানায় একটু গড়িয়ে নেন, শরিফাও এই সুযোগে ছাদে গিয়ে ওর বান্ধবীদের সাথে গল্পস্বল্প করে। তিথি আজ দুপুরে ঘুমালোনা, যেই আম্মু ঘুমিয়ে পড়লেন আর শরিফা ছাদে গেলো অমনি তিথি দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলো। দারোয়ান কাকু বসে বসে ঘুমাচ্ছিল। তিথি গেট খুলে রাস্তায় নেমে গেলো, যে করেই হোক গুল্লুকে খুঁজে বের করতেই হবে।
.........................................................
সাজেদার ঘুম ভাঙল সন্ধ্যার আগে আগে, এতক্ষণ তিনি কখনোই ঘুমাননা, তাড়াতাড়ি উঠে তিনি তিথির ঘরে গেলেন, মেয়েটাকে আজকে একটু বেশিই বকাবকি করে ফেলেছেন বলে নিজের কাছে খারাপ লাগছে, তিথিকে তিনি ওর রুমে পাওয়া গেলনা। সারা ঘর খুঁজলেন তারপর খুঁজতে খুঁজতে ছাদে গেলেন। ছাদে তিনি শরিফাকে খুঁজে পেলেন কিন্তু তিথি কোথায়?
সারা বিল্ডিং তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখা হোল, কোথাও পাওয়া গেলনা তিথিকে। দারোয়ান বলল ও কোনও ছোট মেয়েকে বাইরে বেরোতে দেখেনি।
.........................................................
গুল্লুকে খুঁজে পাচ্ছেনা তিথি, কোথায় গেলো ও? এইদিকে সন্ধ্যা নামছে, ও রাস্তাঘাট কিচ্ছু চিনতে পারছেনা। এর মধ্যে লুঙ্গীপড়া একটা লোক এসে বলল, "এইযে খুকি, একা একা এইখানে কি কর?"
তিথি বলল, "আপনি আমার বেড়াল গুল্লুকে দেখেছেন?"
"হ, হ, একটা বিলাই এইদিকেই গেসে, আহো আমার লগে"
তিথি লোকটার সঙ্গে হাঁটতে থাকে।
.........................................................
মোহাম্মাদপুর থানার ওসি একটু বিব্রত বোধ করছেন, তার সামনে বসে থাকা মহিলাটা অঝোর ধারায় শিশুদের মত কাঁদছেন। তিনি টিস্যু বক্সটা এগিয়ে দিবেন কিনা ভাবছেন। তারপর ভেবেচিন্তে হাবিলদার বশিরকে বললেন ভদ্রমহিলাকে এক গ্লাস পানি দিতে। এইসব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য একজন মহিলা কন্সটেবাল আছে, কিন্তু আজকে সে আসেনাই। ওসি সাহেব একটু গলা খাঁকারি দিলেন, "তা আপনার মেয়ের বয়স কত?"
"ছয়"
"ছবিটবি এনেছেন সাথে?"
মহিলা পার্স খুলে একটা ছবি বের করে ওসির হাতে দেন। ওসি একদৃষ্টিতে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকেন, এতো ফুটফুটে একটা মেয়ে.......................হারিয়ে গেলো?
.........................................................
তারপর কত খোঁজা খুঁজি এই বারটি বছর, আরিফ সাহেব, তার স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, পুলিশ ফোরস সবাই মিলে
কত তল্লাশ এখানে ওখানে, তিথি কিংবা গুল্লু কারো খোঁজ পাওয়া যায়নি শেষমেষ।
........................................................
আমি কিন্তু জানি ওরা কোথায় আছে, এইতো খুব বেশি দূরে নয়, আপনাকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে হাতের বাঁয়ে রেখে বিজয় সরণির দিকে মিনিট পাঁচেক হাঁটতে হবে, ব্যস !! আপনি পৌঁছে যাবেন চন্দ্রিমা উদ্যান। ওহ !! ভালো কথা আপনাকে কিন্তু সন্ধ্যার পর সেখানে যেতে হবে, সজাগ দৃষ্টি রাখবেন চারপাশে, হঠাৎ দেখবেন লালরঙা শাড়ি পড়ে তিথি আসছে, মুখে একটু লাজুক লাজুক ভাব, ওই লাজুকতা দেখে যেন ভুলবেননা, তিথি এখন একটা রাস্তার মেয়ে। একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন ওর পিছু পিছু গুল্লু আসছে, তার মানে তিথি ওকে খুঁজে পেয়েছিলো। ওই লোকটা বোধয় গুল্লুকে সমেত তিথিকে বেঁচে দিয়েছিল, হাহ !!! মানুষের সঙ্গে বেড়াল ফ্রী !!! সত্যিই ভীষণ চমৎকার ব্যাপার। তিথির বান্ধবীরা এই নিয়ে হাসাহাসি করে বলে, "গরিবের আবার ঘোড়ারোগ"
তিথি শুধরে দেয়, "ঘোড়ারোগ নয় বেড়ালরোগ"
তিথি খদ্দেরের সঙ্গে দরাদরি করে। তারপর আস্তে করে ঢুকে পড়ে অন্ধকারের ভিতর। খদ্দের জলদি করে দুই হাত চালায়, গার্ডরা দেখে ফেললেই সমস্যা, এইখানে সব তাড়াতাড়ি করতে হয়। খদ্দের উন্মত্ত পশু হয়ে যায় কিছুক্ষণের ভিতর। হঠাৎ আচমকা খসখস শব্দ শুনে চমকে উঠে, "কি ওটা?"
তিথি হেসে জবাব দেয়, "আমার বেড়াল, গুল্লু"
খদ্দের হিংস্র হয়ে ওঠে, "খানকী মাগি, সরা ওইটাকে"
তিথি চোখের ইশারায় গুল্লুকে চলে যেতে বলে।
গুল্লু জ্বলজ্বলে চোখে একবার তিথির দিকে তাকায় তারপর গুটি গুটি পায়ে অন্ধকারে মিশে যায়।
©somewhere in net ltd.