নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার নিরক্ষর,কিন্তু বুদ্ধিমতি মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধি

পদাতিক চৌধুরি

হাই,আমি পদাতিক চৌধুরী।পথেঘাটে ঘুরে বেড়াই।আগডুম বাগডুম লিখি। এমনই আগডুম বাগডুমের পরিচয় পেতে হলে আমার ব্লগে আপনাদের আমন্ত্রণ থাকলো।

পদাতিক চৌধুরি › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজদেওড়ার জঙ্গলে (পর্ব-৫ )

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৫



কেয়ারটেকার আমাদেরকে নিয়ে চললো রুমের উদ্দেশ্যে।যেতে যেতে রাস্তায় বামদিকে একটি সুসজ্জিত বাংলো দেখে প্রশ্ন করতেই,
-ওটা ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত স্যার।
ঠিকই তো ভিআইপি রুম বলে কথা! চারিদিকে উচু করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া। মাঝে বাচ্চাদের জন্য ছোটখাটো একটা পার্কও বিদ্যমান।গেটের সামনে সুসজ্জিত গাছগুলো সুন্দর করে ছাঁটা। ঠিকই তো! এমন একটি বাংলো তো শুধু ভিআইপিদের বিচরণের পক্ষেই উপযুক্ত। বাংলোটি দেখতে দেখতে পা ফেলেছি আর হাঁটছি। এমন সময় আরও কিছুটা এগিয়ে যেতেই আরও একটি শ্যাওলা ধরা, জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসা ছোটখাটো একটা বাড়ী চোখে পড়লো।উল্লেখ্য সকালে যাওয়ার সময় আমাদের গাড়িটি এই বাড়িটির পাশ দিয়েই গেছিল। তখন একবারও কল্পনায় আসেনি যে এই বাড়িটিই আজ আমাদের নৈশ ঠিকানা হবে। আমরা কেয়ারটেকারকে অনুসরণ করে সোজা উঠলাম সেই বাড়িতে। করিডরের দাঁড়াতেই একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এলো। চারিদিকে ঝুল আর মাকড়সাদের জাল বিস্তার করা দেখে বুঝলাম বহুদিনে এবাড়িতে কোন অতিথি সমাগম ঘটেনি। কেয়ারটেকার হাত দিয়ে কয়েকটি জাল কেটে এগিয়ে যেতেই পড়িমড়ি করে মাকড়সাদল ছুটে পালাতে লাগলো। এবার সঙ্গে আনা চাবিগুচ্ছ দিয়ে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে অবশেষে ঘরটি খুলতে পারল।পাশাপাশি দুটো রুম। একটিতে কমোড আছে অন্যটিতে পাদানি। পায়ের সমস্যা থাকায় নীলাঞ্জনাকে কমোড যুক্ত রুমটি ছেড়ে দিয়ে আমরা গেলাম অন্যটিতে।

সেদিন রুমে ঢুকে ইলেকট্রিক পয়েন্ট দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। জঙ্গলের মধ্যে রাত কাটাবো অথচ ইলেকট্রিক পয়েন্ট! বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। আমার শ্রীমানও আমার মতই আনন্দিত ইলেকট্রিক পয়েন্টের উপস্থিতি দেখে। আনন্দের আতিশয্যে সে তো প্রকাশ করেই ফেললো,
- পাপা ইলেকট্রিক আছে যখন তাহলে টিভি হবে না কেন?
কেয়ারটেকার রুম দেখিয়ে আমাদের আরও কিছু দরকার হয় কিনা সে অপেক্ষায় তখনও পাশে দাঁড়িয়েছিল। মেঘের প্রশ্ন শুনে তার দেওয়া উত্তরে মুহূর্তে আবির্ভূত আমাদের সমস্ত আশা যেন শব্দের বেগ মাটিতে আছড়ে পড়লো। শ্রীমানের দিকে মুখ করে,
-না বাবা। ওগুলো ইলেকট্রিকের পয়েন্ট নয়।
এমন উত্তরে স্বভাবতই অবাক না হয়ে পারলাম না। এবার আমি জিজ্ঞাসা করি,
-তাহলে ঘরে এগুলো পয়েন্ট কিসের দাদা?
আমার দিকে ফিরে,
-বাবু ওটা জেনারেটরের লাইন। গোটা বাংলোতে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে, ওগুলো তারই পয়েন্ট। আসলে..
-আসলে মানে কি? থামলে কেন?
-বড় সাহেব বা উপরমহল থেকে যখন লোকজন আসে তখন অবশ্য গোটা বাংলো আলোকিত হয়। তবে চাইলে আপনারাও পেতে পারেন...
আমরাও পেতে পারি শুনে এক নির্মল আনন্দে মনটা ভরে গেল। সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করি,
- কিন্তু কেমনে পাব?
- প্রতি ঘন্টায় ১৫০ টাকা হিসেবে আমরাই জেনারেটরের ব্যবস্থা করি দাদা। তবে এই বন বাংলোর কোন রুমেই পৃথক করে জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। এক জন নিলে সবাই তার সুফল পাবে।ও আবার জিজ্ঞাসা করল,
-বাবু আপনাদের জেনারেটর লাগবে?
-না না ও সবের দরকার নেই। পারলে রাতে একটি ক্যান্ডেলের ব্যবস্থা করলেই চলবে।
-হ্যাঁ বাবু ক্যান্ডেল আমরা অফিস থেকে দিয়ে থাকি। তবে জেনারেটরের ব্যবস্থা হঠাৎ করে দেওয়া সম্ভব নয়। আগে থেকে জানালে আমরা ইসাক বাজার থেকে ডিজেল এনে রাখি।
আমি ওর সরল স্বীকারোক্তিতে একটু বোকা বোকা হাসি দিয়ে নমস্কার জানাতেই ও পাল্টা নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিল।

তবে যাওয়ার আগে আরও একবার সাবধান করে গেল। যদিও গভীর জঙ্গল শুরু হয়েছে আরো অনেক দূর থেকে। এই স্থানটি তুলনায় অপেক্ষাকৃত ন্যাড়া। দিনের বেলায় সাধারণত বন্যজন্তুদের এদিকে আসার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তবুও একাকী দূরে কোথাও না যাওয়ার পরামর্শ দিল। সেদিন আমরা পৌঁছানোর পর আরও দশ/বারোটা বিভিন্ন আকারের গাড়ি জঙ্গল পরিদর্শনে আসে। শহুরে ঝাঁ-চকচকে পুরুষ-মহিলাদের দাপাদাপিতে স্থানটিকে দুপুরবেলা রীতিমতো একটি পিকনিক স্পট বলেই মনে হলো। তবে যারা এলো তাদের কাউকে এখানে ওভেন জ্বালিয়ে রান্না করতে দেখলাম না। সম্ভবত বাইরে থেকে খাবার দাবার নিয়েই সকলে এখানে ঘুরতে আসে। পুরুষ মহিলা মিলিয়ে চার/পাঁচ জনের একটি দলকে দেখলাম আমাদের রুমের দিকে এগিয়ে আসতে। আমি হিন্দিতে একেবারেই সড়গড় নই। বিপদ আসন্ন বুঝে রুমের করিডর থেকে ভিতরে পা ফেলতেই হিন্দিতে ঝাকে ঝাকে কিছু মিসাইল ছুটে এলো। অভদ্র হতে পারলাম না, বাধ্য হয়ে আবার ওদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালাম। প্রশ্নকর্তা ভদ্রলোককে পরিষ্কার বাংলায় বললাম,
-আপনি কি জানতে চাইছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ওনাদের ধারণায় বাঙ্গালীদের থাকার জায়গা সম্ভবত একটিই। যে কারণে উনি আমার মুখের বাংলা শুনে জানতে চাইলেন আমরা কলকাতা থেকে এসেছি কিনা। আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি প্রকাশ করতেই আমার শ্রীমান ততক্ষণে পাশে এসে দাঁড়ালো। ও সামনের দুটি পা নাড়াতে নাড়াতে হিন্দিতে পাল্টা জিজ্ঞাসা করল,
-আপনারা কোথা থেকে এসেছেন?
উত্তর এলো ধানবাদ থেকে। আমি বোকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম উভয়ের কথোপকথনের মাঝে। এমন সময় আমার শ্রীমান সবার সামনে হাঁড়ি ভেঙে দিল,
-পাপা হিন্দি জানে না।
আগন্তুকরা সকলেই শুনে হো হো করে হাসতে লাগলো। আমিও তাদের সঙ্গে হাসিতে যোগ দিলাম। ওরা আমার শ্রীমানের কাছে জানতে চাইলো,
-তুমি হিন্দি শিখলে কোথা থেকে?
-টিভিতে কার্টুন দেখে এবং আমার স্কুলের হিন্দি ক্লাস থেকে।
ওদের বাকি প্রশ্নের উত্তর সবই আমার শ্রীমান জানিয়ে দিল। কিভাবে এখানে রুম পাওয়া যায় বা রাতে থাকতে গেলে কোথা থেকে অনুমতি সংগ্রহ করতে হয় কিংবা কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী। জীবনের প্রথম দোভাষীর ভূমিকা পালন করে ও তখন রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। চলে যাবার সময় ওরা সকলেই ক্ষুদে দোভাষীর সঙ্গে কর্মদন করল। নমস্কার প্রতি নমস্কারের পর্ব শেষ হতেই আমরা আবার রুমের মধ্যে প্রবেশ করি। পূর্বেই বলেছি অতিথি সমাগম তেমন না ঘটায় ঘরটি অত্যন্ত ধুলোময় ছিল। আমার গিন্নি মগে করে জল নিয়ে যতটা সম্ভব ঘরটিকে বসবাস উপযোগী করার আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যস্ত। এমতাবস্থায় আমি সহযোগিতা না করে বাইরে ভদ্রলোকদের সঙ্গে কথা বলে অহেতুক সময় নষ্ট করাতে ঘরে ঢুকেই সম্মুখীন হতে হল এক পশলা অগ্নি বর্ষণের। বোবার কোন শত্রু নাই। কাজেই মাথার উপর দিয়ে মিসাইলগুলো ছুটতে লাগলো। পড়িমড়ি করে লাগেজ থেকে জামা কাপড় ঝোলানোর জন্য সঙ্গে আনা প্লাস্টিকের দড়িটা টাঙিয়ে দিতেই ওনার মানভঞ্জন হলো। ওদিকে কিচেন রুম থেকে মধ্যাহ্নভোজের খাবার তৈরির খবর আসতেই আমরাও হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়লাম অফিস কক্ষের দিকে। মধ্যাহ্নভোজের পর অফিস কক্ষের সঙ্গে লাগোয়া বড় ঝিলে বোটিং করে বাচ্চাদেরকে মনোরঞ্জনের চেষ্টা করি।যদিও মনের মধ্যে কেয়ারটেকারের কথাটি অনুরণিত হতে থাকে,আপনার যদি বেশি দেরি না করেন তাহলে বিকালে জঙ্গল পরিদর্শন নিয়ে যাব.....


জলাধার থেকে উপচে পড়া জল:-


দলছুট হরিণ শাবক:-



এখানেই স্পাইডারটি দেখা মেলে:-



বনবাসীর সঙ্গে পরিচয় করানো:-




স্নিগ্ধ জলাশয়টি:-



শিকারের অপেক্ষায়:-



পাহাড়ি খেজুর গাছ:-



জঙ্গলের মধ্যে যে পথে আমরা হেঁটে ছিলাম:-



ছবিটি আগেও দেখিয়েছি। পরিখার উপর দিয়ে অফিসকক্ষে যাওয়ার পথ:-



সবাই স্বপ্ন দেখে:-


পরবর্তী পর্বের জন্য( ফলসের নামটি আজ গোপন রইল):-


বিশেষ দ্রষ্টব্য:-সময় নিয়ে আবার এডিটিং করছি।

মন্তব্য ৪০ টি রেটিং +১৬/-০

মন্তব্য (৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

ইসিয়াক বলেছেন: ছবিগুলো খুব সুন্দর।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:২৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রথম মন্তব্যকারী হিসেবে আপনাকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ প্রিয় ইসিয়াক ভাই।

আপনি ছবিগুলোকে সুন্দর বললেও আমি জানি এগুলো কতটা মানের... ছবি আপু শুধু না দেখলেই হয়।

যাই আপনার পরবর্তী কমেন্টে....

২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৯

ইসিয়াক বলেছেন: আজকের পর্বটিও খুব ভালো লাগলো। মেঘ বাবাতো দারুণ স্মার্ট হয়ে উঠেছে। আপনি হিন্দি বলতে পারেন না জেনে দুঃখিত হলাম।
আমি কিন্তু ভালো হিন্দি বলতে পারি। =p~
শুভকামনা।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ইসিয়াক ভাই,

পর্বটি ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। হ্যাঁ মেঘ এখন আমার হিন্দি না জানার প্রয়োজন সমাধা করে দিচ্ছে। আমি হিন্দি বলতে পারি বাঙালিদের মধ্যে। হিন্দি ভাষী দেখলে মুখ থেকে আর কোন শব্দ বের হয়না। বহু বছর আগে কানপুরে গিয়ে প্রচুর হিন্দি বলেছিলাম। তখন অনেকটা ছোট থাকায় ওদের হাসিতে না দমে উল্টে পুলকিত হতাম। কিন্তু এখন বয়স অনেকটা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি কারণ অকারণে ফোনে প্রায়ই হিন্দি বলিয়ে ফোন আসে। যারা কোনো না কোনো ভাবে আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট,ক্রিডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা এই সম্পর্কে ফোন দিয়ে বিরক্ত করে। বাধ্য হয়ে আমি তাদেরকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তাদের মাতৃভাষায় কথা না বলে প্লেন বাংলায় কথা চালিয়ে যাই। এমনকি বাইরে ঘুরতে গিয়েও যে ভাষার লোক হোক আমি তাদেরকে বাংলায় জিজ্ঞাসা করি। এখনো পর্যন্ত বাংলায় কথা বলার জন্য তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয় নি।
আপনি যে হিন্দিটা জানেন সেটা বাঙালিদের মধ্যে বলার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু গোবলয়ে বললে, জিজ্ঞাসা করবে আপনার বাড়ি কোলকাতায় কিনা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও হিন্দি বলেন। কিন্তু তা বাঙালি জাতির হিন্দি বলে যথেষ্ট হাসাহাসি হয়। সবশেষে আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাই এমন আন্তরিক মন্তব্য করেছেন বলে। সাথে হিন্দি বলার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভকামনা প্রিয় ইসিয়াক ভাইকে।


৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৮

শের শায়রী বলেছেন: প্রিয় পদাতিক ভাই, বুদ্ধদেব গুহর বেশ কিছু লেখায় এই হাজারীবাগ জংগলের উল্লেখ্য আছে, আগেই বলছি উনার প্রায় সব বই আমার কালেকশানে আছে।

আমাদের দেশেও এই ভি আই পি উৎপাতে অতিষ্ট। আমার ধারনা ছিল আপনারা বোধ হয় এ থেকে মুক্ত। হায় হুতোস্মি।

পোষ্টের সাথে আছি।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় শায়রী ভাই, হ্যাঁ আপনি প্রথম থেকেই বুদ্ধদেব গুহর কথা বলে আসছেন। প্রকৃত অর্থে এগুলো সব পালামৌ জঙ্গলের এক-একটি অংশ। এই জঙ্গলের উপর বাংলা সাহিত্যের বহু লেখকের কাজ আছে। প্রত্যেকের নিজের নিজের দৃষ্টিতে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঘাটশিলা যেতেন,সেটিও শান্ত স্নিগ্ধ পাহাড়ি বনভূমি, ছোটনাগপুরের মালভূমি অঞ্চলের একটি অংশ। অনেকদিন আগে সুনীল গাঙ্গুলীর একটা উপন্যাস পড়েছিলাম ছোটনাগপুরের এই বনভূমি অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই।

আর ভিআইপি উৎপাতের কথা! তাহলে আপনার পোস্ট বহির্ভূত একটি অভিজ্ঞতা জানায়। জাস্ট দুদিন আগে কাজে যেতে বেশ দেরি হওয়ায় বাড়ি থেকে 24 কিলোমিটার দূরে কর্মস্থলে বরাবরই স্কুটি চেপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। শেষ দুকিমি রাস্তার জন্য আমার হাতে তখন বরাদ্দ 5 মিনিট। এমনসময় একটা মোড়ে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। বাধ্য হয়ে পড়লাম দাঁড়িয়ে। সাইরেন বাজিয়ে গুনে গুনে পাঁচটা গাড়ি চোখের সামনে দিয়ে অদৃশ্য হতেই পুলিশ দিল রাস্তা খুলে। ব্যর্থ চেষ্টা আর করলাম না।সেদিন যথারীতি লেট খেয়ে নিজের মনকে প্রবোধ দেই যে আমার জন্য লেট হয়নি, ভিআইপির জন্য লেট খেতে বাধ্য হলাম হাহাহাহা...
শুভকামনা জানবেন।

৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

হাবিব স্যার বলেছেন: ফলসের প্রতি আমার প্রবল ঝোঁক। ইশ, কি দারুণ .... যদি যেতে পারতাম। আমাদের এখানেও আছে, কিন্তু খুবই দুর্গম।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় হাবিব ভাই,

খুব ছোটবেলায় প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণীতে 'ডুডুমার জলপ্রপাত' পড়েছিলাম। ওখানে একটা লাইন ছিল, মেঘ গর্জনের ভাষায় ডুডুমা আমাকে ডাকছে। সেদিন সেই ছোট্ট মনে জলপ্রপাতটি যে কতটা রেখাপাত করেছিল তা আজ বলে বোঝাতে পারবো না। কাজেই আমার ভ্রমণের একটা প্যাশন বলতে পারেন। আপনারও এমনি জলপ্রপাত ভালো লাগে শুনে খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে। তবে ওখানে জলপ্রপাত দেখতে অপেক্ষাকৃত দুর্গম অঞ্চলে যেতে হাওয়াই সম্ভব হলে একবার ওড়িশা বা ঝাড়খণ্ডে এলে আপনি অনেক জলপ্রপাত দেখতে পাবেন। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া ও মেদিনীপুর জেলায় কিছু জলপ্রপাত আছে। তবে সেখানে তেমন জল না থাকায় দেখে মজা পাওয়া যায় না। কয়েক দিন আগে আমরা ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি জঙ্গলে ঘুরতে গেছিলাম। ওখানেও ঘাগড়া নামের একটি ফলস পাই। প্রকৃতপক্ষে তাকে ফলস বললে ফলস শব্দটির অপব্যবহার হবে। খুব সামান্য জল উপর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে সরু নালার আকারে। একেবারেই মন ভরেনি সেদিন। যাইহোক আপনার রসতৃপ্তি মন নিশ্চয়ই একদিন জলপ্রপাতের দেখা পাবে কামনা করি।

পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভকামনা প্রিয় হাবিব ভাইকে।

৫| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:০১

রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশের ভিআইপিরা খুব জ্বালাতন করে। তাদের কারনে রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়। জঙ্গলেও ভি আই পি!!!
বনে জঙ্গলে বিদ্যুতের দরকার? থাক অন্ধকার। টর্চ জ্বলে কাজ চালিয়ে নিলেই হয়। জ্বলজ্বলে বাতি টাতি থাকলে বনের আমেজটা কমে যাবে।
আমি ইন্ডিয়ান চ্যানেল গুলো দেখে দেখে হিন্দি শিখেছি।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৪৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ছোট ভাই,

না আজ এ প্রসঙ্গে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। ভিআইপিদের আমরা ভোটে নির্বাচিত করি ঠিকই কিন্তু উনাদের দয়া-দাক্ষিণ্যে আমরা বেঁচে থাকি সারা বছর। কাজেই পথে-ঘাটে চলতে ফিরতে ওনাদের দেখে একটু দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করাটা আমজনতার একটা প্রথা বলে আমার ধারণা। পুলিশ প্রশাসন এজন্যই আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে ওনাদের সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে দেয়।
বনদপ্তর সম্ভবত এ কারণেই জঙ্গলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা করেননি। আমরাও সেরকম একটা ব্যবস্থা করেছিলাম কিন্তু ডিটেইলস এর জন্য পরবর্তী পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। আর জঙ্গলের অ্যাডভেঞ্চার! সে বর্ণনার অতীত। যদিও আমি কিঞ্চিৎ চেষ্টা করছি।

শুভকামনা প্রিয় ছোট ভাইকে।

৬| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:০২

জুন বলেছেন: খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম রাজদেওড়ার অরন্যবেষ্টিত গেষ্ট হাউজের গা ছমছমে বর্ননা পদাতিক। ঝর্নার নাম যতদুর মনে হয় হুদ্রু ফলস। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়।
হিন্দী বলা নিয়ে আমার শিলং ভ্রমণের ঘটনা।
শিলং এ হোটেল থেকে চেক আউট করবো,রুমে ব্যাগ গুছাচ্ছি। মাঝবয়েসী এক রুম সার্ভিসের লোক আমাদের হেল্প করছে। আমার স্বামী বর্ডার পার হলেই হিন্দি বলতে চেষ্টা করে কিন্ত হিন্দি ভাষায় সে আপনার মতই :P এত ভুলভাল হিন্দি বলছিল আর লোকটাও খাসা হিন্দিতে জবাব দিচ্ছিল। আমার আর সহ্য হলো না, বাংলায় বল্লাম "যখন পারো না তখন কেন হিন্দি বলতে যাও"! X(( লোকটা হেসে খাস বাংলায় বলে উঠলো "থাক না দিদি উনি যখন হিন্দি বলতে ভালোবাসে তখন বলতে দিন না হয়" =p~

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আপু,

আপনাকে আমার সৈয়দ মুজতবা আলীর নয়া সংস্করণ বলেই মনে হয়।তুলনায় কারণটি পরে বলছি। কাজেই ভ্রমণ কাহিনী আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন- খুবই স্বাভাবিক।রাজদেওড়া অতিথি নিবাসের আসল বর্ননা পরের পর্বে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আপনাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম।
আপনার শিলং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি শেয়ার করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। ভীষণ ভালো লেগেছে আপু ঘটনাটি। ইতিমধ্যে চারটি লাইক পড়েছে। কাজেই আমার মতো অনেকেই উপভোগ করেছে আপনার মন্তব্যটি।
আমি থোরা থোরা হিন্দি বলতে পারি। কিন্তু হিন্দি ভাষীরা হাসাহাসি করায় ও এদেশে ফোনালাপে যত ফ্রড কেস হিন্দি ভাষায় হওয়াতে বর্তমানে কোথাও হিন্দিতে ভুলেও একটি শব্দ উচ্চারণ করিনা।কাউকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তার মাতৃভাষায় কথা বলে নিজের হীনমন্যতা অবস্থা তৈরি করতে আর রাজি নয়। আপনি শুনলে অবাক হবেন মোটামুটি ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, বিহার এবং দার্জিলিং এ আমি একটিও হিন্দি শব্দ ব্যবহার না করেও দিব্যি কাটিয়ে দিয়েছি। হিন্দি না বলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম আমার মিসেসের সঙ্গে। শুধু সমস্যা হয়েছিল ট্রেনের চেকারের সাথে। অনলাইনে দার্জিলিং মেলে টিকিট কেটেছিলাম। স্ত্রীর নামের আগে মি:লেখা হয়ে গেছিল যেটা আমি লক্ষ্য যথারীতি আমরা সিট নিয়ে বসে থাকি।বহু লোক চেকারের পিছন পিছন ঘুরছিল ঘুষ দিয়ে টিকিট ম্যানেজ করার চেষ্টায়। এমতাবস্তায় চেকার বিষয়টি লক্ষ্য করে সিট থেকে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি হয় ও সঙ্গে ফাইনের ব্যবস্থা করে। সেদিন পরিবার নিয়ে আমি রীতিমত বিচলিত হয়ে পড়ি।এসময় আমার হিন্দি জানা স্ত্রী সামনে থেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে চেকারকে কনভিন্স করে সে যাত্রায় রক্ষা করে। সেদিন অবশ্য আমার স্ত্রীর জয় হয়েছিল..হাহা হা
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

অফুরান শুভেচ্ছা প্রিয় আপুকে।





৭| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১২

মুক্তা নীল বলেছেন:
দাদা ,
ঘুরে বেড়ানোর বর্ণনা একদমই ঝরঝরে । খুব ভালো লাগলো
পড়ে বিমোহিত হলাম । আমাদের মেঘ বাবা ঐ সময়টায়
নিজেকে খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করলো। আসলে বাচ্চাদের ভালো যে কোন কিছুতেই অনুপ্রাণিত করতে হয় , সেজন্য আমার পক্ষ থেকে মেঘ বাবাকে ধন্যবাদ দিবেন ।
বোবার কোন শত্রু নাই (হা হা ) দাদা এ কথাটি চিরসত্য।
ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে।
ভাল থাকুন অনেক ধন্যবাদ সহ ।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ছোট বোন,

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বিলম্বিত উত্তর দেওয়ার জন্য। হ্যাঁ ঘোরাঘুরি বর্ণনা বোনের ভালো লেগেছে জেনে। ধন্যবাদ রইলো। আর মেঘ ছোট থেকে আমার সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি অপরিচিত লোকের জন্য সামনে একেবারেই সপ্রতিভ নই, কিন্তু ও ঠিক তার উল্টোটা। আর পিসিমণির এমন আন্তরিক ধন্যবাদ মেঘের কাছে পৌঁছে দিলাম। বাবার পক্ষ থেকে এজন্য পিসিমনিকে শুভেচ্ছা রইলো।
বোবার কোন শত্রু নাই'-হাহাহা....
ছবিগুলো সুন্দর হওয়াতে আবারও ধন্যবাদ জানাই প্রিয় ছোট বোনকে।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।‌
নিরন্তর শুভেচ্ছা প্রিয় ছোট বোনকে।


৮| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৫০

নীল আকাশ বলেছেন: মন্তব্য করতে এসে জুন আপুরটা পড়ার পর হাসতে হাসতে দম বন্ধ হবার অবস্থা। কী বলতে এসেছি ভুলে গেলাম যে? ছবি গুলি খুব সুন্দর লেগেছে।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় নীল আকাশ ভাই। হ্যাঁ সহমত আপনার সঙ্গে যে জুনাপুর মন্তব্য পড়ে আমিও খুব উপভোগ করেছি। মাঝে মাঝে কিছু মন্তব্য পোস্টের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দেয়, জুনাপুর মন্তব্য এমনই একটি উদাহরণ। সঙ্গে আপনার সরল বাংলা স্বীকারোক্তিটিও আমার কাছে ততটাই উপভোগ্য। ছবিগুলো ভালো লাগাতে খুশি হলাম ধন্যবাদ জানবেন।
পোষ্টটিতে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা রইলো।

অফুরান শুভেচ্ছা আপনাকে।

৯| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:৫৪

নজসু বলেছেন:



ছবিগুলো সত্যি দারুণ।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: মাইন্ড করেছি নজসু ভাই। ছবির সাথে ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও লেখা আছে। সে সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত থেকে আমি বঞ্চিত। হাহা হা...

শুভকামনা জানবেন।

১০| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:২৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এত্ত দিরং করলে আবেগের জলে যে ভাটা লেগে আসে ভায়া
স্মৃতি বড় দুব্বল হয়ে যাচ্ছে গুগলের পাল্লায় পডে...
ক্লিক না করলে খাড়া হতেই চায় না! :P স্মৃতি =p~ মনে রাখা রাখির দায় যেন গুগল নিয়ে নিয়েছে :)

যাকগে,
রোমাঞ্চকর ভ্রমনের রোমাঞ্চকর রাত!
চলুক ভ্রমণ
ভিআইপি উৎপাত জঙ্গলেও! তিনাদের বাঘের মূখে ছেড়ে দেখা উচিত- মামা ভিআইপি চিনে কিনা ;) =p~ =p~
হা হা হা

স্মার্ট দোভাষীর জন্য শুভেচ্ছা। :)

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৫৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল শ্রদ্ধেয় কবি ভাই। হাহাহা.... মন্তব্য কি ভাবে শুরু করবো সেটাই তো বুঝতে পারছি না।ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই বারের মতো ক্ষমা করে দেন । চেষ্টা করবো এখন থেকে নিয়মিত হতে। তবে আশার যে ভাগ্যিস গুগল মামা ছিল। মুশকিল আসানে গুগল মামুই আমাদের সমস্ত ফাঁকফোকর গুলো মেরামত করে দিচ্ছে। ধন্যবাদ জানাই মামুকে। হাহা


ভিআইপিদের উৎপাত হিসেবে না দেখে বরং ওনাদের কল্যাণে জঙ্গলের মধ্যেও যে সুন্দর একটি কটেজ দেখার সৌভাগ্য হলো তার শতভাগ কৃতিত্ব ভিআইপিদের প্রাপ্য। চারিদিকে সবুজে সবুজারণ্য তার মাঝে অমন একটা সুরম্য কটেজ নয়ন যুগলকে যে প্রশান্তি দিয়েছিল তা অস্বীকার করি কেমনে।
আর খুদে দোভাষীর শুভেচ্ছা যথাস্থানে পৌঁছে দিয়েছি। বাবার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ আপনাকে।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা প্রিয় কবি ভাইকে।




১১| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: যে ছবিটাতে হরিন দেখা যাচ্ছে- সেই ছবিতে যে ঘর দেখা যাচ্ছে আপনারা কি সেই রুমে ছিলেন?
আপনার পুত্র বুদ্ধিমান। ওর খুব যত্ন নিবেন।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৫৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ছোট ভাইয়ের আবার আগমনে আনন্দ পেলাম ধন্যবাদ রইল। না আমরা ওই ঘরে ছিলার না। তবে ছবিটি আমার কাছে ছিল আমি তবে এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছি না। পরে পেলে অবশ্যই দেখাবো। আর পুত্রের বুদ্ধি!!! জায়গা বিশেষ ক্লিক করে না এই যা। ধন্যবাদ ভাইয়ের আন্তরিক মন্তব্যে।
শুভেচ্ছা অফুরান।

১২| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: ওরকম বনে বাদাড়ে থাকাটা দারুন এডভেঞ্চার। লিখেছেন ও বেশ!

সুন্দর। +

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় কবি ভাই,

বিলম্বিত উত্তর দেওয়ার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোটা প্রতিটি মুহূর্তে দারুন অ্যাডভেঞ্চারবল।
লেখাটি ভালো লাগাতে খুশি হলাম ধন্যবাদ জানবেন।

পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাকে।

১৩| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৪৮

করুণাধারা বলেছেন: ভ্রমণ কাহিনীর সাথে দেয়া ছবিগুলোও অসাধারণ। আমি তো ভেবেছিলাম মাকড়সার ছবি অন্তর্জাল থেকে নেয়া...

মেঘের হিন্দি বলা শুনে মনে হল, ভাগ্যিস ও এভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পেরেছিল! আমার ধারণা ছিল আপনারা সকলেই রাষ্ট্রভাষায় পারদর্শী।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:০৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আপু,

বিলম্বিত উত্তর দেওয়ার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ছবিগুলো অসাধারণ মনে হওয়াতে খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে। হ্যাঁ আপু মাকড়সার ছবিটি রাজদেওড়াব জঙ্গল থেকে নেওয়া। এই জঙ্গলে আরো এক প্রকার বড় বড় মাকড়সা দেখেছিলাম তাকে কিছুতেই ক্যামেরাবন্দী করতে পারেনি। অতবড় মাকড়সা আমি দুপুরে কখনো দেখিনি।

হাহা হা সময় বিশেষে ও হিন্দি বলে আমাদেরকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হাত থেকে রেহায় করে ঠিকই। কিন্তু আমার নিজস্ব যুক্তিতে হিন্দি বলতে না পাওয়ার মধ্যে কোন লজ্জা দেখিনা। শতকরা 100 জন হিন্দিভাষী মনে করেন, অন্যান্য ভাষাগোষ্ঠীর লোকজন তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় হিন্দিতেই কথা বলবেন। আর এই জায়গাটিতে আমার তীব্র আপত্তি। আজি এক দোকানে গেছিলাম মার্বেল কিনতে। ব্যাটা পশ্চিমবাংলায় থেকে প্রথম থেকে সমানে হিন্দি বলে যাচ্ছে। আমি তো ঠিক করেই রেখেছি একটিও হিন্দি শব্দ মুখে আনবো না। আমি সমানে বাংলা বলে গেছি। শেষে দাম দক্ষিণাও ঠিক করলাম শুদ্ধ বাংলা ভাষাতেই। আমি রীতিমত লক্ষ্য করেছি ও বাংলা বলতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত দাম নেওয়ার জন্য হিন্দিতে স্ট্যাটাস তুলে ধরেছে।

আমরা বেশিরভাগ যে রাষ্ট্রভাষায় পারদর্শী একেবারে অকাট্য নয়। আমি নিজেও আগে হিন্দি বলতে যথেষ্ট মজা পেতাম। কিন্তু হিন্দিভাষী সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অভিমত একেবারেই খারাপ। আমাদের এখানে ফোনে তথ্য নিয়ে ব্যাংক একাউন্ট লোপাট করার জালিয়াতি চক্রের একশোতে একশ জন হিন্দিভাষী। দিনে কমবেশি যতগুলো আননোন নম্বর থেকে ফোন আসে, হিন্দি শুনলেই আমি সঙ্গে সঙ্গেই কেটে দিই। যে কারণে আগ বাড়িয়ে কারো সাথে থোরা থোরা হিন্দি বলা আমি একেবারেই ছেড়ে দিয়েছি।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
নিরন্তর শুভেচ্ছা আপু আপনাকে।


১৪| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: দাদা প্রথম মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
তবে আমি ভি আই পি হলেও সাধারন মানুষের সমস্যা করতাম না। তাদের মতোই চলাচল করতাম।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সাম্প্রতিককালে প্রিয় ছোট ভাইয়ের শরীর খারাপ যাচ্ছে না শুনে চিন্তায় আছি। আশা করবো ভাই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। আবারো মন্তব্যে আসাতে আনন্দ পেলাম ধন্যবাদ প্রিয় ছোট ভাইকে। অফুরান শুভেচ্ছা রইল।

১৫| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৮

নজসু বলেছেন:



পড়েছি প্রিয় ভাই।
কাজ এবং নিজের পারিপার্শ্বিকাতর কারণে আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। দোয়া করবেন আমার জন্য।
নিশ্চয়ই আবার আপনাদের সাথে আগের মতো আড্ডা দিবো একদিন।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় নজসুভাই,

পারিপার্শ্বিকতার কারণে আপনার বিপর্যয়ের খবর শুনে আমি উদ্বিগ্ন হলাম। জীবনে চলার পথে মাঝে মাঝে বড় বড় ঢেউ আমাদেরকে টালমাটাল করে দেয়। আর তখনই দরকার লড়াই করার অদম্য জেদ। উপরওয়ালা
আপনি সময় সুযোগ মত আবার আসবেন। আপনার সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা হবে তারি অপেক্ষায় রইলাম...

অফুরান শুভেচ্ছা জানবেন।

১৬| ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৪১

আরোগ্য বলেছেন: " বাপ কা বেটা, সেপাহি কা ঘোড়া " বাক্যটি না বুঝলে মেঘ বাবাকে জিজ্ঞেস করো।
গতকালই লেখাটি পড়েছি কিন্তু সময়ের অভাবে মন্তব্য করার সুযোগ পাইনি। ইদানীং ক্লাসের চাপে আছি। ব্লগে একটিভ হতে ইচ্ছে করে কিন্তু সময় হয় না।
সব মানুষ কেমন জানি স্বার্থপর, কিন্তু ব্লগে তো আমরা নিঃস্বার্থ শ্রম দেই তবে ভালোবাসা, ভালোলাগা ও জ্ঞানের স্বার্থ জড়িত যা অর্থ দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না।

আগামী পর্বের জন্য শুভ কামনা।

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:০৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আরোগ্য,

তোমার সুন্দর প্রবচনটি আমার ক্ষেত্রে কেন প্রয়োগ করলে ঠিক বুঝলাম না। যদি ভীতুর ডিম হিসেবে ব্যবহার করতে চাও তাহলে ঠিক আছে।
পোস্ট দেওয়ার পর অনেকের দেখা পেলেও তোমার না পেয়ে ভেবেছিলাম যে হয়তো খুব ব্যস্ত আছ। যাক পড়াশোনার জন্য ব্যস্ত আছ শুনে খুশি হলাম। সাফল্যের সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছে যাও কামনা করি।
আর আশপাশের লোকজন সম্পর্কে তোমার অনুভূতি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তুমি ছোট থেকে ঐ পরিবেশে বড় হয়েছ, কাজেই সবাইকে খুব ভালো চেনো। যে কারণে মন্দ লাগা কিছুকে পাত্তা দেওয়ার কারণ দেখিনা। জীবন চিরদিন কারো একখাতে বয়না।
পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ তোমাকে।

তুমি তোমার পরিবারের জন্য অফুরান শুভেচ্ছা জানবে।


১৭| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:১৭

ফয়সাল রকি বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
আমার খুব একটা ঘুরে টুরে বেড়ানো হয়নি, ঘরকুনো মানুষ। তবে অনেকের গল্প থেকে এটা জেনেছি যে, পিচ্চি-পাচ্চারা ভারতে গিয়ে হিন্দি বলে মা-বাবাকে বড়োই সাহায্য করে থাকে। যদিও তারাও ভুল-ভাল বলে।

২১ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় রকি ভাই,

আপনার আগমনে আনন্দ পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে ঘোরাঘুরিটা ঠিক ভালোলাগার উপর নির্ভর করে। কেউ সময় পেলেই ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করে কেউ বা নিজের বসত বাড়িতে আয়েশে সময় কাটাতে পছন্দ করে। আপনি এই দ্বিতীয় পর্যায়ে ভক্ত।ছুটির দিনে বাড়ি বসে বিভিন্ন রকম রেসিপিতে খানাপিনা করা নিঃসন্দেহে আপনার অন্যতম একটি হবি।

আর বাচ্চারা ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে হিন্দি বলে যে বাবা-মায়েদের সাহায্য করে- এটা ঠিকই বলেছেন।আসলে ঠিকঠাক বলতে না পারার জন্য বড়দের মধ্যে যে হীনমন্যতা কাজ করে সেখানে বাচ্চারা মুখে যা আসে অনায়াসেই তা প্রকাশ করতে পারে। যে কারণে হিন্দি বলিয়ে লোকের সামনে বাচ্চারা অনেক বেশী সপ্রতিভ।


পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভকামনা প্রিয় রকি ভাইকে।

১৮| ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: হু হু আমরা ও বোটিং করে এলাম সবে .........
এবং একদম দেরী করা চলবে না , কেয়ার টেকারের সাথে জঙ্গল পরিদর্শনে যেতে হবে যে ।

সাথে ই আছি এখন ও ।

২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহা হা আপু আপনাকে বোটিংএ পেয়ে আমরাও আপ্লুত। আপনার উপস্থিতি যখন পেয়েছি তখন আর দেরি নয়। আগামী দুএকদিনের মধ্যেই আপনাদের জঙ্গল পরিদর্শনে নিয়ে যেতে পারবো বলে আশা আছে। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।

অফুরান শুভেচ্ছা প্রিয় আপুকে।

১৯| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০০

ফয়সাল রকি বলেছেন: ফলসের নামটাও গোপন রাখলেন, আবার পরের পর্বও দিচ্ছেন না! কী একটা অবস্থা B:-/

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আবার কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ রকিভাই আপনাকে। ফলসের নাম ইতিমধ্যে জুনাপু বলে দিয়েছেন। হুড্রু ফলস। সাম্প্রতিক কালে ব্যস্ততা এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে ব্লগে একদম সময় দিতে পারছিনা।
আগামীকাল দেখি পরবর্তী পর্ব দিতে পারি কিনা।
নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাকে।

২০| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ভ্রমন পর্ব ভালো লাগলো

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু আপনাকে। পোস্ট ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শুভেচ্ছা নিয়েন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.