নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ক্ষণিকের এ বন্ধ হাওয়ায় জীবন শুরু করা, কদিন বাদেই জীবন আমার হবে পাতা ঝরা।

পানি খোর তানভীর

পানি খাই। পানি চাই। পানি নাই। কোথায় পাই?

পানি খোর তানভীর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিডনী লাগবে কিদনী

০৯ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫২

আমি আমার একটি কিডনি বিক্রয় করতে চাই। মানব দেহে স্রষ্টা সব দুইটি করে দিয়েছেন ব্যাকআপ হিসেবে। মানুষের জীবন যাপনের জন্য আসলে একটি কিডনি যথেষ্ট। যাই হোক কিডনী বেচার কথায় আসা যাক। ছোট বেলা থেকেই মনে সাধ ফটোগ্রাফার হওয়ার। হতে পারি নাই। নানা ট্যাকনিকাল জটিলতা থাকায়। এখন মনে সাধ জাগছে DSLR ক্যামেরা কিনার। এই ক্যামেরা আগেও দেখছি কিন্তু নাম জানতাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, ওরিয়েন্টেশন হইল সোনার গাঁ হোটেল এ। নানা কিছুই ঘটল ওই খানে। যা ভাবীনি কক্ষনো আগে। স্টেজ এ রাখা পানির বোতল থেকে পানি গ্লাসে ঢেলে পান ছিলাম। এতে নাকি গ্লাস আপরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। মানুষ ই গ্লাসে পানি খাবে অথচ আরেক মানুষ পানি খেলে নাকি গ্লাস আপরিস্কার হয়ে যায়। এতে এতটা আবাক হইনি যতটা অবাক হয়েছি DSLR ধারী দের বিচরণ দেখে। কলেজে যে বিখ্যাত মোবাইল চুর হিসেবে খ্যাত ছিল সে আমার সামনে এসে বার বার স্টেজ এ দেখতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। সে তার DSLR দিয়ে ছবি তুলছিল। আমার কেন যেন মনে হইল এ ক্যামেরাটাও হয়ত চুরির মাল। আর এক DSLR ধারী যে হারে মেয়ে দের ছবি তুলছিল দেখে লজ্জাই পালাম। যাই হোক DSLR চিনলাম। কিন্ত এর দাম বা কার্যকারিতা জানা ছিলনা। ২ বারে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়াতে জন মনে খুব একটা দাগ কাটতে সক্ষম হইনি আমি। ব্যাংকার বাবা একটা ল্যাপটপ দিয়েই ক্ষান্ত দিয়েছেন আমার মনের অভাব পূরণ করা। আমিও আসলে এর বেশী কিছু সপ্নেও দেখিনি। যে ল্যাপটপ এর জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলাম তা পাবার পর আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। তখনো DSLR এর কারিশমা দেখিনী। রাতের বেলা শামসুরনাহার হলের গেটে মূত্র বিসর্জন করতে মন চাইল। আমরা গুটিকয় অতি ভদ্র ছেলে যখন কাজটা করছিলাম। তখন আর এক ভদ্র আমাদের একখানা ছবি তুলে নিল। ছবি দেখতে গিয়ে রাতের ছবি নিয়ে আলোচনা শুরু হইল, আসল DSLR এর কথা। আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আবার ফিরে এল ডিপার্টমেন্ট এর একমাত্র DSLR ধারী। যে মেয়ে দের ছবি তুলিয়া আমায় লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল। ওই আলোচনায় DSLR এর গুনাগুন শুনলাম। কিন্তু নিজের বাস্তব আভীজ্ঞতা ছিলনা। হলে ফিরে যখন DSLR এর তুলা ছবি গুলা দেখলাম আর পারলাম না নিজেকে আটকে রাখতে। বাসায় দিলাম ফোন। মা জানতে চাইল কেমন আছি। আমি বলিলাম ভাল, শুধু দুইটা জিনিষ এর অভাব। একটা প্রেমিকা ও DSLR খুব দরকার। প্রথম টা যে আমার দরকার হয়না তা মা খুব ভাল করেই জানেন। কিন্ত ২ নাম্বারটা কি তা জানতে চাইলেন। আমি বুঝিয়ে বলতেই তিনি ল্যাপটপ এর কথা মনে করিয়ে দিলেন। আমার মধ্যবিত্ত ৩ ছেলের জনক ব্যাংকার পিতার ৩৭৫০০ টাকা নগদ ছেপ দিয়ে গুনে দিয়ে দিতে হয়েছে ল্যাপ্টপ এর জন্য। ছোট দুই টাওট ভাই ও আলাদা আলাদা বস্তু দাবী করে নাকি বসে আছে। পিতা মোর বাড়ী খানা বানাইতে গিয়া মেলা টাকা দেনা বানাইছেন। DSLR এর আশা প্রথম বার গলা টিপিয়া মারিতে বাধ্য হইলাম। কিন্তু মনে ওকি দিয়ে ছিল সবসময়। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রতিভা টের পাইয়া ও ট্যুরে গিয়ে এটি কিনার ইচ্ছা আরো প্রবল হয়ে উঠল। মধ্যবিত্ত দের সমস্যা এটিই স্বপ্ন ছেরেও দিতে পারেনা স্বপ্ন পূরণও হয়না। এদিকে ফ্যামিলী তে এমন কেও নেই যে উপহার দিবে। যেহেতু টিউশুনি করি লোন নিতে চাইলাম। কিন্তু এ ব্যপারেও সফল হলাম না। এদিকে বন্ধুদের বলেছি ৫ মাসের মধ্যেই কিনছি DSLR। এখন কিদনী বেচার চিন্তা করছি। কি আর হবে দুইটি দিয়ে। মরে গেলে রো এ লাখ টাকার সম্পদ তো পচে যাবে। মনের আশাটা অপূর্ণ রেখে কি লাভ? যদি বেঁচেও থাকি হয়তো এক দিন টাকা হবে কিনার কিন্তু আবেগটাতো আর থাকবেনা। সাড়া পৃথিবী চলছে মধ্যবিত্তের ওপর দিয়ে। নিম্ন বিত্তের আশাই নাই। তারা সুখেই আছে। উচ্চবিত্ত যা ইচ্ছা তাই কিন্তা পারে। মাঝখানে চিপায় মধ্যবিত্ত। যার বাচার খুব বেশী কিছুর দরকার নাই তাকে আনেক কিছুর স্বপ্ন দেখতে হয় উচ্চবিত্ত হতে। আমি উচ্চবিত্ত হতে চাইনা। আমি আমার মনের ক্ষুধা দূর করতে চাই। তাই সিদ্ধান্তে এসেছি কিডনি বিক্রয় করব।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৮:৩৬

আর.হক বলেছেন: খারাপ না ,,,,,,,,,,, চেষ্টা করলে অনেক ভালো লিখতে পারবেন। আপতত কিডনী বিক্রি না করে বেশী করে পানি খান।

২| ১০ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৯

পানি খোর তানভীর বলেছেন: ধন্যবাদ শিশু লেখক কে অনুপ্রানিত করার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.