| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লাস নাইনে পড়ি তখন । স্কুল বাড়ী থেকে। একটু দূরে অর্থাৎ পাশের এলাকায়। আমার নিজের মত চলি। জীবন উপভোগ করি। কারো আগে পিছে নাই। একথায় সহজ সরল মানুষ। নামাজ পড়ি। প্রচুর বই পড়ি। কম্পিউটার এ গেমস খেলি। নারী পুরুষের সম্পর্কের বিষয়টা মাত্র বুঝা শুরু করছি। তখনি দেখতাম ক্লাসমেট অনেকে মায়েদের ছুটির পর এতিমের মত দাঁড়িয়ে থাকত। তার পর তাদের ত্রান কর্তি আসিলে তাহার সাথে ব্যাপক মাখা মাখি। আমি আমার মত করেই নাইন ও টেন পার করলাম। আসল নতুন এক স্টেপ। স্পেশাল কচিং। ছেলে মেয়েদের একত্রে এ+ পাবার জন্য কচিং করানো হবে। তখন ছিল শীত কাল। প্রথম দিন আমি আমার সখ এর চাদর পরে গেলাম। যা সকলের নিকট হাসির খোরাক হইল। কচিং শেষ করে বাহির হইলাম। সাইকেল মূল রাস্তার দিকে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। হটাত এক নারী কণ্ঠ ডেকে ঊঠল এই তোমার নাম কি? আমি জানতে চাইলাম কেন? তিনি উত্তর দিলেন এমনি ক্লাসমেট হসেবে জানতে পারিনা? আমি নাম বললে তিনি জানতে চাইলেন আমি আসুস্থ কিনা? আমি বললাম না। তাহলে চাদর পড়েছেন কেন? আমি বললাম তা আপনাকে বলতে হবে? আমি হাটা দিলাম পেছন থেকে আওয়াজ আসল “ওহ ভাব”। আমি কিছু না বলে হাঁটতে থাকলাম মোড় এ আসতেই পেছন থেকে পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। ফিড়ে তাকাতেই দেখলাম ক্লাসের ৩য় মাধাবী ছাত্র দিনার এলাকার স্থানীয় ক্লাসমেট দের নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরেছে। দিনার জানতে চাইল
-কিরে কনার সাথে কি কথা কইছস?
আমি বললাম কনা কে?
-একটু আগে যার সাথে কথা কইছস
আমি বললাম ও আচ্ছা ও আমার নাম জিগাইছে। আমি থাপ্পড় টার কথা চাপেই গেলাম
-আর কেওরেই পাইল না তোর নামই জিগাইল? আর একজন কইল তুই জানস না আমাগো একজন ওরে পসন্দ করে?
আমি কইলাম তাতে আমার কি?
ঠাস করে একটা শব্দ হইল। আমি বুঝলাম দ্বিতীয় চড় গালে পতিত হয়েছে। কান ও গাল গরম হয়ে গেল। আমার জিদ চাপল আমি কইলাম মানুষ কি গরু নাকি যে পসন্দ কইরা কিনতে হইব?
-আবার কথা কছ কইয়া একজন চড় মারতে চাইল। লুইচ্ছা হারামজাদা।...... এর পুলা। তর অমুকরে অমুক করি। আরো অনেক সুন্দর বাংলা ভাষা। এরেই বলে বাক স্বাধীনতা। ভাষার মুক্তি।
দিনার সবাইকে থামাইয়া দিয়া কইল দেখ ওর ধারে কাছে আর যাইছনা। মাইর খাবি। এর পর চরম অপমানিত হইয়া বাড়ি গালাম। চোখ এর পানি যে এত নোনতা এর পূর্বে জানতাম না। এদের কিছুই করার ক্ষমতা আমার নাই। আমার এলাকায় এমন বন্ধু নাই যারা আমার জন্য এদের সাথে লাগবে। অসহায় হয়ে গেলাম। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে রাতে বাসায় গেলাম।
এর পর প্রায় এক সপ্তাহ স্কুলে যাই নাই। সাইকেল নিয়ে ঘুরতাম, শুরু হইল স্কুল পালানো। যে দিন গেলাম স্কুলে সে দিন প্রচুর বেতের বাড়ি খাইলাম কচিং মিছ করার কারণে। স্যার চলে যাইবার পর সেই নারী কন্ঠ আবার বলে উঠল এইযে রোগী সুস্থ হয়েছ? আমি তার চেহারা ভুলে গিয়েছিলাম। যাই হোক সামনা সামনি বলে দিলাম
“ফাজিল মেয়ে তোর দোলাভাই লাগি? থাবড়াইয়া কানের লতি জুলাইয়া দিমু। তোর করনে আমি মাইর খাইছি। এর পর যদি আমার ধারে কাছে আইছস স্যারের কাছে বিচার দিমু। এর পর আর কোন দিক না তাকিয়ে বাহিরে চলে গেলাম।
দ্বিতীয় ধোলাই
পর দিন স্কুলের রাস্তায় মাত্র ডুকেছি সাইকেল নিয়ে। দিনার রা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। আমাকে চিপায় নিয়ে যাচ্ছেতাই একখানা ধোলাই দিয়ে দিল। সাইকেল এর টায়ার কেটে দিল। তাদের মাগি কে ক্লাসে অপমানিত করায়। সাইকেল টা আমার খুব আদরের ছিল। আমার নাক দিয়া একটা গরম ধারা নামছিল আমার খেয়াল ছিলনা। আমার সাইকেল এর জন্য খারাপ লাগছিল, সাইকেল কি দোষ করল? আমি না হয় দোষ করেছি। তুরাগ নদীর পারে গিয়ে বসলাম। চোখের পানি ও নাকের গরম রক্ত টপ টপ করে সাদা শার্টে পরছিল খেয়াল ছিল না। কি করব ভেবে পাছিলাম না। এখনো ভাবলে গায়ের কাটা দিয়ে ওঠে সেই বয়সের চিন্তা ভেবে। আমাদের স্কুলের পাশেই তোরাগ নদীর ওপর রেল ব্রিজ। আমি আত্নহত্যার চিন্তাও করেছিলাম সেই ১৬ বছর বয়সে। যাই হোক সন্ধ্যায় মনস্থির করলাম খুন করব।
২|
২৪ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৩
মুদ্দাকির বলেছেন: ওয়াও দারুন, ভালো লাগসে চালান, চালিয়ে জান, আরো শুনতে চাই++++++++++++++
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুন, ২০১৩ রাত ১:৩২
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: অসাধারন জীবন কথা
থাক স্মৃতির পাতায় জমা
ভাল দিন আসুক
চাও খোদার মহিমা