| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিছানার ময়লা চাদরটায় এখানে সেখানে লাল রক্তের দাগ। প্রতিটি দাগই সরল রেখা। মনে হয় যেন কেও স্কেল দিয়ে দাগগুলা টেনেছে। তাজা রক্ত গুলা নাড়ী ভুড়ী সহ চ্যাপটানোর কারনে দাগ গুলো কালচে হয়। অসহ্য কামড় গুলা মাঝে মাঝে মানব পরিচয় ভুলিয়ে দিতে চায় নিজেকে সেই চতুস্পদ জন্তু ম্নে হয় যে চারটি হাত পা থাকতেও পিঠে বসে থাকা ক্ষুদ্র কাকটার কিছুই করতে পারেনা। এ পর্যন্ত ছাড়পোকা মারা হয়নি একটিও। শুয়ে শুয়ে অসহ্য কামড় যন্ত্রনা সহ্য করছিলাম। হঠাৎ হাতটা চলে গেল কানের কাছে, আসহ্য যন্ত্রণাটা এবার ব্রেনটা নিয়ন্ত্রন করতে পারল না। মানব মস্তিষ্ক সিগন্যাল পাঠিয়ে দিল হাতে। সারাদেহ যন্ত্রণা ভোগ করছে কিন্তু এবার যে কানটাও অক্রান্ত। হাতটা সজোরে আছড়ে পড়ল কানের লতি বরাবর। খুব পরিচিত একটি ঊৎকট গন্ধ এল নাকে। মনে পড়ল গান্ধী পোকার কথা। গান্ধী চিনা হয়েছে সেই ছোট বেলায়। গালে বায়ু নিষ্কাশন করায় গালে ঘা হয়ে গেছিল।সে গন্ধটাই মনে পড়লো। গন্ধটা খারাপ কারণ ছোট বেলায় গন্ধটা খারাপ জেনেছিলাম। মানুষ অতীত দ্বারা খুব বেশী প্রভাবিত। ছোট বেলায় যদি জানতাম গান্ধির হাওয়া সুগন্ধি তাহলে আমরা গান্ধী পোকাকে নির্মম ভাবে মারতাম না। কিন্তু কপাল খারাপ গান্ধীর মানব নাক তার ছাড়া বায়ুকে দুর্গন্ধি হিসেবে সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। নাহয় হয়ত গান্ধীর নিষ্কাশিত বায়ু সঞ্চয় করা হইত। তা দিয়ে সেক্সি বডি স্প্রে তৈরী হইত। আর সে গন্ধ নাকে গেলে নারীরা পঙ্গপালের ন্যায় ছুটে আসত পুরুষের কাছে। যদিও ইহা কেবল ভারতের বিজ্ঞাপনেই সম্ভব। গান্ধী পোকা তখন ফুল থেকেও দামি হইত। ঘরে গান্ধী পোকা খাচায় ভেতর সাজিয়ে রাখা হইত। পাশের বাসার ভাবি বেরাতে এসে গান্ধী দেখে বলত-
“ওয়াও এত গান্ধী?” কোথা থেকে আনলেন ভাবী?আপনার ভাইকে কত বলি গান্ধী আনো, সে আনেই না।আরে গান্ধী ছাড়া কি ঘর সম্পূর্ণ হয় বলেন ভাবি?
তা ঠিক বলেছেন ভাবী। আপনার ভাই তো গান্ধীর গন্ধ ছাড়া ঘুমাতেই পারেনা। এ গান্ধী গুলো ওনি সেই নান্দাইলের বাতুয়াদির পীরের মাজারের পিছনের পাগারের জঙ্গলা থেকে নিজে ধরিয়ে এনেছে। কি গন্ধ দেখুন না ভাবি।
হুম,আপনার কি সৌভাগ্য ভাবী...............
গান্ধী হইত তখন জাতীয় সম্পদ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করতো গান্ধী চাষ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী উক্তি দিত “গান্ধী চাষ করব, টাকার বস্তা আনব” বনে বনে লাগানো থাকা সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো “গান্ধী আমাদের জাতীয় সম্পদ এদের রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব,
পত্রিকায় প্রতিদিন খবর থাকতো “বিমানবন্দরে গান্ধী প্রাচারের সময় তিন দেশপ্রেমিক কাস্টমস কর্মকর্তা তিন প্রাচার কারিকে আটক করেছেন” গান্ধীর নাম হইত “গন্ধ গোল্ড”।কবিদের কবিতায় থাকত গান্ধীর গুণগান। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে উপহার দিত সব সময়ের মহা মূল্যবান গান্ধী পোকা। বিয়ে শাদি ও অনুষ্ঠান গান্ধী ছাড়া চিন্তাই করা যাবে না। সবই কপালের দোষ গান্ধীর। ককুর কে মানুষের এত ভাল লাগল অথচ গান্ধিকে লাগল না। মানুষ তার চাটুকারকে আসলেই পসন্দ করে।ছাড়পোকাটা চেপ্টে গেল থাপ্পড়ের আঘাতে। তাজা রক্তের দাগ পড়ল গালে। হাতে সদ্য নিহত হওয়া ছাড়পোকাটা নিয়ে কিছুক্ষন পর্যবেক্ষণ করলাম। দেহ সৌষ্ঠব অনেক পরিচিত লাগল। যেন স্থূল আকৃতির একটি উকুন। মনে হয় উকুনের সাথে গান্ধীর আযাচিত মিলনের ফলেই এ জাতের উদ্ভব। খুব খারাপ লাগল ছাড়পোকাটার মরদেহটা দেখে। রক্ত খাবারের সন্ধানে আন্দোলন রত এ রকম হাজারো ছাড়পোকা প্রতিদিন নির্মম ভাবে প্রান হারায় ছাত্র সমাজের আক্রমণে। মরার পর তাদের মরদেহকেও লাঞ্ছিত হতে হয়। কিন্তু সমাজের বড় বড় রক্তচোষা প্রতিবারই সম্মানের সাথে বেঁচে যায়।মানুষ আসলেই অল্পে কাতর। ছারপোকাদের জন্য খাদ্য বরাদ্দ নাই। তাদের সংগ্রাম করেই খেতে হয়, কোটার জোড়ে তারা খাবার পায়না। মানুষ ঘোড়ার জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেও ছাড়পোকার জন্মনিয়ন্ত্রন এর কোনো পদ্ধতি বাহির করতে পারে নাই। তাই তারা দেহের চাহিদা মিটালেই বিশাল এক গোষ্ঠী ছানা পানার জন্ম হয়। প্রয়োজন হয় অধিক খাদ্য। প্রকাশ্যেই তখন রক্ত ডাকাতি শুরু করে তারা। আর এ মানব সমাজে ডাকাতি করতে এসে নির্মম আক্রমণের শিকার হয়।অবশেষে রাতের বেলা এক সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম। ছাড়পোকা মহাশয় বরাবর একখানা সন্ধি পত্র লিখলাম। এবং তা তোশকের নিচে রাখলাম। অপেক্ষায় আছি তাদের উত্তরের। রাতে শুইলেই পেয়ে যাব আশা করি। সে পর্যন্ত অপেক্ষা।
©somewhere in net ltd.