নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

facebook.com/Philippus.aureolus

facebook.com/Philippus.aureolus

দ্য অ্যালকেমিস্ট

facebook.com/Philippus.aureolus

দ্য অ্যালকেমিস্ট › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিওর্দানো ব্রুনোঃ বিজ্ঞানের জন্য শহীদ?

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫৯





ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদী গোষ্ঠীর হাতে সে যুগের বিজ্ঞানীদের নির্যাতিত হবার উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞানের অনেক রথী-মহারথীই ডোমিনিকান ধর্মযাজক জিওর্দানো ব্রুনোর করুণ পরিণতিকে প্রধান দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সে যুগে বিশ্বজগতকে নবরূপে সংজ্ঞায়িত করার যে প্রচেষ্টা বিজ্ঞানীরা শুরু করেছিলেন,ব্রুনো তার খাঁটি অংশীদার ছিলেন না।



১৫৪৮ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস পর্বতমালার অদূরের ছোট্ট গ্রাম নোলার এক দরিদ্র সৈনিকের ঘরে ব্রুনোর জন্ম। নেপলস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষে ১৫৬৩ সালে তিনি একটি ডোমিনিকান মঠে যোগ দেন। মৌলিক

পরিবর্তনকামী,সর্বপ্রাণবাদী ব্রুনো ছিলেন একজন অগ্নিময় বক্তা। বিভিন্ন বিষয়ে তার স্পষ্টভাষী বক্তব্য চার্চের কাছে উস্কানিমূলক হিসেবে প্রতিপন্ন হয়। ফলে অচিরেই তিনি ক্যাথলিক চার্চের রোষানলের সম্মুখীন হন।

অবিরত স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি একের পর এক অতীন্দ্রিয় এবং গোঁড়া ধারণার জন্ম দিতে থাকেন। শাস্তির ভয়ে নেপলস ত্যাগের পর ব্রুনো রোম,জেনেভা,প্যারিস সহ সমগ্র ইউরোপ পরিভ্রমণ করেন। ভ্রমণের পাশাপাশি তিনি জার্মানী এবং ইংল্যাণ্ডেও বক্তৃতা প্রদান করেন। অবশেষে ১৫৯২ সালে ভেনিস নগরীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।



ব্রুনোর দর্শন মূলত ছিল একগুচ্ছ ধারণার জটিল সংমিশ্রণ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে,মহাবিশ্বের কোন সীমা নেই এবং মহাবিশ্বের আরো অনেক জায়গায় মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে। এই বিশ্বাসের

কারণেই মূলত বিজ্ঞানের ইতিহাসের অনেক জনপ্রিয় বইয়ে ব্রুনোর নাম খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও কোন যৌক্তিক কিংবা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তিনি এইসব উপসংহারে উপনীত হয়েছেন কিনা সে সম্পর্কে কোন জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এগুলো ছিল তার আরো অনেক ধারণার মতোই,প্রায়শই স্ববিরোধী যেগুলোর মাধ্যমে তিনি তার নিজস্ব অসংলগ্ন অতীন্দ্রিয়তার জাল বুনেছিলেন।



ব্রুনো ছিলেন কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের সমর্থক। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত না গ্যালিলিও,টাইকো ব্রাহে,কেপলার ও নিউটনের ক্রমান্বয়নিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় এ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় ততোদিন

পর্যন্ত ব্রুনোর কোপার্নিকাসের প্রতি এই সমর্থন সে যুগের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিতে কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি।



সাত বছর ধরে চলা বিচারকার্য শেষে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারা হয়। আগুন লাগানোর পূর্বমুহূর্তে চুমু খাওয়ার জন্য তাকে একটি ক্রুশ দেওয়া হয়। কিন্তু রাগে ঘৃণাভরে ব্রুনো মুখ সরিয়ে নেন। অনেক জনপ্রিয় বইতেই দাবি করা হয়ে যে,অসীম মহাবিশ্ব এবং বাসযোগ্য গ্রহসমূহের অস্তিত্বে বিশ্বাসের কারণে ব্রুনোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এগুলো ছিল চার্চের কাছে ধ্বংসাত্বক এবং হেয়প্রতিয়মান বলে গণ্য ব্রুনোর ধারণাসমূহের সেই দীর্ঘতালিকার কয়েকটি উপকরণ মাত্র। প্রশ্নাতীতভাবে ব্রুনো মুক্তচিন্তা ও মুক্তচর্চার একজন শহীদ। কিন্তু প্রারম্ভিক বিজ্ঞানের নায়কের মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে তিনি পেছনে পড়ে যান।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:৩৪

ফারজুল আরেফিন বলেছেন: স্বাগতম।
প্রথম পোস্ট ভাল লাগলো।

২| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫১

দ্য অ্যালকেমিস্ট বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.