নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলো অন্ধকারে যাই

পাভেল০৮১

পাভেল০৮১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

হেফাজতে ইসলাম এর ১৩ দফা ও আমার ব্যাক্তিগত উপলব্ধি [প্রথম পর্ব]

২৪ শে মে, ২০১৩ সকাল ১১:২১

প্রথম দাবিঃ সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল

এই দাবিটা দেখে প্রথমেই আমার মাথায় যে প্রশ্নটা আসে সেটা হল, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করলে impact টা কি হবে? বাংলাদেশের সবাই হঠাত ঈমাণদার হয়ে যাবে? নাকি আগে ঘুষ কিছু না বলে খেতো আর এখন বিসমিল্লাহ বলে খাবে? এই দেশের ৮০ ভাগ মুসলমান এইটা যেমন সত্যি, মোটা দাগে বাকি বিশ ভাগ যে অমুসলমান সেটাও সত্যি। তো সংবিধান এ এমন কিছু কেন থাকবে যেটা এই দেশের জনগোষ্ঠীর ২০ ভাগ বিশ্বাসই করে না? আমাদের সংবিধান এ তাই থাকা উচিত যা দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিশ্বাস করবে।



কুরআন সুন্নাহ বিরোধি আইনের অংশে গেলাম না কারন বাংলাদেশের সংবিধানে কুরআন সুন্নাহ বিরোধি কি কি আইন আছে আমি জানিনা। তবে আমার মতে এমন কিছু আসলেই থাকা উচিত না।



দিত্বীয় দাবিঃ আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।

ব্লাসফেমি আইনের পরিনতি দেখার জন্য বেশিদূর যাওয়ার দরকার নাই। কাছের দেশ পাকিস্তান যথেষ্ঠ। ওখানে এই আইনটার প্রয়োগ এর চেয়ে অপপ্রয়োগ ই বেশি হয়। নিরীহ প্রতিবেশীর বাসার সামনে কুরআনের পাতা ছিঁড়ে ফেলে রেখে ফাঁসিয়ে দেবার জন্য মামলা দিয়ে বলে, ও কুরআনের অবমাননা করেছে। দুই বদ বন্ধু মিলে নিরীহ কাঊকে ফাঁসিয়ে দিতে বলে, লোকটা নবী মহম্মদের (সঃ) বিরুদ্ধে বলেছে আমরা শুনেছি। খাল কেটে এই ডাইনোসর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কোন মানে আছে কি?

তৃতীয় দাবিঃ শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর নামে কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা.

এটা দেখে অবধারিত ভাবে প্রশ্ন আসে, শুধু শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারিরা কেন? দেশেতো আরো অনেক নাস্তিক মুরতাদ আছে যারা শাহবাগের সাথে সংশ্লিষ্ট না। শাহবাগ তাদের কোন পাকা ধানে মইটা ক্যাম্নে দিল? জারজ রাজাকারদের বিচার চেয়ে?

আমাদের প্রিয় নবীজির বিরুদ্ধে কুতসা রচনাকারী ব্লগাররা এইসব লিখালিখির কারণে নিজেদের কুরুচির পরিচয় দেয়া ছাড়া আর কিছু কি করতে পেরেছে? কয়জন মানুষ এইসব নিন্মমানের লিখালিখির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলাম ছেড়েছে? এটা ঠিক যে ধর্মিয় অনুভূতির উপর আঘাত কখনোই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু এদেরকে প্রদীপের আলোয় আনলোটা কে? মাহমুদুর রহমান গং এর বেপরোয়া প্রচারনার আগে এদেরকে কয়জন চিনতো? তাই আমার মনে হয়েছে এই দাবির পেছনের কারন গুলো যুক্তিযুক্ত হলেও উদ্দেশ্যটা সৎ নয়। আর অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে আইন করে এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করা সম্ভব না।



মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মে, ২০১৩ সকাল ১১:৩০

পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন বলেছেন: ভালো বলেছেন।
আর পথম কথা, নাস্তিক নতুন করে জন্মায়নি।সব সময়ই ছিল আছে। মত থাকলে ভিন্ন মত থাকবে।

মনে করুন আমি আর আপনি দুজনই মুসলমান। দুজনই ভারতে থাকি। আমরা একদিন মা-কালী বা কষ্ণকে নিয়ে কিছু বাজে কথা বললাম। দুজন নিজেদের মধে বলতেই কিন্তু পারি।
এখন ভারতের একটি পেপারের কোনো সাম্বাদিক ওই কথোপকথন রেকড করে পেপারে ছেপে দিল। তার বিনিময়ে ভারতে থাকা বেশ কিছু মসলমান ও কিছু হিন্দু সহিসতায় নিহত হলো। এর জন দায়ী কিন্তু ওই পেপার।

ফেসবুক নিতান্তই বক্তিগত বাপার। কোনো পাঁচ বন্ধু নাস্তিক। তারা বন্ধুতে বন্ধুতে যা খুশি বলতে পারে। সেটা আমাকে পেপারে দিতে হবে?

ব্লগারদের ক্ষেতেও একই কথা।
কই ব্লগারদের কেও তো মামলা করে নি গিয়ে বা অভিযোগ করেনি। এই সহিসতার মূল হলো মাহমুদ চুদিরভাই।

২| ২৪ শে মে, ২০১৩ সকাল ১১:৩৩

দায়িত্ববান নাগরিক বলেছেন: নিরীহ প্রতিবেশীর বাসার সামনে কুরআনের পাতা ছিঁড়ে ফেলে রেখে ফাঁসিয়ে দেবার জন্য মামলা দিয়ে বলে, ও কুরআনের অবমাননা করেছে। দুই বদ বন্ধু মিলে নিরীহ কাঊকে ফাঁসিয়ে দিতে বলে, লোকটা নবী মহম্মদের (সঃ) বিরুদ্ধে বলেছে আমরা শুনেছি। খাল কেটে এই ডাইনোসর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কোন মানে আছে কি?

হেফাজতে জামাতের ছাগলরা এটাই চায়। তখন আর কে আটকাবে ওদের! কিছু হইলেই দিবে আগুন লাগাইয়া।

৩| ২৪ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:০২

শিপু ভাই বলেছেন:
সুন্দর লিখেছেন। সহমত।

পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিয়েন।

৪| ২৪ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৫

রাজীব দে সরকার বলেছেন: যদিও আমার এখানে কথা বলা মনে হয় ঠিক না
তবে আপনার লেখা পড়ে অনেক অনেক ভালো লাগলো
আমাদের মধ্যে এখনো এভাবে কেউ ভাবে দেখে ভালো লাগলো
হয়তো আপনাদের হাত ধরেই সুদিনের ঘরে পূছে যাবো আমরা

ধন্যবাদ

৫| ২৪ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৪

এস আর সজল বলেছেন: মুখের প্রতিবাদ মুখ হোক, হাতের প্রতিবাদ হাত হোক, লাঠির প্রতিবাদ লাঠি হোক, আস্ত্রের প্রতিবাদ অস্ত্রে হোক আর ব্লগিংয়ের প্রতিবাদ ব্লগিংয়ে হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.