নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান

মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান

মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বনধুবৎসল আদিবাসী হাজং

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

মিথ্যা ও শঠতা তারা বুঝে না

মিথ্যা ও শঠতা তারা বুঝে না। সারল্য, অতিথিপরায়ণতা তাদের প্রাকৃত বৈশিষ্ট্য। মনের দিক থেকে তারা বেশ উদার। তাদের জীবনচিত্র সরেজমিনে দেখার জন্য গিয়েছিলাম নেত্রকোণার দূর্গাপুর ও শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলায়। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ হাটার এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে নিম্নবিত্ত এক হাজং পরিবারের ঘরের সামনে যেতেই বের করে দিলেন বেতের তৈরি একটি মড়া। আন্তরিক অনুরোধ জানালেন বসার জন্য। মনে হলো আমি তাদের অনেক দিনের চেনা। তৃষ্ণার কথা জানানোর আগেই পরিবারের ১০-১২ বছরের এক সদস্য ছুটে গেল বাড়ির পশের টিউবয়েলে। ঠান্ডা পনি নিয়ে আসল। ঠিক যেন ফ্রিজ থেকে বের করা। সাথে তাদের প্রথাগত নাস্তা। খুব তৃপ্ত হলাম পানি পান করার পর। প্রবল সাহসী এই হাজং আদিবাসী এক সময় বন্য হাতির সাথে লড়াই করতো। হাতি ধরে উপহার দিত জমিদারদের। একদিন তারা বিদ্রোহ করেছিল জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে হাতে তুলে নিয়েছিল অস্র। দারিদ্র এখন তাদের পিছু ছাড়ছে না। দুমুঠো ভাতের জন্য কাজ করতে হচ্ছে দিনভর। বিক্রি করছে আগাম শ্রম।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাসমূহে হাজংদের বসবাস। এরমধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গাড়ো পাহাড় সংলগ্ন সমতলভূমির বিরিশিরি, শ্রীবর্দী, হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ী, সুসং দূর্গাপুর ও কমলাকান্দা অঞ্চলে হাজং জনগোষ্ঠীর লোক বেশি বাস করে। ভারতের আসামে তুরা পার্বত্য এলাকায়ও অনেক হাজং রয়েছে। মুন্ডা, সাঁওতাল, গারো আদিবাসীদের মতোই হাজং জনগোষ্ঠীরও রয়েছে অন্যায়, উৎপীড়ন, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদী ভূমিকা।



আগমনের উৎস নিয়ে সঠিক তথ্য নেই

হাজংদের আগমনের উৎস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্যেত মতে, ‘হাজংরা বোড়ো নামক বৃহত্তর ইন্দো-মঙ্গোলয়েড জাতির শাখাভূক্ত। পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলে মধ্যযুগ পর্যন্ত এই বোড়ো জাতিরই এক শাখাভূক্ত জাতির বসবাস ছিল যা কোচ নামে পরিচিত। কাছারি ভাষায় ‘হা’ অর্থ পাহাড় আর ‘জো’ অর্থ পর্বত। পাহাড় পর্বতে বসবাস বলে কাছারিরা তাদের হাজং নামে অভিহিত করতো। ময়মনসিংহ জেলা গেজেটিয়ারে হাজংদের সম্পর্কে লেখা আছে, ‘মঙ্গোলীয় জাতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুদুর অঞ্চল থেকে এসে ব্রক্ষ্মদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের আসাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল। আসামের কামরূপ জেলা থেকে তারা জীবিকার সানে ঘুরতে ঘুরতে ময়মনসিংহের গারো পাহাড় অঞ্চলে এসে উপস্থিত হয়।’ নৃতত্ববিদ কর্নেল ই টি ডাল্টন -এর মতে, ‘হাজংরা আসামের আদিম অধিবাসী ও কাছারি নামক বৃহত্তর জাতির শাখাভূক্ত। তারা গারো নামক এক প্রবল মাততৃতান্ত্রিক জাতিরও অন্তর্ভক্ত।’ শ্রী ধনেশ্বর বর্মন উল্লেখ করেছেন, ‘হিমালয়ের পাদদেশে অবন্তীনগর (মালব) হাজংদের আদি নিবাস। সেখান থেকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা গ্রাজ্যোতিষপুরের (গৌহাটি) হাজো প্রদেশে এসে জায়গা করে নেয়।’ হাজং ইতিহাস লেখক শ্রী প্রফুল্লরঞ্জন সরকার উল্লেখ করেছেন, ‘বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হাজংরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে ১০০১ সালে তারা আসামের টুরার পশ্চিমাংশে কড়াইবাড়ি নামক স্থানে বসবাস স্থাপন করে।’ এ স্থানটি কাশ্যপ বর্মনের নামানুসারে গনা নামে পরিচিতি লাভ করে। আজো কড়াইবাড়ি নামক স্থানে বিপুলসংখ্যক হাজংয়ের বসবাস রয়েছে। এই কড়াইবাড়ি ছিল হাজংদের সংযোগস্থল। এখান থেকে হাজংরা দলবল নিয়ে কৃষিকাজের যোগ্য স্থানের সান পেয়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শ্রীবর্দী থানার লাউচাপরা নামক স্থানে পদার্পন করে এবং সেখান থেকে রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট ও ঢাকায় বিস্তৃতি লাভ করে।’

গবেষকরা বলছেন, হাজংরা তিব্বত থেকে অবন্তীনগর, সেখান থেকে কামরূপের হাজোনগর, হাজোনগর থেকে বারহাজারীর কড়াইবাড়ী, সেখান থেকে শ্রীবর্দীর লাউচাপরা নামক স্থান এবং অবশেষে সেখান থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করে।

কাছারি শব্দ ‘হাজই’ থেকে হাজং শব্দের উৎপত্তি বলে কর্নেল ডালটন, এইচ বি রাওনি, ওয়াডল প্রমুখ উল্লেখ করেছেন। হাজই শব্দের অর্থ সমতলবাসী। কাছারিরা দুটি দলে বিভক্ত। এর একটি সমতলবাসী ও অন্যটি পর্বতবাসী। হাজংরা কাছারিদের একটি শাখা বলে মনে করা হয়। গবেষক হাডসন হাজো থেকে হাজং শব্দের উৎপত্তি বলে মত দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন সপ্তদশ শতকে তৎকালীন শাসকদের ক্রমাগত আক্রমণে কাছারিদের হাজো শাখাটি বর্তমান গোয়ালপাড়া জেলা থেকে গারো পাহাড়ের পশ্চিমাংশে ও ময়মনসিংহ জেলায় আশ্রয় নেয়।



সবসময় হাসিখুশি থাকে ও প্রাণখুলে কথা বলে

হাজংদের চেহারাগত বৈশিষ্ট্য ও আচার-অনুষ্ঠান অনেকটা কাছারিদের মতো। ভাষার ব্যবহার ও কথাবর্তায় এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অবশ্য হাজংরা তা মানতে রাজি নয়। হাজং পুরুষ ও মহিলারা দৈহিক দিক থেকে খুব লম্বা নয় আবার বেশি খাটোও নয়। মধ্যমাকৃতির চেহারা, স্বাস্থ্য সতেজ ও মোটা। মুখমন্ডল স্বাভাবিক গোলাকার। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত হাজংদের চেহারার সাথে অনেকাংশে বাংলাদেশীদের অবয়বের কিছুটা মিল পাওয়া যায়। তবে তাদের নাক কিছুটা থ্যাবরা, চোখ ছোট, পায়ের গোছা বেশ মোটা ও চুল স্বাভাবিক। গায়ের রঙ বেশি ফর্সা নয় আবার কালোও নয়। কালো বর্ণের কোনো ছেলে বা মেয়ে দেখা যায় না। যুবক-যুবতীরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তারা খুবই অতিথিপরায়ন ও বুবৎসল এবং সবসময় হাসিখুশি থাকে ও প্রাণখুলে কথা বলে। মনের দিক থেকে তারা বেশ উদার ও পরিশ্রমী। তাদের শরীরে কখনো মেদ দেখা যায় না। তাদের মধ্যে মিথ্যা ও শঠতার ঘটনা বিরল।



হাজংদের সনাতনপন্থী হিন্দু বলা যায়

হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসের সাথে হাজংদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাদের সনাতনপন্থী হিন্দু বলা যায়। অবশ্য অন্যান্য বাঙ্গালী হিন্দু সনাতনপন্থীদের আচার আচরণ ও ধর্মীয় ব্যবস্থা থেকে তা আলাদা। অনেকে মনে করেন, আদিশুরের আমলে হাজংরা হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। হাজংরা উচ্চতর হিন্দুদের প্রায় সব দেবদেবীর পূজা করে। শিব তাদের প্রধান দেবতা। দুর্গাও তাদের কাছে সমধিক সম্মানিত। আগে তারা ঋগবেগের ঋষিকে প্রধান দেবতা বলে স্বীকার করত। এই ঋষি গারোদের সালজং দেবতার পর্যায়ভূক্ত। তাদের ধারণা ঋষি ও তার স্ত্রী চরিপাক স্বর্গে বাস করেন। প্রাচীনকালে বছরান্তে একবার তারা এই ঋষি ও তার স্ত্রীকে একটি ছাগলছানা উৎসর্গ করে গহীন বনে রেখে আসত। আসামের কাছারিদের কাছে এই প্রধান দুটি দেবদেবী বুড়া ও বুড়ি নামে পরিচিত। কোনো মহামারি ও অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষা করে বলে তাদের নামে একটি শুকর ও কালোবর্ণের ছাগলছানা উৎসর্গ করত। ব্রাক্ষ্মন্যবাদের প্রভাবে এই ঋষি ও চরিপাক পরিবর্তিত হয়ে কালক্রমে হাজংদের শিব ও দুর্গায় পরিণত হয়েছে বলে অনেকেরই বিশ্বাস। প্রাপ্তবয়স্ক সব পুরুষ হাজংই হিন্দু ব্রাক্ষ্মণদের মত পৈতা ব্যবহার করে। পৈতা গ্রহণের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ উৎসব পালন করা হয়। হাজংরা কার্তিক ব্রতসহ একাধিক ব্রতানুষ্ঠান পালন করে। এসব ব্রতানুষ্ঠানে যথারীতি মেয়েদের নৃত্যগীতির ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া এরা ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পূজাও করে। বছরের নির্দিষ্ট দিনে হাজং নারী-পুরুষ ব্রক্ষ্মপুত্র নদে স্নান করা পবিত্র কর্ম হিসেবে গণ্য করে। হাজং সমাজে বায়্যাবছড়ি ও পরমার্থী নামের দুটি শাখা রয়েছে। সামাজিক মর্যাদায় পরমার্থী হাজং হলো উচ্চাসীন। অনেকে তাদের হিন্দুসমাজভূক্ত বৈষ্ণবদের সাথে তুলনা করে। গরু ও শুকরের গোশতসহ মদ স্পর্শ করা তাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আরো অনেক খাবারের প্রতি তাদের বিধি নিষেধ আছে। বায়্যাবছড়ি হাজংদের শাক্তশ্রেণীর হিন্দু বলে অভিহিত করা হয়। সামাজিক রীতিনীতি, খাদ্য, পানীয়ে তারা অনেকটা গারোদের পর্যায়ভূক্ত। অবশ্য দুই গোষ্ঠীতে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে কোনো বাধানিষেধ নেই। হাজংরা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী। তারা গীত, বেদ, রামায়ন, মহাভারত, পদ্মপুরাণ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে। ব্রাক্ষ্মণের নিকট দীক্ষা গ্রহণপূর্বক বিশুদ্ধ হয়ে যে কোনো নর নারী এই ধর্মগ্রন্থাবলী পাঠ করতে পারে। বিভিন্ন সময়ে হাজংরা মন্দির বা বাড়িতে হরিণাম কীর্তনের আসর বসায়। হিন্দুদের মতো হাজংরাও তীর্থ পর্যটনে বিশ্বাসী। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্টির জন্য গয়া, কাশি ও বৃন্দাবনে তীর্থ পালন করতে যায়।



পুরুষদের কম্পেশ আর মেয়েদের প্রধান পোষাক পাথিন ও আর্গন

হাজংদের পোষাক পরিচ্ছদ খুব সাধারণ হলেও বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। স্বাধীনতার পর তাদের পোষাকে বেশ পরিবর্তন আসে। স্বাধীনতা লাভের পরও তারা নিজস্ব তাঁতে কোপরা পাথিন, আররা গামছা ইত্যাদি পরিধান করতো। সাধাসিধেভাবে নিজেরা কাপড় বোনার জন্য তাতের অনুরূপ ‘বানা’ তৈরি করতো। নিজেরাই কার্পাস থেকে সুতা কাটতো। গাছের রঙ দিয়ে সুতায় বিভিন্ন রঙ করে নিতো।

হাজং পুরুষরা হাটুর নিচ পর্যন্ত পাঁচ হাত দৈর্ঘø ও আড়াই হাত প্রস্থের বানার মোটা মার্কিন কাপড়ে তৈরি ধুতি পড়ে। এটাকে ফটা ধুতি বলে। এটাকে গায়ে তারা মোটা কাপড়ের নিমার অনুরূপ করে পরিধান করে। একে টোয়া বলা হয়। বানা দিয়ে তৈরি দৈর্ঘেø তিন থেকে পাঁচ হাত ও প্রস্থে ছয় থেকে আট ইঞ্চি গলাব তৈরি করে নেয়। এটাকে ‘কম্পেশ’ বলা হয়। মেয়েরা হাটুর নিচে গোড়ালির ওপর পর্যন্ত বুকে কাপড় পড়ে। এই কাপড়ের নাম ‘পাথিন’। এগুলোর বিচিত্র রঙের ডোরাকাটা মোটা পাড় হয়। দৈর্ঘেø সাড়ে তিন হাত ও প্রস্থে আড়াই হাতের বানা থেকে এগুলো তৈরি করে নেয়া হয় যা চাদরের মতো গায়ে ব্যবহার করা হয়। এই চাদরকে মেয়েরা ‘আর্গন’ বলে। তারা কোমর পর্যন্ত লম্বা আকৃতির ব্লাউজ ব্যবহার করে। কাজের সময় মেয়েরা কোমরে কম্পাসাকৃতির কোমরব ব্যবহার করে। বিয়ে ও অন্যান্য উৎসবে ব্যবহৃত কাপড়গুলোর রঙের পার্থক্য থাকে। মেয়েরা গায়ে আর্গন ও কানে ধিরি, দুলুং, মাকড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করে। বাহুতে বাজুব, হাতে বয়লা, চুড়ি, শঙ্খের চুড়ি, পায়ে পায়ের পাতা, বাগুঞ্জরি, খারু, কোমরে বিছা, গলায় সিকি সরা ইত্যাদি পরিধান করে।



বাংলা ও অহমীয়া ভাষার মিশ্রণ

হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। তবে লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। ডক্টর গ্রীয়ারসন হাজং ভাষাকে টিবেটু-বর্মন ভাষা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু হাজং ভাষায় বাংলা ও অহমীয়া ভাষার সংমিশ্রন বর্তমান। কাছারি ভাষার অনেক শব্দ হাজং ভাষায় মিশে গেছে। বাংলা ভাষার সাথে হাজং ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে। অনেক বাংলা শব্দ বিকৃতভাবে হাজং ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অহমিয়া ও চাকমা ভাষার সাথেও হাজং ভাষার মিল রয়েছে। তবে ভারতের বারহাজারি, কড়ইবাড়ী, পুটিমারি অঞ্চলের হাজংদের ভাষার সাথে বাংলাদেশী হাজংদের ভাষায় তেমন মিল নেই। হাজংদের স্বতন্ত্র কোনো ভাষায় সামাজিক গীত অথবা তন্ত্রমন্ত্র সংরক্ষণ করার প্রয়োজন মনে করলে বাংলা ভাষায় লিখে রাখে।



স্বামী স্ত্রীকে মা ও স্ত্রী স্বামীকে বাবা বলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ করে

হাজং সমাজে অন্তর্বিবাহ ও বহুর্বিবাহ উভয় রীতি এক সময় প্রচলিত ছিল। বায়্যাবছড়ি ও পরমার্থীগোত্রের মধ্যে বিয়ের ব্যাপারে কানো বাধা নিষেধ নেই। বিয়ের পর প্রত্যেক দম্পতি খুব বিশ্বস্ততার সাথে জীবনযাপন করে। বিয়ের আগে বা পরে কোনো নারীকে সাধারণত চরিত্রভ্রষ্টা হতে দেখা যায় না। বিয়ের আগে কোনো নারী গর্ভবতী হলে দুষ্কর্মকারীকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক আইন অনুসারে তখন সেই পুরুষকে কিছু টাকা জরিমানাও দিতে হয়। এ ধরণের বিয়েকে দাইমারা বিয়ে বলা হয়। বিয়ে সাধারণত পিতামাতা বা অভিভাবকদের মতানুসারে ঠিক করা হয়। কিন্তু পরমার্থী হাজংরা বিয়ের ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। হাজংদের মধ্যে বাল্যবিবাহ নেই বললেই চলে। দ্বিতীয় বা একাধিক স্ত্রী গ্রহণের নিয়মও হাজং সমাজে বিদ্যমান। প্রথম স্ত্রী যদি চিরবা বলে প্রমাণিত হয় তখন সাধারণত দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণের প্রশ্ন উঠে।

হাজংদের বিয়ে পড়ানোর সময় মন্ত্র প্রয়োগ করা হয় না। কেবল বিয়ের দিন বরের বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে চতুষ্কোন করে চারপাশে কলাগাছ পুতে রাখা হয়। এখানে ১৬টি মোমবাতি বা ১৬টি মাটির পিদিম জ্বালানো হয়। এগুলোর পাশে পানিভর্তি ১৬টি মাটির পাত্রও থাকে। এবার বরকনে উভয়ে সেই চতুষ্কোন স্থানে অবস্থান করে। প্রথমে কনে বরের চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করে। এরপর পূর্বদিকে মুখকরে বরের ঠিক বাম পাশে দাঁড়ায় এবং গ্রামের অধিকারীরা মাটির পাত্র থেকে পানি তুলে নব দম্পতির গায়ে ছিটিয়ে দেয়। তখন বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় বলে ঘোষিত হয়ে যায়।

হাজং সমাজে তালাক প্রথা প্রচলিত রয়েছে। তবে গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। হাজংদের মধ্যে তালাক দেয়ার পদ্ধতি একেবারে ভিন্ন রকম। নির্দিষ্ট দিনে স্বামী-স্ত্রী এক সাথে মিলে গ্রামের অধিকারীদের ডাকে। তাদের সামনে তারা দুজনে কিছুসংখ্যক পান টুকরো টুকরো অবস্থায় স্থাপন করে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পূর্বাভাস ঘোষিত হয়। এরপর সবার সামনে তারা পরস্পর পরস্পরকে মা ও বাবা বলে সম্বোধন করে। এভাবেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ কাজ সম্পন্ন হয়।

হাজং সমাজে বিধবা বিয়ের প্রথাও প্রচলিত আছে। কিন্তু মৃত স্বামীর ছোট বা বড় ভাইয়ের সাথে কোনোভাবেই কোনো বিধবার বিয়ে হয় না। পরমার্থীগোত্রের মধ্যে বিধবা বিয়ের প্রচলন নাই বললেই চলে।



চোঙ্গা হিদল তাদের প্রিয় খাদ্য

ভাত হচ্ছে হাজংদের প্রধান খাদ্য। ভাতের সাথে তারা প্রতিদিনের খাবার হিসেবে মাছ, শুটকি, ডাল, শাকসবজি ও ফলমুল খায়। তাদের খাদ্য তালিকায় পাঠা ছাগল, শকুর, হাস-মুরগি, কবুতর, বন্যশকুর, হরিণ, খরগোশ, কাছিম, কুচিয়ার গোস্ত রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রচুর মাছ ধরে রোদে শুকায়। এই শুকনো মাছে সোডা মিশিয়ে ঢেকিতে কুটে পরিষ্কার করে বাশের চোঙ্গায় করে মুখ আটকে রাখে। ১০ থেকে ২০ দিন পর ওই শুটকি তরকারি করে খেতে পারে। এই চোঙ্গা শুটকিকে হাজংরা চোঙ্গা হিদল বলে। এটি তাদের খুব প্রিয় খাদ্য। হাজংরা বিন্নি চালের ভাত দারুণ পছন্দ করে। বিন্নি চাল দিয়ে তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভাত রান্না করে খুব মজা করে খায়। এদের মধ্যে বিশি, চিং, বকনি উল্লেখযোগ্য। বকনি ভাত হাজংরা আষাঢ়ের অম্বাবিচি তিথিতে আত্মিয়স্বজন নিয়ে খৈ দিয়ে খেতে ভালোবাসে। আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বাবিচি অনুষ্ঠান হয়। একে হাজংরা ‘সাতাযুগ’ বলে। হাজংদের বাসন কোসনের মধ্যে নতুন বা বৈচিত্র কিছু নেই। তারা ঢালাই লোহার কড়াইয়ে ভাত, তরকারি রান্না করতে অভ্যস্ত। মাটির হাড়ি, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, কাসার বাসন রান্না বান্না ও আহার্যের জন্য ব্যবহার করে। হাজং নারী পুরুষ উভয়েই নিজেদের তৈরি পঁচুই মদ (পঁচা ভাতের মদ) ও পোড়ামদ (গুড় ও পানির বাষ্পের তৈরি মদ) পান করে। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা কম মদ পান করে। পূজাস্থল কিংবা শুচিশুদ্ধ অনুষ্ঠানে পূজা চলাকালে হাজংরা মদ পান করে না। নেশার মধ্যে নারী পুরুষ উভয়েই বিড়ি ও তামাক পান করে।



সমতলে ঘর বানাতে হাজংরা ভালোবাসে

হাজংদের বাড়িতে তিন থেকে চারটি ঘর থাকে। এগুলো হচ্ছে- ডাঙর ঘর বা ভাতঘর, আখলি ঘর বা রান্নাঘর, গলিঘর বা গোয়ালঘর, কাছারিঘর বা ভেঠক ঘর। বসতঘরকে ডাঙরঘর বলে। এই ঘরের চালা বেশিরভাগ খর ও ছনের ছাউনিতে তৈরি। পাহাড় অঞ্চলের হাজং পাড়ায় দু’একটা ‘মাচাং’ বা ‘টং’ ঘর দেখতে পাওয়া গেলেও এরা সমতলে ঘর তৈরি করতে বেশি পছন্দ করে। একটি প্রচলিত হাজং ছড়া থেকে এ সম্ব েসুন্দর উদাহরণ মিলে।

‘ডাহাবায় গারো গিলা উমা বানায় টং

আম্‌লা ইদানি বান্দর আইছে দাঁত খততং’

অর্থঃ গারোরা পাহাড়ে উঁচু করে টংঘর বানায়। আমাদের এখানে বানর এসেছে লম্বা লম্বা দাঁত দেখায়। ডাঙরঘরের পাশে আখলিঘর থাকে। এখানে রান্নাবান্না এমনকি খাওয়ার কাজও সারে হাজংরা। কাছারিঘর প্রায় প্রতি বাড়িতেই থাকে। এই ঘরে গ্রামের যুবকরা সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর একসাথে জড়ো হয়। এসময় তারা প্রাণ খুলে আলাপ আলোচনা, হাসি তামাশা, বাদ্যবাজনা ও ইচ্ছানুযায়ী তাস ও পাশা খেলে অবসর সময় আনন্দ উল্লাসে কাটায়। অতিথি আপ্যায়নেও এই কাছারি ঘর ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে এই কাছারিঘরেই আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে জমজমাট পঁচুই মদের আসর বসে।



হাজং নারীরা জাখা, হেঙা ও জাল দিয়ে মাছ ধরায় পটু

হাজংদের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষি কাজে হাজং নারীদের ভূমিকা পুরুষদের চেয়ে বেশি। হালচাষের কাজ ছাড়া শস্য বপন ও রোপন, কাটা, মাড়াই মেয়েরাই করে। তারা গরু দিয়ে হালচাষে অভ্যস্ত। এরা সাধারণত ধান, পাট, তামাক ও বিভিন্ন শাকসবজি ফলায়। কৃষিকাজ ছাড়া মেয়েরা নিজ হাতে গড়া তাঁতে কাপড় বুনে পরিধান করে। বেত, বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন কুটির শিল্পের দ্রব্যসমগ্রী তৈরি করে। পুরুষরা গৃহস্থলীর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র তৈরি করে। গরিব হাজং মেয়েরা পাহাড় ও বনজঙ্গল থেকে খড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে। দিন মজুরের কাজও তারা করে। কেউ কেউ চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে। মহারাজাদের আমলে হাজংরা হাতি ধরার কাজ করতো। এজন্য তারা শক্তি ও বুদ্ধিমত্তার জন্য পুরষ্কারও পেত। হাজং নারীরা নদী ও খালবিলে ‘জাখা’, ‘হেঙা’ ও ‘জাল’ দিয়ে মাছ ধরায় পটু। জাখা ও হেঙা বেত ও বাঁশের তৈরি এক ধরণের ফাঁদ। মাছ ধরার আগে থেকেই বর্ষাকালে এরা ঘরে ঘরে আনন্দে ‘জাখামারা গীত’ গায়। হাহজংরা দরিদ্র হলেও তাদের সমাজে ভিক্ষুক, মাছ ব্যবসায়ী, পালকি বাহক, ধোপা, নাপিত, মালি, মেথর, মুচি নেই। এদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী এসব ব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।



হাজং নারী পুরুষ উভয়েই নানা গীত-গান গায়

হাজংদের প্রায় সব সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্যের প্রচলন রয়েছে। গানের মধ্যে রসিগান, ভাঙা নৌকা গান, গীতলু গীত, গোপিনী গীত, লেওয়াতানা গান, নিক্‌নি গান, বানাই গীত, বানাগড়া গান, চোর চোর মাগা গান, জাখামারা গান, বোঘা লাগানো গান, নয়া খাওয়া গান, টেংলাগানা, গুটুর গুটুর গীত, নামকীর্তন, সংকীর্তন, পদকীর্তন, পদাবলী ও চপমাত্রা ইত্যাদির নাম উল্লেখযোগ্য। এদের নারী পুরুষ উভয়েই নানা গীত-গান গায় ও কিছু সংখ্যক সঙ্গীতে নৃত্যও পরিবেশন করে। হাজংরা সঙ্গীতে খোল, করতাল, ঢোলক, হারমোনিয়াম, স্বরাজ, সারিন্দা ব্যবহার করে।

একসময় হাজং নারীরা খোঁপায় ধাতুনির্মিত কাঁটা ও ফুল থেকে পায়ের মল পর্যন্ত অনেক অলঙ্কার পরতো। বিবাহিত রমণীরা কপালে সিঁদুরের ফোঁটা, সিঁথিতে সিঁদুর, পায়ে আলতা পড়ে। এরা কানে বিভিন্ন ধাতু নির্মিত ঝুমকা, দুল, নাকফুল, নোলক, গলায় পুঁতির মালা, টাকা-সিকিছড়া, বাহুতে বাজু, তাগি (কারো পৈতা), হাতে চুড়ি, বালা, শঙ্খনির্মিত শাঁখা, আঙ্গুলে আংটি, কোমরে বিছা, গুট, তাগি ও পায়ে বাঁক গুঞ্জুরী (মল জাতীয়) পরতো বলে জানা যায়। বর্তমানে অভাবের তাড়নায় অনেক বিবাহিত রমণী হাতে শাঁখা, চুড়ি ও সিঁথির সিঁদুর পড়ে মাত্র। শিক্ষিত ও ধনি হাজং মহিলারা হাতে ঘড়িসহ সোনা রূপার মূল্যবান অলঙ্কার পড়ে। পুরুষদেরও আংটি, ঘড়ি ইত্যাদি পড়তে দেখা যায়।

হাজংদের কাছে শনি ও মঙ্গলবারে যাত্রা অশুভ। যাত্রার সময় শূন্য কলসি, নাপিত, তেলী, শিয়াল, অপয়া, বিধবা স্ত্রীলোক, আটকুড়া, সাপ ইত্যাদি দেখা অমঙ্গলের চিহ্ন। যাত্রার সময় হোঁচট খাওয়া, প্যাঁচার ডাক শোনা, কাকের একটানা কা কা শব্দ শোনা, পেছন থেকে ডাক দেয়া ইত্যাদিও অমঙ্গলের চিহ্ন বা কাজে বাধা পড়ার লক্ষণ বলে মনে করা হয়। তারা মনে করে দিনে শিয়ালের ডাক ও রাতে কাকের ডাক দুর্ভিক্ষ ও মহমারী আনে। যাত্রার সময় ভরা কলসি, গর্ভবতী স্ত্রীলোক, ব্রাক্ষ্মণ, দুগ্ধবতী গাভী দেখাকে মঙ্গলের চিহ্ন ধরা হয়।

হাজংদের খেলাধুলা অনেকটা বাঙ্গালিদের লোকজ খেলার মতো। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কুৎকুৎ খেলা, পুতুল খেলা ও ধুলা-বালি দিয়ে বিভিন্নপ্রকারের খেলা খেলতে দেখা যায়। কিছু ভিন্নধর্মী খেলাও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংগিপাকা খেলা, গাংগে মাও লড়বড় খেলা, নাইরকল খেলা ও পাশা খেলা অন্যতম। পাশা খেলা ছাড়া বাকি সবই কিশোরিরা বেশি খেলে।

গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে হাজংরা গরু, ঘোড়া, ছাগল, মহিষ, কুকুর, বিড়াল, হাঁস, কবুতর, ময়না, টিয়া পালন করে। এরা হিন্দুদের মত গরুকে খুব ভক্তি করে।



পিতার সম্পদে মেয়ের অধিকার নেই

আবাসিক এলাকা ও সমাজ শাসনের সুবিধার্থে হাজংরা তাদের অঞ্চলকে চার ভাগে ভাগ করেছে। এগুলো হচ্ছে - পাড়া, গ্রাম, চাকলা বা জোয়ার ও পরগনা। পিতৃতান্ত্রিক হাজং সমাজে পিতার অবর্তমানে পুত্ররাই পিতার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়। কোনো পিতা কেবল অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে কন্যারা সম্পত্তি পাবে। এ সম্পত্তির মালিকানা পরে কন্যা ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। কিন্তু কন্যা না থাকলে পুত্ররা সম্পত্তির মালিক হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা হিন্দু সমাজের প্রচলিত নিয়ম অনুযয়ী বণ্টন হয়।



শিশুদের দেবতুল্য মনে করা হয়

হাজং সমাজে শিশু সন্তানকে দেবতুল্য মনে করা হয়। এজন্য গর্ভবতী নারীকে তারা যথেষ্ট সম্মান করে। প্রসববেদনা শুরুর সময় গর্ভবতীকে আলাদা ঘরে রাখা হয়। সে ঘরকে আতুরঘর বলা হয়। সন্তান প্রসবের পর প্রসূতীকে ১৩ দিন আতুরঘরে থাকতে হয়। এসময় আতুরঘরকে মন্ত্রপুত করে রাখা হয়। ঘরের চারদিকে কাটাযুক্ত গাছ অথবা গাছের ডাল, মাছ ধরার জাল ইত্যাদি দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়। ভেতরে সবসময় রাখা হয় অগ্নিকুন্ডলী। সকাল স্যায় অগ্নিকুন্ডলীতে ধুপ পোড়ানো হয়। তারা মনে করে কাঁটা, জাল, অগ্নিকুন্ডলী থাকলে কোনো অশুভ শক্তি আতুরঘরে ঢুকতে পারবে না। চার বছর বয়সের মধ্যে কোনো শিশুর মৃত্যু হলে মৃত শিশুকে গর্ত করে মাটির ভেতর নতুন কাপড় দিয়ে ঢেকে উত্তর দিকে মাথা দিয়ে শুইয়ে সমাহিত করা হয়। পাঁচ বছর বয়স থেকে প্রত্যেক নারী পুরুষকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সনাতন রীতিতে শ্মশানে নিয়ে চিতায় দাহ করা হয়।



বাংলাদেশের হাজং জনগোষ্ঠী একদিকে যেমন সহজ সরল ও আমদপ্রিয় তেমনি শৌর্য-বীর্যে অনন্য। জমিদারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল তারা। অংশ নিয়েছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধও বিস্ময়কর। বৈচিত্রময় জীবন যাপনের পাশাপাশি এসবই তাদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে। দুঃখজনক হলেও সত্য হাজংরা এখন বিভিন্ন সমস্যার কারণে হারিয়ে ফেলতে বসেছে তাদের স্বকীয়তা। অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এনজিওর ঋণে। অনেকে স্বচ্ছলতার জন্য নিজ ধর্ম ত্যাগ করে গ্রহণ করছে খ্রিস্টান ধর্ম। হাজং নারীরা চায় তাদের পিতার সম্পত্তিতে মালিকানার অধিকার। দারিদ্রতার আষ্টপৃষ্ঠ থেকে মুক্তির জন্য সরকারের একটু সহযোগিতা।



তথ্য সূত্রঃ জানিরা, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি, নেত্রকোণা; বাংলাদেশের হাজং সম্প্রদায় - আলী আহমদ খান আইয়োব; উপজাতিদের ইতিহাস ও জীবনধারা - মোঃ আয়নাল হক; বাংলাদেশের মঙ্গোলীয় আদিবাসী - মুস্তফা মজিদ সম্পাদিত; যায় যায় দিন; সরজমিন - দূর্গাপুর (নেত্রকোণা) ও শ্রীবর্দী (শেরপুর)।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১

কিরিটি রায় বলেছেন: ++

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.