![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হঠাৎ করেই ছােট ভাইয়ের পায়ের পাতা দুটোই দূর্বল হওয়া শুরু করে । আস্তে আস্তে পা থকে কােমর পর্যন্ত অবশ হয়ে যায় এবং হাত ও দূর্বল হওয়া শুরু করে। সাধারনত এভাবেই শুরু হয় গুলেন ব্যারী সিনড্রোম বা জি.বি.এস.।
যদি আপনার কােন আত্বীয় এই রােগে আক্রান্ত হয়, তাহলে ভয় পাওয়ার কােন কারন নেই। কেননা সময়মত ও সঠিক চিকিৎসায় এই রােগ সম্পুর্ণরুপে নির্মূল করা যায়।
গুলেন ব্যারী সিনড্রোম (জি.বি.এস.) কি ?:
জি.বি.এস. হল এমন একটি মারাত্বক রােগ যা শরীরের একাধিক স্নায়ুতে প্রদাহের ফলে মাংশপেশীকে দূর্বল করে ও ধীরে ধীরে বােধশক্তি কমিয়ে দেয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর ১ লক্ষ মানুষের মাঝে ৩ জন জি.বি.এস. রােগে আক্রান্ত হয়। যেকোন বয়সেই জি.বি.এস. হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ৩০-৩৫ বছর বয়সী এবং পুরুষদের এই রাগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এই রােগ কেন হয় ?:
যদিও এই রােগ আক্রান্ত হওয়ার সঠিক কােন কারন এখন পর্যন্ত জানা যায়নি তবুও নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে এই রােগের উৎস হিসেবে ভাবা হয়:
১. কিছু ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এই রােগ হতে পারে, যেমন- এইডস, হারপেস সিমপ্লেক্স, ম্যাগনিওক্লিওসিস ইত্যদি।
২. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে এই রােগ হতে পারে।
৩. অনেক সময় সার্জারীর পরও এই রােগ হতে পারে।
এই রােগের চিহ্নসমুহ:
খুব দ্রূত খারাপ অবস্থার দিকে যেতে পারে এই রােগ। কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিনের মাঝে রােগীর হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। দুর্বলতা সাধারনত পা থেকে শুরু হয় এবং দুইপা সমানভাবেই আক্রান্ত হয়। আস্তে আস্তে পুরো পা থেকে কােমর পর্যন্ত অবশ হয়ে যায় এবং হাতও আক্রান্ত হওয়া শুরু করে। যেসব চিহ্নসমুহ দেখে জি.বি.এস. রােগ চেনা যায় সেগুলোর কয়েকটি নিম্নে দেয়া হল:
১. দুই পা এমনকি অনেকসময় দুই হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়া।
২. হাত ও পায়ের বােধশক্তি কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া।
৩. মাংশপেশীতে ব্যাথা হওয়া।
৪. শরীরে স্বাভাবিক রিফ্লেক্স প্রক্রিয়া কমে যাওয়া।
যেসব অবস্থা দেখে বুঝবেন রােগটি মারাত্বক আকার ধারন করেছে:
১. শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়া।
২. দীর্ঘশ্বাস না নিতে পারা।
৩. হঠাৎ নিশ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৪. খাবার চিবাতে ও গিলতে সমস্যা হওয়া।
৫. মুখ দিয়ে লালা পড়া।
জি.বি.এস. রোগ নির্নয়ের উপায়:
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রােগীর রােগ বর্ণনা শুনে ও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে জি.বি.এস রােগ নির্নয় করে থাকেন। সাধারনত এই রোগের জন্য যেসব প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানো হয় সেগুলো হল:
১. সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড টেস্ট
২. ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
৩. ইলেকট্রোমায়োগ্রাফী
৪. নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি টেস্ট
৫. পালমোনারী ফাংশন টেস্ট
৬. রিফ্লেক্স টেস্ট
রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি:
জি.বি.এস. এর চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারী টিম একসাথে কাজ করতে হয়। এই টিমে থাকেন:
১. নিউরোলজিস্ট
২. জেনারেল ফিজিশিয়ান
৩. ফিজিওথেরাপিস্ট
৪. অকুপেশনাল থেরাপিস্ট
৫. রোগীর অভিভাবক
প্রাথমিকভাবে রােগ নির্নয়ের পর রােগীর স্নায়ুর প্রদাহ বন্ধ করার জন্য এবং পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও ভাইরাল ইনফেকশন বন্ধ করার জন্য ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু রােগীর মাংশপেশীর শক্তি বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঔষধ প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রূত ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা। সময়মত সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় এই রােগ সম্পূর্নরুপে নির্মূল করা যায়।
জি.বি.এস. এর চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা:
একজন নিওরোলজিকাল ফিজিওথেরাপিস্ট এসেসমেন্ট এর মাধ্যমে রােগীর রােগ নির্নয় করেন এবং তার শারীরিক সমস্যা খুঁজে বের করেন। এসব সমস্যা চিহ্নিতকরণসহ রোগীর পুনর্বাসন পরিকল্পনা করে থাকেন ফিজিওথেরাপিস্ট ।
একজন নিওরোলজিকাল ফিজিওথেরাপিস্ট যেসব সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকেন সেগুলো হল:
১. ব্যাথা কমাতে সাহায্য করা।
২. মাংশপেশীর শক্তি বৃদ্ধি করা।
৩. বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়ানোর ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা।
৪. বসা, দাঁড়ানো এবং হাঁটার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা।
৫. বসা বা দাড়াানো অবস্থার ব্যালেন্স বাড়াতে সাহায্য করা।
৬. রোগীকে সঠিকভাবে হাঁটা শেখানো।
৭. রোগীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা।
৮. হাঁটার জন্য সহায়ক উপকরন প্রেসক্রাইব করা
৯. রোগী ও রােগীর আত্বীয়স্বজনদের জি.বি.এস. এর পরবর্তী জটিলতা সম্পর্কে জানানো এবং এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় জানানো।
জি.বি.এস. আক্রান্ত রােগীর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা শুরু করা উচিত। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ই এই চিকিৎসা শুরু করতে হয়। একমাত্র সঠিক ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার মাধ্যমেই একজন জি.বি.এস. রােগীকে সঠিক পুনর্বাসন করে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব।
নুরজাহান আক্তার শাপলা
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিষ্ট,
সি. আর. পি.
সাভার, ঢাকা।
ই-মেইল: [email protected]
১৮ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:০০
ফিজিও৬৯ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:২১
শাহ আজিজ বলেছেন: সচেতনমূলক পোস্ট। সবাই খেয়াল করে চলবেন ।