| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শরয়ী আইনের উপযোগীতা
ইজহারুল ইসলাম
[বি.দ্র. আমাদের এই আলোচনা বেশ কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হবে। বিশেষভাবে হাদীসের প্রামাণিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।]
আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসূলের মাধ্যমে পৃথিবীতে শাশ্বত বিধান অবতীর্ণ করেছেন। নবী রাসূলগণ ঐশী বাণী প্রাপ্ত হয়ে মানুষকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্রষ্টার দাসত্বের প্রতি আহ্বান করে এবং ধসরণের অন্যায়, পাপাচার, জুলুম-নির্যাত ও গর্হিত কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। মানব সমাজকে ধ্বংস ও অবক্ষয় থেকে বাঁচিয়ে সুস্থ, সুন্দর ও স্থিতিশীল করতে তারা সর্বদা প্রয়াসী ছিলেন। সমাজ ও মানবতার শত্রু, সুবিধাভোগী শ্রেণী তাদের পাপাচার, জুলুম ও নির্যাতন ও সীমাহীন ভোগ-বিলাসিতাকে জিইয়ে রাখতে এই সত্য আহ্বানের বিরোধীতা করে। এটি একটি চিরন্তন সত্য বিষয়। নবীজী স. এর যুগে এই শ্রেণী রাসূল স. কে প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছে।
কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সত্য টিকে আছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। যুগে যুগে ইসলামকে ধ্বংসের জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছে। কিন্তু সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে, হাজার জুলুম-নির্যাতনের মুখে মুসলিম জাতি মাথা উঁচু করে তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে।
ইসলামের বিরুদ্ধে কুফুরী শক্তির এ ব্যর্থ চেষ্টা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা সাফ-এ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
يريدون ليطفئوا نور الله بأفواههم والله متم نوره ولو كره الكافرون
অর্থ: তারা আল্লাহর আলোকে তাদের মুখের ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার নুরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফেররা তা ঘৃণা করে।
সূরা সাফ, আয়াত নং৮
ইসলামের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসলাম মধ্যযুগীয়, বর্বর, সন্ত্রাসী, গোঁড়া ইত্যাদি বিকৃত বিশেষণ ব্যবহার করে তারা তাদের আক্রোশ প্রকাশ করে থাকে।বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষতার যুগে চৌদ্দশ বছরের ইসলাম অচল, ইত্যকার অভিযোগ তারা সর্বদাই করে থাকে। এগুলো হলো, ইসলামকে হেয় করার প্রকাশ্য কিছু পদ্ধতি। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ইসলামকে হেয় করার জন্য যুগে যুগে পবিত্র কুরআনের ভুল, কুরআনী আইন বর্বর, কুরআন বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক ইত্যাদি মিথ্যাচার করে থাকে।
কিন্তু পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে তাদের এই মিথ্যাচারের সর্বসাধারণের নিকট স্পষ্ট থাকায়, তারা এ পথে তেমন সফলকাম হতে পারেনি। ইসলামের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক এই আক্রমণের জন্য তারা কিছু অমুসলিম ও নামধারী মুসলিমকে ইসলাম নিয়ে গবেষণার পিছে লাগিয়েছে। এদের মূল কাজ ছিলো, বিভিন্ন মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনমনে ইসলামের বিরুদ্ধে সংশয় সৃষ্টি করা। এই শ্রেণী ওরিয়েন্টালিস্ট হিসেবে পরিচিত। আরবীতে এদরেকে মুসতাশরিক এবং বহুবচনে মুসতাশকিুন বলে। বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণের এদের মূল হাতিয়ার হলো ইসলামের উপর মিথ্যাচার। জ্ঞানপাপী এই শ্রেণীর ষড়যন্ত্র যুগে যুগে বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে।এদের সূচনা মূলত: ইহুদী জন্মা আব্দুল্লাহ বিন সাবার দ্বারা সূচনা হয়েছে। মন-মানসে সম্পূর্ণ ইহুদী থেকেও সে নিজেকে মুসলিম হিসেবে প্রকাশ করে মুসলমানদের মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
উপর্যুক্ত সূরা সাফের আয়াত অনুযায়ী বর্তমানেও কুফূরী শক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসলামকে আক্রমণ করে যাচ্ছে। একের পর এক নানা অজুহাতে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংস করে চলেছে।মুসলমানদেরকে নাম সর্বস্ব একটি জাতিতে পরিণত করতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলমানদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে তাদের সবকছিু ধ্বংস করেছে। এই শতাব্দীতে মুসলমানদের অস্তিত্বের লড়াই চলছে।
আমাদের প্রশ্ন হলো, ইসলাম এমন কি অপরাধ করেছে, যার কারণে সকলের আক্রমণের শিকার?
ইসলাম মানুষকে সত্যের আহ্বান করেছে, মানুষকে ন্যায়-ইনসাফের কথা বলেছে, অন্যায় থেকে বেঁচে থাকতে বলেছে, এটা এমনকি অপরাধ? হ্যাঁ, ইসলাম আপনাকে যথেচ্ছা যৌন নিপীড়ন ধর্ষণ থেকে নিষেধ করেছে, সেটা বুঝি আপনার রুচির বিরুদ্ধে গেছে বলেই ইসলামের বিরুদ্ধে এতো আক্রোশ?
এই পৃথিবীতে জাতি হিসেবে তো শুধু মুসলমানরা বসবাস করে না? তবে, ইসলাম কেন সকলের চোখের কাটা?
নীতি-নৈতিকতার কথা বললে এতটাই অপরাধ হয়,তবে আমরা কিভাবে বলব যে, আমরা মানুষের সমাজে বাস করছি।
অনেকের বক্তব্য হল ইসলাম প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা প্রদান করে নি এবং মানব অধিকারের আধুনিক ধ্যান-ধারণার সাথে তার মিলিয়ে চলতে অক্ষম।
এটি একটি ইসলাম সম্পর্কে অন্যতম প্রপাগান্ডা।প্রত্যেক মুসলিম এটা বিশ্বাস করে যে,ইসলামী আইন পূর্ণাঙ্গ এবং জীবনের প্রতিটি স্তরে সুসঙ্গতভাবে প্রযোজ্য।এবং সর্ব যুগে ,সর্ববস্থায় পৃথিবীর যে কোন প্রান্তো প্রযোজ্য।যে কোন যুগের যে কোন আবেদন ইসলাম পরিপূর্ণভাবে পালন করতে সক্ষম। স্বাধীনতা?পাঠক সমাজের কাছে প্রশ্ন করতে চাই,কোন স্বাধীন দেশের নাগরিকরাও স্বাধীন।তাদের এই স্বাধীনতার অর্থ কি? তারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক সুতরাং তারা স্বাধীনভাবে যা খুশি তাই করতে পারবে? হত্যা ,খুন ,লুণ্ঠন ,ধর্ষণ সব কিছুই করতে পারবে ?
তবে পৃথিবীতে এমন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বর্তমানে আছে,অতীতে ছিল বা ভবিষ্যতে থাকবে এমন কোন রেকর্ড মানব ইতিহাসে নেই। কেন নেই? তারা তো স্বাধীন?
হয়ত আপনি বলবেন ,স্বাধীন হওয়া অর্থ এই নয় যে যা খুশি তাই করবে, অন্য একজন স্বাধীন নাগরিকের অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে।স্বাধীন নাগরিকের স্বাধীনতা যদি এতটা উদার এবং শর্তহীন না হয় তবে আমরা কেন অন্যান্য ক্ষেত্রে শর্তহীন স্বাধীনতার কথা বলে মানুষ কে বিভ্রান্তা করার চেষ্টা করি । মুক্ত চিন্তাার স্বাধীনতা ,নারী স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে এসে আমরা এতটা উদার হয়ে পড়ি কেন?তাদের স্বাধীনতা কি একেবারে শর্তহীন। একজন চিন্তাাবিদ ,দার্শনিক ,লেখক যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারবেন? এক্ষেত্রে কেন আমরা অন্য একজন স্বাধীন নাগরিকের স্বাধীনতা কে খর্ব করার অধিকার আরেকজন কে অর্পন করছি।পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য এই যে তারা তাদের মতবাদ গুলো খুব আবেদনময় এবং মানবতার রক্ষা কবচ হিসাবে উপস্থাপন করে কিন্তা তাদের মতবাদের বাস্তবতাবড় করুণ।যেমন ধর”ণ পশ্চিমা বিশ্ব মানব প্রকৃতি (ঐঁসধহ ঘধঃঁৎব) কে শ্রদ্ধার কথা বলে .আর বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত যে মানব প্রকৃতি কে শ্রদ্ধা করা উচিৎ।কিন্তা তাদের এ মতবাদের ব্যখ্যাটা মজাদার ।যেহেতু মানব প্রকৃতির চাহিদা হল ,যৌন তৃপ্তি অর্জন করা আর এ জন্য তারা সমকামিতা কে বৈধ করেছে। তাদের ইচ্ছানুযায়ী সন্তাান নেওয়ার অধিকারটাও চমৎকার ।প্রথমে আপনা কে বোঝান হবে যে ,বেশি সন্তাান হলে মা ও শিশুর স্বাস্থ ভেঙ্গে পড়বে ,তাদের লালন পালনে সমস্যা হবে ।পৃথিবীতে জন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ,খাদের অভাব দেখা দিবে........
এ বিষয় গুলি স্পষ্ট ।কিন্তু এর পর আপনা কে বলবে এজন্য আপনা কে যথেচ্ছা সন্তাান নেওয়ার অধিকার থাকা কর্তব্য । আর এ জন্যই আপনি আপনার সন্তাানের জন্মের ৩০ সেকেন্ড পূর্বেই তাকে মেরে ফেলতে পারবেন!
যাই হোক ইসলাম স্বাধীনতার নামে সেই সমস্ত বর্বরতা কে কখনই সমর্থন কওে না যার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বস্তুবাদী সমাজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তো উপনীত।ইসলাম সেই স্বাধীনতা কে কখনই অনুমোদন করে না যার কারণে মানব সমাজ পশুত্বের স্তরে নেমে যাবে।যেমন একটা রাষ্ট্র তার প্রতিটি স্তরে ভারসাম্য রক্ষার জন্য হত্যা ,লুণ্ঠন,চুরি ,ধর্ষণ ,মাদক ইত্যাদির স্বাধীনতা প্রদান করে না।পশ্চিমা বিশ্বের সে সমস্ত রাষ্ট্রের বির”দ্ধে একই অভিযোগ করা উচিৎ ।কেন স্বাধীন নাগরিকের অধিকার হরণ করেছে ?
অমুসলিম এবং প্রাচ্যবিদদের আরেকটি প্রপাগান্ডা হল, ইসলাম আধুনিক যুগে অচল।ইসলাম আমাদের কে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চাই।মধ্যযুগের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি করতে চাই .......
এবার আসুন এ প্রশ্নের যথার্থতা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক ।
পৃথিবীতে বতমানে মানুষ আছে প্রায় সাড়ে ছয়শত থেকে সাত শত কোটি।(৬.৫-৭ বিলিওন) এর মধ্যে বিভিন্ন ধমের্ বিশ্বাস করে ৮৬% মানুষ।পৃথিবীতে প্রধান প্রধান ধর্ম হল,ইসলাম,খ্রিষ্টান ,ইহুদী ,হিন্দু বৌদ্ধ ইত্যাদি।এবার নিচের চার্টটি লক্ষ্য কর”ণ!
ধর্মের উৎপত্তি ও বর্তমান সংখ্যা।
খ্রিষ্টান যিশু খ্রিষ্টের জন্ম থেকে, বর্তমান সংখ্যা
বর্তমান সংখ্যা ১.৯-২.১ বিলিওন
ইসলাম ৬১০ খ্রিষ্টাব্দবর্তমান সংখ্যা ১.৫৭ বিলিওন
ইহুদী খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০০ বৎসর
বর্তমান সংখ্যা, ১৪ মিলিওন
হিন্দু খ্রিষ্টপূর্ব ১৭০০-১১০০(প্রায়)
বর্তমান সংখ্যা ৯০০ মিলিওন
বৌদ্ধ খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ বৎসর
বর্তমান সংখ্যা৩৬০ মিলিওন
প্রধান প্রধান ধর্মের উৎপত্তির দিকে তাকালে দেখা যাবে যে,সর্বাধুনিক এবং সর্বশেষ ধর্ম হল ইসলাম।ইহুদী,বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্ম যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ৫০০-১০০০ বৎসর পূর্বের ।একমাত্র ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে। সুতরাং পৃথিবীর অন্তাতঃ ৮৬% মানুষ কে মেনে নিতে হবে যে ইসলাম ধর্ম সর্বাধুনিক। বাকী ১৪% এর ১১.৯% অজ্ঞেয় বাদী (ধমহড়ংঃরপ) এবং কোন ধর্ম মেনে চলে না। অবশিষ্ট ২.৩% ধর্ম বিরোধী এবং নাস্তিক । আর যারা বস্তবাদ কে আকড়ে ধরে নিজেদের কে আধুনিক হিসাবে পেশ করার চেষ্টা করছে,বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ পাঠ করলে দেখা যায় এমন বিশ্বাস প্রাচীন মানুষদেরও ছিল।মদ খেয়ে মাতলামি আর রেপ কে যদি আধুনিকতা বলি ,তবে এ আধুনিকতা প্রাচীন কালের মানুষগুলো বর্তমানের চেয়ে ভালভাবে লালন পালন করেছে।তাদের হাজার বৎসরের মদ রাখার ঐতিহ্য ছিল।আর যদি নগ্নতা আর বেহায়াপনা কে আধুনিকতা বলি তবে প্রাচীন গুহাবাসী মানুষের পাথর খোদায়ের শিল্প এবং যুগে যুগে নগ্ন নারী –পুর”ষদের যেভাবে শৈল্পিক বিকাশ ঘটেছিল ,তা দেখে আজকের মানুষও হতবাক।সুতরাং বস্তবাদের মোহনীয় চক্রে ঘুরপাক খেয়ে আজকের মানুষ যতই সে আধুনিকতার দাবী করছে ,ততই সে জাহিলিয়্যাতের করাল গ্রাসে বন্দী হচ্ছে।আজকের সবচেয়ে আধুনিক,সবচেয়ে বড় নাস্তিক যে সমস্ত কথা বলে,যে আধুনিকতার দাবী করে তার প্রতিটি কথাÑবার্তা আপনি খুজে দেখুন ধর্মগ্রন্থগুলো বিশেষভাবে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিস্ময়ের ব্যপার হল ,ইসলাম মধ্যযুগের বর্বরতা এবং সেকেলে হলেও বর্তমান বিশ্বে ইসলামের জয়জয়কর।সারা বিশ্বে ইসলাম গ্রহণের
ইসলামের বাণী শাশ্বত ,চিরন্তান এবং সার্বজনীন।এটা যেমন বিশ্বের যে কোন প্রান্তো যে কোন জাতির জন্য সর্বযুগে সমভাবে প্রযোজ্য।এটা কোন নির্দিষ্ট গোত্র বা বংশের জন্য নয়।খ্রিষ্টানরা সার্বজনীনতার দাবী করলেও যিশু খ্রিষ্ট বলেছেন,
“I am not sent but unto the lost sheep of the house of
Israel.
“To these twelve, Jesus sent forth, and commanded
them, saying, go not into the way of the Gentiles, and
into any city of the Samaritans enter not. But go rather
to the lost sheep of the house of Israel
অথচ রাসূল (স) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বানী,
) و ما ارسلناك الا رحمة للعالمين (২১:১০৭
আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য তোমাকে রহমত স্বর”প প্রেরণ করেছি।
ইসলামী শরিয়াহ বা আইনের দুটি দিক রয়েছে,
ক্স যে সমস্ত বিধান বিশ্বাস এবং ইবাদাতের সাথে সম্পর্কিত ।যে গুলো কোন যুগেই পরিবর্তন হবে না।কোন স্থানের পরিবর্র্তনেও যে বিধানে কোন শিথিলতা আসে না ।যেমন, নামায ,যাকাত ,হজ্ব ইত্যাদি
ক্স যে সমস্ত বিধান ইসলামী আইন বা বিচার ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত।এ ক্ষেত্রে একজন মানুষ তার সমাজের সাথে,তার অধীনস্থ মানুষের সাথে কিভাবে আচরণ করবে তার স্বর”প বিশ্লেষণ করা হয়।এ সমস্ত বিধান যুগের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত-পরিবর্ধিত হতে পারে।এ পরিবর্তন পরিবর্ধন ইসলামী আইন শাস্ত্রে পারদর্শী ,কেবল তারাই ইসলামী শরিয়ার মৌলিক উদ্দেশ্য সুচারুর”পে বুঝে তার আলো কে সিদ্ধান্তা পেশ করবে।উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ,কুরআনে মৌলিকভাবে বলা হয়েছে شاورهم في الامر....وامرهم شورى بينهم
এখানে শুধু মূলনীতি বলা হয়েছে,আর রাসূল (সঃ) এর সুন্নাহ তে এর কিছু নির্দেশনা আছে।অতএব ইসলামী স্কোলারদের এ অধিকার আছে যে তারা ইসলামের গন্ডির ভিতর থেকে যে কোন যুগে ‘শুরা’র বিবিন্ন র”প দিতে পারবে।
সুতরাং ইসলাম কে সেকেলে বলার যৌক্তিকতা আপনারাই নির”পণ কর”ণ।
ক্স ২. দ্বিতীয় ভুল ধারণাঃ অনেক স্কোলার,বুদ্ধিজীবি এবং প্রাচ্যবিদদের প্রচারণা হল যে ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমদের কোন মর্যাদা ইসলাম প্রদান করে না।
ইসলাম সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞানের কারণে এ ধরনের ধারণার উৎপত্তি। নতুবা চৌদ্ধশত বৎসরের ইতিহাস সাক্ষী যে বিংশ শতাব্দী পযন্তকিভাবে ইসলাম তার শৌর্য-বীর্য বজায় রেখে চলেছে।আজকের উপমহাদেশের হিন্দুরা মুহাম্মদ বিন কাসেমের সেনা অভিযানের পর শেষ মুঘল সম্্রাটের পতন পর্যৗল্প মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল । আরব বিশ্ব কে মুসলিমরা চৌদ্দশত বৎসর ধরে শাসন করছে।আর আরবে ১৪ মিলিওন খ্রিষ্টান এমন রয়েছে যারা ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই আরব বিশ্বে বসবাস করে আসছে।চৌদ্দশত বৎসর ইসলামী শাসনের অধীনে তারা ছিল। স্পেনে মুসলিমরা ৮০০ বৎসর শাসন করেছে।এখন বলুন ইসলাম যদি অমুসলিমদের অধিকার খর্ব করে থাকে ,তাদের কে সঠিক মর্যাদা প্রদান না করে থাকে তাহলে তো ইতিহাস স্পেনের ইতিহাসের মত হত । আটশত বৎসর ইসলামী শাসনের পর ক্রসেডার এসে গোটা স্পেনে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ,একজন মুসলিম আযান দিয়ে নামায আদায় করার মত অবস্থা রাখে নি।সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও শাসনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।সুতরাং চৌদ্দশত বৎসরের ইতিহাস কখনও মিথ্যা হতে পারে ন।
ইসলাম কখনও অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে নি।মদিনা সনদে যেভাবে অমুসলিমদের কে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছিল এভাবে কিয়ামত পযন্তদেওয়া হবে।
পবিত্র কুরআনের ঘোষণা হল,
لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلوكم فى الدىن و لم يخرجوكم من دياركم ان تبرُّوهم و تقسطوا اليهم ،ان الله يحب المقسطىن (৬০:৮)
অর্থঃধর্মের ব্যপারে তোমাদের যারা তোমাদের বির”দ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদের কে দেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের কে নিষেধ করেন না ।নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালবাসেন।
পরের আয়াতে বলেছেনÑ
انما ينهاكم الله عن الذين قاتلوكم في الدين و اخرجوكم من دياركم و ظاهروا على اخراجكم ان تولوهم،ومن يتولهم فأولئك هم الظالمون
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা ধর্মের ব্যপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে,তোমাদের ঘর থেকে তোমাদের কে বহিস্কার করেছে অথবা বহিস্কার কার্যে সহায়তা করেছে।যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
সুতরাং মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে সাধারণ অবস্থায় অবশ্যই উত্তম আচরণ করতে হবে। কিন্তা কোন অমুসলিম যতি দেশ ও জাতির সাথে গাদ্দারি করার চেষ্টা করে ,নিরপরাধ মানুষের অধিকার খর্ব করে তবে অবশ্যই তাকে তার শাস্তি পেতে হবে। এ বিধান মুসলিম Ñঅমুসলিম সকল দেশেই সমান।
আর অমুসলিমদের সাথে যে কোন ধরণের বৈধ লেনÑদেন করা যাবে । চাই সে ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাস কর”ক কিংবা অমুসলিম রাষ্ট্রে ।একজন মুসলমান ইহুদী এবং খ্রিষ্টানদের খাবার খেতে পারবে [মূল খাদ্য যদি হালাল হয়] একজন মুসলিম আহলে কিতাব তথা ইহুদী এবং খ্রিষ্টান মেয়ে কে বিবাহ করতে পারবে।কুরআনের কারজয়ী বাণী,
اليوم أحللكم الطيبات ،و طعام الذين أوتوا الكتاب حل لكم و طعامكم حل لهم والمحصنات من المؤمنات والمحصنات من الذين أوتوالكتاب من قبلكم إذا آتيتموهن أجورهن محصنين غير مسافحين ولا متخذي اخدان
আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল।আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল।তোমাদের জন্যে হালাল,সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী,যাদের কে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছে;যখন তোমরা তাদের কে মোহরানা প্রদান কর তাদের কে স্ত্রী করার জন্যে,কাম-বাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্য নয়।
[চলবে]
দ্বিতীয় অংশ: ইসলামী দন্ড বিধি ও মানবাধিকার
২|
০২ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১২:০৮
পিয়াল আহমেদ বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
৩|
২০ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৩:২২
নিঝুম আখতার বলেছেন: শ্রমসাধ্য লেখা। ভাল লাগল। প্রিয়তে রাখলাম।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:৫০
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: সুন্দর তথ্যবহুল পোষ্ট
শুভকামনা