| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শরয়ী আইনের উপযোগীতা (পূর্বের পর)
ইসলামী দন্ড বিধি ও মানবাধিকারঃ
অনেকের দাবী হল ইসলামী দন্ডবিধি অমানবিক এবং বর্বর।এতে মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হয়।
আমরা জানি বিশ্বের সব সমাজে মারাত্বক মারাত্বক অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।আছে সুনির্দিষ্ট দন্ডবিধি।বিচারের আধুনিক সিস্টেমে অনেক রাষ্ট্র দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দীর রায় প্রদান করে থাকে।
কিন্তু বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা সমাজ বিজ্ঞানী এবং আইন বিশারদ মনে করেন যে,দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্দী রাখা যথার্থ শাস্তি নয় ,এবং যারা বাদী পক্ষ আছে তারাও একে যথেষ্ট মনে কওে না। তা ছাড়া যাবৎÑজীবন কারাবাস দেওয়র ফলে প্রাচীন সেই দাস প্রথা কে চালু করা হয়।বন্দী অবস্থায় অধিকাংশ বন্দীদের মানবাধিকার লংঘিত হয় । অনেকে তো যৌন হয়রানি সহ বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ইসলামী দন্ডবিধির প্রধান উদ্দেশ্য হলÑপ্রত্যেকের জন্য ন্যায় বিচারের বিধান এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা।সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রত্যেক সদস্যের নিরাপত্তার বিধান করা এবং সমাজ বিধ্বংসী সব ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ করা।
ইসলামে অপরাধ দু-শ্রেণীতে বিভক্ত,
১.সে সমস্ত অপরাধ ,যার শাস্তি সরাসরি ইসলামী শরীয়তে বর্ণিত হয়েছে।যেমন, হত্যা ,ধর্ষণ বা ব্যভিচার,ইসলাম ধর্ম ত্যাগ [রিদ্দা] ,ডাকাতি ,চুরি,মদ্যপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ ,কাউকে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া ইত্যাদি ।
২.যে সমস্ত অপরাধের শাস্তি ইসলামী শরীয়তে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বরং ইসলামী সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে । এ ধরণের শাস্তি কে বলা হয় তা’জীর বলে।
যে সমস্ত অপরাধের সুনির্র্দিষ্ট শাস্তি ইসলামী শরীয়তে আছে তাদের কে আবার দুÑশ্রেণীতে ভাগ করা যায়Ñ
১.যে অপরাধের শাস্তি অপরাধের স্বীকার ব্যক্তির (ারপঃরস) সাথে সংশ্লিষ্ট।যেমন Ñহত্যা,আঘাত,অপবাদ ইত্যাদি।
এ ধরণের শাস্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তি চাইলে অপরাধী কে মাফ করে দিতে কিংবা তার শাস্তি লঘু করতে পারে।অথবা সে রক্তমূল্য [নষড়ড়ফ সড়হবু دية-]
নিতে পারবে।
২.সে সমস্ত অপরাধ যার শাস্তির বিধান দেওয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আদেশÑনিষেধ লংঘণ করার কারণে।এ অপরাধের ব্যক্তির অধিকার সম্পৃক্ত থাকলেও ব্যক্তি চাইলে এ অপরাধের শাস্তি মাফ বা লঘু করতে পারবে না ।যেমনÑব্যভিচার ,চুরি ,নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ।যদি ইসলামী আদালতে একবার উত্থাপন করা হয় এবং সাক্ষ্যÑপ্রমাণের দ্বারা যথাযথভাবে তা প্রমাণিত হয় তবে তা বাতিল বা মাফ করার ক্ষমতা কারও থাকে না।
ইসলামী শরীয়তে দন্ডবিধি কার্যকর করা হয় ন্যায়Ñবিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে; বিশেষভাবে পাঁচটি মৌলিক জিনিস যখন চরমভাবে লংঘিত হয়।
[জীবন,আত্মা,ধর্ম,সম্মান এবং সম্পদ] এ সমস্ত শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম শর্ত হল, তা ইসলামী তথা কাযির সম্মুখে মামলা উত্থাপন করতে হবে ।দ্বিতীয়ত যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের দ্বারা তা প্রমাণিত হতে হবে।যদি সাক্ষ্য-প্রমাণে ন্যুনতম সন্দেহ ও থাকে তবুও শাস্তি বাতিল হয়ে যাবে।কেননা ইসলামী বিচারের ক্ষেত্রে প্রচলিত একটি নীতি হলÑ“হুদুদ তথা দন্ড বিধি বাতিল কর ,যদি সন্দেহ থাকে [দলিল-প্রমাণে]”
অতএব কোন ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্ত সমূহের কোন একটা না পাওয়া যায় তাহলে কোন ভাবেই দন্ড বিধি প্রয়োগ করা চলবে না । এগুলো সমষ্টিগত শর্ত ।সব ধরণের দন্ডবিধির ক্ষেত্রে এ সমস্ত শর্ত আছে কি না সতর্কতার সাথে তা যাচাই করতে হবে।সুতরাং সমষ্টিগত ভাবে মোট শর্তগুলো হলো,
১. শাসন বা সরকার ব্যবস্থা ইসলামী হতে হবে এবং মামলা ইসলামী আদালত তথা কাযীর সম্মূখে পেশ করতে হবে ।অতএব ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সমষ্টিগত ভাবে কোন সংগঠন হুদুদ বাস্তবায়নকরার অধিকার রাখে না।বর্তমান সমাজে মিডিয়াতে ইসলামের অবমাননার জন্য গ্রাম প্রধান ,পঞ্চায়েত প্রধান এর বিচার কে ফতোয়া হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে অমুকের ছেলে বা মেয়ে ফতোয়াবাজীর স্বীকার।কিন্তু আশ্বর্যের বিষয় হলÑ এ সমস্ত বিচার বা রায়ের সাথে না ইসলামের কোন সম্পর্ক আছে না ইসলামী দন্ডবিধির । কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রামের মওলবী সাহেব বা হুজুরের নাম উল্লেখ করা হয়।যাই হোক পুরা শাসন ব্যবস্থা যতক্ষণ সরকারী না হবে কিংবা সরকার অনুমোদিত ইসলামী বিচার ব্যবস্থা না থাকবে ততক্ষণ কোন ব্যক্তি বা সংগঠন হুদুদ কায়েম করতে পারবে না।
২.প্রত্যেকটা দন্ডবিধির সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং অবস্থা রয়েছে ।এ সমস্ত শর্ত পুংখানুপুংখ র”পে পালনের সাথে সাথে সাক্ষÑপ্রমাণে কোন সন্দেহ থাকতে পারবে না । যেমন-ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত হল চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক,বুদ্ধিসম্পন্ন পুর”ষের সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। এবং চারজন লোকই আদালতে বিশ্বস্থ হতে হবে।এবং তারা একই সাথে একই সময়ে সরাসরি যৌন মিলন প্রত্যক্ষ্য করতে হবে। এখন যদি এ শর্ত সমূহের কোন একটি না পাওয়া যায় তাহলে এ অভিযোগ অপরাধ বলে গণ্য হবে। অতঃপর যতদিন শাস্তি প্রয়োগ করা না হবে ততদিন ঐ চারজন তাদের সাক্ষের উপর অটল থাকবে।এর মধ্যে কোন একজন যদি সাক্ষ থেকে ফিরে আসে কিংবা তারা স্বীকার করে যে তাদের সাক্ষ্য মিথ্যা ছিল তাহলে তাদের কে অপবাদ দেওয়ার শাস্তি প্রদান করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের সাক্ষ আর গ্রহণ করা হবে না।আর যদি সাক্ষী তিনজন হয় কিংবা চারজনই সাক্ষ দিল কিন্তু তাদের চারজন একই সময়ে একই সাথে এ ঘটনা প্রত্যক্ষ্য না করে থাকে তবে তাদের কেও মিথ্যা অপবাদের শাস্তি প্রদান করা হবে। এ ধরণের কঠিন শর্ত পালন করে ব্যভিচারের দন্ডবিধি প্রয়োগ করা কতটা কঠিন তা সামান্য বুদ্ধিসম্পন্য ব্যক্তিও সহজে অনুধাবন করতে পারবে।
৩.প্রাপ্ত বয়স্ক
৪.বুদ্ধিসম্পন্ন [পাগল নয়]
৫.ঐ সময়ে তার উপর শাস্তি প্রয়োগের যোগ্য হতে হবে।যেমন Ñব্যভিচারের অভিযোগে কোন মহিলা কে যদি শাস্তি প্রদানের রায় প্রদান করা হয়ে থাকে তবে দেখতে হবে সে ঐ সময়ে শাস্তি প্রয়োগের যোগ্য কি না? যদি তার গর্ভে সন্তাান থাকে কিংবা তার উপর নির্ভরশীল দুগ্ধপোষ্য সন্তাান থাকে তবে তাকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত না হওয়া পযন্তশাস্তি প্রয়োগ করা হবে না ।
৬.কেও যদি নিজে তার অপরাধের সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে দেখতে হবে তার এ সাক্ষী স্বেচ্ছাপ্রণেদিত কি না ?কেও যদি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য থাকে ,যেমন বর্তমানে রিমান্ড বা নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় সে ক্ষেত্রেও দন্ডবিধি প্রযোজ্য হবে না।আবার কেও এখন স্বীকারোক্তি প্রদান করল কিন্তা পরবর্তীতে সে তার স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসল সে ক্ষেত্রেও কোন দন্ড বিধি প্রয়োগ করা হবে না।
এবার পাঠক সমাজ! একটু ভেবে দেখনুন! বিষয়টি কতটা সুক্ষ্ম এবং জটিল।কিন্তা যাদের কাজ হল ইসলামের সমালোচনা করা তারা শুধু আপনাকে বলবে ইসলাম এতটা বর্বর যে কেও যদি ব্যভিচার করে তবে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।কিংবা সিনেমা বানিয়ে আপনা কে দেখান হবে যে নির্দয় ভাবে কোন মেয়ে কে পাথর মেরে হত্যা করা হচ্ছে।
পৃথিবীর সব সমাজে কিছু কুলাঙ্গার থাকে।অপরাধ করাটা যাদের নেশা ।অনেকে আবার শখের বসে করে।এদের কে দর্শন বুঝিয়ে,সদুপদেশ দিয়ে কিংবা ইবাদাত খানার বাসিন্দা বানিয়ে দিলেও তাদের অপরাধ প্রবণতা দূর হয় না।মন্দির থেকে মূর্তি চুরির ঘটনা যেমন নতুন নয় তেমনি গীর্জা Ñমসজিদ থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরির ঘটনাও প্রায় ঘটে থাকে ।সুতরাং এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে ,কিছু লোক এমন আছে যারা শখের বসে খুন করে,ধর্ষণ করে।আবার কেও এ সমস্ত অপরাধ কে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে।পৃথিবীতে যতদিন মানুষ আছে ততদিন অপরাধ থাকবে । এখন যদি কেও অপরাধীদের প্রতি সদয় হয়ে বলল, যে তাদের নির্দয়ভাবে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে তার মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। এখন যদি তাকে কিছু দিন বন্দী রেখে কিংবা কিছু জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে সে যে ভাল হয়ে যাবে এর কোন নিশ্চয়তা আছে।অবশ্যই নেই ।আর এ ধরণের ঘটনা পৃথিবীতে খুবই কম।এ আলোচনা বোঝার আগে আমাদের কে বুঝতে হবে শাস্তি (عقوبة) কেন দেওয়া হয়?
প্রথমতঃ অপরাধ করার মাধ্যমে অপরাধী অন্য একজন নিরপরাধ মানুষের বিভিন্ন ধরণের অধিকার কে নষ্ট করে। হত্যার ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির বেঁচে থাকার যে অধিকার সে তা ছিনিয়ে নিয়েছে।কেও যদি কোন মহিলা কে ধর্ষণ করে তাহলে সে মহিলার ,মলিার স্বামীর এবং তার ছেলে সন্তাানদের অধিকার নষ্ট করেছে। সকল ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অন্যের মারাত্বক ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে সে তার অভ্যন্তারীণ পশুত্ব আছে তার চাহিদা পূরণ করছে। এখন সমাজ তাকে এ অপরাধের কারণে কেন শাস্তি দিবে?
১.তার অভ্যন্তারীণ পশুটা কে হয় শেষ করে দেওয়া কিংবা সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা ।
২.যারা এ অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের জন্য ন্যায়Ñবিচার প্রতিষ্ঠা করা
৩.ভবিষ্যতে কেও যেন এ ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত না হয় এর নিশ্চয়তা প্রদান করা।
সমাজে বসবাসরত মানুষের সবচেয়ে গুর”ত্বপূর্ণ বিষয় হল সর্ব ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা।এখন যদি কারও শাস্তির প্রতি মানবতা দেখিয়ে তার শাস্তি কে লঘু করি তাহলে এর অর্থ এই দাঁড়ায় ভবিষ্যতে সে কিংবা তার সমগোত্রীয় কেও নির্দয়ভাবে অন্যের বেচে থাকার অধিকার কেড়ে নেবে।তাদের নিরাপত্তা ছিনিয়ে নেবে।সুতরাং অপরাধী কে দয়া করার অর্থ হল মজলুমের প্রতি আরও জুলুম করা।
আমরা অপরাধের পরে এসে তার মানবাধিকার নিয়ে চিন্তাা করছি,কিন্তু এই চিন্তাা করি না যে,সে অন্য একজনের অধিকার কি নির্মমভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এখন যদি তার প্রতি দয়া করা হয়,তাহলে তাকে সমাজের আরও অনেক মানুষের নিরাপত্তা ছিনিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করে দেওয়া হল।আর যারা এখনও এ ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় নি তারা যেন ভবিষ্যতে তা করতে পারে তার নিরাপত্তা পূবেই প্রদান করা হল।অতএব আমরা যদি ব্যক্তি অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে এরকম হাজার মানুষের অধিকার লংঘনের ব্যবস্থা করে দেই তাহলে তাও যে মানবতার প্রতি নির্দয় আচরণ করা হবে তাতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়।
১৯৭৩ সালে Isaac Ehrlich একটি জরিপ করেন।এতে তিনি প্রত্যক্ষ করেন একজন কে মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে সাতজনের জীবন বেচেঁ যায়,কেননা অন্যরা মৃত্যুদন্ডের দেওয়ার কারণে আর হত্যা করতে উদ্দত হয় না। তিনি উপসংহারে বলেন,
"In light of these observations, one
cannot reject the hypothesis that punishment, in general, and execution, in
particular, exert a unique deterrent effect on potential murderers.
"
অর্থাৎ এ জরিপের আলোকে বলা যায় যে, সাধারণভাবে কেও অস্বীকার করতে পারবে না যে, যে কোন ধরণের শাস্তি এবং বিশেষভাবে মৃত্যুদন্ড প্রদান হত্যাকারীদের অন্তারে এমন একটি বিশেষ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে যা তাকে হত্যা থেকে বিরত রাখে।
The deterrent effect of capital punishment: A question of life or death," American Economic
Review June 1975, pp. 397-417
Fordham University এর প্রফেসর Ernest van den Haag বলেছেন
We threaten punishments in order to deter crime. We impose them not only to make the threats
credible but also as retribution (justice) for the crimes that were not deterred. Threats and
punishments are necessary to deter and deterrence is a sufficient practical justification for them.
Retribution is an independent moral justification. Although penalties can be unwise, repulsive, or
inappropriate, and those punished can be pitiable, in a sense the infliction of legal punishment on
a guilty person cannot be unjust. By committing the crime, the criminal volunteered to assume
the risk of receiving a legal punishment that he could have avoided by not committing the crime.
The punishment he suffers is the punishment he voluntarily risked suffering and, therefore, it is
no more unjust to him than any other event for which one knowingly volunteers to assume the
risk. Thus, the death penalty cannot be unjust to the guilty criminal.
অর্থাৎ আমরা অপরাধ রোধ করার জন্য শাস্তির বিধি জারি করেছি।আমরা শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শুধু প্রতিরোধ ব্যবস্থা কে সম্মানজনক করতে চাই না বরং সে সমস্ত অপরাধের উত্তম প্রতিকার (ন্যায় বিচার) যে গুলো করতে কোন ভয় পাওয়া হয় নি।কাউকে অপরাধ থেকে বিরত রাখতে শাস্তি এবং ভয় থাকা প্রয়োজন এবং এ ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ন্যায়-বিচারও বটে।প্রতিশোধ ও প্রতিকার একটি স্বাধীন নৈতিক বাস্তবতা।দন্ড বিদিগুলো ঘৃণ্য ,নির্দয়,এবং অসামঞ্জপূর্ণ হতে পারে,দন্ডবিধি যে ভোগ করছে তার উপর দয়ার উদ্রেক হতে পারে,তবে একজন উপর তার প্রাপ্য শাস্তি প্রয়োগটা অন্যায় হবে না।
একজন অপরাধী অপরাধ করে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই যথার্থ শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছে যা সে সহজেই উপেক্ষা করতে পারত এবং অপরাধে লিপ্ত না হওয়ার ক্ষমতাও তার ছিল।যে শাস্তি এখন সে ভোগ করছে ,তা ভোগ করার জন্য সে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুকি নিয়েছে।সুতরাং তাকে শাস্তি দেওয়াটা তার ইচ্ছাকৃত অপরাধ করার মাধ্যমে শাস্তির ঝুকি নেওয়ার চেয়ে বড় কিছু নয়।সুতরাং মৃত্যুদন্ড একজন অপরাধীর জন্য যথার্থ শাস্তি ।http://www.pbs.org/wgbh/pages/frontline/angel/procon/haagarticle.html
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে ,যে কোন অপরাধে অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।আর এ শাস্তির বিধান সব ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।শুধু মাত্র মৃত্যদন্ডই নয় ,ইসলামী শরীয়তের যে সমস্ত দন্ডবিধি আছে তার প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।
ইসলামে শাস্তি বোঝাতে দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়,
১. عقوبة(উকুবা) ২. عقاب ইকাব
১. عقوبة(উকুবা) অর্থ হল সেই শাস্তি যা শরীয়ত মানুষ কে আদেশ Ñনিষেধ লংঘন করার কারণে দেওয়া হয়। আর عقاب (ইকাব) হল
আযাব । যা পরকালের শাস্তিন সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অনেকে মনে করেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেÑ
۱. فحق عقاب (যথার্থ শাস্তি)
۲.شديد العقاب (কঠিন আযাব বা শাস্তি )
۳.و إن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به
۴.ومن عاقب بمثل ما عوقب به
এ আয়াত গুলোতে আযাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । উকুবা বা শাস্তির বিধান শরীয়তে দেওয়া হয়েছে ,
لمنع الناس من ارتكاب الجرائم
(মানুষকে অপরাধে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার জন্য) আর যদি সে অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে তার উপর সে শাস্তি প্রয়োগ করা হবে ,ফলে দ্বিতীয়বার সে আর ঐ অপরাধে লিপ্ত হবে না।এ জন্য বলা হয়ে থাকেÑ
إن العقوبات موانع قبل الفعل ،زواجر بعده
ইসলামে শাস্তির বিধান এতটা তাৎপর্যপূর্ণ যে ,অপরাধী কে তার অপরাধের শাস্তি ভোগ করতেই হবে ।কেননা অপরাধী স্বেচ্ছায় শাস্তি ভোগ করার ঝুকি নিয়েছে। চাই সে শাস্তি দুনিয়াতে হোক কিংবা পরকালে।এমনকি ইসলামী স্কোলার এবং আইনবিদগণ এ ব্যাপারে মতনৈক্য করেছেন যে ,একজন অপরাধী উপর দন্ডবিধি প্রয়োগ করার পর পরকালেও কি সে শাস্তি ভোগ করবে? কিছু কিছু আইনবিদ মনে করেন যে,দুনিয়াতে শাস্তির বিধান দেওয়ার কারণে সে পরকালের শাস্তি থেতে বেচে যাবে ।অর্থাৎ অপরাধের শাস্তি তার অপরাধের জন্য প্রতিকার ।আল্লামা সামারকান্দী বলেছেন
إن المسلم إذا حد او أقتص منه في الدنيا لا يحد ولا يقتص منه فى الآخرة،لقوله علىه الصلوة و السلام ( من أذنب ذنبا فعوقب به فى الدنىا لم يعاقب به فى الآخرة).
“ যখন কোন মুসলমানকে দুনিয়াতে দন্ডবিধি কিংবা তার থেকে কিসাস নেওয়া হয়, পরকালে তার থেকে কোন হদ্দ বা কিসাস নেওয়া হবে না।(পরকালে এর শাস্তি হবে ) কেননা রাসূল (সঃ) বলেছেন - যে ব্যক্তি কোন অপরাধ করল এবঙ তার শাস্তি তাকে দুনিয়াতে প্রদান করা হলো তাহলে পরকালে তাকে তার শাস্তি দেওয়া হবে না।”
وفى رواية عن عبادة بن الصامت قال:
(كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فى مجلس فقال:تبايعونى على ألا تشركوا بالله شيئا ولا تزنوا ولا تسرقوا ولا تقتلوا النفس التى حرم الله إلا بالحق؛ فمن وفى منكم فأجره على الله ،ومن أصاب شيئا من ذلك فعوقب به فى الدنيا فهو كفارة له.ومن أصاب شيئا من ذلك فستره الله عليه فأمره إلى الله إن شاء عفا عنه وإن شاء عذبه)
“হযরত উবাদা বিন সামেত রাঃ থেকে বর্র্ণিত তিনি বলেনÑ আমরা রাসূল (সঃ) এর মজলিশে বসা ছিলাম তিনি আমাদের কে বললেন, তোমরা আমার নিকট এ মর্মে বাইয়াত গ্রহণ কর যে, ্আল্লাহর সাথে শরীক করবে না , তোমরা ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না, এবং আল্লাহ তায়ালা যাদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, তাদের কে অন্যায় ভাবে হত্যা কর না। যে ব্যক্তি এ সমস্ত বিষয় পালন করল তার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা প্রদান করবেন।
আবার অনেকে মনে করেন ,হত্যার শাস্তি দুনিয়াতে প্রদান করলেও পরকালে তাকে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে।কেননা যাকে হত্যা করা হয়েছে,যার প্রতি জুলুম করা হয়েছে ,এতে তার তো কোন লাভ হচ্ছে না।আর হত্যার পরিবর্তে যে হত্যা করা হচ্ছে তা জীবিতদের উপকারের জন্যÑভবিষ্যতে কেও যেন এ ধরণের কাজে লিপ্ত না হয়।
সুতরাং পরকালেও তার শাস্তি হবে।তবে প্রসিদ্ধ কথা হল দন্ডবিধি প্রয়োগ করলে পরকালে তার শাস্তি হবে না।কেননা রাসূল (সঃ) বলেছেন,
((الحدود كفارات لأهلها))
“দন্ডবিধি তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত”।
ইসলামে মানব অধিকার বিষয়ে যে সমস্ত সসালোচনা সবচেয়ে বেশি হয় , তার মধ্যে একটি হলো ব্যভিচারের শাস্তি ।
ব্যভিচারের শাস্তি নিয়ে অনেকরে এলার্জি আছে। এই এলার্জি কেন সেটা স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এধরণের শাস্তি দিলে সিরিজ ধর্ষণে বাধা হবে, উলঙ্গ-পনা বেহাপনা, উদম নৃত্য ইত্যাদি করতে সমস্যা হবে? আমেরিকার মতো প্রতি মিনিটে ধর্ষণের সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাবে এজন্য বুঝি এতো হৈ চৈ? আমরা তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে বলবো, ভাই, আমরা মানুষের সমাজে বাস করি। নৈতিকতার দিক থেকে পশুর স্তরে নেমে গেলেও আকার-আকৃতিতে এখনও মানুষই দেখা যায়, সুতরাং এতো গোস্বার কি আছে? মানুষের সমাজে থাকলে একটু মানুষ হয়ে থাকুন না। আর যদি বলেন, হত্যার পন্থাটা বর্বর, তবে বলবো, বোমা মেরে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়া হত্যার খুব সভ্য পদ্ধতি? গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া, এসিড দিয়ে পুরো শরীর ঝলসে দেয়া, সালফিউরিক এসিড ঢেলে ভস্ম করে দেয়া, স্ট্রাপেডো পদ্ধতিতে উল্টো ঝুলিয়ে মারা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক পুতে গাছে ঝুলিয়ে রাখা এগুলো খুব সভ্য পদ্ধতি? আপনি তো এগুলোকে কখনও বর্বর বললেন না, তো পাথর খুব সাধারণ জিনিস হওয়ার কারণে একে বর্বর বলছেন? আপনি তো একদিনও সমালোচনা করলেন না যে, কাউকে আগুনে জ্বালিয়ে মারা যাবে না। আধুনিক যুগে যেসমস্ত পদ্ধতিতে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, সেটা বুঝি খুব সভ্য পদ্ধতি? আপনাদের সমস্যা হত্যার পদ্ধতি নিয়ে নয়, মূল সমস্যা ধষর্ণের শাস্তি নিয়ে। আপনার চান শাস্তি ছাড়া পান্না মাস্টারের মতো ১৫০ মেয়েকে ধর্ষণ করতে। ইসলাম আপনাদেরকে নিষেধ করে। একারণে ইসলাম বর্বর, মধ্যযুগীয়। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, ভাই ইসলাম আমাদেরকে মানুষ হতে বলেছে, মানুষের সমাজে বসবাস করতে বলেছে, কোন পশুর সমাজের জন্য ইসলাম না। আপনাদের পছন্দ না হলে, আপনারা গণ ধর্ষণ করে মেডিকেল ছাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দিবেন, সমকামীতাকে বৈধতা দিবেন, পান্না মাস্টারের আদর্শকে লালন করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। আপনারা চাইলে সানি লিওনের পোশাক আপনাদের মেয়ে-বোনদের পোশাক বানাবেন, কিন্তু ইসলাম কখনও এতটা নিচে নেমে গিয়ে আপনাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করবে না, এটা নিশ্চিত।
©somewhere in net ltd.