| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইসলাম সম্পর্কে চরম বিদ্বষের কিছু নমুনা:
একটা সত্য কথা হলো, ইসলাম নিয়ে যারা গবেষণা করেন, নিয়মতান্ত্রিক পড়া-লেখা করেন এবং ইসলামী বিষযে সমাধান প্রদান করেন, তারা সাধারণত ব্লগ ইত্যাদিতে লেখা-লেখি করেন না। এখানে ইসলামের শাস্ত্রীয় বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার মতো হাতে গোনা দু'একজনকে পাওয়া যাবে কি না, সন্দেহ। এখানে, কেউ যদি ইসলাম নিয়ে বিষোদগার করে, তবে দু'একজন নাস্তিকের বাহবা পাওয়া যাবে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে, কিন্তু প্রকৃত ইসলামের বিশেষ ক্ষতি তারা করতে পারবে না।একারণে ব্লগে বসে ইসলামের নামে মিথ্যাচার করে নিজেদেরকে আর কলুষিত করবেন না বলে আশা রাখি। আপনাদের নোংরা ভাষা, বিকৃত রুচিবোধ, উগ্র কথা-বার্তার কারণে সমগ্র বাঙ্গালি জাতি কলুষিত হয়েছে, আপনাদেরকে ধিক্কার জানিয়েছে, সেখানে আপনারা যদি সেই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে ইসলামের ক্ষতির চেয়ে নিজের পরিতাপটা বাড়াবেন। নাস্তিক হওয়ার সুবাদে এমনিতেই চরম হতাশার মাঝে ভুগছেন, উ্দ্দেশ্যহীন জীবন-যাপন করছেন, এরপর আবার পুরো জাতির কাছে ধিক্কার পেলে আপনাদের অসহায়ত্ব আরও প্রকট হয়ে আপনাদেরকে আরও অসুখী করবে।
জঘন্য মিথ্যাচারিতার মাধ্যমে এক ব্লগার ,ইসলামের হাদীস শাস্ত্রকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে। সর্বপ্রথম হাদীস শাস্ত্রের প্রতি তার মনোভাব তুলে ধরবো, এরপর কিভাবে সে মানুষকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করেছে সেগুলো বিশ্লেষণ করবো।
বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে ওরিয়েন্টালিস্ট গ্রুপ ইসলাম নিযে পড়া -লেখা করে ইসলামের নামে তাদের সুপ্ত আক্রোশের প্রকাশ হিসেবে চরম মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন বই প্রকাশ করেছে। এই বইগুলো ইংরেজী ও আরবীতে থাকায় বাংলা ভাষায় এসমস্ত মিথ্যাচারিতা এখনও অনুপ্রবেশ করেনি। ইংরেজী থেকে অনুবাদকৃত এই মিথ্যাচার গুলোর স্বরূপ বিশ্লেষণ করে বাজারে অসংখ্য কিতাব পাওয়া যাবে। ড. মুস্তফা সিবায়ী এদের বিরুদ্ধে সমুচিৎ জওয়াব দিয়ে আস-সুন্নাতু ও মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামী নামক কিতাব ১৯৪৯ সালে প্রকাশ মিশর থেকে প্রকাশ করেছেন। আরবী ও ইংরেজীর সাথে যাদের সম্পর্ক আছে, তাদের কাছে বিষয়টি নতুন নয়। কিন্তু একটা ছেলে যখন কোন ইসলাম বিদ্বেষী লেখকের মিথ্যাচারগুলো বাংলায় অনুবাদ করে ইসলামে প্রতি মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করতে চায়, তখন অনেক বাঙ্গালীর কাছে বিষয়টি নতুন মনে হতে পারে। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি, ইসলামের বিরুদ্ধে তথাকথি ইহুদী ও খ্রিষ্টান বুদ্ধিজীবীদের এ আক্রমণ নতুন নয় যে, এ নিয়ে খুব উৎসাহ দেখানোর কিছু আছে বলে মনে হয় না।
যেই বাঙ্গালী ইংরেজী থেকে অনুবাদ করে ব্লগে লিখছে, সে ইসলাম সম্পর্কে যথেষ্ট জানা তো দূরে থাক, হাদিস সম্পর্কে মৌলিক সংজ্ঞাগুলো জিজ্ঞেস করলেও বলতে পারবে না। নিজে চরম অজ্ঞতার মাঝে থেকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন থেকে সে অন্যকে কিসের আলো দেখাবে।
ইসলামের প্রতি তারা যে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়, এর মূল কারণগুলো হলো,
১. ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ইসলামী জ্ঞানার্জনের উৎসগুলো সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা।
২. কোন বিষয় যাচাই ও সমালোচনার করার পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং নিজস্ব অজ্ঞতাকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার মানসিকতা।
৩. তথাকথিত মুক্ত-চিন্তা ও স্বাধীনতার নামে নিজেকে প্রসিদ্ধ করার মতো নোংরা মানসিকতা।
৪. বিৃকত রুচি ও চিন্তার লালন-পালন করে অন্যের উপর সেগুলো প্রয়োগের চেষ্টা।
৫. ইসলামের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ঘৃণ্য পর্যায়ের বিদ্বেষ পোষণ করা।
আমাদের পরবর্তী আলোচনাগুলোতে এই পাঁচটি বিষয় পাঠকের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশা রাখি।
ইসলামের প্রতি চরম বিদ্বেষের নমুনা:
পরাগ মেহেদী নামের যেই ব্লগার হাদীস শাস্ত্র নিয়ে ব্লগে মিথ্যাচার করছে, হাদীসের প্রতি তার বিদ্বেষের কিছু নমুনা তুলে ধরছি। এতে পাঠকের সামনে স্পষ্ট হবে, সে কী উদ্দেশ্যে এগুলো করছে, এবং তার বিশ্লেষনে কতটা নিরপেক্ষ,
রাসূল স. এর অধিকাংশ হাদীস সম্পর্কে সে বলেছে,
অধিকাংশ হাদীস পায়খানার মতো। নাউযুবিল্লাহ। মানুষ কতটা বিকৃত মানসিকতার হলে এ ধরণের মন্তব্য করতে পারে? নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত, অন্ধকাচ্ছন্ন একটা মানুষ না কি এ জাতিকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করবে। হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। তার কমেন্টে দেখুন,
সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা রা. সম্পর্কে তার মনোভাব দেখে হতবাক। সে ব্যক্তিগতভাবে হযরত মুয়াবিয়াকে অপছন্দ করে এবং হযরত আবু হুরাইরাকে আরও বেশি অপছন্দ করে। তার কমেন্টে দেখুন,
পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তার মনোভাব লক্ষ করুন,
[ প্রথম কথা হচ্ছে কোরানের বর্তমান ইন্টারপ্রিটেশন খুবই হাদীস নির্ভর। হাদীসের প্রভাব বাদ দিলে কোরানের ইন্টারপ্রিটেশনে অনেক পরিবর্তন আসে। যেমন চোরের শাস্তি হাত কেটে ফেলা, বা বউ পেটানো বা পর্দা প্রথা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই আপনি ভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশন করতে পারেন। সেজন্য আপনাকে নতুন করে ভাষায় বিকৃতি ঘটাতে হবেনা, নতুন কিছু আমদানী করতে হবেনা এমনকি এর মাঝে কোন গোঁজামিলও থাকবেনা। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ভুলের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়, আমি প্রমাণ সহ দেখাতে পারব। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, কোরানের বিকৃতির বিষয়। সামগ্রিক ভাবে মুসলিম উম্মাহ কোরানকে আল্লাহ অবিকৃতভাবে সংরক্ষণ করবেন বলে বিশ্বাস করলেও এমন কথা আসলে কোরানে লিখা নাই। এ ব্যাপারটা আমার কাছে এখনো বিবেচনাধীন, অনেক গবেষণা, পড়াশুনা ও চিন্তার বিষয় আছে, আমি এখনো সময় করে উঠতে পারিনি। কিছু ওইতিহাসিক ফ্যাক্ট আর কিছু হাদীসও কোরান বিকৃতির ইঙ্গিত দেয়। তাই কোরানের যেসব ব্যাপার মোরালিটির সাথে যায়না সেগুলো আপাতত ইগনোর করি, তবে একসময় আপনাকে আমার নিজস্ব উত্তরটা দিতে পারব।]
একটি নির্ভুল, সর্বাধিক পঠিত ও প্রত্যেক যুগে যুগে হাজার হাজার লোক কর্তৃক মুখস্থ একটা গ্রন্থ পবিত্র আল-কুরআন সম্পর্কে যদি তার এই মনোভাব হয়, তবে হাদীস সম্পর্কে তার বিকৃত মানসিকতা কোন স্তরে পৌঁছেছে, পাঠকের নিকট অস্পষ্ট থাকার কথা নয়।
এখানে তার ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভারে কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো। আমি তার সকল পোস্ট পড়িনি, হাদীস সম্পর্কে তার লেখা পাচটি পোস্ট ও কমেন্ট পড়ে তার যে ভুলগুলো চোখে পড়েছে, সেগুলো ওয়ার্ড ফাইলে জমা করেছি, দশ পৃষ্ঠার বেশি হয়েছে। আস্তে আস্তে তার
মিথ্যাচারগুলো স্বরূপ উন্মোচন করা হবে।
[ লেখা বড় হয়ে যাচ্ছে। পরর্বতী পর্বে বিশদ আলোচনা করা হবে]
২|
০২ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:১০
একিউমেন০৮ বলেছেন: ভাল লিখেছেন। ++
৩|
০৩ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:৩৬
নিষ্কর্মা বলেছেন: সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। সমস্যা হচ্ছে আমন কিছু মৌদুদিপন্থী আছে, যারা খুবই চরমপন্থা ধরে সবাইকে গালাগাল করে। সেই জন্য ব্লগের পরিবেশ খারাপ থেকে আরো খারাপ হচ্ছে।
৪|
২৫ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ২:১৭
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন:
পরাগ মেহেদীর শব্দ ব্যবহারে যথেষ্ট সংযত হওয়া উচিত কিন্তু আপনি তো তার লেখার মূল পয়েন্টগুলাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন...আমরা যারা দ্বিধান্বিত তাদের জন্য হলেও আপনাদের সুস্থ বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করবেন আশা করি!! আর কোরআন সংকলনের ব্যাপারে ড: জাকির নায়েকের ভাষ্যকে খন্ডন
করবেন আশা করি!
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ৯:১৪
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: নাউযুবিল্লাহ মিন যালেক
এরা অমুসলিমের চাইতে খারাফ