| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
pixy6622
আমার মনে হয় আমিই একমাত্র মানুষ যে ঘৃণাকে ঘৃণা করে
আমি নিতান্তই সাধারণ একজন মানুষ। তবে সাধারণ এর মাঝে অসাধারণ কিছু করার কোনো ক্ষমতা লুকিয়ে আছে কি না তা এখন পর্যন্ত যানা যায়নি। মাঝে মাঝে ভাবি কোনো কিছু নিয়ে লেখা শুরু করব কিন্তু যখনই লিখতে বসি তখনই কোন আজানা জগতে যেন হাড়িয়ে যাই, লিখাটা আর হয়ে উঠে না। বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ—মনে উঠতেই কুমার বিশ্বজিৎ স্যার এর একটা গান এর কথা মনে পড়ে যায় “একদিন বাঙালী ছিলাম রে......” আসল কথা বলতে গেলে কোনো সময় নববর্ষ ঠিক মত পালন করার সুযোগ পাইনি। কিভাবে পালন করব? ওই যে প্রথমেই তো বললাম নিতান্তই সাধারণ একজন মানুষ। নিতান্ত সাধারণ একজন মানুষ বললে ভুল হবে নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ছেলে আমি। আমার কি ভুলে গেলে হবে আমার বাবা মা অনেক কষ্ট করে আমার জন্য। আমাকে নিয়ে তাদের অনেক আশা একদিন অনেক বড় হব আমি। আসলে আমার কথাগুলা আর কয়েকটা সাধারণ গল্পের সাথে মিলে যাচ্ছে কিন্তু মিলে গেলে কি করব? তার পরে ও যে আমাকে লিখতে হবে। কষ্টের কোনো কিছু লিখে পাঠককে কষ্ট দেবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নাই। পাঠক বললাম এই কারণে যে কেউ না কেউ তো আমার লেখাটা তা অবশ্যই পড়বে। যাই হোক পড়াশুনার ফাকে ফাকে সবাই অনেক মজা, ঘুরা-ফেরা, আড্ডা দেয়া ইত্যাদি করে থাকে কিন্তু আমি অন্য সকল সাধারণ গল্পের মতই সবার মত এত সুযোগ পাই না কারন আমার বাবা একজন হকার। হকারি করে রোজগার করে সংসার চালায় এবং সেখান থেকে কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে আমাকে দেয়।যাতে করে আমি ঠিক মত পরালেখা করতে পারি। কিন্তু অন্য সাধারণ গল্পের মত আমি এত মেধাবী ছাত্র ছিলাম না আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটা কলেজ থেকে হিঃ বিজ্ঞান এ অনার্স পড়ুয়া একজন সাধারণ ছাত্র। কিন্তু আমার বাবা মা এর কাছে এটাই সবচেয়ে বড় পড়ালেখার জায়গা। একটা মেছে থাকতাম ভাড়া প্রতি মাসে ১২০০ টাকা। টিউশুনি যে করব তা ও আমাকে দিয়ে কেউ পরাতে চায় না কারন আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ুয়া একজন ছাত্র তাই। যাই হোক অনেক মিথ্যা বলে একটা টিউশুনি জোগাড় করলাম। সম্মানি ছিল ৩০০০ টাকা। এটা পাবার পর বাসা থেকে টাকা নেয়া বন্ধ করে দিলাম বাসায় বললাম আমি একটা টিউশুনি পাইছি আপনাদের আর আমাকে টাকা পাঠাতে হবে না আপনারা নিজেদের দেখাশুনা ঠিক মত করেন। আমার জন্য কোনো চিন্তা করবেন না আমি ভাল আছি। ৩০০০ টাকা দিয়ে পুরো মাস চলা খুব কঠিন। যেহেতু হিঃ বিজ্ঞান এর ছাত্র ছিলাম বাইরের টিচার এর কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতে হত তার সম্মানি আবার মাসে ৫০০ টাকা। তাই আমি ঠিক করলাম প্রতিদিন দুপুরে খাব আর পড়াতে গেলে যে নাস্তা দিত তাতে আমার আর রাতে খাওয়া দরকার পরত না এতে করে ৩০০০ টাকা দিয়ে আমার পুরা মাস চলে যেতো। মাঝে মধ্যে আবার কোনো বন্ধুদের বাসায় অনেকটা ইচ্ছা করে চলে যেতাম দুপুরের আগে আগে এটা অবশ্য মাসের শেষের দিকে বেশি হত। আমার বেশ কয়েকটা ভাল বন্ধু ছিল। ছিল বললে ভুল হবে এখনো আছে। ওদেরকে আমি জিবনেও ভুলতে পারব না আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক উপকার করেছে। পহেলা বৈশাখ- একদিন বাঙ্গালী ছিলাম রে......... একদিন বাঙ্গালী হতে পারার গৌরব টা ও কম কিসের যদি কিনা সেটা আবার আমার মত হওয়া যায়? সচরাচর পহেলা বৈশাখে আমি সারাদিন মেছে থাকতাম কোথাও যেতাম না। হঠাত করে ২০১২ সালের পহেলা বৈশাখ এ আমার ২য় মা আমার মেছে এল আমার বন্ধুকে সঙ্গে করে। আমার ২য় মা এর কথা বলা হয় নি। আমার একটা ২য় মা আছে আমাদের কলেজের সামনে তার একটা ছোটো দোকান তার তার কোনো ছেলে মেয়ে নাই। আমি অবশ্য তার সাথে অনেক সুখদুঃখের কথা বলতাম তার কোনো ছেলে মেয়ে নাই তো তাই আমি তাকে মা বলে ডাকতাম। যাই হোক মা এসে আমাকে তার সাথে নিয়ে গেল তার বাসায় বাসায় গিয়ে ত আমি অবাক!!!!!!! আমার ২য় মা আমার জন্য তার কষ্টের কামানো টাকা দিয়ে একটা ভালো সুধু ভালো বললে অনেক ভুল হবে অনেক ভালো একটা পাঞ্জাবী কিনে এনেছে এবং আমার জন্য তার সাধ্যমত ভালো খাবার রান্না করেছে আমাকে নিয়ে খাবে বলে। তখন আমি এমন একটা মুহূর্তের মধ্যে ছিলাম যে অন্য কেউ এই রকম অবস্থায় না থাকলে বুঝতে পারবে না চোখের পানির কথা না হয় না ই বললাম এইটা পাঠক বুঝে নিবে। দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো। আমাকে অনেক কিছু করতে হবে। সদ্য মাত্র অনার্স শেষ করলাম এখন পর্যন্ত রেজাল্ট হয় নাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
২|
১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৪
pixy6622 বলেছেন: Thanks a lot ইফতেখার ভূইয়া vai
১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৫
pixy6622 বলেছেন: ধন্যবাদ ইফতেখার ভাই
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:০৯
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আপনার লিখা পড়ে চোখে পানি চলে আসলো। ঠিক কি বলবো বুঝতে পারছিনা। তবুও বলবো, মা তো মা-ই। শুধু গর্ভধারন যে মা করেন, সে আপনার জন্মদাত্রী সত্যি, কিন্তু যে মা আপনাকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছে সেই মা-ও আপনার মা। এই মা-এর মধ্যে কোন ভেদ নেই।
মন থেকে প্রার্থনা করছি, উপরওয়ালা আমার মঙ্গল করুন। আপনার রেজাল্ট অসাধারণ হোক। বাবা-মা সবাইকে নিয়ে আপনার জীবন আরো সুন্দর হোক, সবার স্বর্গীয় মমতা আর ভালোবাসায় জীবন পরিপূর্ণ হোক। অনেক অনেক শুভকামনা আর দোয়া রইল।