নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি একটা নেশার মত। বিভিন্ন ঘাট পেরিয়ে কর্পোরেট জগতে থিতু হওয়ার পরও তাই লিখে যাই যা মনে আসে তাই। পদ্মার ওপাড়ের মানুষ হওয়ায় জন্মগতভাবেই স্মৃতিকাতর। এ আমার দুর্বলতা নয়, অহংকার

পদ্ম পুকুর

একজন শভেনিস্ট ও স্মৃতিকাতর মানুষ

পদ্ম পুকুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

অতিদক্ষ কর্মী যেভাবে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে...

১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:২৩


মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে- এই লাইনের ভাবসম্প্রসারণ করাটা মোটামুটিভাবে সবার শিক্ষাজীবনে বাধ্যতামূলক ছিলো। এর মাধ্যমে কিশোর মনে ধারণা দেওয়া হয় যে আপতকালীন বিপদাপদে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বিপদ দীর্ঘস্থায়ী নয়। শীঘ্রই এ বিপদ শেষ হয়ে সুদিন আসবে। যেমনটা মেঘের আড়াল থেকে সূর্য এসে সবকিছু আলোকিত করে দেয়।

কিন্তু সূর্যের উপস্থিতি সবসময় ইতিবাচক হয় না। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়। সেখানে কিছু কর্মী সূর্যের মত বিরাজ করে এবং একটা সময় তারাই প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দৃশ্যমান হয়।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে যখন নতুন একটা ব্যাচ রিক্রুট করা হয়, তখন ওই ব্যাচের শতকরা ২০ থেকে ৩০জন হয় ইফিশিয়েন্ট, মোটামুটি ৫০ থেকে ৬০জন হয় গড়পড়তা আর ১০ থেকে ১৫জন হয় বিলো অ্যাভারেজ। বাকি ৫জন বা তার থেকে কম শতাংশ হয় হাইলি এফিশিয়েন্ট বা অতিদক্ষ। বলা ভালো দক্ষ এবং অতি উৎসাহী।

সাধারণভাবে এই অতিদক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাসেট হিসেবে কদর পায়। এরা খুবই দ্রুত কাজ শিখে নিতে পারে এবং প্রথমদিকে নিজের দক্ষতা প্রমাণে যেকোনো কাজেই লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে নাক বাড়িয়ে দেয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানও আস্তে আস্তে তাদের উপরে নির্ভরশীল হতে থাকে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপরে দায়িত্বও বাড়তে থাকে। এ ক্ষেত্রে সকল প্রতিষ্ঠানের উর্ব্ধতন কর্তাদের একটা অমীয় বাণী আছে ‘তোমার বস তোমাকে বেশি কাজ দেয়, তার মানে এই না যে তোমার বস তোমাকে অপছন্দ করে, বরং তোমাকে কাজ দিয়ে ভরসা পায়, তোমার উপরে নির্ভর করে’....। প্রথম প্রথম এ কথা শুনে সে গর্বিত হয় এবং সে গর্বই এক সময় তাকে ‘হনু’তে রূপান্তরিত করে।

এই ‘হনু’ হওয়াটাই শেষ বিচারে প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর দু’ধারি তলোয়ার হয়ে দাড়ায়। একদিকে যেহেতু সকল দায়িত্ব এই গুটি কয়েকের উপরে বর্তাতে থাকে, সেহেতু অন্য সহকর্মীরা, যারা একটু ধীরে শেখে বা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অতি উৎসাহী নয়, তারা কাজের সুযোগ পায় কম, ফলে শেখার সুযোগও কমতে থাকে। যার দরুণ আস্তে আস্তে সে আইসোলেটেড হয়ে অকার্যকর কর্মীতে পরিণত হয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য বার্ডেন হয়ে দাঁড়ায়। আবার এই অতি উৎসাহী শ্রেণি যেহেতু কাজে ভালো হয়, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য-অপ্রাপ্য বিভিন্ন সুবিধাও তারা পেতে থাকে। ফলে অন্যরা তাকে ঈর্ষা করতে শুরু করে এবং নিজের অক্ষমতা ঢেকে একই রকম গুরুত্ব ও সুবিধা পাওয়ার জন্য উর্ব্ধতন কর্তাদের তোষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সোজা বাংলায় যাকে ‘তেল দেওয়া’ বলে। অন্যদিকে, নিজেদের অতি আত্মবিশ্বাসের ফলে এই লোকেরা টিম তৈরীতে আগ্রহী হয় না এবং নতুন কোনো আইডিয়া গ্রহণে বা অন্যকে প্রাপ্য প্রশংসা দিতে অনুদার হয়ে থাকে। এ সব কারণে প্রতিষ্ঠানের এন্টায়ার পরিবেশ নষ্ট হয়।

সবচেয়ে ক্ষতিকর হয় যখন কোনো কারণে প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কর্মীর অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়ে পড়ে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক পারফর্মেন্সের ফলে এ সব যায়গায় প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ের চেয়ে ব্যক্তি-ব্র্যান্ডিং জোরালো হয় এবং নির্দিষ্ট বিভাগে ‘সেকেন্ড লাইন কমান্ড’ তৈরী হয় না। ফলে ওই কর্মীর অনুপস্থিতিতে ওই বিভাগে যে ধ্বস সৃষ্টি হয়, তা সামলাতে বেশ সময় লেগে যায়। যার ফলে প্রতিষ্ঠানকে সাফার করতে হয়।


আমার বাবা-মা দুজনেই সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন। এ কারণেই কিনা জানিনা, কিন্তু কর্মজীবন শুরুর কাছাকাছি আসার সময় থেকেই আমার একটা চিন্তা ছিলো যে প্রচলিত নয়টা-পাঁচটা অফিসের চাকুরী করবো না। সে লক্ষে এগিয়েও গিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় থেকেই একটা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় অপ্রচলিত কর্মসময়ভিত্তিক কাজে জড়িয়ে গিয়েছিলাম যেটা দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বাড়তে বাড়তে আমার মাস্টার্স শেষ হওয়ার সাথে সাথে পূর্ণকালীন হয়েও গিয়েছিলো।

কিন্তু আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় এনে বছর দুয়েক পর ওই সংস্থা ছেড়ে দিয়ে প্রচলিত এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ‘সভ্য’ হলাম। আমার কাজ করা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় উপরে বর্ণিত এক্স-ফ্যাক্টরগুলো কার্যকর ছিলো না, আমি অন্তত দেখিনি। সে হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবনের আগে আমার এ বিষয়ে খুব একটা ধারণা ছিলো না। আমিও খুব সুন্দর মত ভেবেছিলাম- আগামী দশ বছরে এই প্রতিষ্ঠানে আমি এই করবো, সেই করবো, আমিও এক ‘হনু’ হব...।

কিন্তু এই দশবছরে দেখলাম আমি আসলে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে ‘বিলো অ্যাভারেজ’ এর চেয়েও নিম্নমানের। বর্তমান কর্পোরেট সংস্কৃতিতে ‘তোষণনীতি’ই যে মূলনীতি সেটা আমি বুঝতে চাই না কোনোভাবেই।

এরকম এক কর্পোরেট অফিসের ফ্লোর ম্যানেজার প্রত্যেকদিন সকালে কাজ শুরুর আগে ফ্লোরের সবাইকে ডেকে একটা কৌতুক বলেন। তার উদ্দেশ্যটা সুন্দর- সবাই যেনো হাসিখুশিভাবে অফিসের দিনটা শুরু করে। যেহেতু তিনি ফ্লোর ম্যানেজার, সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী বাকি সবাই তাঁর অখাদ্য কৌতুক শুনেও হেসে এ-ওর গায়ে গড়িয়ে পড়ে।
এমনই একদিন ফজলু হাসছে না দেখে বজলু কনুই দিয়ে চোখা একটা খোচা দিয়ে বললো, কি রে হাসছিস না যে?
বজলু গম্ভীর গলায় বললো- আমার আর হাসা লাগবে না, আমি অন্য সেকশনে ট্রান্সফার হয়ে গেছি!!

এটা একটা কৌতুক। আমার সমস্যা হলো, বদলী না হলেও এ রকম ক্ষেত্রে আমার হাসিতো আসেই না, উল্টে এইসব ছ্যাবলামি দেখে রাগে শরীর কিড়কিড় করে। চোখেমুখে তা প্রকাশও পেয়ে যায়। ফলাফলও হাতেনাতেই দেখছি। গত দশবছরে দুইবার ফ্লোর আর একবার ভবন বদলালেও চেয়ার সেই আগেরটাই রয়ে গেছে!!!

এইটা আমার চাকুরির দশবছরপুর্তি পোস্ট। গত কয়েকদিনের ধারা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস ব্যতিরেকে অন্যকিছুর উপরে পোস্ট দেওয়া মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে ইন্টারন্যাশনাল ব্লগার্স ফাউন্ডেশন ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু কি করবো, আমি তো যেখানে হাসতে হয়, সেখানে হাসতে পারি না।

এখন চাকরগীরির দশবছর পুর্তি উপলক্ষে সবাই আমাকে মিষ্টি পাঠান।

ছবি কৃতজ্ঞতা: যতারীতি ইন্টারনেট।

মন্তব্য ৩৯ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৫৩

একাল-সেকাল বলেছেন:
ছ্যাবলামি সহ্য করতে পারিনা বলে ক্যালেন্ডার পালটালেও চেয়ার আগেরটাই রয়ে যায়। অতীব বাস্তব।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন-
শুধু জীবনের কথা বলাই জীবন-

বাস্তবতা মেনে নেওয়াটাও জীবন।।

২| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০৪

নীল আকাশ বলেছেন:
নিন মিষ্টি খান। ডায়াবেটিস থাকলে কিন্তু আমার দোষ নেই।
এখন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিতে পারফোরমেন্স বলে কিছু নেই।
মামা চাচা জায়গা মতো না থাকলে এখন কিছু হয় না।
তার উপর আছে পলিটিক্যাল লিঙ্ক।
কৈ যাবেন আপনি?

১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৪

পদ্ম পুকুর বলেছেন: কৈ যাবেন আপনি?
ও গানওয়ালা, আরেকটা গান গাও
আমার কোথাও যাবার নেই....

মিষ্টির জন্য ধন্যবাদ। দেখে লোভ সামলাতে পারছি না।
যদিও আমার ডায়াবেটিস নেই, তবে ইউরিক এসিড বেড়ে গেছে...

৩| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: আপনাকে অভিনন্দন!
দশ বছর লম্বা সময়। বিশেষ করে আবার একই প্রতিষ্ঠানে।
সহকর্মী ভালো না হলে জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়ে। আবার সহকর্মী ভালো হলে চাকরি আনন্দময় হয়ে যায়।

মিষ্টি ফিস্টি ভালো লাগে না।
এক নম্বরেই তো ফখরুদ্দিন আছে।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনিতো আসলেনই না, আমি কিন্তু সিরিয়াস।

নেন, আপনার জন্যও একটা গান
তুমি আসবে বলে তাই
আমি স্বপ্ন দেখে যাই...

৪| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: আমি আসবো।
তবে হুট করে এসে আপনাকে বিপদে ফেলব না।
ফোন দিয়ে আসবো।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:০২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: সবসময়েই স্বাগতম।

৫| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৪৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ভাইরে ভাইরাস ভাইরাস আর ভালো লাগে না। মন ভালো করা এবং মজার পোষ্ট দিন। অভিনন্দন আপনাকে।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:০৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এই লেখাটা কিন্তু ভাইরাসজনিত নয়!

৬| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: কর্মজীবনের দশ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন, শুভকামনা আগামী দিনের জন্য...

মিষ্টি আনা সম্ভব হলো। :(

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:০৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ স্যার।

৭| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:০৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:






ঢাকা শহরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে মিষ্টির দোকান ও ৩০০ ফিট হয়ে পূর্বাচল বাজারে এই মিষ্টি পাবেন এক একটি মিষ্টি এক কিলোগ্রাম ওজন তাই হয়তো নাম বালিশ মিষ্টি। তবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পাওয়া মিষ্টি বেষ্ট। আশাকরি আপনি তৃপ্তি সহকারে মিষ্টি খেতে পারবেন। তাছাড়া বাংলাদেশে যে অঞ্চলে বালিশ মিষ্টি পাওয়া যায়: ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল। যদিও নেত্রকোনা বালিশ মিষ্টির জন্য প্রসিদ্ধ কিন্তু বিখ্যাত হচ্ছে টাঙ্গাইলের জয়কালী।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:১১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: বাহ, এই না হলে আদর্শ ব্লগার! মিস্টি একটা দিয়েছেন, সাথে আবার তার আদ্যপান্ত ইতিহাসও জানিয়ে দিলেন। অসংখ্য ধন্যবাদ দুটোর জন্যই। কদিন আগে অফিসের একজন টাঙ্গাইল থেকে এই মিষ্টি এনে দিয়েছিলো, আসলেই আলাদারকম স্বাদ আছে।

৮| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৪০

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আপনার দশ বছর চাকুরীর বয়স অভিনন্দন আপনাকে আর চাকুরীর বয়স হবে ১৭ মে তারিখে ১৯ বছর এই পর্যন্ত যা দেখলাম যা শিখলাম ...বলতে তো অনেক কিছু মন চায় কিন্তু বলতে গেলেই বিপদ। তাই আর বললাম না

লেখা ভালো লাগলো

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৫২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এই যে বলতে তো অনেক কিছু মন চায় কিন্তু বলতে গেলেই বিপদ। তাই আর বললাম না এই পরিস্থিতিই আমাদের উন্নয়নের একটা বড় অন্তরায়। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা জাতীয়, সকল পর্যায়েই।

মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

৯| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯

হাসান রাজু বলেছেন: চাকরি সুইচ করেছি ২০১৭ তে। গত বছর বেতন বাড়ল। যা বেড়েছে তা দেখে রাগে দুঃখে মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড়। ততদিনে জেনে গিয়েছিলাম ইনক্রিমেন্টের পর মালিক/বসের কাছে গিয়ে গ্যান গ্যান করলে বেতন বাড়ে। এতে মালিক বুঝাতে পারেন উনি খুব দয়ালু । ছুটি বা অন্যান্য আবদারের সময় এই বাড়তি টাকার রেফারেন্স দিতে সুবিধা হবে উনার। এবং আগামি বছর সেই একই হারে বেতন বাড়ানো টা হালাল করে নেয়া।
আমি দুঃখে সব হজম করে গো ধরে বসে রইলাম। তা ও উনার কাছে গেলাম না। বিভিন্ন দিকে ট্রাই করলাম নতুন চাকরীর জন্য। কেউ চাকরি দেয় না। প্রথমত সিনিয়র পোস্ট খালি নাই। দ্বিতীয়ত এতো এতো চাকরি বদল কারো পছন্দ না কারো ।

আগামী মাসে আবার ইনক্রিমেন্ট । আমি জানি কি হবে। আমি এ ও জানি আমাকে চাকরি বদলাতেই হবে। আমি আদর্শ চাকরিজীবী নই।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এক অসুস্থ পরিবেশ তৈরী হয়েছে চারিদিকে। যোগ্যতার চেয়ে যোগাযোগ, মেধার চেয়ে মেকানিজম বেশি কাজে দিচ্ছে আজকাল।

১০| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: সবসময়েই স্বাগতম।

ওকে।

১১| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৯:১০

শের শায়রী বলেছেন: মিষ্টির কাল বোধ হয় উইঠাই গেল ভাই, আমি নিজে মিষ্টির পোকা তবে এখন আর আগের মত খাই না। এখন মাস্কের যুগ। :) অভিনন্দন ভ্রাতা এক দশকের।

১৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:২৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ঠিকাছে, মাস্কই পাঠান কিছু :-B

১২| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৪৪

টারজান০০০০৭ বলেছেন: দশ বছর পূর্তিতে শুভেচ্ছা ! তবে দলবাজি , তৈলবাজিরে হ্যা বলিতে শিখুন ! ইহাও একপ্রকার যোগ্যতা বটে ! আমাদের ডিগ্রীগুলোতে ইহা কোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাই !

১৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:২৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: যার ৯-এ হয় না, তার ৯০-এ ও হয় না.... :``>>

১৩| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১২:৩০

সন্ধ্যা প্রদীপ বলেছেন: কথা সত্য।এইসকল অতিউৎসাহীরা আবার অন্যদের তেলাপোকাসম মনে করে--

১৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৩১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি- তারা দ্রুত পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসাতে সবাই তাদেরকে ফলো করে, তার বিরুদ্ধে একধরনের ফুসফাস, ঘুসঘাস চলতে থাকে। এতে করে তার পতনও হুটহাট হয়ে যায়....

গুরু নানক বলেছেন- ওহে নানক, তুমি ঘাসের মত নত হও। প্রচণ্ড ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে যায়, কিন্তু ঘাসের কিছূই হয় না।
আবার প্রবাদে তো আছেই- অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে........ এই ভরসাতেই আছি আরকি।
মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

১৪| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৩:৫৮

সোহানী বলেছেন: এক দশকে শুভেচ্ছা। অসুবিধা নেই, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও করোনা পোস্টেও মাঝে মাঝে শিথিলতা দরকার ;)

চমৎকার একটি বিষয়। চাকরীজিবীদের জন্য অবশ্যই পাঠ্য।

১৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: অবশ্যপাঠ্য বানিয়ে দেনতো। অনেকদিন ধরে হাতে টাকা পয়সা কম। কিছু রয়ালটি পেলে সামুব্লগেও দিতাম :-B

১৫| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: একটা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তার প্রথম কাজ হলো এটা নিশ্চিত করা যে, সবাই নিজ নিজ কাজে পারদর্শী হচ্ছে এবং দক্ষতা অর্জন করছে। অন্যদিকে, এটাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, None is growing indispensable, এবং এটাও সত্য যে, None is ever indispensable. আমি যত দক্ষই হই না কেন বা যত বড়ো চ্যাম্পিয়নই হই না কেন, আজ করোনা আমাকে খেয়ে ফেললে আমার প্রতিষ্ঠান থেমে থাকবে না, হয়ত সাময়িক ঝুঁকিতে পড়বে, বাট অল্পকাল পরেই আমার জায়গায় আরেকজন গড়ে উঠবে এবং আমার দায়িত্ব সামলাতে থাকবে। কাজেই, কোনো ব্যক্তি যদি indispensable হয়ে যানও, তাকে এই কথাটা মাথায় রেখেই ধৈর্য, বিনয় আর নিঃসার্থ ও নিরহঙ্কার ভাবে নিজ কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

চাকরিক্ষেত্রে এত অনিয়ম আর দুর্নীতি ঢুকে গেছে যে, চাটুকারিতা, তৈলমর্দন ইত্যাদিও চাকরির অংশে পরিণত হয়ে গেছে। যাবেন কোথায়? আপনি কোনো বসকে যদি হঠাৎ এসব অপছন্দ করতে দেখেন, দেখবেন, তিনি ক্রমেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ, অধঃস্তনরা তাকে কো-অপারেট করবে না।

মূল পোস্টের সাথে আমার কমেন্ট গেল কিনা বুঝতে পারছি না, তবে শেষ করছি আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে। একসময়ে আমিও সময় গুনতাম কবে আমার ১০ বছর চাকরি পুরা হবে। আপনার ১০ বছরের কথা শুনে নিজেরটা হিসাব করে চমকে উঠলাম- আমি ৩৩ বছর ২ মাস ২৪ দিন ধরে চাকরি করছি !!!!!!! কীভাবে পারলাম? --- আমার ধৈর্য অনেক বেশি, সেজন্য পেরেছি। আর আমার শরীরে শক্তি আছে, প্রচণ্ড জেদ আছে (যা মাঝে মাঝে আমার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে) কাজের প্রতি, এবং আমি আমার নিজের কাছেই indispensable হওয়ায় আমি এটা পেরেছি :)

অভিনন্দন রইল। সাফল্য কামনা করছি।

১৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৪৯

পদ্ম পুকুর বলেছেন: মূল পোস্টের সাথে আমার কমেন্ট গেল কিনা......
আপনার মন্তব্যটাই মূল কন্টেন্টের সাথে যাওয়া একমাত্র মন্তব্য বলে মনে হচ্ছে।
এখনকার সময়ে প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তার প্রথম কাজই হলো উর্ব্ধতনের কথা ও কাজে সায় দিয়ে যাওয়া। এবং এর মাধ্যমে নিজের পদোন্নতি/সুবিধাগুলো বাগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি অধ্বস্তনরা যেনো তার থেকে বেশি গুরুত্ব কোনোভাবেই না পান, সেটা নিশ্চিত করাও একটা প্রাইম ডিউটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। এখন এরা বস হতে চায়, লিডার নয়।

একথা অবশ্যই সত্য যে প্রকৃতি শূন্যস্থান দ্রুতই পূরণ করে ফেলে যেহেতু None is ever indispensable. তবুও কেউ কেউ very close to indispensable হয়ে যায়, তখন তার অনুপস্থিতি অনুভূত হয় কিছুদিন পর্যন্ত। কারণ সে তার সেকন্ড লাইন অব কমান্ড সৃষ্টি হতে দেয় না। আর কোনো ব্যক্তি যদি indispensable হয়ে যানও, তাকে এই কথাটা মাথায় রেখেই ধৈর্য, বিনয় আর নিঃসার্থ ও নিরহঙ্কার ভাবে নিজ কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।। সত্য কথা। কিন্তু আদতে সে আরো বেশি অহংকারী হয়ে যায়। পার্থক্য হলো এই যে কারো অহংকারের প্রকাশটা দুর্বিনীত, কারো প্রকাশটা একটু সহনীয়।

সময়ের সাথে সাথে আমিও হয়তো আপনার মতই ধৈর্য্যশীল হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু জেদটা কমে যাচ্ছে, না হলে আগের অফিসের সিনিয়র একজনের আলগা মাতুব্বরী মানবো না বলে যে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছিলাম নিদ্বির্ধায়, এখানে এখন তার চেয়ে বেশি মাত্রার ফাত্রামী কিভাবে সহ্য করছি কে জানে....

লম্বা মন্তব্য এবং অভিনন্দনের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি ভালো আছেন।

১৬| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:২২

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: প্রাইভেট কোম্পানীতে যারা বিনা বাক্যে গাধার মতো খাটে তাদের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাছাড় আমাদের দেশে ক্যারিয়ার উন্নতির ক্ষেত্রে- রেফারেন্স, স্বজনপ্রাীতি বড় একটা ফ্যাক্টর। এতো কিছুর ফাঁক গলিয়েও অনেকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

১৯ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩০

পদ্ম পুকুর বলেছেন: শুধু প্রাইভেট কোম্পানি না, সবখানেই একই অবস্থা। কর্মপরিবেশটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

১৭| ২০ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১৮

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: একাধারে একা চাকুরীতে পড়ে থাকা যেমন কষ্টকর তেমনি বার বার বদলালেও ক্যারিয়ার নষ্ট হয়। তবে এই তী জীবন।
আমি এই জীবনে প্রায় ৩০টা চাকুরী ব্যবসা করেছি, সামানে আরো অনেক কিছু করা বাকী!

২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন: বারবার বদলালেও ক্যারিয়ার নষ্ট হয়।
ঠিকই বলেছেন। 'রোলিং স্টোন গ্যাদার্স নো মসেস' কথাটা কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে খুবই প্রচলিত। কিন্তু এক যায়গাতে ঘাপটি মেরে থাকলেও আবার শিকর গজায়ে যায়, তখন আর ছুটে আসা যায় না।

১৮| ২২ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৮

বাংলার এয়ানা বলেছেন: ভাই অযোগ্য ম্যানেজমেন্ট কি ভাবে কর্মি শোষন করে সেই প্রসংগে কি কিছু লিখা যায়। আমি কিছু রসদ যোগান দিতে পারি।

২২ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনি অ্যাদ্দিন পর কোত্থেকে?!!

১৯| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৯

মিরোরডডল বলেছেন: Congrats man!
দশ বছর মানে আপনার অনেকি ধৈর্য আছে ।
বুঝিনা মানুষ ওপরে উঠলে কেন এতো অহংকার করে ।
It meant to be other way round.
The more and more you’ll grow
The more modesty you have to show
লিডারশীপের প্রথম শর্তই হচ্ছে স্নব হওয়া যাবে না ।
আ স্নব ক্যান্ট বি এ গুড লিডার ।
এনিওয়ে , অনেক অনেক অভিনন্দন আপনাকে ।
দেশের এই পরিস্থিতিতে সেইফ থাকবেন ।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০০

পদ্ম পুকুর বলেছেন: থ্যাঙ্কু স্যার। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রেক্ষাপটে কেউ লিডার হতে চায় না, সবাই বস হতে চায়। দুঃখজনক।

২০| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদ্ম পুকুর,
তরকারিতে সব ধরণের মসলাই লাগবে ।
তা না হলে তরকারি ভালো হবে না । কিন্তু আসল কথা হলো শেফের স্বকীয়তা থাকতেই হবে ।
আপনার সেই স্বকীয়তা আছে বলেই মনে হচ্ছে ।লিডারশীপে সেটা খুব জরুরি । সেটা নষ্ট করা উচিত হবে না ।
সামনের দশ বছরে আরো অনেকবার ফ্লোর বদলান, ভবন বদলান ।
প্রার্থনা অনেকবার চেয়ারও বদলাবার যেন সুযোগ হয়। এবং কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা চেয়ার আরামদায়ক থেকে অধিকতর আরামদায়ক হোক । জবে দশ বছর পূর্তির শুভেচ্ছা দিতে একটু দেরি করে ফেললাম মনে হয় ।
তবুও বিলেটেড শুভেচ্ছা নিন ।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৫৮

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ধন্যবাদ স্যার শুভেচ্ছার জন্য।
সাহিত্যে 'ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম', 'যুদ্ধের দিনগুলোতে প্রেম' ইত্যকার বিভিন্ন দিনগুলোতে প্রেম বিষয়ক বই আছে। শুভেচ্ছার বহর দেখে সে ধারাতে 'করোনার দিনগুলোতে শুভেচ্ছা' নামে একটা বই লেখা যেতে পারে বৈকি।

দশবছর বিষয়টা হঠাৎ করে চলে এসেছে লেখায়। লেখাটা চিন্তা করার সময়ে এর কোনো অস্তিত্ব ছিলোনা। সে হিসেবে এটা সাঁত্রর এক্সিসটেনশিয়ালিজম থিয়োরিকে পাশ কাটিয়ে গেছে। কাছ থেকে নেয়া কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতায় অতিদক্ষ কর্মীর বিষয়টা লেখার কথা মাথায় ছিলো অনেকদিন থেকে।

আর আমি জয়েন করার পর যে চেয়ারটা প্রথম পেয়েছিলাম, ওটা আমার কাছে কমফোর্টেবল মনে হয়। পরবর্তীতে অটবি থেকে যে চেয়ারগুলো দেয়া হয়েছে, সেগুলো আমার কাছে কমফোর্টেবল লাগেনি। এ কারণে যেখানেই গেছি, ওই চেয়ারটাও টেনে নিয়ে গিয়েছি।

ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.